নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম ভাষণে যা বললেন ট্রাম্প


কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান (Rocket Man is on a suicide mission)’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (UNGA) প্রথম ভাষণ দিলেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বাংলাদেশ সময় ৮টার দিকে এ ভাষণ দেয়া শুরু করেন তিনি। ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ডব্যাপী এ ভাষণে উঠে এসেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা, হ্যারিকেন মোকাবেলা, উত্তর কোরিয়া বিপক্ষে আমেরিকা সামনে কি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী আন্দোলনে আমেরিকার অবস্থান এবং বাকিটা ছিল কিউবা, ভেনেজুয়েলা ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে টেনে পূর্বতন সব মার্কিন প্রেসিডেন্টের মত সমাজতন্ত্রের সমালোচনা।

বর্তমান বিশ্ব বেশ কিছু জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া- মার্কিন দ্বন্দ্ব, রোহিঙ্গা সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, ইসরাইল- ফিলিস্তিন সমস্যা, আইএস, ইয়েমেন যুদ্ধ, সৌদি- কাতার সংকট ইত্যাদি। এমতাবস্থায় সাধারাণ পরিষদে প্রথম হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ভাষণের দিকে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে ছিল। অনেক জায়গায় ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার ছিল। কিন্তু স্বভাবসুলভ বাচলতায় রোহিঙ্গা সমস্যা, কাতার সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভাষণের তিনভাগের একভাগ ছিল সমাজতন্ত্র নিয়ে সমালোচনা এবং বাকি দুইভাগের একভাগ ছিল উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে সারকাজম। যতটা আগ্রহ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য শোনার জন্য সবাই অপেক্ষা করছিল ততটাই সবাইকে নিরাশ করেছেন তিনি। ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিশ্চয়ই আরো চাঙ্গা করবে এই ভাষণ এবং সেইসাথে মাইগ্রেশন নিয়ে তার অবস্থানও পরিষ্কার করলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কি কি বললেন তা সংক্ষেপে দেখা যাক,

 নিজ শহরে মার্কিন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করাকে ‘গভীর সম্মানের’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার প্রথম বক্তব্য শুরু করেন। এবং বিপজ্জনক ঘূর্ণিঝড়ের পার করা আমেরিকাকে সাহায্য করায় বিশ্বনেতাদের ধন্যবাদ জানান।
 মার্কিন সেনাবাহিনী শীঘ্রই এ যাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীতে রূপান্তর হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 তিনি বলেন “বিশৃঙ্খল শাসন (Rogue Regime) সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে এবং অন্যান্য দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্তৃত্ব ও কর্তৃত্ববাদী শক্তিগুলোর পতন হচ্ছে।
এখানে বলাবাহুল্য যে ট্রাম্প Rogue Regime বলতে পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়াকে বুঝিয়েছেন। এর চীনকে খোঁটা মেরে তিনি বলেন, “প্রচণ্ড রাগ লাগে যখন দেখি কয়েকটি দেশ শুধু এ ধরনের একটি সম্রাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্যই করে না বরং তাদের অস্ত্র, রসদ, অর্থনৈতিক সমর্থন দেয়।”

 জাতিসংঘ বিষয়ে তিনি বলেন, “জাতিসংঘের সাফল্য তার সদস্যদের স্বাধীন শক্তির উপর নির্ভর করে।" তিনি উল্লেখ করেন যে প্রত্যেক দেশের ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ থাকতে পারে কিন্তু একটি “সুন্দর লক্ষ” যেটার উপর নির্ভর করে জাতিসংঘের সৃষ্টি হয়েছিল সেটা হচ্ছে প্রত্যেক রাষ্ট্রের পাশাপাশি কাজ করে যাওয়া।
অথচ এর আগে বারবার ট্রাম্প জাতিসংঘ নিয়ে সমালোচনা করেন।

 ট্রাম্প ঈশ্বরের দেয়া অধিকার গুলো রক্ষার কথা বলেন ‘ঈশ্বর’ কথার উপর জোর দিয়ে। আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি আমেরিকাকে প্রথম গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন এবং জোর গলায় বলেন সব দেশকে সেটাই করা উচিৎ, নিজের স্বার্থ রক্ষা।

 ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা অন্যান্য দেশগুলোর সাথে যেসব চুক্তি করেছে সেগুলোর সুবিধা নেবে না। তিনি বলেন, “আমাদের নাগরিকরা আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার চূড়ান্ত মূল্য দিয়েছেন। তারা অন্য দেশের স্বাধীনতা রক্ষাতেও লড়াই করেছে। আমরা সাদৃশ্য ও বন্ধুত্ব চাই, সংঘর্ষ ও শত্রুতা চাই না।“

 তিনি জাতিসংঘের সদস্যদের ‘বিশৃঙ্খল শাসনের’ বিরুদ্ধে একসাথে লড়াই করার কথা বলেন। তিনি বলেন, “যদি সৎ লোকেরা দুষ্টদের সাথে মোকাবিলা না করে, তাহলে মন্দই জয়লাভ করবে।“ পুরো বিশ্বই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের মুখে হুমকিতে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আরো বলেন, “যদি আমেরিকা নিজেকে এবং তার মিত্রদের প্রতিহত করতে বাধ্য হয় তবে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করা ছাড়া আমাদের অন্য কোন বিকল্প নেই।“

 এরপর কিম জং উনকে ইশারা করে তিনি বলেন, “Rocket Man is on a suicide mission for him and his regime (এটার বাংলা করা আমার পক্ষে সম্ভব না। ইংরেজিতেই আসল স্বাদটা পাওয়া যায়)।“ এরপর ইরানের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন পারমাণবিক চুক্তি “আমেরিকার কাছে বিব্রতকর।“

 এরপর ট্রাম্প জোর গলায় বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বলতে শুরু করেন। তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করার জন্য তার মিত্রদের সাথে লড়াই করছে। এরপর কোন পরিমাপ ছাড়াই তিনি বলেন, “গত ৮ মাসে আমাদের দেশ আইএসের বিরুদ্ধে অনেক অর্জন করেছে।“
এখানে আসলে তিনি কোন অর্জনের কথা বলেছেন তা পরিষ্কার নয়। তিনি জর্ডান, তুরস্ক ও লেবাননকে শরণার্থী গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।

 এরপর ট্রাম্প তিনি জাতিসংঘে, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের মোট বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশই দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবং এটা কতটুকু তা কারো চিন্তারও বাইরে। আমেরিকা কিছু অন্যায্য বোঝা বহন করছে।“ তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আমেরিকার বিভিন্ন প্রকল্প ও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

 জাতিসংঘে সংস্কার গ্রহণে আগ্রহী হওয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিবকে ট্রাম্প ধন্যবাদ জানান।

 এরপর ৩৪ মিনিটের মাথায় ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও কিউবা এবং সমাজতন্ত্র নিয়ে সমালোচনা করতে শুরু করেন। ভেনেজুয়েলা ও কিউবায় আরো বেশি সবার মনযোগ দেয়া উচিৎ বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “আমার প্রশাসন কিছুদিন আগে ঘোষণা করেছে আমরা কিউবার উপর থেকে ততদিন কোন নিষেধাজ্ঞা তুলছি না যতদিন না তারা গঠনগত সংস্কার আনছে। আমরা নিকোলাস মাদুরো’র সমাজতান্ত্রিক শাসনের উপরেও বৃহৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি যারা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। নিকোলাস মাদুরো’র সমাজতান্ত্রিক একনায়কত্ব সে দেশের ভাল জনগণের উপর অনেক ব্যথা নিয়ে এসেছে। একটি ব্যর্থ মতবাদ ব্যবহার করে এই দুর্নীতিগ্রস্ত শাসন একটি উন্নয়নশীল দেশকে ধ্বংস করেছে যেটা যেখানেই চেষ্টা করা হয়েছে সেখানেই শুধু দারিদ্র এনেছে। ব্যাপারটাকে আরো খারাপ করার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে মাদুরো তার নিজের জনগণের সাথে লড়াই করছে।“

 তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ অনাহারী এবং তাদের দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। পরিস্থিটা পুরোপুরি অনাকাঙ্খিত। এবং আমরা শুধু দাঁড়িয়ে থেকে তা দেখতে পারি না। একটি দায়িত্ববান বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে আমরা এবং অন্যান্যদের একটি লক্ষ রয়েছে। সে লক্ষ হচ্ছে পুনরায় স্বাধীনতা অর্জনে তাদের সাহায্য করা। আমরা তদের দেশকে রক্ষা করব ও গণতন্ত্রকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করব। আমি সেইসব নেতাদের ধন্যবাদ জানাই যারা ভেনেজুয়েলার জনগণকে সহযোগিতা করছে।... আমরা ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব ও জনগণকে রাজনৈতিক মুক্তি এনে দেব।“

 এরপর তিনি আরো বলেন, “ভেনেজুয়েলার সমস্যাটা হচ্ছে সেখানে সমাজতন্ত্র আরোপ করা হয়েছে সেটা নয় বরং নিখুঁতভাবে সমাজতন্ত্র আরোপ করা।“ এরপর প্রায় ১০ সেকেন্ড চুপ করে থাকেন ট্রাম্প এবং পিছন থেকে হাততালির শব্দও শোনা যায়। এরপর তিনি আবার বলা শুরু করেন, "সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে কিউবা, ভেনেজুয়েলা যেখানেই সত্যিকারের সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজম এসেছে, নিয়ে এসেছে শুধু ধ্বংস আর বিপর্যয়। যারা এই জঘন্য মতবাদ নিয়ে এসেছে তারা শুধু এটাই অবদান রাখতে পারে যে যারা এই সিস্টেমের মধ্যে থাকবে তাদের জন্য শুধু দুর্ভোগ বয়ে নিয়ে আসবে। আমেরিকা সেইসব মানুষকে সমর্থন জানায় যারা একটি পাশবিক শাসনব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে।"

 সবশেষে “God bless you, god bless the nations of the world, and god bless the United states of America” বলে ট্রাম্প তার ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের বক্তৃতা শেষ করেন

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জলের গান
জলের গান এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 47 min ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 1, 2013 - 4:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর