নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বই: বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী 'উভচর মানুষ'



রাশিয়ান লেখক আলেক্সান্দর বেলায়েভের অসাধারণ একটা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ‘উভচর মানুষ’। বিজ্ঞান নিয়ে একটা কল্পিত কাহিনীতে লেখক মানবতা, প্রেমের সৌন্দর্য, মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও ধর্মান্ধতাসহ নানা বিষয় দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বাংলায় ননী ভৌমিকের অনুবাদটা পেলাম ‘বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র’ প্রকাশনের।

উপন্যাসে আর্জেন্টিনার বুয়েনাস আইরেসের পাড়ের সমুদ্রে মুক্তা-সন্ধানী ডুবুরিদের কঠিন জীবন দেখানো হয়। যেখানে অধিকাংশ শ্রমিকই নির্যাতিত-নিপীড়িত রেড-ইন্ডিয়ানরা। জাহাজের মালিক ক্যাপ্টেন পেদ্রো জুরিতা, আর তার বিশ্বস্ত শ্রমিক বালতাজার। সমুদ্র থেকে মাঝে-মধ্যে আসা অদ্ভুত এক আওয়াজ ও নানা আজব কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের ভাবিয়ে তোলে।

‘দরিয়ার দানো’, এই কল্পকাহিনীর মূল চরিত্র। তাকে নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হলেও কেউ তাকে স্বচক্ষে দেখেনি। একদিন মুক্তা ব্যবসায়ী জুরিতা ও তার শ্রমিকরা দরিয়ার দানোকে দেখে ফেলে। এই দানো অনেকটা মানুষের মতোই, মানুষের ভাষাও বলতে পারে, কিন্তু সে সাগরের তলে ও ওপরে সমানভাবে চলাফেরা করতে পারে।

ব্যবসায়িক দুর্বুদ্ধি থেকে জুরিতা এই দানোকে বশ করে মুক্তা খোঁজার কাজে লাগিয়ে বড়লোক হবার চিন্তা করে। আর তাই বিশ্বস্ত ডুবুরি বালতাজারকে দানো ধরে আনার কাজে পাঠায়।

গল্পের আরেকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ডাক্তার সালভাতর। মানুষের, বিশেষত গরিব-অসহার রেড-ইন্ডিয়ানদের কঠিন সব রোগ, এমনকি ম্র্যুর মুখ থেকে মানুষকেও বাঁচিয়ে তোলেন এই ডাক্তার। সমুদ্রের ধারে এক প্রকাণ্ড জায়গায় তার গবেষণাগার। রহস্যে ঘেরা সেই জায়গায় অদ্ভুত সব প্রাণী, গাছপালা, কথা বলতে পারা বানর, কাটা হাত-পায়ের নড়াচড়া- এমন আরও অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে পাঠক।

সালভাতরের গবেষণাগারে বালতাজারের পাঠানো চর ক্রিস্টো কাজ নেয়। ক্রিস্টোর দেওয়া তথ্য থেকে আর বুঝতে বাকি থাকে না, দরিয়ার দানো কার সৃষ্টি। সালভাতরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ হিসেবে দরিয়ার দানোকে চাইবার দুরভিসন্ধী আঁটে জুরিতা ও বালতাজার। আর তখন দরিয়ার দানো এনে দেবে সমুদ্রের তলদেশের দামী সব সম্পদ।

দরিয়ার দানো কোনো দানব নয়, বরং সে মানুষই বলতে গেলে। নাম- ইকথিয়ান্ডর বা মৎসপুরুষ বা উভচর মানুষ। পার্থক্য বলতে ইকথিয়ান্ডরের কানকো থাকায় সে পানিতে নিঃশ্বাস নিতে পারে। ইকথিয়ান্ডরের গায়ের চামড়া, চশমা, দস্তানা আলাদাভাবে তৈরি করেছে সালভাতর, তাই সে অনায়াসে মাছেদের মতো সাঁতরে বেড়াতে পারে।

একদিন ডুবন্ত এক মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে ইকথিয়ান্ডরের জীবনের মোড় ভিন্নদিকে ঘুরতে লাগলো। ওই মেয়ের প্রেমে পড়ে গেলো ইকথিয়ান্ডর। মেয়েটির নাম গুত্তিয়েরে। আর সে ছিলো বালতাজারের পালিত মেয়ে, যাকে বিয়ে করার জন্য পাগল পেদ্রো জুরিতাও। যদিও বিয়েতে মত নেই গুত্তিয়েরের।

নানা ঘটনায় গুত্তিয়েরের সাথে ইকথিয়ান্ডরের বন্ধুত্ব বাড়তে থাকলো। দামী মুক্তা, ধন-সম্পদের মোহমুক্ত শিশুর অতো সরল অথচ জ্ঞানী ইকথিয়ান্ডরের প্রেমে পড়ে গেলো গুত্তিয়েরে। তাদের প্রেম সম্পর্কে জেনে গেলো জুরিতা। একদিনের এক দুর্ঘটনায় ইকথিয়ান্ডর মারা গেছে ভেবে মনের দুঃখে ও জোরাজুরিতে জুরিতাকে বিয়ে করে ফেলে গুত্তিয়েরে। পরে গুত্তিয়েরের বন্ধু আলসেনের কাছে সব সত্য জেনে গুত্তিয়েরেকে উদ্ধার করতে যায় ইকথিয়ান্ডর। আর সেখানেই ইকথিয়ান্ডরকে বন্দি করে দাস বানিয়ে ফেলে লোভী জুরিতা।

এদিকে ইকথিয়ান্ডর বালতাজারের হারানো ছেলে- ক্রিস্টো একথা বলার পর ছেলেকে উদ্ধারের নানা আয়োজন করে বালতাজার। অপারেশন করে শরীর বিকৃত করার অপরাধে সালভাতরের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। যদিও ইকথিয়ান্ডার উভচর মানুষ হিসেবে বাড়তি সুবিধা ভোগ করছিলো, তবুও ধর্ম অবমাননার দায়ে সালভাতরের বিপক্ষে চার্জের বিশপ বিপক্ষে অবস্থান নেয় ও বিচারকে প্রভাবিত করতে থাকে।

ধর্মান্ধতার একটা অংশ এখানে ভালোভাবেই এনেছেন লেখক। চোখের সামনে থাকা বিজ্ঞানের সত্য ও ঈশ্বরের ধারণা- দুটো নিয়ে বিতর্ক জমে ওঠে আদালতের কাঠগড়ায়। যুক্তি দিয়ে বার বার প্রমাণ হয় যে বিজ্ঞান মানুষের কল্যাণ করছে। যদিও সালভাতর বিজ্ঞানকে খারাপ কাজে লাগানোর ভয় সম্পর্কেও সচেতন বক্তব্য দিয়েছেন। সালভাতরের অবদানকে অস্বীকার করার ক্ষমতা না থাকলেও শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়।

এদিকে ইকথিয়ান্ডারকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্রে শামিল হয় বিশপ। এই ষড়যন্ত্র থেকে পুত্রবৎ ইকথিয়ান্ডারকে বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে সালভাতর। আর ইকথিয়ান্ডারকে মানুষের কল্যাণের জন্য বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করতে বলে যান। ইকথিয়ান্ডর পালিয়ে যায়। গুত্তিয়েরে অত্যাচারী স্বামী জুরিতাকে ছেড়ে দেয় ধর্মভয়কে উপেক্ষা করে আর নতুন করে ঘর বাঁধে বন্ধু আলসেনের সাথে। সময় বয়ে যেতে থাকে, বুয়েনাস আইরেসের সমুদ্রের মুক্তা-সন্ধানী শ্রমিকেরা দরিয়ার দানোকে মাঝে মাঝেই মনে করে।

এই ছিলো উভচর মানুষের গল্প। এমন অসাধারণ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী আমি আমার জীবনে কমই পড়েছি। পাঠককে পড়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

পড়লাম। বাহ সুন্দর
==============================================
আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফাহিমা কানিজ লাভা
ফাহিমা কানিজ লাভা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 7 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 16, 2014 - 2:55অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর