নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দিন মজুর
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ
  • রুদ্রমঙ্গল
  • নুর নবী দুলাল
  • এফ ইউ শিমুল
  • জহিরুল ইসলাম
  • অন্ধকারের শেষ প...

নতুন যাত্রী

  • অন্ধকারের শেষ প...
  • রিপন চাক
  • বোরহান মিয়া
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ

আপনি এখানে

যৌনকর্মীদের পুণঃবাসনের সঠিক মাধ্যম কোনটা?



ধর্ষণ রোধে যৌনপল্লী বাড়ানোর পক্ষে কেউ একজন মত প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকে শুরু হয়েছে এই যৌনপল্লী আর যৌনকর্মীদের নিয়ে নানা কথা বলা। ধর্ষণ রোধে যৌনপল্লী বৃদ্ধির কথা যিনি বলেছেন তিনি অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন এতে দ্বিমত নেই। আবার যারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইনিয়ে বিনিয়ে বলছেন যৌনপল্লী উচ্ছেদ করে তাদের পুণঃবাসন করতে। তারাও অতি আবেগি হয়ে এ কথা বলছেন। মূলে আমরা কেউ যাচ্ছি না। আমরা কেবল নিজ অবস্থানে দাঁড়িয়ে মতামত ব্যক্ত করছি।

নারায়ণগঞ্জ বাড়ি হওয়ার কারণে একটা সময় নিমতলির যৌনপল্লীর ছাদগুলোতেই আমাদের আড্ডাস্থল গড়ে ওঠে। অনেকটা সময় সেসব স্থানে আড্ডা দিয়েছি। কাছ থেকে জেনেছি এই পল্লীতে আসা অনেক নারীর জীবন। তারা কেউ সাধ করে এখানে আসতো না। কয়েকটি ক্যাটাগরিতে তারা প্রতারিত হয়ে এখানে আসতো। তবে যত ক্যাটাগরিই হোক না কেন, মূল হচ্ছে তারা কোনো না কোনো পুরুষ দ্বারা প্রতারিত হয়ে এই পল্লীর বাসিন্দা হতেন।

পল্লীতে অনেক যৌনকর্মীর ‘বাবু’ ছিলো। বাবু মানে স্বামীর মত, প্রেমিকের মত। নির্দিষ্ট কোনো পুরুষ। এই বাবু যখন আসতো তখন আর সে অন্যকোনো খদ্দেরের কাছে যেত না। এখানে থেকেও তারা প্রেম করতেন। ভালোবাসতেন। ঘর বাঁধার স্বপ্নও দেখতেন। সে মোতাবেক যেসব খদ্দের তাদের কাছে আসতো, তাদের মধ্য থেকে কারো কারো সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠতো। স্বামীর মত, প্রেমিকের মতো মন প্রাণ উজার করে ভালোবাসতো তারা সেই বাবুকে।

সংসার না থাকায়, পরিবার পরিজন না থাকার কারণে তাদের যা আয় হতো সেটা তাদেরই থেকে যেতে। অনেকেই ঠিকানা গোপন করে এখানে যৌনকর্মী হিসেবে থেকেছেন। তাদের গ্রামের বাড়ির লোকজন জানতেন ঢাকায় গার্মেন্টস অথবা গৃহকর্মীর কাজ করছেন তারা। সে সুবাধে নিজেদের আয় থেকে মাসে মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন কেউ কেউ। আর অধিকাংশই তাদের আয় থেকে সিনেমা দেখতেন, সাজসজ্জা আর সোনাদানা করতেন। সে হিসেব মতে একেকজন যৌনকর্মীর কাছে নগদ অর্থ তেমন একটা না থাকলেও দশ বার পনের কিংবা কারো কারো কাছে বিশ পচিশ ভরি স্বর্ণও ছিল।

বেশ কজন যৌনকর্মী এই পল্লী ছেড়ে নিজস্ব বাবুর সাথে সংসার করার স্বপ্ন নিয়ে পালিয়েছিলেন। সংসার করেছেন। তবে কালক্রমে আবারও এখানেই ফিরে আসতে হয়েছে। বের হয়েছিলেন সোনাদানা নিয়ে। কিন্তু ফেরার সময় শূন্য হয়েই ফিরেছেন। বাবু যতই ভালোবাসার কথা বলতো, বাস্তবতায় সেটা ছিল বলার ছলে বলা। অন্য কিছু নয়। সমাজ বা সংসার যে তাদের জান্য নয় সে তারা ভালো করেই জেনে গেছেন, বুঝে গেছেন। যার কারণে তারা বাইরে যেতে চায় না। সমাজ তাদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে বলবে ‘বেশ্যা’ সেটা তারা মোটেও চায় না। তাই এই পল্লীই তাদের জন্য ভালো। তারা শেষ নিঃশ্বাস এখানেই ত্যাগ করতে চান।

একবার নারায়ণগঞ্জের যৌনকর্মীদের পুণঃবাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন তৎকালীন পৌরপিতা আলী আহম্মদ চুনকা। যৌনপল্লীর নারীদের যারা বিয়ে করতে আগ্রহি তিনি তাদের একটি নতুন রিকশা এবং একটি সেলাই মেশিন প্রদান করবেন। যাতে করে পুরুষটি রিকশা চালিয়ে এবং নারীটি সেলাই মেশিন চালিয়ে জীবন নির্বাহ করতে পারেন। সে মোতাবেক বেশ কজন পুরুষ এগিয়ে এলেন। বিয়ে করলেন। কজন পুণঃবাসিত হলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তাদেরও ফিরে আসতে হয়েছিল পল্লীতে। লোভে পরে কেউ কেউ বিয়ে করলেও পরবর্তীতে উপহার সামগ্রী শেষ হওয়ার সাথে তাদেরকেও ছুড়ে ফেলেছেন। শেষতক তারা আবারও ফিরে আসেন পল্লীতে।

কথাটা এই জন্যই বলা যে, যৌনকর্মীদের পুণঃবাসনের কথা আমরা যতই বলি না কেন, এই সমাজ তাদেরকে ঠাঁই দেয় না। তারা অন্যদের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। আবার তাদের পুণঃবাসনের কথা বলে যখন উচ্ছেদ করা হয়, সেটি হয় অনেকটাই লোক দেখানো। সরকার সংশ্লিষ্ট ও কিছু কিছু এনজিও তাদের পুণঃবাসনের কথা বলে বিভিন্ন দেশ থেকে মোটা দাগে অনেক আর্থ সহযোগিতা আনেন। পুণঃবাসনও করেন। কিন্তু শেষ ঠাঁই তাদের কোথায় হয়? সে আর কেউ জানে না। বরং তাদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়। আরও বেশি মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় তাদের।

১৯৯৯-৯৮ সালে যখন নারায়ণগঞ্জের টানবাজর, নিমতলী এবং ঢাকার ইংলিশ রোডের পল্লী উচ্ছেদ করা হলো তখন বলা হয়েছিলো তাদেরকে নানা কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে সুষ্ঠু জীবন যাপনের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা দেখেছি রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করার সময় যেভাবে গাড়িতে ছুড়ে ছুড়ে ওঠানো হয় ঠিক একইভাবে যৌনপল্লীর কর্মীদেরকে ওঠানো হয়েছিল। যা অনেকটাই অমানবিক। তারপরও আমাদের সান্ত¦না ছিল, তারা পুণঃবাসিত হচ্ছে। পুণঃবাসনের নামে প্রায় ২০ হাজার যৌনকর্মীকে পাঠানো হলো গাজিপুর ভবঘুরে কেন্দ্রে। ইংলিশ রোড থেকে পাঠানো হয়েছিল প্রায় ১০ হাজারের মতো।

পরবর্তীতে যতটুকু জানা গেছে, ভবঘুরে কেন্দ্রে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছিল তাদের। সেখানে থেকে নানা ভাবে তারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। অনেকে পালিয়েছে। উচ্ছেদকৃত যৌনকর্মীদের কজন পুণঃবাসিত হয়েছে তার সঠিক কোনো হিসেব কেউ দিতে পারবে না। তাদের সর্বশেষ অবস্থা কি সেটিও কেউ বলতে পারবে না। অবশ্য আমাদের উদ্দেশ্য ছিল উচ্ছেদ করা, আমরা করেছি। তাদের রক্ষণা বেক্ষণ করা আমাদের দায় নয়। তাই তাদের খবরা খবর আমরা আর রাখি নি।

ভবঘুরে কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া যৌনকর্মীরা চার ভাগে বিভক্ত হয়ে একই পেশাতেই থেকে গেছে। এর মধ্যে একটি গ্রুপ ভ্রাম্যমান যৌনকর্মী, একটি গ্রুপ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে আরেকটি গ্রুপ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে, অপর আরেকটি গ্রুপ দেশের বিভিন্ন পল্লীতে যৌনকর্মে লিপ্ত থেকেছেন। যা এখনও খুঁজলে অনেক স্থানে পাওয়া যাবে। জানা যাবে তাদের পুণঃবাসন করার নামে কতটা উপহাস, খেলা খেলেছি আমরা।

এখন যারা নতুন করে তাদের পুণঃবাসনের কথা বলছেন, পল্লী উচ্ছেদের কথা বলছেন, তারা ঠিক কোন উপায়ে তাদের পুণঃবাসনের কথা বলছেন, সেটি কি হবে, তাদের রক্ষণা বেক্ষণ বা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার উপায় কী হবে, সেটি কিন্তু বলছেন না। শুধু মুখে আর শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে যৌনকর্মীদের পুণঃবাসনের কথা বলছেন! যৌনকর্মীদের পুণঃবাসন হোক, সেটি প্রতিটি মানুষই চাবেন। আমিও চাই। কিন্তু বাস্তবতা বলছে এই সমাজে তাদের পুণঃবাসন এতটা সহজ নয়। সমাজ তাদের মেনে নিবে না। যতদিন পর্যন্ত তারা আইনী স্বীকৃতি না পাবে।

আমাদের আইন দ্বারা যৌনপল্লীর স্বীকৃতি আছে। তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। এতে যৌনকর্মীদের কোনো কাজে আসছে না। দরকার হচ্ছে যৌনকর্মীদের আইনী স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তারা অন্তত সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবেন। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টাবে। প্রতারণার শিকার হবে না। দালালের খপ্পরে পড়ে কেউ আর যৌনপল্লীর বাসিন্দা হবে না। কোনো নারীকে জোরপূর্বক যৌনকর্মী কেউ বানাতে পারবে না। বিক্রির ব্যাপারটা থাকবে না। সাধারণ মানুষের মতো তারাও সমাজে ঠাঁই পাবে। অন্য পেশার মত তাদের এই কাজটাও পেশার স্বীকৃতি পাবে।

আমরা জানি যৌন পেশাতে কোনো নারী নিজ ইচ্ছেতে আসে না। এখানে প্রতারণা আর জোরপূর্বকই তাদের আনা হয়। সুতরাং আইনী স্বীকৃতির কারণে এ প্রবণতাটা কমবে। নারীরাও ইচ্ছেতে এই পেশা বেছে নিবে না। একটা সময় যৌনকর্মীদের সংখ্যাও কমতে থাকবে। আমি মনে করি আইনী স্বীকৃতির মাধ্যমেই তাদেরকে পুণঃবাসন করার অন্যতম মাধ্যম। এ ছাড়া মিষ্টি কথা বলে যে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হয় সেটা একটা নাটক ছাড়া আর কিছুই না। লাভের লাভ তাদের কিছুই হবে না। হয়নি কখনোই। তাই এদেরকে আইনী স্বীকৃতি দেয়া হোক, তাহলেই এরা নিজেরাই নিজেদেরকে এই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে নিতে পারবে। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টাবে।

এবার বলুন, আপনারা যারা তাদের উচ্ছেদ করে পুণঃবাসনের কথা বলছেন তারা মূলত কী চাচ্ছেন? বিভিন্ন অঞ্চলের পল্লীগুলো উচ্ছেদ হোক, সেখানকার কর্মীদের পুণঃবাসন করা হোক। কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হোক। বিভিন্ন কাজকর্মে তাদের ঢুকিয়ে দেয়া হোক। এই তো? অথচ তারা যখন কোথাও কাজ করবে তখন পান থেকে চুন খসলে সর্বপ্রথম আপনিই কিন্তু তার অতীত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। আচ্ছা, এরা কি সমাজে ঠাঁই পাবে? আপনারা কিংবা আপনাদের আত্মীয় স্বজন দ্বারা কেউ কি তাদেরকে ঘরের বউ করে নিয়ে যাবেন? আপনি যেই ফ্ল্যাটে থাকেন তার বিপরীত ফ্ল্যাটে কি তারা থাকতে পারবে?

জানি সেটি কখনোই হবে না। সর্বপ্রথম আপনিই ভেটো দিবেন। আপনিই তার দিকে আঙ্গুল তুলবেন। আর যদি আইনী স্বীকৃতি তারা পায়, তাহলে সে সুযোগ আপনি পেতেন না। তাই আসুন, তাদের আইনী স্বীকৃতির পক্ষেই আওয়াজ তুলি। দেখবেন, এর ফলে আপনারা যে পুণঃবাসনের কথা বলছেন, সেটি এর মাধ্যমেই হবে। তখন তাদের সাথে ওঠা বসা করতেও আমাদের ইগো সমস্যা হবে না। আমরা দ্বিমত পোষণ করতে পারবো না। তারা অনায়াসে যে কোনো কর্মস্থলে কাজ করলেও তাদের অতীত নিয়ে কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না। এবার ভেবে দেখুন যৌনকর্মীদের পুণঃবাসনের সঠিক মাধ্যম কোনটা?

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সীমান্ত প্রধান
সীমান্ত প্রধান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 5 দিন ago
Joined: শনিবার, আগস্ট 15, 2015 - 8:34পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর