নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • এলিজা আকবর
  • পৃথ্বীরাজ চৌহান
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

ভারতের স্বাধীনতা, দেশভাগ ও অখন্ড ভারতের স্বপ্ন!


প্রতিবছর 15 ই আগস্ট এই দিনটি মন আনচান করে ওঠে ।মনের মধ্যে নানা স্মৃতি ভিড় করে ওঠে , একদিকে মন আনন্দে ভরে ওঠে ও অন্যদিকে বুক যন্ত্রণায় ছটফট করে ।মন আনন্দে ভরে ওঠে এই কারনে যে দীর্ঘ একশো নব্বই বছরের সংগ্রামের পর ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনের পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হতে পেরেছে ।অন্যদিকে বুকের মধ্যে যন্ত্রণা হয় এই কারণে যে -লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি মানুষের বছরের পর বছর সংগ্রামকে দূরে সরিয়ে রেখে ভারতবর্ষকে ভাগ করা হল ।ভারতবর্ষ - ভারত ও পাকিস্তান নামে এই দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হল ।দেশভাগের ফলে চারিদিকে এক ভাতৃঘাতি দাঙ্গা দেখা যায় ,যার ফলে ছিণ্ণমূল হল কোটি কোটি মানুষ ,প্রাণ হারাল কুড়ি লক্ষের ও অধিক মানুষ ।দেশভাগ যে কি ভয়াবহ দুর্দশা নিয়ে আসে তৎকালিন লেখকদের বই থেকে তা জানা যায় ।

বিখ্যাত লেখক খুশবন্ত সিং এর -" A Train to Pakistan " বইতে তিনি লিখেছেন -" একটি ট্রেন যখন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে ভারতে এসে পৌঁছায় তখন ট্রেনের একটি ও যাত্রী আর জীবিত ছিল না ।বস্তুত দেশ ভাগের সময় এমন কিছু কিছু ট্রেন শুধু ভারত থেকে পাকিস্তান ও পাকিস্তান থেকে ভারতে শব বয়েই নিয়ে গিয়েছিল "।তাহলে বুঝতে পারছেন কি , দেশ ভাগে সময় কি অবর্ণনীয় হিংসা মানুষের চিন্তা চেতনাকে গ্রাস করেছিল ।কোটি কোটি মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য দেশে শরনার্থী বা রিফিউজি হিসাবে জীবনের সর্বস্ব হারিয়ে রক্তস্নাত বিষাক্ত স্বাধীনতার আস্বাদ নিতে থাকে ।যে ভারতবাসী হিন্দু-মুসলমান কিছু দিন আগে ও ভাই ভাই ছিল সেদিন তারা প্রকাশ্যে নিজেরা এত রক্ত পিপাসু হয়ে উঠেছিল কেন ? কারণ -ধর্ম ও ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতা লাভের জিঘাংসা ।আসলে ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং ধর্মকে পুঁজি করেই রাজনৈতিক নেতারা কোটি কোটি মানুষের রক্তের বিনিময়ে নিয়ে এসেছিল স্বাধীনতা । তাই এই খন্ডিত ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন , ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি তো প্রকাশ্যেই এই স্লোগানে ভারত মুখরিত করেছিল -"ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায় ,ভুলো মাত " অর্থাৎ "এই স্বাধীনতা মিথ্যা ,ভুলে যেয়ো না "।আসলে এই ধর্ম রাজনীতি ও ধর্মের নামে বিছিন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয় খুবই সূক্ষভাবে ।ইংরেজরা রাজনৈতিক দিক থেকে সচেতন বাঙালীদেরকে পরাস্ত করতে খুবই সূক্ষভাবে ধর্মের জিগির তুলে 1905 সালের 16ই অক্টোবর বড়লাট লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব কার্যকর করেন । মুসলমানদের এটা বোঝানো হয় যে আলাদা প্রদেশ হলে মুসলিমরা চাকরি ও অন্যান্য বিষয়ে একটু বেশি সুযোগ সুবিধা পাবে ।ঢাকার নবাব সলিমউল্লাহ ইংরেজদের এই প্ররোচনায় পা দেন ।ইংরেজররা তাদের শাসন সুদীর্ঘ করার জন্য "Divide and rule policy " অর্থাৎ "ভাগ কর ও শাসন কর " এই নীতি চালু করে খুবই সুকৌশলে ।দুঃখজনক হলে ও সত্য ভারতীয়রা ব্রিটিশদের এই ফাঁদে পা দেয় ।বস্তুত বড়োলাট লর্ড মিন্টোর প্ররোচনায় ভারতে প্রথম যেদিন ধর্মের ভিত্তিতে 1906 সালের 31 শে ডিসেম্বর ঢাকার নবাব সলিমউল্লাহর পৃষ্ঠপোশকতায় ও আগা খাঁ এর নেতৃত্বে মুসলিমদের জন্য "সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ " প্রতিষ্ঠা হল সেদিনই সম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষের চারাগাছটি পোঁতা হল ।অন্যদিকে নিউটনের তৃতীয়গতি সূত্র অনুসারে প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখি প্রতিক্রিয়া থাকে ।ঠিক এই কারণে মুসলিমরা একটি পৃথক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করায় হিন্দুরা ও সচেতন হয়ে ওঠে ।তারা ও ভারতজুড়ে এক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে থাকে। এই আকাঙ্খা থেকে কংগ্রেসী নেতা মদনমোহন মালব্য মনে করেন কংগ্রেস মুসলিম লীগকে তোষণ করছে বিশেষত ইসলামকে তোষণ করছে । কংগ্রেসের এই তোষণনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ব হয়ে মদনমোহন মালব্য কংগ্রেস থেকে বের হয়ে এসে 1915 সালে কুম্ভমেলার সময় হারিদ্বারে -"সর্বভারতীয় হিন্দুমহাসভার" প্রতিষ্ঠা করেন ।

পরবর্তীকালে মুসলিম লীগ ও হিন্দু মহাসভা উভয় দলেরই বিপরীতধর্মী কর্মসূচির ফলে ভারত জুড়ে সম্প্রদায়িকতার বিষ বাস্প ছড়িয়ে যেতে দেখা যায় ।হিন্দি-উর্দু বিতর্ক ,গো-হত্যা বিতর্ক ইত্যাদি নিয়ে ও দেশ জুড়ে সম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পায় । তবে শিক্ষিত হিন্দুরা হিন্দুমহাসভার কার্যক্রম পছন্দ করত না তারা কংগ্রেসকেই জাতীয় দল হিসাবে মান্য করত তাই হিন্দু মহাসভার বিস্তার হয় তুলনামূলক ভাবে অনেক কম ।অন্যদিকে মুসলিমলীগের ধর্মীয় সম্প্রদায়িক কর্মসূচির বিরুদ্ধে কিছু কিছু প্রগতিশীল মুসলমানরা বিরোধীতা করত কিন্তু তারা ছিল সংখ্যায় খুবই কম ,অন্যদিকে দলে দলে কৃষক ,শ্রমিক ,ও মুসলিম জোতদার ,জমিদাররা মুসলিম লীগকে সমর্থন করতে থাকে যা থাকে যা থেকে মুসলিম লীগের প্রভাব প্রতিপত্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায় ।পরবর্তীকালে জাতীয় রাজনীতিতে মুসলিম লীগ এক প্রধান দল হিসাবে উঠে আসে ।কংগ্রেসের পাশাপাশি মুসলিম লীগকে অগ্রাহ্য করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে ওঠে ।এমন এক সময় ভারতীয় রাজনীতিতে নক্ষত্রের মত উত্থান হয় মহম্মদ আলি জিন্নার ।জিন্না প্রথমদিকে কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন এবং লীগের বিরোধীতা করত কিন্তু প্রচন্ড ক্ষমতালোভী জিন্না পরবর্তীকালে ক্ষমতার লোভে লীগের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং উগ্র ধর্মান্ধ মতাদর্শ প্রচার করতে থাকে ।1935 সালের ভারত শাসন আইন অনুসারে 1937 সালে যে নির্বাচন হয় তাতে লীগের ভরাডুবি হয় এবং কংগ্রেস চুড়ান্ত সাফল্য লাভ করে ।এই ফলাফলে জিন্না হতাশ হয়ে পড়ে এবং এরপর থেকে জিন্নার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় ।এরপর আধুনিক, জাতীয়তাবাদী ,মৌলবাদ বিরোধী জিন্না হঠাৎ হয়ে ওঠে সম্প্রদায়িক জিন্না ,যে জিন্নার কাছে ভারতের স্বার্থের চেয়ে মুসলিমদের স্বার্থ অনেক বড় হয়ে ওঠে ।জিন্না পরিণত হন কায়েদ-ই-আজম জিন্নাতে ।এই সময় জিন্না সমস্ত মুসলিম সংগঠনকে একত্রিত করার চেষ্টা করেন ।পাঞ্জাবের প্রধানমন্ত্রী সিকান্দার হায়াৎ খান ,আসামের প্রধানমন্ত্রী স্যার মহম্মদ শায়াদুল্লা ও বাংলার প্রধানমন্ত্রী আব্দুল কাশেম ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগদান করেন ( তৎকালীন যুগে প্রদেশের প্রধানকে বলা হত প্রধানমন্ত্রী ,আজকের যুগের মুখ্যমন্ত্রীদের তখন বলা হত প্রধানমন্ত্রী )।তবে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে যুগ্মভাবে সরকার গঠনে ইচ্ছুক ছিল কিন্তু কংগ্রেস তাতে আপত্তি জানায় ।আসলে কংগ্রেসের নীতি ছিল যে সকল প্রদেশে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল সে সকল প্রদেশেই মন্ত্রীসভা গঠন করবে ।বলায় বাহুল্য কংগ্রেসের এই নীতির পিছনে অনেক যুক্তিযুক্ত কারণ থাকলে ও তা ছিল দূরদর্শীতার অভাব ।কংগ্রেসের এই নীতির ফল ভারতের ইতিহাসে ভাল হয়নি এবং এর চরম মূল্য দিতে হয়েছিল এই বাংলাকে । কংগ্রেসের এই নীতির কারণে ফজলুল হক জিন্নার লীগের সঙ্গে সরকার গড়তে একপ্রকার বাধ্য হন ।এরফলে যে বাংলায় লীগের সে রকম প্রভাব ছিল না সেই বাংলায় মুসলিম লীগের শক্ত ঘাঁটিতে রূপান্তরিত হয় ।

এরপর জিন্না 1937 সালের অক্টোবর মাসে লীগের অধিবেশনে কংগ্রেস শাসনকে -"হিন্দু শাসনের নামান্তর বলে এবং এটা ও বলে হিন্দু শাসনে মুসলিমদের কোন অগ্রগতি সম্ভব নয় "।এভাবে জিন্না তার সম্প্রদায়িক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে ও লীগের প্রভাব বিস্তার করতে থাকে ।পরবর্তিকালে জিন্না দাবি করতে থাকে ভারতীয় মুসলিমদের জন্য এক পৃথক রাষ্ট্রের প্রয়োজন যা 1940 সালে লাহোর প্রস্তাবে দেখা যায় যা পরবর্তিকালে পাকিস্তান প্রস্তাব নামে পরিচিত ।এই প্রস্তাবটি বাংলার প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হক উপস্থাপন করে ।এই অধিবেশনে জিন্না মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানায় ।যদিও পাকিস্তান এর দাবি প্রথম উপস্থাপন করেন বিখ্যাত উর্দু কবি মহম্মদ ইকবাল 1930 সালে লীগের এলাহাবাদ অধিবেশনে ।পরবর্তিকালে 1933 সালের জানুয়ারি মাসে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রহমত আলি "Now or never " নামক পুস্তকে প্রথম পাকিস্তান গঠনের কথা বলেন । সেদিন মুসলিম নেতৃবৃন্দ রহমত আলির প্রস্তাবকে 'ছাত্রের স্বপ্ন '(student's dream)এবং 'আসার অবাস্তব '(Chimerical and impracticable ) বলে উড়িয়ে দিয়েছিল ।কিন্তু ইতিহাসের নিষ্ঠুর পরিহাসে এই স্বপ্ন পরবর্তিকালে এক জ্বলন্ত সমস্যার রূপ নেই ।

1940 খৃষ্টাব্দের পরবর্তিকালে মুসলিম লীগ পাকিস্তানের দাবিতে সোচচার হয়ে ওঠে ।মন্ত্রী মিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী কেন্দ্রে সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার কথা ছিল ,বড়োলাট লর্ড ওয়াভেল 1946 সালের 12 ই আগস্ট জওহরলাল নেহেরুকে মন্ত্রীসভা গঠনের আহ্বান জানালে লীগ উত্তেজিত হয়ে ওঠে ।লীগ এই সময় সরকারের বিরুদ্ধে "প্রত্যক্ষ সংগ্রামের" (Direct Action )ডাক দেয় এবং সেই সঙ্গে প্রচার করে "লাড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান" ।যার সব থেকে বিভত্স রূপ দেখা যায় 1946 সালের 16 আগস্ট কলকাতায় ।ওই দিন " লাড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান " এই ধ্বনি তুলে লীগ সমর্থকরা হিন্দু নিধনে মেতে ওঠে পরবর্তীকালে হিন্দুরা ও প্রতিশোধ নিতে শুরু করে ।দীর্ঘ চারদিন ব্যাপী এই পৌশাচিক নরহত্যা চলতে থাকে ।ইংরেজ ঐতিহাসিক মোসলে লিখেছেন 6-8 হাজার মানুষ মারা জান এবং 15-20 হাজার নারী ধর্ষিত ও বিকলাঙ্গ হয় ।এই মর্মান্তিক ঘটনা ইতিহাসে 'The great calcutta killing' নামে পরিচিত । পরবর্তি কালে এই দাঙ্গা নোয়াখালী ,বিহার ,ত্রিপুরা ,পাঞ্জাব ,বোম্বাই প্রভৃতি প্রদেশ ও পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে ,যা দেশভাগের প্রেক্ষাপট তৈরী করে ।জিন্না হুমকি দিয়েছিল দেশভাগ না হলে গৃহযুদ্ধ ছিল অবশ্যম্ভাবী ।তবে এই নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বহু বিতর্ক আছে ,বেশিরভাগ ঐতিহাসিকরা মনে করেন -জিন্না আসলে দেশভাগ চান নি ।জিন্না চেয়েছিল পাকিস্তান প্রস্তাবের আওয়াজ তুলে লীগের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রধানমন্ত্রীত্ব ।দেশভাগ রুখতে গান্ধীজী এক সময় প্রস্তাব দেন যে বরং জিন্নাকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী করা হোক । নেহেরু ও প্যাটেল এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন । তারা মনে করেন গান্ধীজীর এই প্রস্তাব মেনে নিলে বর্তমান পরিস্থিতিতে হিন্দুদের আর রোখা যাবে না, তারা আর নেতৃত্বের কোন কথা শুনবে না , তাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এবং দেশে নতুন করে দাঙ্গার আগুন জ্বলে উঠবে ।আসলে পাকিস্তান প্রস্তাব তুলে জিন্না যেভাবে প্রধানমন্ত্রীত্বের জন্য দরকষাকষি করতে থাকে এর ফলে চারিদিকে দাঙ্গা হাঙ্গামা বৃদ্ধি পায় গোটা দেশ সাম্প্রদায়িক হিংসায় জ্বলে ওঠে ।লক্ষ লক্ষ মানুষ এই হিংসার বলি বলি হন । তাই পরিস্থিতি একপ্রকার জিন্না ও কংগ্রেসী নেতাদের আয়ত্তের বাইরে চলে যায় ।জিন্না স্বপ্ন দেখিয়েছিল পাকিস্তান গঠন হলে - মুসলিমরা চাকরি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অগ্রাধিকার পাবে ও মুসলিমদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে এবং এই স্লোগান তোলা হয় ," ইসলাম খাতরেমে হে "।তাই মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে হবে । তাই এই ধর্মরাজনীতির বিষাক্ত বিষ সেদিন ভারতবাসীর চেতনাকে গ্রাস করে , ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে হবে এই দাবিকে সামনে রেখে এক ভাই আরেক ভাইয়ের গলায় ছুরি চালাতে সেদিন কুণ্ঠা বোধ করেননি । এই অবর্ণনীয় হিংসার হাত থেকে রক্ষা পেতে কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে দেশভাগ মেনে নেওয়া ছাড়া কার্যত আর কোন বিকল্প ছিল না ।

অন্যদিকে জিন্নার মুসলিম লীগ যে নোংরা ধর্ম রাজনীতি শুরু করেছিল সেখান থেকে ফিরে আসা ছিল কার্যত অসম্ভব ।তাই জিন্না নিজের জালেই নিজে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তাকে ও পাকিস্তান প্রস্তাব মেনে নিতে হয় ।অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলি ও দেশভাগ চেয়েছিল কারণ তারামনে করত দেশ একত্রিত থাকলে মুসলিমরা হয়ত দিল্লীর শাসন ক্ষমতা দখল করবে ( জিন্নার প্রধানমন্ত্রীত্ব বা অন্য কোন মুসলিম শাসক বা লীগের শাসন ) যা তারা কোন মতেই মেনে নেবে না ।তাই এই সমস্ত হিন্দুত্ববাদী শক্তিরা ও দেশভাগ চেয়েছিল ।তাই চরম ধর্মীয় সংকীর্ণতা একদিকে মুসলিম লীগের ধর্মীয় নীতির আস্ফালন অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী শক্তি গুলির প্রতিক্রিয়া যা দেশ বিভাজনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে ।তবে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য তত্কালীন সময় মুসলিম লীগ ও জিন্নার যেরকম সর্বব্যাপী প্রভাব ছিল তার তুলনায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গুলির প্রভাব ছিল অনেক কম ।তাই লীগের পাকিস্তান প্রস্তাব ও জিন্নার প্রধানমন্ত্রীত্বর প্রতি চরম লোভ পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত জিন্না ও পাকিস্তান প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয় ।তবে জিন্না চেয়েছিল পুরো পাঞ্জাব ও পুরো বাংলা কিন্তু তিনি তা পান নি ।তাই জিন্না পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরী করলে ও সম্পূর্ণ খুশি হতে পারেনি । মাউন্টব্যাটেন ঘোষিত পাকিস্তানকে তাই জিন্না আখ্যায়িত করেছিল " বিকলাঙ্গ ও কীটদগ্ধ "(Truncated and moth-eaten )।তাই ভারতবাসীর কাছে সবচেয়ে বড় মর্মান্তিক ট্রাজিক ঘটনা হল-যে দেশের স্বাধীনতার জন্য এত লড়াই এত ত্যাগ এত বলিদান সে দেশটিই আর নিজেদের রইল না ।দেশটি পরিণত হল বিদেশ বিভূইয়ে ছিন্নমূল হল কোটি কোটি মানুষ ।ভারত স্বাধীন হল বটে তবে ধর্মের বিষাক্ত ছোবলে ভারত ভাগ হয়ে হল দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান ।পূর্ব দিকে বাংলাপ্রদেশ নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম দিকের পাঞ্জাব ,সিন্ধু , বেলুচিস্তান ইত্যাদি প্রদেশ নিয়ে গড়ে উঠল পশ্চিম পাকিস্তান ।বহু রক্তের বিনিময়ে এল সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ,কিন্তু স্বাধীনতা মানে কি ? তৎকালিন দেশবাসী স্বপ্ন দেখেছিল দেশ স্বাধীন হলে সকলে শিক্ষার সুযোগ পাবে ,সকলের মাথার উপর ছাদ হবে ,কেউ অপুষ্টিতে মারা যাবে না ,বেকার রা চাকরি পাবে ,মানুষ ভাল চিকিত্সার সুযোগ পাবে ,সমাজে ধনী দরিদ্রের মধ্যে কোন বৈষম্য থাকবে না ,মানুষে মানুষে ভালবাসা থাকবে ,এক ধর্মের মানুষের সঙ্গে অন্য ধর্মের মানুষের সৌভাতৃত্ব বোধ থাকবে ইত্যাদি.........।

এই স্বপ্নখোঁচিত সোনার ভারতবর্ষের জন্যই তো শত শত বিপ্লবীরা হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিতে কুণ্ঠা বোধ করেননি ।কিন্তু প্রশ্ন হল আমাদের সেই কাঙ্খিত স্বাধীনতা কি আমরা পেয়েছি ? আজ চারিদিকে যখন দেখি অসাম্য ,মানুষে মানুষে এত বিভেদ ,ধনী দরিদ্র প্রবল বৈষম্য ,মানুষে মানুষে হানাহানি ,ধর্মীয় বিদ্বেষ ,শিক্ষার ব্যবস্থা নেই , প্রবল বেকারত্ব ,দেশের অর্থনীতির ভগ্ন দশা,মানুষের মৌলিক সমস্যা খাদ্য,বস্ত্র,আশ্রয় এগুলির ব্যবস্থা হয়নি , তখন মনে প্রশ্ন আসে এরই নাম কি স্বাধীনতা ? এই স্বাধীনতার জন্যই কি এত মানুষ নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছিল ? আমরা সাদা চামড়ার সাহেবদের তাড়াতে পেরেছি কিন্তু তার বদলে এদেশে উদ্ভব হয়েছে এক নতুন বাবু শ্রেণীর এরা সাধারণ মানুষের দুঃখ ,দুর্দশা নিয়ে ভাবিত নয় ,এরা মানুষকে শোষন করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে ।শিশুরা অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে ,উচ্চ শিক্ষিত ছাত্রছাত্রীরা চাকরি না পেয়ে হতাশায় আত্তহত্যা করছে অর্থাৎ এদেশে উচচ শিক্ষিত মানুষদের আদেও কোন মূল্য আছে কি ? এই দেশে চাকরি পেতে গেলে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয় , সাধারণ মানুষ কার্যত নেতা মন্ত্রীদের দাসত্ব করে , এরই নাম কি স্বাধীনতা ? এই কাঙ্খিত স্বাধীনতায় কি আমরা চেয়েছিলাম ? তাই আমরা আদেও কি স্বাধীন হতে পেরেছি ? দেশে চারিদিকে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের আস্ফালন যা স্বাধীনতার মূল আদর্শকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখে ফেলে দেয় ।তাই বহু রক্ত ও পরিশ্রমের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীনতাকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে ।আমরা কি এই কাঙ্খিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে পারব ? তবে এত কিছু সমস্যা থাকলে ও দেশ হিসাবে ভারতবর্ষ বর্তমানে অনেক এগিয়েছে ।ভারত বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম এক শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত হয়েছে ।ভারত সবচেয়ে কম খরচে চাঁদে মহাকাশযান পাঠিয়েছে যা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ভারতের উজ্জল নিদর্শন ।ভারতবর্ষ আজ প্রায় 130 কোটি মানুষের ভরণ পোষণ করে ও আজ এগিয়ে চলেছে ।এই দেশে এক মজবুত গণতন্ত্র ,স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট ,বাক স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা ভারতের অন্যতম মূল চালিকা শক্তি ।তাই শত সমস্যার মধ্যে ও ভারতবর্ষ আজ পৃথিবীর অন্যতম শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে ।তাই আশা করা যায় অন্যান্য সমস্যা গুলি ও এই দেশ কাটিয়ে উঠে স্বাধীনতার স্বপ্ন স্বার্থক করবে ।অন্যদিকে একই সঙ্গে স্বাধীন হওয়া পাকিস্তানের অবস্থা আজ কি রকম ?

পাকিস্তান তৈরীর উদ্দেশ্য কি আজ সফল ?1947 সালের 14-15 ই আগস্ট চোখে একরাশ স্বপ্ন ও বুকে গভীর প্রত্যয় নিয়ে একসঙ্গে পথ চলা শুরু করল দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান । স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হল লর্ড মাউন্টব্যাটেন এবং ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন জওহরলাল নেহরু ।14-15 ই আগস্ট মধ্যরাতে নব্য স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এক আবেগদীপ্ত ভাষণে বলেন -" মধ্যরাত্রি ঘণ্টা যখন বাজবে ,সমগ্র বিশ্ব যখন গভীর নিদ্রামগ্ন ,ভারত জেগে উঠবে জীবন ও স্বাধীনতার চেতনায় "।অন্যদিকে স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হলেন মহম্মদ আলি জিন্না এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন লিয়াকৎ আলি খান ।স্বাধীন পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে একদিকে পূর্ব পাকিস্তান ও অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে ।1956 সালের 23 শে মার্চ নব্যস্বাধীন পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসাবে ঘোষণা করা হয় ।স্বাধীন পাকিস্তানের জনগণ ও স্বপ্ন দেখেছিল ধর্মের ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান গঠিত হলে মুসলিমদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে ।বস্তুত এতদিন তারা মনে করত উচচ বর্ণের হিন্দুদের কারণে তারা আর্থিক দিক থেকে বঞ্চিত হয়েছে তাই স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরী হলে তারা সরকারি চাকরি ও অন্যান্য আর্থিক দিক থেকে স্বনির্ভর হবে এবং নিজেদের দাবি দাওয়া আদায় করে স্বাধীন ভাবে বাঁচবে । অনেকে ভেবেছিল মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই তাই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে মুসলিমদের জন্য এক শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে উঠবে ।তাদের সেই স্বপ্ন কি সত্য হয়েছিল ? ইতিহাসের নিষ্ঠুর পরিহাস তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি । ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দেশ পূর্ব পাকিস্তান আসলে যে পশ্চিম পাকিস্তানের এক উপনিবেশে পরিণত হয়েছে এই সত্য পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ খুব দ্রুত উপলব্ধি করতে পারে এবং শীঘ্রই তাদের পাকিস্তানের প্রতি মোহভঙ্গ হয় । তারা উপলব্ধি করতে পারে যে , তারা এই ভারত বিভাগ মেনে নিয়ে কতটা ভুল করেছে । 1950 সালে পূর্ব পাকিস্তানে ভূমি সংস্কার হলে ও জমিদারি প্রথা রদ করা হয়নি ।

আর্থিক ও জনসংখ্যার দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তান এগিয়ে থাকলে ও পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনীতে কর্তৃত্ব ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি উচচবিত্তদের ।পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাংলা ভাষা,বাংলা শিক্ষা ,বাংলা সংস্কৃতি কোন কিছুকেই গ্রহণ করেনি ।তারা মনে করত বাংলাভাষা হিন্দুদের ভাষা এবং মুসলমানদের প্রকৃত ভাষা হল উর্দু ।মহম্মদ আলি জিন্না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাড়িয়ে দম্ভভরে ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু ।এই ঘোষণাতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল ।আসলে বাংলা ভাষাকে অস্বীকার করা মানে বাংলা জাত্যাভিমানকে অস্বীকার করা যা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মেনে নেয়নি ।চারিদিকে বিদ্রোহ দেখা দেয় ।এই ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে ।পশ্চিম পাকিস্তান যে পূর্ব পাকিস্তানকে উপনিবেশ ছাড়া অন্য কিছুই মনে করত না তার নগ্ন বহির্প্রকাশ হয় 1970 সালে এক প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পূর্ব পাকিস্তানে প্রায় 50 লক্ষ (সূত্র:-মনোরমা ইয়ার বুক )মানুষের মৃত্যু হয় কিন্তু এই চরম দুর্দিনে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিশেষ ত্রাণ আসেনি ।লক্ষ লক্ষ মানুষ বিনা ত্রাণে মারা যায় ,আসলে পশ্চিম পাকিস্তানিরা কৃষ্ণবর্ণ বেঁটে পূর্ব পাকিস্তানি মানুষদের নিম্ন শ্রেণীর মানুষ বলে মনে করত তাই তাদের দুঃখ দুর্দশার প্রতি বিশেষ সহানুভূতি ছিল না ।ইংরেজরা যেমন এদেশিয় মানুষদের কালা আদমি ,অসভ্য ,বর্বর মনে করত পশ্চিম পাকিস্তানিরা ও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের অনেকটাই সেই রকম মনে করত ।তার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে 1970 সালের ডিসেম্বরের পাকিস্তানের প্রথম অবাধ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ।এই নির্বাচনে জুলফিকার আলি ভুট্টোর পাকিস্তান পিওপলস পার্টি (PPP) পশ্চিম পাকিস্তানে সর্বাধিক আসন পায় অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানে শেখ মুজিবর রহমানের আওয়ামি লীগ বিপুল ভাবে জয় যুক্ত হয় ।এর ফলে সংখ্যাধিক্কের ভিত্তিতে শেখ মুজিবর রহমানের আওয়ামি লীগ সরকার গঠন করার কথা কিন্তু ভুট্টো নিজে বিরোধী আসনে বসে মুজিবর রহমানকে সরকার গড়তে দিতে অস্বীকার করে । আসলে ভুট্টোর দৃষ্টিতে নিম্নশ্রেণীর পূর্ব পাকিস্তানি শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবে এটা তারা মেনে নিতে পারবে না । মুজিবর রহমান বিষয়টি পূর্ব পাকিস্তানের মর্যাদা ও আত্তসন্মানের বিষয় বলে ভুট্টো ও রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের কাছে বিষয়টি উপস্থাপিত করেন, কিন্তু ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ।

রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান ও মুজিবের মধ্যে আলোচনা ব্যার্থ হলে পাক রাষ্ট্রপতির নির্দেশে পাক সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে এবং যার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানিরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে ও শুরু হয়ে যায় বাংদেশের মুক্তিযুদ্ধ ।মুজিবর রহমানকে গ্রেপ্তারের ঠিক আগের মূহুর্তে 1971 সালের 26 শে মার্চ শেখ মুজিবর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন । পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সেনানিদের যুদ্ধ চলেছিল প্রায় 9 মাস ।বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশ চেয়েছিল কিন্তু কিছু কিছু মৌলবাদী দল বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধীতা করেছিল ।তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল -রাজাকার ও আলবদর বাহিনী ।এই রাজাকার বাহিনী তৈরী করেছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর টিক্কা খান ।এই রাজাকার ও আলবদর বাহিনী পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে মিশে সেদিন রক্ত গঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল ।এদের নৃশংসতা অনেকে নাৎসী বাহিনীর পোল্যান্ড আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করেছেন । এই পাকসেনা ও রাজাকার বাহিনীরা নিষ্ঠুর ভাবে প্রায় 30 লক্ষ মানুষের হত্যা করে ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তি কালে এত নিষ্ঠুর ও এত বেশি সংখ্যক মানুষের গণহত্যা আর দেখা যায়নি ।প্রায় 2.5 লক্ষ নারীদের গণধর্ষণ করা হয় ।হিন্দুনারীদের "প্যাহলে উসকো মুসলমান বানাও" এই ধ্বনি তুলে , গনিমতের মাল হিসাবে লক্ষ লক্ষ হিন্দু নারীদের গণধর্ষন করা হয় ,তবে এপ্রসঙ্গে উল্লেখ্য পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার বাহিনীর হাত থেকে হিন্দু ,মুসলমান ,খৃষ্টান সকল ধর্মের নারীরা কেউই রক্ষা পায়নি ।ধর্ম ,বর্ণ নির্বিশেষে সকলে গণ ধর্ষণের শিকার হয় ।এই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী পূর্ব পাকিস্তানের এই সমস্যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উপস্থাপন করেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে বিশ্বজনমতকে সচেতনন করে তোলেন ।হঠাৎ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারতের উপর আক্রমণ করে বসে । ভারত 1971 সালের 3 রা ডিসেম্বর এই যুদ্ধে যোগদান করে ।এই যুদ্বে ভারতীয় সেনার অসীম সাহস ও ত্যাগ এর পরিচয় পাওয়া যায় । মাত্র 9 দিনের (16ই ডিসেম্বর ,1971) মধ্যে ভারতীয় সেনা পাকিস্তানী সেনাদের যুদ্ধে পরাজিত করে ও স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দেয় । এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছিলেন পাকিস্তানি সেনা কম্যান্ডর এ.কে.নিয়াজি ।ভারতের ও বাংলাদেশ সেনার কম্যান্ডর ইন চিফ জাগজিৎ সিং আরোরার কাছে 93,000 পাকিস্তানি সৈনিকসহ আত্তসমর্পন করেন । ওই দিনকে স্বরণ করে প্রতিবছর 16 ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষরা বিজয় দিবস পালন করেন ।

বস্তুত 1971 সালের মুক্তিযুদ্ধই প্রমাণ করে ধর্ম কখন ওই মানুষে মানুষে ঐক্যতা আনেনি বরং ধর্মের কারণেই মানুষে মানুষে বিভেদের সৃষ্টি হয় ।পশ্চিম পাকিস্তানি মুসলিমরা নির্বিচারে পূর্ব পাকিস্তানি মুসলিমদের হত্যা করেছে ।(যদি ও ধর্ম, বর্ণ,হিন্দু ,মুসলমান ,খৃষ্টান নির্বিশেষে সকলকে পাক বাহিনী হত্যা করেছে ) লক্ষ লক্ষ নারীদের ধর্ষণ করেছি এগুলি করতে কখন ও তাদের মনে হয়নি যে এক মুসলিম ভাই অন্য মুসলিম ভাইকে কেন হত্যা করছে ? কেন অন্য মুসলিম নারীদের হত্যা করেছে ? তাহলে ধর্ম মানুষে মানুষে মিলন এনেছে একথাটা কতটা যৌক্তিক ? বরং ধর্ম মানুষে মানুষে বিনাশ ডেকে এনেছে ,সভ্যতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যে বড় বড় যুদ্ধ ও দাঙ্গা হাঙ্গামা লেগে রয়েছে তা ধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই হয়েছে ।তবে ঐতিহাসিক দিক থেকে প্রমাণিত ধর্ম কোন দিন শেষ কথা বলতে পারে না তাই ধর্মের গালে চপেটাঘাত করে বাংলাভাষা ও বাংলা ঐতিহ্যকে সামনে রেখে আত্তপ্রকাশ হয় স্বাধীন বাংলাদেশের ।এই বাংলাদেশের উদ্ভব থেকেই স্পষ্ট যে ভারত বিভাজন জোর করে ধর্মের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির ফসল যা চিরস্থায়ী নয় ।পরবর্তিকালে পশ্চিম পাকিস্তান রূপান্তরিত হয় পাকিস্তানে এবং পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্ররূপে আত্তপ্রকাশ করে ।তাহলে দেখুন ভারতের সঙ্গে একই সঙ্গে স্বাধীন হওয়া পাকিস্তানের আজ অবস্থা কি রকম ? পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত নয়,সেদেশে সেনাই শেষ কথা বলে ।পাকিস্তান বর্তমানে এক দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া দেশে পরিণত হয়েছে, এই দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি বিপর্যস্ত ।ধর্মের তোষণ করতে গিয়ে দেশটি জঙ্গীদের আঁতুড় ঘরে পরিণত হয়েছে ।অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থা ও খুব একটা ভাল নয় ।বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও খুব একটা শক্তিশালী নয় ,এই দেশটি ও দীর্ঘদিন সামরিক শাসনে ছিল ।বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তি খুবই শক্তিশালী তবে আশার কথা হল বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার মানুষদের সংখ্যা খুবই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মুক্তচিন্তা খুবই শক্তিশালী হচ্ছে । তাই বাংলাদেশে এই প্রতিক্রিয়া শীল শক্তিগুলি প্রতিহত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ খুব ধীর গতিতে হলেও আধুনিক রাষ্ট্র হিসাবে আত্তপ্রকাশের দিকে এগোচ্ছে । তাই ভারতের ইতিহাস পর্যালোচনা করে একথা বলা যায় দেশভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে । ধর্মই এই দেশভাগের জন্য প্রধানতম দায়ী ,ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই মানুষ এত হিংস্র হয়েছিল । তাই ভারত বিভাজন পুরোপুরি কৃত্রিম একটি ঘটনা যা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল ।

এই ভারত বিভাজন কোটি কোটি মানুষ আজ ও মন থেকে মেনে নিতে পারেনি ,তারা মনে মনে তাদের অখন্ড ভারতবর্ষ আবার ফিরে পেতে চাই ।আমি স্বপ্ন দেখি একদিন আমরা আবার অখন্ড ভারত ফিরে পাব ।এখন প্রশ্ন হল এই অখন্ড ভারত আমরা ফিরে পাব কি ভাবে ?এর সবথেকে কার্যকরী উপায় হল-আমাদের ধর্ম বোধকে শেষ করতে হবে ।বিশেষত ইসলামি মতাদর্শকে শেষ করতে হবে কারণ এই জঘন্য মতাদর্শের কারণে দেশ বিভাজন হয়েছে এবং পৃথিবী আজ ও অশান্ত ,পৃথিবীর শান্তি আজ ও বিঘ্নিত হচ্ছে ।এখন অনেকে প্রশ্ন করবেন তাহলে ভারত বিভাজনের জন্য হিন্দুত্ববাদীরা কি দায়ী নয় ? অবশ্যই দেশভাগের পিছনে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ আনেকটাই দায়ী ।তবে এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে ইসলামি শক্তিগুলি যার প্রতিক্রিয়া হিসাবে হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলি সজাগ হয়ে ওঠে ।তাই ইসলামি মতাদর্শ শেষ হলে বা দুর্বল হলে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ এমনিতেই দুর্বল হবে এবং পৃথিবী থেকে সমস্ত চরমপন্থী মতাদর্শ শেষ হয়ে যাবে ।তবে আমরা মুক্তচিন্তার মানুষরা সমস্ত ধর্মকে সমালোচনা করব এবং সমস্ত ধর্মের আসাড়তা প্রকাশ করব ।মানুষ যখন বুঝতে পারবে ধর্মীয় মতাদর্শ বিষয়টি পুরোপুরি ভ্রান্ত তখন মানুষে মানুষে বিভেদ মুছে যাবে এবং আমাদের মধ্যে তৈরী দেশের কৃত্রিম বেড়া জালটি সঙ্গে সঙ্গে ভেঙ্গে পড়বে । মানুষের চিন্তা চেতনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে তখন মানুষ বুঝতে শিখবে আসলে আমরা দেশভাগ মেনে নিয়ে কতটা ভুল করেছি এবং কি হারিয়েছি । তখন উভয় দেশের মানুষের মধ্যে মিলনের আকাঙ্খা তীব্রতর হবে এবং যা থেকে দেশ আবার পুনঃমিলিত হওয়ার দিকে অগ্রসর হবে ।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি মুক্তচিন্তার মানুষদের কথা শুনে লক্ষ লক্ষ মানুষ ধর্ম ছেড়ে দিচ্ছে তাদের সংখ্যা কয়েক কোটি ছড়িয়েছে, (বিশেষত ইসলাম ) যা মানব সভ্যতার জন্য সুসংবাদ ।মুসলমান সমাজের মধ্যে এক নিঃশব্দ বিপ্লব (silent revolution) হচ্ছে যা কোন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি কিন্তু এর অস্তিত্ব প্রবল ।এখন প্রশ্ন হল এত দিন মুসলমান সমাজের মধ্যে এই পরিবর্তন আসে নি কেন ? এর প্রধান কারণ হল -এতদিন ইন্টারনেট ও ফেসবুক ছিল না ,তাই ইসলাম পন্থীরা একতরফা ভাবে ইসলাম প্রচার করে গেছে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে কেউ চ্যালেঞ্জ করে কোন বই লিখলে সেই বই পোড়ানো হয়েছে ,সেই প্রকাশককে খুন করা হয়েছে ,লেখককে হত্যা করা হয়েছে ইত্যাদি...।কিন্তু ইন্টারনেট ও ফেসবুক আসার ফলে চাপাতিবাদী ইসলামি পন্থীরা আর মুক্তচিন্তার মানুষদের কথাকে আটকে রাখতে পারছে না । তাই মুক্তচিন্তকরা তাদের মতাদর্শ সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করতে পারছে এবং সাধারণ মানুষ যাদের একটু চিন্তা করার ক্ষমতা আছে তারা এই বর্বর ধর্মটি ত্যাগ করছে ।

এখন প্রশ্ন হল মানুষ এই ধর্মটিকে দলে দলে ত্যাগ করছে কেন ? এর উত্তর পেতে হলে ইসলামের মূল সূত্র কোরান থেকে কিছু আয়াত তুলে ধরলে বিষয়টি পরিস্কার হবে ,যেমন-সূরা তওবার 5 নম্বর আয়াত (9:5)- এই আয়াতে বলা হচ্ছে -"অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও ,তাদের বন্দি কর এবং অবরোধ কর এবং তাদের সন্ধানে ওৎ পেতে বসে থাক "।তাহলে আল্লা উপরি উল্লেখিত আয়াতে বিধর্মীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন ।এছাড়া ও সূরা আনফাল (8:12)-এই আয়াতে বলা হচ্ছে "তাদের গর্দানের উপর আঘাত হান ও তাদের কাট জোড়ায় জোড়ায় " তাহলে বুঝতে পারছেন কি কেন IS মানুষদের মুন্ডু কাটে ।এছাড়া সূরা তওবার 41নং (9:41) আয়াতে বলা হচ্ছে -"তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে ,এটি তোমাদের জন্য অতি উত্তম ,তোমরা বুঝতে পার " তাহলে দেখুন এই আয়াতে আল্লা বিধর্মীদের বিরুদ্ধে জেহাদ করতে উত্সাহিত করছে অর্থাৎ মুসলিমদের অমুসলিমদের হত্যা করতে আল্লা নির্দেশ দিচ্ছে এবং আল্লা এটা উত্তম কর্ম বলে চালিয়ে দিচ্ছে ।তাহলে কোরানের আল্লা কেমন আল্লা যে নিজের সৃষ্টির রক্ত চাই ? তার এত জেহাদ ও মানুষের রক্ত চাই কেন ?অনেক মুসলমান সাহাবীরাই এই সমস্ত নির্দেশ পালন করে মনে মনে কষ্ট পেত কারণ তারা মনে করত আমার মতই এক মানুষকে কেন আমরা হত্যা করলাম কি তার অপরাধ ? তখনই চতুর মোহম্মদ আল্লার নামে কোরানের আয়াত নাজিল করল সূরা আনফাল 17 নং আয়াত-" সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন " ।তাহলে এই আয়াত অনুসারে আল্লা হচ্ছে অমুসলিমদের খুনি ।আল্লা অমুসলিমদের খুন করল কেন ? সৃষ্টিকর্তা হিসাবে তার এই কাজ সমর্থন যোগ্য কি বলেন মুমিন ভাইয়েরা ? আবার কোরানের সূরা বাইয়িনাহ 6 নং আয়াতে (98:6) বলা হচ্ছে -"আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফের ,তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ী ভাবে থাকবে ,তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্টতম প্রাণী "।তাহলে নিকৃষ্টতম প্রাণী কাদের বলা হয় ? কুকুর,ছাগল ,গরু এদের নিকৃষ্টতম প্রাণী বলা হয় ।তাহলে কোরানের আল্লা অন্য সমস্ত ধর্মের মানুষদের নিকৃষ্টতম প্রাণী বলে গালিগালাজ করে ।আবার এই আল্লা সূরা বাকারার 223 নং আয়াতে বলে " (2:223)-"তোমাদের স্ত্রীরা হল তোমাদের শস্যক্ষেত্র এবং তোমারা যেমন ইচ্ছা তেমন গমন কর " অর্থাৎ আল্লার কাছে নারীরা চাষের জমি এটা কি কোন সৃষ্টি কর্তা বলতে পারে ? আবার কোরানের সূরা নিসার 34 নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে -"তোমাদের স্ত্রীরা অবাধ্য হলে তাদের সদুপদেশ দাও ,তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর " অর্থাৎ আল্লা স্বামীদের তার স্ত্রীদের প্রহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন ।আল্লা এত পাষন্ড এত বর্বর এত হিংস্র কেন ? এ গুলি কি কোন সৃষ্টিকর্তার কথা হতে পারে ? কি বলেন মুমিন ভাইয়েরা ? আসলে আল্লা হচ্ছে মোহম্মদের মত এক জন বর্বর ,ধর্ষক ,খুনির এক বর্বর সৃষ্টি । তাই যাদের একটু চিন্তা করার ক্ষমতা আছে তারা বুঝতে পারছেন বিধর্মীদের হত্যা কর বা স্ত্রীকে প্রহার কর এইরকম কথা মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ না হলে এমন কথা বলতে পারে না ।তাই এগুলি সৃষ্টিকর্তার কথা হতেই পারে না ।তাই দলে দলে মানুষ এই বর্বর ধর্মটিকে ত্যাগ করছে যা মানব সভ্যতার জন্য সুসংবাদ ।বস্তুত ইন্টরনেট ও ফেসবুকের কল্যাণে ইসলামী জেহাদী মতাদর্শ প্রকাশ্যে চলে আসছে এর ফলে এই বর্বর ধর্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে ।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি আমার লেখা ও অন্যান্য মুক্তমনাদের লেখা পড়ে বহু মসজিদের ইমাম ,মোল্লা ,হুজুররা ও এই ধর্মের আসাড়তা উপলব্ধি করে ধর্ম থেকে বের হয়ে আসছেন এবং এই ধর্ম ত্যাগী মানুষদের সংখ্যা নিতান্তই কম নয় ,এদের সংখ্যা প্রচুর ।একটা সমাজ বা ধর্ম থেকে শিক্ষিত ও গুণীমানুষ হাজারে হাজারে বের হয়ে আসলে সেই সমাজ পরিবর্তন হতে বাধ্য যা বর্তমানে ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ।এমন বহু বাংলাদেশি মুক্তচিন্তার মানুষের সঙ্গে পরিচয় আছে যারা ভারতবর্ষকে অন্যদেশ হিসাবে মনেই করে না বরং তারা মনে করেন এটা আমাদের মাতৃভূমি যা জঘন্য ধর্মের কারণে আলাদা হয়েছে ,এটা আমাদের দুর্ভাগ্য ।বস্তুত বহু ভারতীয়রা ও বাংলাদেশকে অন্যদেশ ভাবেন না মনে করে এটা জঘন্য ধর্ম রাজনীতির ফল ।একই কথা প্রযোজ্য পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ও দুই পাঞ্জাবের মানুষরা ও একত্রিত হতে চাই তাদের মিলনের আকাঙ্খা ও প্রবল ।তাই ধর্ম শেষ হয়ে গেলে আমাদের মিলনের আকাঙ্খা বাস্তবিক রূপ নিতে শুরু করবে ।তাই দুই বাংলা থেকে যে মুক্তচিন্তার আন্দোলন শুরু হয়েছে এর ফলে মানুষের মধ্যে ধর্ম বোধ শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং দেশপ্রেম জাগ্রত হচ্ছে যা আমাদের মিলনের পথকে প্রস্তত করে দিচ্ছে ।ভারতের ইতিহাস বলে স্বাধীনতা বা অন্যান্য মুক্তচিন্তার আন্দোলন প্রথম বাংলা থেকেই শুরু হয় এবং পরবর্তীকালে তা পুরো ভারতবর্ষে তা ছড়িয়ে পড়ে । তাই মহামতি গোখলে বলেছিলেন -" Bengal thinks today India will think tomorrow ".তাই ইতিহাসের আবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বাংলার এই মুক্তচিন্তার আন্দোলন আগামী দিনে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং ভারত ,পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে পুনঃমিলনের প্রক্রিয়া শুরু হবে ।

অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসতে পারে পাকিস্তানে ও কি মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটবে ? তাদের উদ্দ্যেশে বলি হ্যাঁ পাকিস্তানে ও মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটছে ।কিছুদিন আগে মাশাল নামে এক ছাত্রকে পিটিয়ে মারা হয় কারণ সে ইসলামে বিশ্বাসী নয় ,এছাড়া অনেককে কঠিন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে কারণ তারা ইসলাম ও নবী মহম্মদের সমালোচনা করে লিখছে ।পাকিস্তানের মুক্তচিন্তার মানুষরা খুবই সজাগ এবং জীবনের প্রচুর ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে ।তাদের লেখনির কারণেই পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত ইসলাম সমালোচনা কারী লেখা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয় যা খুবই দুঃখজনক এবং পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টকে ধিক্কার জানায় এভাবে মুক্তচিন্তার গলা টিপে ধরে ও মোল্লা তোষণ করে দেশটিকে জঙ্গিদের আস্তানাতে পরিণত করেছে ।তবে এথেকে এটা নিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত হয় যে পাকিস্তানে ও মুক্তচিন্তার মানুষরা সমানভাবে সক্রিয় ।বস্তুত বর্তমানে ইংরাজি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাষা এবং ইন্টারনেটের যুগে কোন মতাদর্শকেই দীর্ঘদিন আটকে রাখা কোন দেশের সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয় । বাস্তব অভিজ্ঞতায় কার্যক্ষেত্রে দেখেছি বহু মুসলিমদেশ - মালয়েশিয়া , ইন্দোনেশীয়া,ইরাক , ইরান ,আরব প্রভৃতি দেশে নাস্তিকদের সংখ্যা নিতান্তই কম নয় তবে সরকারের বর্বর গলা কাটা আইনের জন্য তারা চুপ করে থাকতে বাধ্য হয় , কিন্তু এই জিনিস দীর্ঘ দিন চলতে পারে না তাই তারা ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে । পাকিস্তান ও তার ব্যতিক্রম নয় এই দেশে ও মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটে চলেছে ও আগামী দিনে এই প্রক্রিয়া আর ও দ্রুত হবে ।তাই আগামীদিনে ধর্ম অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে এবং মানুষে মানুষে মিলন সম্ভব হবে ও দেশ আবার এক হবে ।স্বাধীনতার 70 বছর পূর্ণ লগ্নে আসুন আজ আমরা শপথ নিয় যেন 2047 সালের মধ্যে অর্থাৎ স্বাধীনতার 100 বছর পূর্ণ লগ্নের মধ্যে আবার অখন্ড ভারতবর্ষ ফিরে পায় ।সমস্ত মুক্তিকামী মানুষরা এই স্বপ্ন দেখুন ।আমার কথাকে হয়ত কোন ছাত্রের স্বপ্ন বা অলীক কল্পনা বলে উড়িয়ে দিতে পারেন কিন্তু এটা মনে রাখুন আগামী দিনে মুক্তচিন্তার মানুষদের সংখ্যা এত বেশি হবে যে এদের সমর্থন ছাড়া কোন দেশে কোন সরকার গঠন করা কার্যত অসম্ভব হবে এবং আগামীদিনের যারা দেশ নেতা হবেন তারা দেশ জোড়ার এই দাবিকে অগ্রাহ্য করতে পারবে না এবং বহুমুক্ত চিন্তার মানুষরা ও দেশকে নেতৃত্ব দেবেন তখন কিন্তু অখন্ড ভারতবর্ষের স্বপ্ন বাস্তব রূপ লাভ করবে ।

এক ছাত্র রহমৎ আলি 1933 সালে ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারলে আমরা ভারত জোড়ার স্বপ্ন আবার দেখতে পারব না কেন ?দেশ এক হলে প্রতিবছর যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা প্রতিরক্ষা খাতে খরচ হয় তার আর দরকার পড়ত না ।ওই টাকা শিক্ষা ,স্বাস্থ্য, দরিদ্রতা দূরীকরণ ,প্রভৃতি ক্ষেত্রে কাজে লাগান যেত দেশে এত বেকারত্ব এত অসাম্য থাকত না ।হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে যে পরমাণু বোমা তৈরী করা হয় সেই টাকার কিছু অংশ পেলেই দেশে আর কাউকে বিনা চিকিত্সায় মরতে হত না ,কেউ না খেয়ে মরার ঘটনাকে ও বন্ধ করা যেত ,দেশে এত অসাম্য থাকত না ,সকলের মাথার উপর ছাদ হত ,দেশ হত সোনার ভারতবর্ষ । নাগরিকদের খাদ্য ,বস্ত্র ,আশ্রয় ,শিক্ষা ,স্বাস্থ্য প্রভৃতি মৌলিক চাহিদা গুলি পূরণ হত ,যেদিন এই মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণ হবে সে দিনই আসবে প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা ।আমাদের অখন্ড ভারতের স্বপ্ন কোন কল্পনা নয় বরং ধর্ম শেষ হয়ে গেলে এটাই হবে বাস্তব সত্য ঘটনা এবং সেদিনই আসবে প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা ।অনেকে হয়ত ভাবছেন বাস্তব পরিস্থিতিতে এই স্বপ্ন দেখা বাতুলতা ,তাদের উদ্দ্যেশে বলি না বিষয়টি তা নয় আগে মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটতে বা জনসচেতনতা তৈরী হতে যেরুপ সময় লাগত বর্তমানে আর তা লাগে না ।আগে 10-20 বছরে মানব মননে যে চেতনা আসত বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যানে সেই রূপ জনসচেতনতা তৈরী হচ্ছে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ।তাই সময় সমস্ত রাস্তা তৈরী করে দেবে ।এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে জার্মানিকে পূর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানিতে ভাগ করা হয় ।জার্মান জাতি এই ভাগ কোন দিনই মন থেকে মেনে নেয়নি ।তাদের সম্মিলিত মিলনের আকাঙ্খা থেকেই 1989 সালের 9 ই নভেম্বর বার্লিন প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং গণভোটের মাধ্যমে 1990 সালের 3 রা অক্টোবর দুই জার্মানি ঐক্যবদ্ব হয় ।তাই আজ যা অসম্ভব মনে হচ্ছে কাল তা সম্ভব নয় বলি কেমন করে ।আমরা কি পারি না গণভোটের মাধ্যমে আবার অখন্ড ভারতবর্ষ ফিরিয়ে আনতে ? পূর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি এক হতে পারলে আমরা এক হতে পারব না কেন ?

( বিদ্রঃ-পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করার অনুরোধ রইল কারণ যত জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে তত অখন্ড ভারতের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবে )

Comments

Asad এর ছবি
 

Really very much good writting. All South Asian countries should be united under one flag

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 6 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর