নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লিটমাইসোলজিক
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কাঠমোল্লা
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • জহিরুল ইসলাম
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

আমার ইচ্ছা


আমি এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ।বহু সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে জীবনে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পেরেছি। পরিবারের সদস্যদের আশা আমিই তাদের আর্থিক দুরবস্থা ঘোঁচাবো ও আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটাবো ।নিজের পড়াশোনা ও আনুষাঙ্গিক খরচ নির্বাহের জন্য শিক্ষকতা করি ।আমি অনেক বিষয়েই শিক্ষা দিতে পারি তবে ছাত্রছাত্রীরা প্রধানত আমার কাছে দর্শন ও ইতিহাস শিক্ষণের জন্য আসে । আমার শ্রেণী কক্ষে জ্ঞানের অবাধ বিচরণ- শিক্ষা ,সাহিত্য ,বিজ্ঞান ,ধর্ম ,দর্শন ,ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ের অবাধ বিচরণ জ্ঞান সেখানে মুক্ত ।আসলে আমি শিক্ষক হিসাবে হেনরি লুইস ভিভিয়ান ডিরোজিও কে নিজের আদর্শ বলে মনে করি ।ডিরোজিওর শিক্ষার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলায় শুরু হয়েছিল নব্যবঙ্গ আন্দোলন ।এই "নব্যবঙ্গ আন্দোলন বা Young Bengal Movement " এর ফলে তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের ভিত্তি কেঁপে ওঠে ।ছাত্ররা তাদের যুক্তি দ্বারা সমাজের জরাজীর্ণ প্রাচীন সংস্কারে তীব্র আঘাত হানে ।তাদের যুক্তির আলোকে সমাজ ভাবতে শেখে কোনটা সত্য ও কোনটা মিথ্যা ।তাদের যুক্তির কষাঘাতে গঙ্গা সাগরে সন্তান বিসর্জন ,সতীদাহ প্রথা প্রভৃতি অমানবিক প্রথার অসাড়তা প্রকাশ পায় ।যা পরবর্তিকালে বঙ্গ সমাজে রেনেসাঁসের পথ প্রদর্শক হয়ে ওঠে ।

নব্যবঙ্গ অন্দোলনের ছাত্রদের অতি উত্সাহ ও ডিরোজিওর অকাল প্রয়াণ এই আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয় ।তবে এটা বলা অত্যুক্তি হবে না যে- তৎকালীন বাংলাদেশে যে রেনেসাঁস বা নবজাগরণের সূত্রপাত হয় তার পথপ্রদর্শক ছিল ডিরোজিওর নেতৃত্বে এই নব্যবঙ্গ আন্দোলন ।শিক্ষককে বলা হয় -"মানুষ গড়ার কারিগর " , তাই আমি ও স্বপ্ন দেখি শিক্ষক হিসাবে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চেতনা বোধ জাগ্রত করব ও তাদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলব ।তাই তাদের পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে আটকে না রেখে বাস্তবিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি ।আমার পড়ানোর মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই - ধর্ম, দর্শন , বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ প্রভৃতি সকল বিষয়ই আসে ।শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মের পক্ষে ও বিপক্ষে উভয়ই যুক্তি দিয় এছাড়া বিজ্ঞান ,দর্শন ,ইতিহাস ,রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমস্ত সমসাময়িক বিষয় ও আলোচনায় আসে ।আসলে আমার শিক্ষাঙ্গনে জ্ঞান হল উন্মুক্ত যা কোন বাধা মানে ।জ্ঞানের রাজ্য উন্মুক্ত যে যতটা আহরণ করতে পারে ততই মন আনন্দে পুলকিত হয়ে ওঠে ।সব বিষয়ই শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে নেয় শুধু ধর্মের বিষয়েই প্রশ্ন করলে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি ভালোভাবে নেয় না ।হয়তো না নেওয়াটাই স্বাভাবিক তাই যতটা সম্ভব সহজ সরলভাবে বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে পার্থক্য বোঝাতে চেষ্টা করি । বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো যুক্তি ,প্রশ্ন ও গবেষণা ।বিজ্ঞান যে কোন জিনিস পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া গ্রহণ করে না ।অন্য দিকে ধর্মের মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস সেখানে যুক্তি চলে না ।ধর্ম বলে প্রশ্ন করলে -ঈমান বা বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায় বা পাপ হয় ইত্যাদি ।তাই ধার্মিকরা মনে করেন- "বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহু দূর" । অন্যদিকে বিজ্ঞানে আস্থা রাখা মানুষরা কোন কিছু এমনি এমনি গ্রহণ করে না ।বিষয়টিকে যুক্তিদিয়ে বিচারকরে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে তবেই গ্রহণ করে ।তাই বিজ্ঞান ও ধর্মের এগুলি হলো মৌলিক পার্থক্য ।তাই যে ব্যাক্তি ধর্মে বিশ্বাসী সে বিজ্ঞানে বিশ্বাসী নয় ,অন্যদিকে বিজ্ঞানে আস্থাশীল মানুষরা ধর্মীয় তত্বগুলিকে যুক্তির অভাবে খারিজ করে দেয় ।তাই বিজ্ঞানে আস্থাশীল ব্যাক্তিরা ধর্মে বিশ্বাসী নয় ।তাই সহজ সরলভাবে বিজ্ঞান ও ধর্মের পার্থক্য বোঝায় । যেমন-পৃথিবীতে ভূমিকম্প হয় কেন ?এই প্রশ্নের একজন ধার্মিক মানুষ উত্তর দেবে এটা আল্লার গজব ,ভগবানের ক্রোধ বা ঈশ্বরের রাগ ইত্যাদি ।কারণ মানুষ ঈশ্বরকে মানে না তাই ঈশ্বর ,আল্লা ,ভগবান বা গড এরা রেগে গিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য পৃথিবীতে ভূমিকম্প দিয়েছে ।অন্যদিকে বিজ্ঞানমতে পৃথিবীর নিচে বিভিন্ন মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফলেই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয় ।তাহলে এখানে কে সত্য কথা বলছে ? এখানে উল্লেখ্য বিজ্ঞান যা বলে তা পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করে তবে তা গ্রহণ করে অন্যদিকে ধর্ম শুধু বলে বিশ্বাস করতে ।তাহলে এখানে কে সত্য কথা বলছে বিজ্ঞান না ধর্ম ? আবার বৃষ্টি হয় কেন ? এর উত্তরে বিজ্ঞান মতে সূর্যের তাপে নদী ,নালা,সাগর ,মহাসাগর ইত্যাদির জল শুকিয়ে যায় এবং এই জলগুলি বাষ্প আকারে মেঘ হয়ে আকাশে ভাসতে থাকে ।পরবর্তীকালে এই মেঘ ঠান্ডা ও ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি আকারে ভূপৃষ্ঠে আবর্তিত হয় । অন্যদিকে ধর্মীয় দিক থেকে বলতে গেলে হিন্দুধর্ম মতে বরুণ দেবের যখন কৃপা হয় তখন বৃষ্টিপাত হয় ।আবার ইসলামিয় মতানুসারে হযরত মিকাইল (ফেরেস্তা ) বৃষ্টিপাত ঘটান ।তাহলে এক্ষেত্রে কে সঠিক কথা বলছে ? এবার প্রশ্ন হলো হযরত মিকাইল বা বরুণদেব যদি বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারত তাহলে রাজস্থানের থর মরুভূমির সৃষ্টি হল কিভাবে ? সাহারা ,গোবি , আটকামা প্রভৃতি মরুভূমির সৃষ্টি হল কিভাবে ? ওইসব অঞ্চলে কি হযরত মিকাইল বা বরুণ দেবের কৃপা দৃষ্টি পড়েনি ? অন্যদিকে বিজ্ঞানীয় মতানুসারে ওই সমস্ত অঞ্চলের কাছাকাছি সমুদ্র বা জলরাশির ভান্ডারের বড়ই অভাব তাই খুব বেশি জল বাষ্পীভূত হয়নি তাই সেই ভাবে মেঘের সৃষ্টি হয়নি ও সেই সঙ্গে জঙ্গলের অভাবের কারণে বৃষ্টিপাত কমে যায় ও আস্তে আস্তে মরুভূমির সৃষ্টি হয় ।তাহলে কোন মতটি বেশি গ্রহণযোগ্য ধর্মীয় মত না বৈজ্ঞানিক মত ?অন্যদিকে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে কিভাবে ? বিজ্ঞানের মতানুসারে -প্রকাণ্ড এক নক্ষত্রের আকর্ষনে সূর্য থেকে কিছু অংশ বের হয়ে সূর্যের চারিদিকে ঘুরতে থাকে যা পরবর্তীকালে কোটি কোটি বছর ধরে ঠান্ডা হয়ে ধীরে ধীরে পৃথিবীর সৃষ্টিহয় ।অন্যদিকে ধর্মীয় মতঅনুসারে পৃথিবী সৃষ্টি হয় ঈশ্বর,আল্লা বা ভগবানের ইচ্ছায় ।ইসলামীয় মতবাদ ও খৃষ্টীয় মতবাদ এক্ষেত্রে অনেকটা একরকম ।এই মতানুসারে ঈশ্বর (গড ) বা আল্লা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে । তাহলে এক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে অসীম ক্ষমতাশালী আল্লা বা ঈশ্বরের হও বললেই তো বিশ্ব ব্রম্ভান্ডের সৃষ্টি হওয়ার কথা ,কিন্তু সেই আল্লা বা ঈশ্বরের এই অতি তুচ্ছাতিতুচ্ছ পৃথিবী সৃষ্টি করতে ছয় দিন সময় লাগলো কেন ?

তাহলে যে দাবি করা হয় আল্লা ,ঈশ্বর বা ভগবান সর্বশক্তিমান এর যথার্থতা কোথায় ? এরপর প্রশ্ন হল-যে ঈশ্বর ,আল্লা বা ভগবান গোটা দুনিয়ার জাহানের মালিক তার এই সৌরজগৎ এর নগণ্যতম গ্রহের মানুষ নামক নগণ্যতম প্রাণীর এবাদত ,পূজা বা পার্থনা চাই কেন ? এই পার্থনা,পূজা বা এবাদত না পেলে কি আল্লার আরশ কেঁপে ওঠে ? না ভগবানের বুকে ব্যাথা লাগে ? যার জন্য আল্লা, ঈশ্বর বা ভগবান রেগে যান এবং এর ফল স্বরূপ মৃত্যুর পর জাহান্নাম বা নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় ।সৃষ্টিকর্তার (যদি থেকে থাকে ) প্রকৃতি এত নিষ্ঠুর কেন ? এখন প্রশ্ন হল ঈশ্বর ,আল্লা বা ভগবানের প্রকৃতি এতো মানুষ মানুষ কেন ? যে পূজা ,পার্থনা বা এবাদত করলে খুশি হয় অর্থাৎ আল্লা তুমি মহান আল্লা,আল্লা তুমি মহান ...বা ঈশ্বর তুমি ভালো ...এই রকম তোষামুদি করলে সৃষ্টিকর্তা খুশি হন অন্যদিকে এগুলি না পেলে ঈশ্বর রেগে যান ও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠেন ।তাই আল্লা দিনে পাঁচবার এবাদত চান বা ভগবান দিনে অনেক বার পুজো চান ।এগুলি কি কোন সৃষ্টিকর্তার প্রকৃতি হতে পারে ? তারপর একটি প্রশ্ন হলো সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ,আল্লা বা ভগবান এমন কোন বস্তু কি তৈরী করতে পারে যা সে নিজেই চাগাতে পারবে না ?উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে প্রশ্ন আসে ঈশ্বর যদি নিজের সৃষ্টিকৃত জিনিস নিজেই চাগিয়ে তুলতে না পারে তাহলে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান হয় কিভাবে ? অন্যদিকে উত্তর যদি না হয় তাহলে প্রশ্ন আসে -ঈশ্বর কেমন সৃষ্টিকর্তা যে নিজের ইচ্ছামতো কোন বস্তু সৃষ্টিকরতে পরে না ।তেমন ঈশ্বরকে কি সৃষ্টিকর্তা বা সর্বশক্তিমান বলা যায় ?

এইভাবে প্রশ্নের মাধ্যমে যুক্তিবাদী শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি ।এখন আমরা যদি শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা না দিয় তাহলে তারা প্রকৃত শিক্ষা পাবে কোথা থেকে ? যাইহোক শিক্ষার্থীরা সব বিষয় সঠিক ভাবে উপলব্ধি করতে পারে না তাই কিছু কিছু বিষয় আমার শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের ও কানে আসে ।তাদের অনেকেরই মতে আমি ধর্মের সমালোচনা মূলক শিক্ষা দিয় ।যদিও আমি খুবই মার্জিত ভাবে যুক্তিবাদী শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি তবুও আমার নামে রিপোর্ট আসে ।মানব মনন কত বিচিত্র এবং ধর্ম মানুষকে কতোটা নির্বোধ ও মূর্খ তৈরী করে রাখে এগুলি তার চরম নিদর্শন ।বেশকিছু শিক্ষার্থীরা ভাবে কেন আমি বিভিন্ন সমালোচনা মূলক শিক্ষা দিয় ? যাইহোক বিষয়গুলি অনেকটাই স্পর্শকাতর তাই যথা সম্ভব সাবধানে পড়ায় ও সাবধানে থাকি ।তবুও এলাকা জোড়া আমার দুর্নাম আমি ধর্মে বিশ্বাসী নয় নাস্তিক। (যদিও নাস্তিক হতে পারা খুবই কঠিন বিষয় ,প্রকৃত নাস্তিক হতে পারলে নিজের জীবন স্বার্থক মনে করব ) তাই অনেকেই কটু মন্তব্য করে এবং বিষয়গুলি আমার বাবার (আব্বার )কানে তোলে ।বাবা রীতিমতো বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তিত থাকে, হয়তো অভিভাবক হিসাবে সেটাই স্বাভাবিক ।বাবা-মাকে প্রতিনিয়ত আমার নিকট আত্মীয়রা বলে বেড়াই ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দাও ।আমার বাবা ও একদিন এই রকম রিপোর্ট পেয়ে বাড়ি আসে ও বলে -তুমি কি নিজেকে মহাপুরুষ মনে কর ? তুমি কি পৃথিবী পরিবর্তন করতে এসেছ ? ধর্ম সম্পর্কে কথা বালার অধিকার কে দিয়েছে তোমাকে ? এমন দিন আসছে কেউ কোন দিন হয়তো তোমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে ? শুধরে যাও তুমি না হলে খুবই বিপদ ।বাবা প্রচন্ড রেগে যান ও অনেক কথা বলেন ।এটা ও বলেন তোমার জন্য আমাদের সমাজের কাছে ছোট হতে হচ্ছে ।তোমাকে মানুষ করার থেকে গরু-গাধাকে মানুষ করলে অনেক ভালো হোত ! শিক্ষিত হয়ে এই রকম মূর্খ তৈরী হয়েছ ? এর থেকে মূর্খ থাকলেই বেশি ভালো হোত ! তুমি নিজের টাকায় মুড়ি কিনে টিফিন করতে পার না ,তুমি এসেছ পৃথিবী পরিবর্তন করতে ! তাহলে রামকৃষ্ণদেব যে বলেছেন -"যত মত তত পথ " এগুলি কি সবই মিথ্যা ? তুমি কি নিজেকে বিশ্ব পন্ডিত মনে করো ইত্যাদি ...।অনেকক্ষণ উত্তপ্তবাক্য বিনিময় হল ।তারপর বাবা বললেন -" আমাকে বাধ্য কোর না, তোমাকে কি ঘর থেকে বের করে দিলে ভালো হবে ? কি চাও তুমি বল ? " ইত্যাদি...।

সে দিন মাকে প্রকৃত সত্য কথাটি বলি ।এটা কোন রাগের কথা নয় বরং এটা আমার আত্ত উপলব্ধি -আমি মাকে বলি দেখ আমাকে বারবার ঘর থেকে বের করে দেব এরকম কথা বলবে না ,কোন দিন আমি নিজেই ঘর থেকে বের হয়ে যাব ।আর মৃত্যুর ভয় ও আমি কোন দিন করিনি ।মা আমার কথা শুনে খুবই কষ্ট পায় এবং অঝোর নয়নে কাঁদতে থাকে আর বাবার মুখ ও ফ্যাকাসে হয়ে যায় ।এ থেকেই আমি বুঝতে পারি আমার বাবা-মা আমাকে কতটা ভালোবাসে এবং আমি ও তাদের খুবই ভালোবাসি ।তাই আর ও সাবধানতার সঙ্গে শিক্ষকতা করতে হয় ।তাই সেদিন যে কথাটি বলেছিলাম তা উত্তেজনার বশভুর্তি হয়ে বলিনি তা ছিল আমার উপলব্ধির বিষয় ।ধর্ম কত জঘন্য জিনিস তা এ থেকেই প্রমাণিত হয় -ধর্ম কত জঘন্য জিনিস যে ,যার জন্য রক্তের সম্পর্কের কোন মূল্য থাকে না ,পরিবারের মধ্যে বিভেদ ও অশান্তি ,সম্পর্ক ত্যাগ ইত্যাদি.. ।তাই যে ধর্মের জন্য রক্তের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় ,হিংসা বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায় ,সে ধর্ম দেবে মানুষকে শন্তি ও মুক্তি এগুলি অলীক কল্পনামাত্র ? তাই মানুষে মানুষে হিংসা ,বিদ্বেষ ,খুনোখুনি প্রভৃতির সৃষ্টি হয় কারণ এই জঘন্য ধর্মীয় মতবাদ গুলিকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে ।সত্যি কথা বলতে কি -যদি ধর্মের কারণে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় ,তাহলে সেই ধর্মকে আরও নির্মম ভাবে সমালোচনা করব ও নুনুভূতিতে তীব্র আঘাত হানব ।যে নোংরা ধর্মের কারণে আজ আমার পরিবার পরিজনের কাছ থেকে বিছিন্ন সেই ধর্মীয় মতাদর্শকে ছেড়ে কথা বলব না যুক্তির কশাঘাতে তাকে ক্ষতবিক্ষত করব ,তাকে এত রক্তাক্ত করব যেন তার বিষদাঁত গুলি ভেঙ্গে যায় ,সে যেন আর নতুন করে কারোর জীবনে আর আঘাত হানতে না পারে ।তাই বড়ি থেকে বের করে দিলে কোন ক্ষতি নেই ,একটু কষ্ট হবে ঠিকই তবে মুক্ত পৃথিবীর জন্য আরও সংগ্রাম করতে পারব তাই আমি চিন্তিত নয় বরং এই ভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারলে আমার মনুষ্য জীবন স্বার্থক বলে মনে করব ।পরিবারের মানুষরা আমার নিরাপত্তা নিয়ে খুবই চিন্তা করে ।বিশেষত মা বলেন- " বাবা আগে নিজের পায়ে দাড়াও ,একটা চাকরি জোগাড় কর , তারপর যা ইচ্ছা করবে "।মা নিরপত্তা নিয়ে খুবই ভয় করেন মা বলেন-" এমন বহু লোক আছে যারা মনে করে এই রকম লোকদের মেরে দিতে পারলে সোজা জান্নাত ,তারা ফাঁসি ,সাজা কোন কিছুরই ভয় করে না ,তোর কিছু হয়ে গেলে আমাদের কি হবে বল ?" তাই মা খুবই কষ্ট পায় ।সত্যি পরিবারের মানুষরা আমার প্রতি এত ভরসা করে আমি খুবই চিন্তায় পড়ে যায় ,জানিনা আমি সফল হবো কি না ? তবে পরিবারের ভালোবাসা দিয়ে আমাকে বেঁধে ফেলছে ।আমি হয়ত অযোগ্য তা আমার পরিবারের মানুষ বুঝতে চাই না ।জানি না আগামীদিনে কি হবে ? হয়তো অন্ধকার কোন এক গলির কোনে ,কোন এক ধর্মান্ধ চাপাতিবাদী ওত পেতে আছে শিকারের সন্ধানে ।তারা হয়ত চাই এভাবেই চাপাতির দ্বারা আমাদের সংগ্রামকে শেষ করে দিতে ।সত্যিই কি এভাবে আমাদের সংগ্রামকে শেষ করা যাবে ?

জানি না আগামী দিনে জীবন প্রবাহ কোন দিকে অভিমুখ নিয়ে যাবে ।শুধু এটাই চাই যদি কোন দিন এই রকম পরিস্থিতির শিকার হয় -সে দিন যেন ভীত সন্ত্রস্ত না হয়ে থাকি ,সে দিন যেন হাসি মুখে মেনে নিতে পারি জীবনের এই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ।মৃত্যু একদিন আসবেই তাই ধুঁকে ধুঁকে একশো বছর বাঁচতে চাই না ,শুধু চাই যত দিন বাঁচি আত্তমর্যাদার সাথে যুক্তির সঙ্গে মুক্তির পথে সংগ্রামের সহিত বাঁচতে চাই ।কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে হয় -" যতদিন দেহে আছে প্রাণ আমি সরাব এই পৃথিবীর জঞ্জাল "।যদি কোনদিন এই রকম পরিস্থিতির শিকার হয় তাহলে শুধু একটাই অনুরোধ আমার শরীর কবরে পচে যেন নষ্ট না হয় ।আমার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও সমস্ত শরীর যেন দান করা হয় ।আমার চোখ দিয়েই একজন অন্ধ মানুষ জীবনে আলো পাবে ,আমার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দিয়েই আর ও পাঁচজন মানুষের জীবন আলোকিত হবে ।এই দেহের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই ডাক্তার তৈরী হবে ।এভাবেই আমি বেঁচে থাকতে চাই মানুষের সাথে ও মানবের মাঝে ।আশা রাখি আমাদের এই সংগ্রাম ব্যার্থ হবে না । আগামী প্রজন্ম আমাদের সংগ্রামের ফলে এক ধর্মান্ধতা মুক্ত সুন্দর পৃথিবী পাবে ।যে পৃথিবীতে সকলে মুক্ত ভাবে বেড়ে উঠতে পারবে ,সে পৃথিবী হবে অনেক মানবিক ।সেই পৃথিবীতে থাকবে না ধর্মান্ধতা ,ধর্মের নামে হানাহানি ,মানুষে মানুষে এত ঘৃণা ।ধর্ম শেষ হলেই পৃথিবীর পঁচানব্বই ভাগ সমস্যা এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে ।আশা রাখি আমাদের সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে সেই কাঙ্খিত পৃথিবী গড়ে উঠবে ।সেই পৃথিবীর একটাই মূল মন্ত্র হবে -" সবার উপর মানব সত্য তাহার উপর নাই " ।

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

এত বড় একটা লেখায় কোন প্যারাগ্রাফ নাই। এক প্যারায় পুরো লেখা শেষ করে দিলেন। যার কারণে লেখাটি ভাল হলেও সুখপাঠ্য হতে পারলো না।

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখার জন্য আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করছি- যতিচিহ্নের আগে কোন স্পেস হয় না, কিন্তু পরে অবশ্যই স্পেস দিতে হয়। সমগ্র লেখায় এই ভুলটিও বেশ চোখে পড়ছে।

 
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
 

ধন্যবাদ দাদা আপনার মন্তব্য পেয়ে খুবই খুশি হলাম । নিশ্চয় মন্তব্য করবেন ।কোন ভুল হলে এই ভাবেই শেখাবেন ।

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

লেখাটা এখন দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। যতিচহ্নের (দাড়ি, কমা, সেমিক্লোন) সমস্যাগুলো সম্ভব হলে সংশোধন করে নিয়েন। ধন্যবাদ আপনাকে।

 
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
 

ধন্যবাদ দাদা আপনার অমূল্য মন্তব্য থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি ।অবশ্যই এইভাবেই ভুলগুলি ধরিয়ে দেবেন এবং আমি চেষ্টা করব আর ও নতুন করে শেখা ।আপনি ভালো থাকুন এই কামনা করি ।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 23 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর