নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লিটমাইসোলজিক
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কাঠমোল্লা
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • জহিরুল ইসলাম
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

পুরুষ বিদ্বেষী না হলে পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।


কোন কিছু নিয়ে আজকাল লিখছি না। লিখছি না অবশ্য তা নয় বরং অনেক কিছু লিখতে চাইলেও সময়ের অভাবে লিখতে পারছি না। অনেক কথা-ই মস্তিস্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবুও আজ খানিকটা সময় পেলাম বলে লিখতে বসলাম। সমসাময়িক নানা বিষয় আছে, অনেকে তুমুলভাবে লিখছেও বটে। তাই আমার মত মামুলি লোকজন তা নিয়ে না লিখলেই বোধ করি ভাল হয়।
যা হোক, আসল কথায় আসি।
গত কয়েক দিন যাবত বেশ দৌড়াদৌড়িতে আছি।

বাসা থেকে সেগুনবাগিচা, তাররপর শাহবাগ, কাঁটাবন, সেন্ট্রাল রোড ঘুরেঘুরে নিমন্ত্রন পত্র বিলি করতে হচ্ছে গত কয়েক দিন ধরেই। গতকালও একাত্তর টিভি, নিউজ ২৪, বাংলাদেশ প্রতিদিন, এসএটিভি, মাছরাঙা সহ কয়েকটা মিডিয়ায় যেতে হয়েছে। সে সব নিয়ে কথা নয়। কথা হলো, গত পরশু রাহুল আনন্দ দা'কে নিমন্ত্রন পত্র দিতে আজিজে যাই। পরশু দিন আজিজ বন্ধ ছিলো তাই নিমন্ত্রন পত্র পৌছাতে পারি নি।

ও দিকে প্রচণ্ড ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে কাবু হয়ে গেছি। কি করবো? হঠাৎ রানাকে কল করলাম। রানা'র অফিস আবার বাটা'র সিগন্যাল। তো রানা অফিসেই ছিলো। আমি অফিসে যাই।
গিয়েই রানা'র সাথে আলাপ শুরু। রানা'র সাথে আমার যতবার দেখা হয় প্রথমেই আলাপ শুরু হয়ে যায়। সেখানে রাজনীতি, নারীবাদসহ নানা বিষয়-ই থাকে।
সেদিনও আলাপে উঠে এলো রোহিঙ্গা ইস্যু, রাজনীতি ও ধর্ম। তাছাড়াও কথায় কথায় উঠে এলো নারীবাদ।
অন্যান্য আলাপ নিয়ে কোন কিছু লিখবো না কেবল নারীবাদ নিয়ে দু/চার কথা বলবো। রানা যেহেতু আমার লিস্টে আছে সেহেতু রানাকে অনুরোধ করবো যে প্রশ্নগুলো করবো তার যথোপযুক্ত উত্তর যেন দেয়।

গত বইমেলা (২০১৭) থেকেই রানা'র সাথে নারীবাদ নিয়ে আমার তর্ক চলে আসছে। মেলায় আমি একটা স্টলে ছিলাম। রানা আমার স্টলে প্রতিদিন কয়েক বার আসতো।
একদিন আমি সাদিয়া নাসরীনের 'দাস জীবনের মালিক নারী?' পরছিলাম।
হঠাৎ রানা এসে বললো -
নারীবাদীরা সমাজে বিচ্ছৃঙ্খলা তৈরী করে।
আমি কিছুটা বিচলিত হলাম তবুও তাকে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন করলাম -
কিভাবে?
তার উত্তর নারীবাদ মৌলবাদের মত। নারীবাদীরা নারীবাদের আঁড়ালে বিছানার সঙ্গী খোঁজে।
তখন তার এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি বললাম -
নারীবাদ মৌলবাদের মত কিভাবে? কোন নারীবাদী কি কোন পুরুষ বা পুরুষতন্ত্রের ধারক-বাহদের জোর করে নারীবাদী বানিয়েছে?
আর নারীবাদের আঁড়ালে কোন নারীবাদী-ই বিছানার সঙ্গী খোঁজে না। আজ অবদি আমি কোন নারীবাদীকে দেখি নি "আমার বিছানার সঙ্গী প্রয়োজন" লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। আর দাঁড়ালেও বা আপনার সমস্যা কোথায়? একজন নারীবাদী বিছানার সঙ্গী চাইতেই পারে। সঙ্গী চাওয়া না চাওয়া ব্যক্তিগত। এ বিষয়ে নারীবাদে কোন শর্ত নেই যে, নারীবাদী হলে বিছানার সঙ্গী চাওয়া যাবে না।
এরপর রানা চুপ করে গেলেও একটা বক্তব্য দেয়, যা আমরা অহরহ শুনে থাকি। তা হলো - নারীবাদীরা পুরুষ বিদ্বেষী।

আমাদের অনেক নারীবাদী এ বক্তব্য এড়িয়ে গেলেও আমি পুরোপুরি মেনে নেই নারীবাদীরা পুরুষবিদ্বেষী। আর এককভাবে পুরুষবিদ্বেষী নয় সামষ্টিকভাবে পুরুষতন্ত্র বিদ্বেষী। এখন যদি প্রশ্ন করেন কিভাবে নারীবাদীরা পুরুষ বিদ্বেষী ও কেন?
তাহলে এক কথায় বলবো, পুরুষদের প্রতি বিদ্বেষ না থাকলে নারীদের অবদমিত করে রেখে পুরুষতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও যুগ যুগ ধরে নারী অবলা, পুরুষের আজ্ঞাবাহী বলে নারীকে পরগাছা এক ভিন্ন প্রাণিতে পরিণত করে রাখার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করলে যেমন স্বৈরশাষকের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয় তেমনই পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করলে আপনি অবশ্যই পুরুষের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন।

নারীবাদ কেবল নারী পুরুষের সমান অধিকার পাবে তার জন্য লড়াইয়ের শিক্ষা দেয় না বরং নারী-পুরুষের যে বৈষম্য সমাজে বিদ্যমান তা দূরীকরণের মাধ্যমে একটি সাম্যের মানবিক সমাজ গড়াই নারীবাদের মূলমন্ত্র। কিন্তু আমরা অনেক নারীবাদী-ই পুরুষের বিরুদ্ধে লড়াই করছি তা প্রকাশ করতে নারাজ। এতে যদি নারী খাদে পরে যায়! অনেকটা এ ভাবনা থেকেই হয়তো নারীবাদ যেমন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে তেমন পুরুষের বিরুদ্ধে লড়াই করে তা স্বীকার করে না।

রাজনৈতিকভাবে যদি উদাহরণ টানি তবে, সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়তে গিয়ে কিন্তু আমরা শুধু সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই লড়ি না বরং সাম্রাজবাদী ও পুঁজিবাদী চক্রের বিরুদ্ধেও লড়ি। কেন লড়ি? একটি সাম্যবাদী সমাজ গড়ে তুলতে। যেখানে না থাকবে গরিব না থাকবে ধনী। সকলেই সমান, রাষ্ট্রের নাগরিক।

ঠিক তেমনই নারীবাদ এমন একটি সমাজ গড়তে আমাদের প্রেরণা জোগায় যে সমাজে না থাকবে নারী না থাকবে পুরুষ। সকলেই মানুষ, সমাজ হবে মানবিক। আর সে কারণে পুরুষতন্ত্র ভাঙলেই হবে না কেবল, সাথে তার মূল (পুরুষ) কে নির্মূল করে মানবিক সমাজ গড়তে হবে না।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন, তবে কি সকল পুরুষকে মেরে ফেলতে হবে বা পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলতে হবে? না এটা কোন সমাধান নয়। সমাধান হলো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। মগজে পুরুষতন্ত্রের চারা গাছ উপড়ে ফেলে মানবিক হতে হবে। তবেই সম্ভব মানবিক সমাজ গড়া। সুতরাং পুরুষ বিদ্বেষী না হলে যেমন আপনি ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারবেন না তেমন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বের করে এনে সমাজ ব্যবস্থাকে মানবিক সমাজ রূপে গড়তে পারবেন না।
অতএব, নারীবাদী যদি পুরুষতন্ত্র উপড়ে ফেলতেই চায় তবে তাকে অবশ্যই পুরুষ বিদ্বেষী হতে হবে।

নারীবাদ নিয়ে শুধু রানা'র মত পুরুষগুলো নয় অনেক নারীবাদী-ই ধারন করে নারীবাদী মানে বহুগামী, বহুজনের সাথে বিছানায় যায়।
বহুগামী হওয়া বা বহুজনের সাথে বিছানায় যাওয়া নারীবাদ নয়। এরা নারীবাদের অংশও নয়। কে কার সাথে বিছানায় যাবে আর কে কার সাথে বিছানায় যাবে না তা নারীবাদ ঠিক করে দেয় না।
এখানে রানা'র একটা বক্তব্য - নারীবাদীরা এসব করে (যার তার সাথে বিছানায় গিয়ে) সমাজে বিচ্ছৃঙ্খলা তৈরী করে।
এখানে আমার একটা প্রশ্ন - কিভাবে সমাজে বিচ্ছৃঙ্খলা তৈরী হয়? নিজ ইচ্ছায় বিছানায় যাওয়া যদি বিচ্ছৃঙ্খলা হয় তবে অনিচ্ছাস্বত্ত্বে কাউকে বিয়ে করা বা বিয়ে দেয়া সবচে বড় বিচ্ছৃঙ্খলা নয় কি?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রুদ্র মাহমুদ
রুদ্র মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: মঙ্গলবার, নভেম্বর 29, 2016 - 1:57অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর