নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

গোলাম আজম ভাষা সৈনিক ছিলেন না বরং বাংলা ভাষার বিরোধীতা করেছিলো


ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিকাশ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি হলেও মূলত এর সূত্রপাত হয় ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ' তমুদ্দুন মজলিস ' এর মাধ্যমে এবং প্রথম প্রবল রাজনৈতিক আন্দোলন হয় ১৯৪৮ সালে।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর অর্থাৎ পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র ১৭ দিনের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট এ ' তমুদ্দুন মজলিস ' গঠিত হয়।
এই সংগঠনের অপর সদস্যদ্বয় ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও সামসুল আলম। জন্মলগ্ন থেকেই এ সংগঠনটি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে আসছিল।

১৯৪৭সালে ১৫ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক কাজী মোতাহের হোসেন, আবুল মনসুর ও আবুল কাশেমের তিনটি প্রবন্ধ নিয়ে ' পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু ' শীর্ষক একটি পুস্তিকা বের করা হয়। এ পুস্কিকায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার আহ্বান জানানো হয়।
১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক মনোনীত করে ' রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ' গঠন করা হয়।

১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ড. এনামুল হক এক নিবন্ধনে বলেছেন যে, 'উর্দু বয়ে আনবে পূর্ব পাকিস্তানের মনে রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয়, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মৃত্যু'।
ড. শহীদুল্লাহ, আবুল কালাম, সামসুদ্দিন প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জোরালো দাবি নিয়ে সুচিন্তিত প্রবন্ধ রচনা করেন।

১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসে এক যুগসন্ধিক্ষণী সময়। কারন ঢাকায় ৫ ডিসেম্বর বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সভায় মৌলনা আকরাম খানের সভাপতিত্বে বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার স্মারক প্রদান করে দাবী জানান।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গনপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত গনপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দুর সাথে বাংলাকেও গনপরিষদের ভাষা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব রাখেন। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ও মুসলিম লীগের সদস্যগন এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান বলেন, " The realise that Pakistan has been created of the demand of one hundred million muslims in the sub-continent and the language of a hundred million muslims in urdu"
এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বুয়েট এর ছাত্রছাত্রীরা মিছিল বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে শেষ করে এবং সেখানে একটি সভা অনুষ্ঠিত করে। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আবুল কাসেম এবং বক্তব্য রাখেন মুসলিম ছাত্রলীগের সভাপতি আহ্বায়ক নঈমুদ্দিন আহমেদ এবং ফজলুল হক হল ইউনিয়নের সহ সভাপতি মোহাম্মাদ তোয়াহা।

গনপরিষদের সিদ্ধান্ত এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগের বাংলা ভাষা বিরোধী নীতি ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম 'ছাত্রলীগ' বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রাবাস ও তমুদ্দুন মজলিসের যৌথ উদ্যোগে ফজলুল হক হলে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের একটি সভা আহ্বান করা হয়। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কামরুদ্দিন, আজিজ আহমেদ, সরদার ফজলুল করিম, শামসুদ্দিন আহমেদ, তোফাজ্জল আলী, আলী আহম্মেদ, মোহাম্মদ তোহা, শহীদুল্লাহ কায়সার, তাজ উদ্দিন, লিলি খান, কাজী গোলাম মাহবুব, রনেশ দাশগুপ্ত, অজিত গুহ।
এ সভায় ভাষা আন্দোলনকে সাংগঠনিক রুপ দেওয়া এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষে ' রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ' গঠন করা হয়। এ পরিষদে গন আজাদী লীগ, গনতান্ত্রিক যুবলীগ, তমুদ্দুন মজলিস ও পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম ছাত্রলীগ থেকে দুজন প্রতিনিধি করা হয় এবং উক্ত পরিষদের আহ্বায়ক মনোনীত হন শাসুল আলম।

তৎকালীন সময়ে ঢাকসুর জিএস ছিল পাকিস্তানী জামাত সমর্থিত গোলাম আজম। তার কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল না। বরং উর্দুকে সমর্থন দিয়ে ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে জোর দিয়ে লিয়াকত আলী জিন্নাহ বলেন " Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan "।

সংগ্রাম পরিষদ কয়েকবছর নিষ্ক্রিয় থাকে ঢাকসুর অত্যাচারে। কিন্তু ১৯৫১ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙনে একটি ছাত্র সভা অনুষ্ঠিত হয়। খালেক নেওয়াজের সভাপতিত্বে এ সভায় নিষ্ক্রিয় সংগ্রাম পরিষদকে সক্রিয় করার লক্ষে আব্দুল মতিনকে আহ্বায়ক করে 'বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়। ২৫ মার্চ তারিখে হাবিবুর রহমান শৈলীর সভাপতিত্বে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একটি খসড়া তৈরি হয়।

এই থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় গোলাম আজম ভাষা সৈনিক ছিলেন না বরং ভাষা আন্দোলনের বিরোধীতা করেছেিলেন। ভাষা সৈনিক গাজী গোলাম মাহবুবকে তারা গোলাম আজম বলে বর্তমানে রটাচ্ছে। বড় জানতে ইচ্ছে হয়, এই ইসলামী দল কি সত্যই ইসলামের জন্য নাকি চোখে ধুলো দিয়ে জঙ্গীবাদ সৃষ্টির লক্ষ্যে?

১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকার বার লাইব্ররি হলে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে আওয়ামী মুসলিম লীগ, যুবলীগ, খিলাফত-ই-রব্বানী পার্টি, ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্যদের নিয়ে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। এ সভায় স্থির হয় যে, ২১ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী ' রাষ্ট্রভাষা দিবস ' পালন করা হবে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস কর্মসূচিকে সফল করে তোলার জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি হরতাল এবং ১১ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি সাফল্যের সাথে 'পতাকা দিবস' পালিত হয়। কারাগারে আটক অবস্থায় ১৯৫২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা' ও 'বন্দি মুক্তির' দাবিতে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমদ আমরণ অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। অন্যদিকে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' ব্যাজ বিক্রি করে ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের জন্য ছাত্রছাত্রীরা অর্থ সংগ্রহ করে। নুরুল আমিনের ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকার ২০ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ঢাকা শহরে একমাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে সকল প্রকার সভা, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়।

১৮৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা ছোট ছোট শোভাযাত্রাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরনো কলাভবন প্রাঙনে মিলিত হয়। ছাত্রনেতা গাজীউল হকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনের আমতলায় যে সভা শুরু হয় সেখানে ছাত্রনেতা আব্দুল মতিনের প্রস্তাবে ১৪৪ ধারা ভঙ করে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগান নিয়ে যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আসে তখন পাকিস্তানি পুলিশ গুলিবর্ষন শুরু করে। ফলে শহীদ হন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত ও জব্বরসহ আরও অনেকে।

তাই কবিতায় বলতে হয়-

তমুদ্দুন মজলিশের প্রবল আন্দোলন
আবুল কাশেম, সৈয়দ নজরুল,সামশুল আলম
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা দাবী করেন
নুরুল হকের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
শেখ মুজিবুর, মহিউদ্দিনের
আমরণ অনশন
মৌলানা আকরামের স্মারক প্রদান
২১ই ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী রাষ্ট্রভাষা
দিবস পালন
গড়ে উঠে ভাষা আন্দোলন।

১৪৪ধারা, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ
গাজীউল হক বিক্ষিপ্ত
জারী ভেঙে আমতলায় স্লোগান
" রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"

পলাশীর মোড়ে জব্বার,শফিকের মুখে স্লোগান
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
সালাম,বরকত,রফিকের আত্বচিৎকারে
রাষ্ট্রভাষা বাংলা যেন পাই,

হঠাৎ গুলিবর্ষণ
প্রথম ভাষা শহীদ বরকত হন
ধীরে ধীরে সবাই
রফিকের রক্তক্ষরণ
বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন,
চৌদ্দজনের তাজা প্রান
হাজার যুবুকের রক্তের স্রোত
বাংলা ভাষার দাম
মাতৃভাষা আমার
তোমাদেরই প্রণাম।।

* ১৯৯৬ইং সালের আগে প্রকাশিত কয়েকটি বই এবং উইকিপিডিয়ার থেকে পঠিত*
---------------------------------------------
ইকরামুল শামীম
আইনজীবী ও লেখক
এমএসএস ( রাষ্ট্রবিজ্ঞান), এলএলবি
ভিক্টিমলজি & রেস্টেরটিভ জাস্টিস

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

গোটা লেখায় গোলাম আজম ভাষা আন্দোলনের যে বিরোধীতা করেছিলেন সে সম্পর্কে কোন তথ্যই পেলাম না। অথচ শিরোনামটা ছিল কুখ্যাত গোলাম আযমকে নিয়ে।

 
ইকরামুল শামীম এর ছবি
 

তৎকালীন সময়ে ঢাকসুর জিএস ছিল পাকিস্তানী জামাত সমর্থিত গোলাম আজম। তার কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল না। বরং উর্দুকে সমর্থন দিয়ে ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে জোর দিয়ে লিয়াকত আলী জিন্নাহ বলেন " Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan "।
সংগ্রাম পরিষদ কয়েকবছর নিষ্ক্রিয় থাকে ঢাকসুর অত্যাচারে। কিন্তু ১৯৫১ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙনে একটি ছাত্র সভা অনুষ্ঠিত হয়। খালেক নেওয়াজের সভাপতিত্বে এ সভায় নিষ্ক্রিয় সংগ্রাম পরিষদকে সক্রিয় করার লক্ষে আব্দুল মতিনকে আহ্বায়ক করে 'বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়। ২৫ মার্চ তারিখে হাবিবুর রহমান শৈলীর সভাপতিত্বে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একটি খসড়া তৈরি হয়।

এই থেকর কি স্পষ্ট নয়? তবে বলার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।। নতুন ভাবে লেখালেখি করার চেষ্টা করছি।।

ইকরামুল শামীম

 
ইকরামুল শামীম এর ছবি
 

স্যার এইবার ঠিক করে দিয়েছে।। পড়বেন দেখবেন।।

ইকরামুল শামীম

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইকরামুল শামীম
ইকরামুল শামীম এর ছবি
Offline
Last seen: 18 ঘন্টা 36 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 7, 2017 - 7:42অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর