নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • বেহুলার ভেলা

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

কার্টুন ভিডিও গেমসে পালিয়েছে গল্পের রাক্ষস-খোক্ষস ও শি মুরগিরা!


গল্পের শি মুরগি আমি খুঁজে বেড়িয়েছি বহুদিন। মায়ের সাথে কোথাও বেড়াতে গেলে সেই বাড়িতেও আনমনে শি মুরগি খুঁজেছি। বাড়ির আশেপাশে ঝোপ জঙ্গলেও দিনের পর দিন খুঁজে বেড়িয়েছি। আমি যখন ভয়ে ভয়ে সবে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি সেসময়ও খেলাধুলোর ফাঁকে, গল্পের ফাঁকে আশপাশের ঝোপঝাড় খুঁজে ফিরে শি মুরগি দেখতে চেয়েছি। দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়েছি। মনে মনে এটুকু আশা পোষণ করে ক্ষান্ত দিতাম যে, হয়তো অন্যদিন, অন্য কোথাও না কোথাও আমি তাকে পাবো। দেখবো। একসময় বুঝতে পেরেছি যে, আসলে শি মুরগি বলে কিছু নেই। কিংবা থাকলেও আজ আর বেঁচে নেই। বেঁচে থাকলে তো আমি আমরা দেখতাম। যদিও গল্পের সেই শি মুরগির বাসস্থান নিয়ে আমার মধ্যে এক ধরণের দ্বিধা ছিলো। দ্বিধা ছিলো বলছি এই কারণে, গল্পের নেপথ্যের কথক তিনি শি মুরগির গল্প বলার সময় তাদের বাসস্থানের কথা দূর অজানা নগরের কথা বলতেন। কোথায় সে জায়গাটা? এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি সহসা দিতেন না। বেশ ভারি গলায় বলতেন, সে এক এমন দেশ যেখানে আমাদের দেশি মানুষজন খুব কমই গিয়েছে। গিয়ে থাকলেও ফেরত খুব কমই এসেছে! তারপরেও সেই ঘুরেফিরে গল্পে ডুব মারতেন। রাতের পর রাত আমি আমরা সেই শি মুরগির গল্প শুনেছি। একই গল্প। একেক রাত একেক রকম করে বলতেন। গল্পের প্লট ঠিকঠাক রেখে পরের রাত একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলতেন। আমরা তন্ময় হয়ে শুনতাম। কান খাঁড়া করে শুনতাম। শুনতে শুনতে আমাদের নিঃশ্বাসে তন্দ্রাভাব দেখা দিতো। শুনতে না পেলে আমাদের ঘুম ঘুম ভাবটা কেটে যেতো। যখন টের পেতেন আমি আমরা ঘুমোই নি তখন আবার শি মুরগির ডানা ঝাপটানোর গল্প...!

'কিসসা যতো মিছা অতো!'
আমার নানা এই কথাটি বলতেন। নানিকেই আমরা সবাই নানা বলতাম। আমাদের মায়ের জন্মের আগেই আমাদের নানা মারা যান। তাই খুব ছোটবেলায় সবাই আমাদের নানিকে নানা বলা শিখিয়ে পড়িয়ে নেন। আমরাও অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। মামাতো ভাই-বোনেরাও দাদা বলতো। মায়ের চাচাতো ভাইয়-বোনেদের ছেলেমেয়েও তাদের দাদি/নানিকে দাদা/নানা বলে সম্বোধন করতো। এঁদের পরিবারে পুরুষদের অকাল মৃত্যু তখন আতঙ্কজনক ছিলো। এই 'কিসসা' বা গল্প আমাদের দিনকে যেভাবে রাতের দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছে তা আজ ভাবলে পরে বেশ অবাক হই। এই মিথ্যে কথার কথোপকথন আমাদের শৈশবের বেড়ে ওঠাকে কিভাবে যে স্বপ্ন-কল্পনায় ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে তা এখন বোধকরি ভাবাও যায় না। সত্যের আদলে সত্য-মিথ্যের গল্পগুলি আমাদের সত্যমিথ্যের যে ফাঁকফোকর চিনিয়েছে তা অন্যকিছুতে পেতাম কিনা সন্দেহ আছে। গল্প বা কিসসা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ার যে রেশ ঘুমের মধ্যে থাকতো তা সারারাত স্বপ্ন হয়ে মাথায় খেলা কুরতো। অবচেতন মস্তিষ্কে গল্পের চরিত্রেরা আমাদের ঘুমে-স্বপ্নে আধো জাগরণে সারা দেহমনে খেলা করে বেড়াতো। কখনও কখনও রাতে ভয়ে কিংবা আনন্দে ঘুমের মধ্যেই আমরা চিৎকার দিয়ে উঠতাম। গল্পের চরিত্রেরা আমাদের এভাবে রাত-দিন এভাবে তাড়া করে বেড়াতো।

আমার পড়াশুনো অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয় যাওয়া ওই নানাবাড়ি থেকেই।প্রথম দিকে মূলত আমার ছোটোমামা-ই আমার পড়াশুনো দেখে দিতেন। সেই সূত্রে এইসব গল্পগুলো আমার খালাদের কাছ থেকে বেশি শোনা। কিছু কিছু নানিদের কাছ থেকেও। একান্নবর্তী পরিবার ছিলো মামাদের। বিশাল পরিবার। আমার দুই মামা, তাদের দুই চাচাতো ভাই মিলিয়ে সে এক বিশাল বড় পরিবার। সেখানে ডালপালা মেলে অনেক জ্ঞাতি-আত্মীয়েরাও থাকতেন। ছিলেন। যেরাতে আমাদের রাক্ষস-খোক্ষসের গল্প বলতেন সেদিন ছিলো আমাদের এক ধরণের ভয়-বিহ্বলতার রাত। সারা রাত আমাদের আধোঘুম, আধো জাগরণে কাটতো। পরের দিন সকালে আমরা পুকুরের পাকা ঘাটে বসে সে রাতের কথা বর্ণনা করতাম। কে কি স্বপ্ন দেখেছি, কে ভয় পেয়েছি সেসব আমরা একে একে বলতাম মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। গল্পের বুড়ো রাক্ষসটাকে আমরা অনেকেই আমাদের পাশের বাড়ির থুত্থুড়ে ক্ষ্যাপাটে বুড়ো রমিজের মধ্যে দেখতে পেতাম। আমরা তাকে ভয়ে আরও বেশি এড়িয়ে চলতাম। তার কথা বলা, আচার-আচরণে আমরা তাকে এক জীবন্ত রাক্ষস ভেবে শিউরে উঠতাম!

বেড়ে ওঠার কালে সেসব কতোটুকু প্রভাব রেখেছে তা আজ যেমন হিসেবনিকেশ করে বলা সম্ভব নয় তেমনি সেসব আজ আর ফিরিয়ে আনাও সম্ভব নয়। এতোসব কথা পাড়ার উদ্দেশ্য এই একটিই-ই গল্প, কাহিনি কিংবা কিসসা বলার সময় কই! আজ এসব কে-ইবা বলেন! থাকলেও কে-ইবা শুনছে? মোবাইল, ইন্টারন্যাট, টিভি, ইউটিউবের এই সময়ে কে এসব শুনে। যেখানে নানান চটকদার কার্টুন নিত্যদিন প্রচার হচ্ছে, সেখানে এইসব গল্প-কিসসা কে শোনে, আর কে বলে! কার্টুন দেখতে দেখতে বাচ্চারা এখন কেমন গিলতে ভুলে যায়। ভুলে যায় আশপাশের সবকিছু। এক মনে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে তো আছেই। আশেপাশের কেউই তার কাছে আর গ্রাহ্য নয়। টিভি কিংবা ট্যাবের মনিটরের দিকেই তার দৃষ্টি! কল্পনা আর বাস্তবকে সে গুলিয়েছে ওই কার্টুনের মধ্যেই।কার্টুন বা সিরিয়াল এমনভাবেই নির্মিত যা তাকে সেইভাবে আটকে রাখে, টেনে ধরে। যেইবা কারটুন বা টিভি সিরিয়াল থেকে অন্যদিকে চোখ ফেরায় ততক্ষণে বিরতি বা পরের পর্ব এসে যায়। সময় কই অন্যকিছু ভাবার। দম ফেলারও তো ফুসরত নেই! সেখানে চিন্তার ডালপালা আগেই ফুঁ করে উড়ে গিয়েছে!

তাকে সারাক্ষণ নিমজ্জিত রেখেছে ওই কার্টুন-গেমস নয়তো সিরিয়াল। আশপাশের অনেক কিছুই আর তার দৃষ্টিতে নেই। নেই আর চিন্তা-ভাবনার জায়গা থেকেও। স্কুলও সেই একই রকম ভাবনার জায়গায় তাকে আটকে রেখেছে। পরীক্ষা, পাশ-ফেল, ভালো নম্বর এইসব তাকে আরও বেশি বেশি করে তাকে ঝাঁকিয়ে বসেছে। অবসরে বিনোদন বলতে যখন ওই টম এন্ড জেরি, ভিডিও গেমস কিংবা পোকেমন হয়ে ট্যাব-মোবাইলে কিংবা টিভি তখন সেসবেই নিজের নিজেদের আশা-ব্যর্থতাগুলি সে ওসবের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছে। রাগ-ক্ষোভও সে সেভাবেই দেখছে, প্রকাশ করছে। খেলাধুলো কিংবা বিনোদন তো আজ এইসবে মেতে আছে, গল্প-কিসসারা তাই পালিয়েছে কিংবা টিভি-ট্যাব, ভিডিও গেমস, কার্টুনের তাড়া খেয়ে খেয়ে গল্পের ভূত-রাক্ষসের মতো গাছে উঠে বসেছে!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মনির হোসাইন
মনির হোসাইন এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 3 দিন ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 20, 2013 - 10:17অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর