নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • দ্বিতীয়নাম
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বানভাসি মানুষের পাশে আমরা পাহাড়ের তরুণ সমাজ


২৫ অক্টোবর, ১৯৭২ সাল। বাংলাদেশের সংবিধান বিলের উপর আলোচনা করছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ও নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম.এন)। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখিত ‘বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাঙালি বলিয়া বিবেচিত’ এর বিষয়টির যেমন প্রতিবাদ করেছিলেন তীব্রভাবে, ঠিক তেমনি তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন সমতলের সাধারণ মানুষের বঞ্চিত ও উপেক্ষিত মানুষের কথা। তিনি বলেছেন,

“…আজ আমি দেখতে পাচ্ছি পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, মাথাভাঙ্গা, শঙ্খ, মাতামূহুরী, কর্ণফুলী, যমুনা, কুশিয়ারা প্রভৃতি নদীতে রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে যাঁরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বৎসরের পর বৎসর ধরে নিজেদের জীবন তিলে তিলে ক্ষয় করে নৌকা বেয়ে, দাঁড় টেনে চলেছেন, রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যাঁরা শক্ত মাটি চষে সোনার ফসল ফলিয়ে চলেছেন, তাঁদেরই মনের কথা এ সংবিধানে লেখা হয়নি। আমি বলছি, আজকে যাঁরা রাস্তায় রাস্তায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন, তাঁদের মনের কথা এই সংবিধানে লেখা হয়নি।

জুম্ম জাতিয়তাবাদের জনক এম. এন লারমা তাঁর বক্তব্যগুলোতে এভাবে শোষিত-নিপীড়িত-উপেক্ষিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন বারবার। তাঁর আদর্শকে বুকে ধারণ করা পাহাড়ের মানুষরা সর্বদা চেষ্টা চালিয়েছে সমতলের বাঙালিদের শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর। তাই মিছিলের স্লোগানটি আমরা বারবার উচ্চারণ করি উচ্চকণ্ঠে “পাহাড় কিংবা সমতলে, লড়াই হোক সমানতালে”।

সমতলের বাঙালি জনগোষ্ঠীদের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিসত্ত্বাগুলোর উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া আমরা লক্ষ্য করি। আমাদের সম্পর্কে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়। স্বাধীনতা চাওয়া, সার্বভৌমত্বকে বিনষ্ট করা, সেটলার বাঙালিদের উপর নির্যাতন সহ অপপ্রচারগুলো সুচারুভাবে প্রচার করা হয়। আমরা কখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই ছিলাম না। আমরা সর্বদা চেয়েছি রাষ্ট্র কর্তৃক আমাদের সাধারণ পাহাড়িদের উপর শোষণ-নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে, এসকল অন্যায়-দখলদারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। কিন্তু মিডিয়ার ব্যাপক প্রচারণায় আমাদের সর্বদা এটি প্রমাণ করতে হয় যে আমরা দেশদ্রোহী নই। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাঙালি জাতিয়তাবাদ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টার পরও আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চেষ্টা চালিয়েছিলাম। ৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসনের সময়ে বাধ্য হয়ে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলাম অধিকারের জন্য। আর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে আমরা চেয়েছিলাম আবার গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করার, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লড়াই করার।

সমতলের বাঙালিদের সাথে আমাদের বিরোধ কখনোই ছিল না, এখনো নেই। আমরা শুধুমাত্র বিরোধীতা করি আমাদের প্রথাগত অধিকৃত ভূমি উপর রাষ্ট্র কর্তৃক সেটলমেন্ট বাঙালিদের ভূমি দখলদারের। আমরা প্রতিবাদ করি সেটলার বাঙালি কর্তৃক পাহাড়ি নারী ধর্ষণের। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করি রাষ্ট্রের এসিমিলেইশন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে, পর্যটনের নামে জায়গা দখলের বিরুদ্ধে। কিন্তু সমতলের বাঙালিরা যেভাবে নিষ্পেষিত ও নির্যাতিত হচ্ছে সেটার প্রতি আমরাও প্রতিবাদ জানাই আমাদের নিজেদের অবস্থান থেকে।

ফলে, সমতলের বাঙালি শ্রমিকরা যখন বিল্ডিং ধসে নিহত হয়, বয়লার বিস্ফোরণে মারা যায়, শ্রমিকদের যখন ন্যায্য অধিকার দেয়া না হয় আমরা তারও প্রতিবাদ করি। কারণ, রাষ্ট্রের নীতি পাহাড় বা সমতল সবখানে একই। পাহাড় বা সমতলের লড়াইয়ের ক্ষেত্রগুলোতে আমরা সহমর্মিতা পোষণ করি, আমরা বিশ্বাস করি সকল মানুষের সমান অধিকারে। আমরা বিশ্বাস করি, একক কোন মোকাবিলায় এ অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়। দেশের সকল জনগণের মিলিত শক্তির মাধ্যমেই আমাদের জয় হবে। আর তাই, যে কোন সংকটে আমাদের এক অপরের পাশে অবস্থান করা গুরুত্বপূর্ণ।

তাই আজ যখন দেশের ২৭টি জেলার মানুষ পানিবন্দী, ভারতের বাঁধ খুলে দেয়া পানিতে ৫০ লাখের বেশি মানুষ বন্যায় আক্রান্ত, দেশ যখন বড় একটি বিপর্যয়ের সম্মুখীন তাই আমরা যারা এম. এন লারমার আদর্শকে ধারণ করি তারা সবাই মিলে সমতলের এসব উপেক্ষিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোন ধরনের সহযোগিতার কথা জানা যায়নি।

দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল আজ পানিতে নিমজ্জিত। শুধু বাংলাদেশ নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপালেও বন্যায় মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। নেপালে মৃতের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে, ভারতেও মারা গিয়েছে অর্ধশতাধিক। বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা এখনো পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে ৭৭ টি। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে ২৭টি জেলার ১৩৩টি উপজেলা ও ৪৩টি পৌরসভা। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১১ লাখ ৪১ হাজার পরিবার। ১৪ হাজার ৭৩৭টি ঘর সম্পূর্ণ ও ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৬টি ঘর আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। টিউবওয়েল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৪১ হাজার ৩১১টি। ১৯৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অগাস্টের শেষে আবার উজানে বৃষ্টির আশঙ্ক্ষা রয়েছে। ফলে আবার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।

দেশের এই বিশাল অংশের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগে আমরা পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। পাহাড়ের বিভিন্ন সংকট যেমন ২০১৬ সালে বান্দরবানের থানচিতে খাদ্যসংকট, ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটির সাজেকে খাদ্যসংকট ও সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার লংগদু’র সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম আপনাদের সকলের সহযোগিতায়। আপনাদের ভালোবাসা ও ভরসায় আমরা রাঙ্গামাটির পাহাড় ধসের মতো বিপর্যয়কে সামলে ওঠার শক্তি পেয়েছি। সেসাথে আজ সমতলের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াবো বলে আবার নতুন করে পথে নেমেছি। এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা অনলাইনে একটি ইভেন্ট চালু করেছি।

ইভেন্টের নামঃ উত্তরাঞ্চলের বন্যার্তদের সহযোগিতায় আমরা,আপনারাও এগিয়ে আসুন ।
ইভেন্টের ফেইসবুক লিংকঃ
https://www.facebook.com/events/1904253356503199/?acontext=%7B%22action_...

তাই মানবিক এই বিপর্যয়ে আসুন সবাই সহযোগিতার হাত বাড়াই।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ
বিকাশ-
০১৮১৮৭৩৪৮৬১
০১৭৩৭৪৪০২৬৯
০১৭৫২৩৯৬৬৮৮

রকেট-
০১৮১৮৭৩৪৮৬১৮

আপনারা যোগাযোগ করতে চাইলে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন-
উসিথোয়াই মার্মা
০১৮১৪৮৩৪০১২
সাংবাদিক
বান্দরবান ।

বিভাগ: 

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

আপনাদের এই উদ্যোগের জন্য অভিনন্দন। পাশে আছি।

 
অজল দেওয়ান এর ছবি
 

ধন্যবাদ দুলাল ভাই। Yes 3

অজল দেওয়ান

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজল দেওয়ান
অজল দেওয়ান এর ছবি
Offline
Last seen: 3 months 3 weeks ago
Joined: শুক্রবার, জুন 6, 2014 - 11:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর