নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

বহির্বিশ্বে বাঙালি ও একটি শিশুর আর্তনাদ !!


দিন কয়েক আগের কথা। আমার এক ঘনিষ্ঠতম বন্ধবীর সাথে কথা হোচ্ছিলো। জন্মসূত্রে বাঙালি তবে বর্তমানে সে ইউরোপের একটি দেশের নাগরিক। এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালো। তার পাশের বাড়িতেও এক বাঙালি পরিবার থাকে। তাদের একটি ছোট্ট মেয়ে আছে। বয়স হবে এইতো পাচ কি ছয়। মেয়েটার সাথে আবার আমার সেই বান্ধবীর বড্ড খাতির। প্রতিদিন খেলা করতে আসে তার কাছে। তো কিছুদিন আগে আমার বান্ধবীlটি লক্ষ্য করলো সেই ছোট্ট মেয়েটির মধ্যে কেমন যেন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। আচার আচরণে এই বয়সেই একটু উদাস কিংবা দেখে বোঝা যাবে মন খারাপ। উজ্জ্বল খাশিখুশি মুখটিতে আজ যেন কেমন এক সংশয়, কোন এক আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আমার বান্ধবী ব্যাপারটা বুঝতে পেরে অতি আদরের সাথে এর কারণটা জানতে চেষ্টা করে। এই কোমলমতি শিশু হৃদয়ে কি এমন দাগ থাকতে পারে যার জন্য এমনটা হচ্ছে। অনেক চেষ্টার পর মেয়ে শিশুটি মুখ খুলে। বেশ লজ্জার স্বরে বলে,
-আপু, কেউ আমার গায়ে হাত দিলে আমার ভালো লাগে না।
-গায়ে হাত? মা মেরেছে?
-নাহ, ওইসব জায়গায় হাত দিলে আমার খারাপ লাগে।
-ওইসব জায়গা বলতে! কি হয়েছে খুলে বলো তো! আমার বান্ধবী ততক্ষণে বেশ কিছু আন্দাজ করতে পেরেছে।
-ওই দোকানের লোকটা। আমার শরীরের সব জায়গায় হাত দেয়। দু পা সড়িয়ে ছবি তোলে। আপু আমার খুব খারাপ লাগে। কিছু ভিডিও ছবি দেখায়, ভিডিওগুলো খুব পচা। ভিডিওর লোকগুলোর কাপড় থাকে না, কি সব করে। আর ওই দোকানের লোকটা আমাকে এও বলেছে যেনো এসব কাউকে না বলি। আপু আমার ভীষণ খারাপ লাগে।

ব্যাপারটা শুনে ততক্ষণে আমার বান্ধবী স্তব্ধ। এইটুকু একটা শিশুর সাথে মানুষ এমনটা কি করে করতে পারে! ঘটনার সূত্রপাত জানতে মেয়ে শিশুটির বাবা-মার সাথে কথা বলে জানতে পারে মেয়েটি খুব চঞ্চল প্রকৃতির। বাইরে বের হলেই যা দেখবে, সব কিনে দিতে বলে। তাছাড়া বাচ্চা নিয়ে শপিং সেন্টারে ঘন্টার পর ঘন্টা হাটাহাটিও একটা কষ্টকর ব্যাপার। তাই শপিং সেন্টারে গিয়ে মেয়ে শিশুটিকে তারা একটি দোকানে বসিয়ে রেখে আসতো। কথাটুকু শুনেই আমি খুব অবাক হয়ে বললাম, একজন ইউরোপীয় নাগরিক, এতো মানবতাবাদী দেশের একজন ব্যক্তি একটা শিশুর সাথে এমন করতে পারলো! হ্যা মানুষ তো মানুষই, তা ইউরোপীয় হোক আর আরবীয় কিংবা বাঙালি, খারাপ কাজের প্রবণতা থাকবেই। ইউরোপের কোন ব্যক্তির দ্বারা যে এমন অপরাধ হতে পারে না তেমন কিছু না। তবু তাদের প্রতি আশাটা সামান্য অন্যরকম। আমার বান্ধবীটি তখন আমাকে থামিয়ে দিয়ে সামান্য রাগের স্বরে বললেন, পুরোটা এখনো বলি নি, শোনো চুপ করে। সেই শপিং সেন্টারে একজন বাঙালি কর্মচারী আছে। এই মহান কাজটি সেই বাঙালির দ্বারা হয়েছে। পরবর্তীতে আমার সেই বান্ধবী ওই লোককে এসব ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, কোন প্রমাণ আছে আমি এমনটা করেছি? সে সরাসরি অস্বীকার করে যে এমন কিছু করে নি। তাহলে কি বাচ্চা শিশুটি মিথ্যে বলছে কিংবা মিথ্যে বললে পর্নের কথাটা কই থেকে বললো! যাহোক পরবর্তীতে আমার বান্ধবীটি আরও কিছু খোজ নিতে গিয়ে জানতে পারে যে ওই লোক যে দোকানে কাজ করে, তার উপর তলায় থাকা এক মহিলার সাথেও তার শারিরীক সম্পর্ক আছে এবং মহিলা এখন সন্তান সম্ভাবী। এগুলো নিয়েও লোকটির সাথে অনেক ঝামেলা চলছে। অবশেষে আর কী করার, মেয়েটির বাবা মাকে সাবধান করা ছাড়া আর কিই বা করার আছে। মামলা মোকাদ্দমায় কয়জনই বা জড়াতে চায়। তাছাড়া নিজের দেশের একজন মানুষ বিদেশে এসে এমন একটা কাজ করলো, লোকে জানলে এই তো বলবে যে আসলে বাঙালি বলতেই খারাপ!

যাইহোক, ঘটনাটা শেয়ার করার দুটি বিশেষ কারণ আছে। এক সতর্কতা আর দুই বাঙালি। আচ্ছা ইউরোপীয় কিংবা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে গিয়ে যদি বাংলাদেশের মানুষ এমন সব কাণ্ড ঘটায় তাহলে স্বভাবতই কিন্তু বহির্বিশ্বে আস্তে আস্তে বাঙালি বলতেই অনেক নিচ হিসেবে দেখবে। কাল যখন আপনি একজন বিবেকবান মানুষ এসব দেশে যাবেন, তখন কিন্তু আপনাকে ঐসব দেশের মানুষরা বাঙালি বলেই সম্বোধন করবে। তারা কিন্তু এটাই বলবে, নাহ বাঙালি দিয়ে বিশ্বাস নেই, জাতে খারাপ। আপনি একজন সৎ ব্যক্তি হওয়া সত্যেও এসব লোকের জন্য বহির্বিশ্বের মানুষের কাছে আপনাকে ছোট হতে হবে।

একটা ব্যাপার কী, যেসব ভাইয়েরা বিদেশে যান, উপার্জন করে দেশে টাকা পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন, অনেক কষ্ট করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন, তাদের আমি সবসময় অনেক শ্রদ্ধা করি। বাংলাদেশের সোনার সন্তান বলতে আমি ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলকে বুঝি না, আপনাদেরই বুঝি। সবসময় চাই দেশে বিদেশে আপনাদের কোন হয়রানির সম্মুখীন হতে না হোক। আপনাদেরকে বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে ভিআইপি কনসিডার করলেও আমার আপত্তি নেই। আমার একাউন্টে একজন চেতনাবাজের রিকুয়েস্টের থেকে আমি এই প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষগুলোকে আগে প্রাধান্য দেই। কিন্তু দয়া করে বহির্বিশ্বে গিয়ে আপনারা এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাদের জন্য গোটা বাঙালি নামটা খারাপ হয়। আপনার একজনের জন্য আরও দশটা ভালো মানুষকে ভুগতে হবে। ফ্রি সেক্স কান্ট্রি বলেই যদি ঝাপিয়ে পড়েন তাহলে কিন্তু খুবই সমস্যা। নিজের বিবেকবোধ বজায় রাখুন, নিজে হয়রানি মুক্ত থাকুন, অন্যকে ভালো থাকতো দিন ...

বিভাগ: 

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

পড়লাম।
==============================================
ফেসবুকে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জীহান রানা
জীহান রানা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 2 দিন ago
Joined: বুধবার, মার্চ 23, 2016 - 7:25অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর