নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দিন মজুর
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ
  • রুদ্রমঙ্গল
  • নুর নবী দুলাল
  • এফ ইউ শিমুল
  • জহিরুল ইসলাম
  • অন্ধকারের শেষ প...

নতুন যাত্রী

  • অন্ধকারের শেষ প...
  • রিপন চাক
  • বোরহান মিয়া
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ

আপনি এখানে

শুভ জন্মদিন বন্ধু অভিজিত


অভিজিতের সাথে সাক্ষাত দেখা হয়েছে মোটে একবার, কিন্ত ফোনে বা ভিডিও চ্যাটে কথা বলেছি ঘন্টার পর ঘন্টা সেই ২০০৪ সাল থেকেই। যখন ও সিঙ্গাপুরে পি এই চ ডি শেষ করছে। তখন থেকেই ওর চার্বাক @ ইয়াহুডটকমের ইমেলের সাথে পরিচয়। অসংখ্য তর্ক বিতর্ক হয়েছে ওর সাথে মুক্তমনার পাতায়, ইহাগুগ্রুপে-আবার দুজনে একসাথে যৌথভাবেও অনেক রিবিউটাল তৈরী করেছি।

মুক্তমনা আমাদের কাছে একটা জার্নি। আমাদের নিজস্ব-ভিয়েনা সার্কল। যবে থেকে ইন্টারনেট তার দ্বার খুলে দিয়েছে, আমরা বুঝতে পারছিলাম ইতিহাস, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি -ইত্যাদি যা কিছু আমাদের পড়ানো হয়েছে, যা কিছু প্রচলিত-তার অধিকাংশই মিথ। রূপকথা। আমাদের আশেপাশের লোকেরা রূপকথার গল্পে বিভোর- সেই রূপকথা হিন্দুধর্ম, ইসলাম কমিনিউজম, সোভিয়েত, ব্যক্তি-সব কিছুরই হতে পারে। আমাদের পরিচিত বিশ্বাসের গন্ডি ভাংছিল ক্রমাগত। সেই শুভলগ্নে, ২০০৩ সালে একটা ইহাহুগ্রুপে অভিজিতের সাথে আলাপ। তখন এত বাংলা লেখার উপায় নেই, ইউনিকোড আসে নি। ইংরেজিতেই লেখালেখি। " সবই ব্যাদে আছে টাইপের" এক ধর্মপাগলার সাথে অভিজিত কুস্তি লড়ছে। এখনো মনে আছে।

তারপরে নিয়মিত ভাবে ওর সাইট মুক্তমনাতে লেখালেখি। ওরই উৎসাহে। আসলে মুক্তমনা তৈরী হয়েছিল মূলত বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার লোকদের নিয়ে। ওটা ছিল আমাদের অনলাইন আখড়া। আমদের প্রায় সবাই ইঞ্জিনিয়ার-কেউই যে খুব বেশী দর্শন বা রাজনীতিবিজ্ঞান জানতাম তা না। কিন্ত তর্ক-বিতর্কে অংশ নিয়ে সমৃদ্ধ হতাম। বিতর্কের মাধ্যমে অন্যদের কাছ থেকে শেখাটাই ছিল প্রবাসে আমাদের মজা।

কিসব দিন গেছে। কেউ এটা লিখেছে-ত ফোন করে উত্তেজনা-কি করে বিরুদ্ধ লজিকগুলো সাজানো যায়। অভিজিত ছিল ক্ল্যাসিকাল তার্কিক। তর্ক করেই আনন্দ পেত বেশী। আমরা সবাই সেই আনন্দেই বিভোর ছিলাম। মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত আক্রমন ও চলেছে। তখন রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ন হতেন ওর স্ত্রী বন্যা ( Bonya Ahmed ) ।

মুশকিল হচ্ছে আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্র তৈরী-এই মিথ্যে মিথগুলোর ওপরে। সেই মিথগুলো যে হাতুড়ি দিয়ে ভাংবে, রাষ্ট্রের শাসক শ্রেনী এবং তার আশ্রিত জঙ্গীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে তাত হয় না। ২০০৪ সালেও অভিজিত জানত ওর মাথার ওপর দাম বসে গেছে। আমার স্পষ্ট মনে আছে ও তখন সিঙ্গাপুরে। ও বলছিল কিভাবে ও সম্পূর্ন ভাবে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় বাংলাদেশীদের এড়িয়ে চলে। যতটুকু গোপন থাকা যায়।

এই সব মিথ্যে মিথে আঘাত দেওয়া আর ভীমরুলের চাকে খালি হাতে হাত দেওয়া এক ব্যপার। অজস্র ভীমরুল ওকে কামরাতে এসেছে সব সময়। কুৎসিত ব্যক্তি আক্রমণ চালিয়েছে মোল্লারা। বাংলাদেশী হিন্দুরাও ছিল ওর ওপরে খাপ্পা-কারন হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধেও সে লিখে গেছে ক্রমাগত।

ও একই সাথে বাঙালীদের আরাধ্য দেবতা রবীন্দ্রনাথ এবং বিবেকানন্দের কড়া সমালোচনা করেছে। আমি ওর মুল্যায়নের সাথে দ্বিমত পোষন করলেও ( মুক্তমনাতে রবীন্দ্রনাথ এবং নারীবাদ নিয়ে অনেক তর্ক হয়েছে ), ওর এই ক্রিটিক্যাল আক্রমনাত্বক স্পিরিটটাকে পছন্দ করতাম। কারন বাঙালীর সর্বনাশের আরেকটা বড় কারন ব্যক্তিপূজা। পূজোর মাধ্যমে না, সমালোচনা করেই একজন ব্যক্তির দর্শন এবং পথকে সব থেকে ভাল বোঝা যায়। এটা বাঙালীকে বোঝানো মুশকিল। ও রবীন্দ্রনাথকে গালি দিতে আবার রবীন্দ্রনাথকে নিয়েই লিখত। একজন প্রকৃত লেখকের সেই স্পিরিটাই থাকা উচিত।

জীবনের একটা ভাল সময় কাটিয়েছি মুক্তমনায় তর্ক বিতর্ক করে। কোন সন্দেহ নেই, অভিজিত রায়ের সাথে সাক্ষাত না হলে, এই গলিটা হয়ত চেনাই হত না। বেঁচে থাকার মধ্যেও একটা অপূর্নতা থাকত।

অভিজিত কি ওর মৃত্যুতে খুব দুঃখ পাবে? জিজ্ঞাসা করার সেই সুযোগ ত আর নেই। তবে আমরাত এথেইস্ট। জীবনটাকে পড়ে পাওয়া এক্সিডেন্ট বলেই মনে করি। মৃত্যুশোক কোন এথেইস্টেরই থাকার কথা না। আফশোস থাকতেই পারে। বিতর্কটা আরেকটু সময় নিয়ে জমলেই ভাল হত!!

যারা ওকে মেরেছে, আমি নিশ্চিত তারা কোনদিন এক বর্ণ অভিজিত রায় পড়ে নি। তারা উন্মাদ। অথবা পাঠানো ঘাতক।

তারা কি খুব ক্ষতি করে দিল? আমার মনে হয় না। অভিজিত থাকলে নিশ্চয় আরো ভাল হত-কিন্ত বাংলাদেশের এখন ঘরে ঘরে নাস্তিক ব্লগার। অধিকাংশই নিজের নাস্তিক পরিচয় লুকিয়ে বেঁচে আছে। একজন লেখক ত রক্তবীজ। তার প্রতিটা ফোঁটা রক্তেই তৈরী হয়েছে আরো অনেক অভিজিত রায়। সেই সুনামী থামানোর ক্ষমতা নেই মহাকালের।

শুভ জন্মদিন বন্ধু।

Comments

মৃত কালপুরুষ এর ছবি
 

অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আজকের এই দিনটি অভিজিৎ রায়কে স্বরন করার জন্য আপনার লেখাটির জুড়ি নেয়। আপনার কথা আজ সত্যি। এখন বাংলার ঘরে ঘরে মুক্তমনা। একজন অভিজিৎ এর প্রতি ফোটা রক্তে একটি করে অভিজিৎ তৈরি হয়েছে। শুভ জজন্মদিন অভিজিৎ রায়। তুমি আমাদের মাঝেই থাকবে।

-------- মৃত কালপুরুষ

 
সোহেল ইমাম এর ছবি
 

পড়ে ভালো লাগলো। এখনও যে আপনারা লিখছেন দেখে ভালো লাগে। সবাই নীরব হয়ে গেলে অভিজিৎ রায়ের সত্যিাকার মৃত্যুই হবে সেটা।

----------------------------------------------------
কে লেখে, কারা লেখে দেয়ালের আঁকিবুকি দাগ
সময়ের স্মৃতি রেখে বাকী অর্থ খ’সে পড়ে যাক

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

বিপ্লব পাল
বিপ্লব পাল এর ছবি
Offline
Last seen: 13 ঘন্টা 24 min ago
Joined: শুক্রবার, জুন 30, 2017 - 6:01অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর