নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাফী শামস
  • দিন মজুর
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ
  • রুদ্রমঙ্গল
  • নুর নবী দুলাল
  • এফ ইউ শিমুল
  • জহিরুল ইসলাম

নতুন যাত্রী

  • অন্ধকারের শেষ প...
  • রিপন চাক
  • বোরহান মিয়া
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ

আপনি এখানে

মনসা কি মাতৃতূল্য দেবী? মনসা পূজার সূত্রপাত যেভাবে হলো..



.
আজ অনেকেই মনসা পূজা করেছেন। আমি মনসা দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে সন্দিহান।
আপনার মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে কেউ তাকে বাবা ডাকতে বললে আপনি তাই ডাকবেন। কারণ আপনার কাছে প্রাণটাই বড়। যেখানে রিভলবারের সামনে যে কাউকেই বাবা ডাকাতে আপনি বাধ্য, সেখানে মা ডাকতে কতক্ষণ!!
.
মনসা দেবী কি তাই করেননি?
তিনি চাঁদ সওদাগরকে পূজা দিতে বলেছেন। চাঁদ সওদাগর শিবভক্ত, মনসাপূজা দিতে পারবেনা বলায় তা তার ছয় পুত্রকে দেবী হত্যা করলেন। এটা উদারতা! মাতৃরূপ! নাকি রিভলবার ঠেকিয়ে বাধ্য করার মত। সন্তানকে বাঁচাতে চাইলে পূজা দিন, নয়তো আপনার সন্তানকে হত্যা করা হবে।
.
মনসার চক্রান্তে স্বর্গের নর্তক-নর্তকী অনিরুদ্ধ ও ঊষা অভিশপ্ত হয়ে বেহুলা ও লক্ষ্মীন্দর নামে জন্মগ্রহণ করলেন। চাঁদ সওদাগর ছয়পুত্র হারিয়েও মনসাপূজা দেবেননা বলে তার শেষ সন্তান লক্ষ্মীন্দরকেও মনসা হত্যা করলেন।
এটা মাতার কেমন উদারতা?
.
তারপর চাঁদ সওদাগরকে শর্ত দিলেন যদি মৃত সন্তানকে জীবিত হিসেবে পেতে চায় তবে যেন মনসা পূজা দেন। চাঁদ সওদাগর তাতেও রাজি হলেন না।
আমি জানিনা এটা সিরিয়াল কিলার ক্রাইম সিরিজ নাকি মায়ের মাহাত্ম্য। অকারণে একজনের সাত সন্তান হত্যা দেবীর কর্ম হতে পারে! এমনও নয় যে চাঁদ সওদাগর অত্যাচারী বা অসুর।
মায়ের মাহাত্ম্য ভালোবাসা দিয়েও তো হতে পারতো, হুমকী ধামকী আর সাতটা খুনের কাজ কি!
.
যাইহোক সতী বেহুলা ভেলায় চড়ে স্বামীকে নিয়ে পাড়ি দিলেন। চড়তে চড়তে স্বর্গে গিয়ে উপস্থিত!! আচ্ছা এওকি সম্ভব!
ঢেঁকী স্বর্গে গেলেও ধান ভানে শুনেছি, কিন্তু
ভেলা কি করে স্বর্গে যায় । নাবিক ফার্ডিনান্ড ম্যাগেলান, স্যার ফ্রনকিস ড্র্যাক সমগ্র পৃথিবী জাহাজে ঘুরেও আবিষ্কার করলেন পৃথিবী গোল, তবুও স্বর্গের দেখা পেলেন না। নাবিক কলম্বাসও পৃথিবী চক্কর দিয়ে স্বর্গে যেতে পারেননি, গেলেন আমেরিকা।
আর বেহুলা ভেলায় চড়েই স্বর্গে চলে গেছেন!
.
বলা হয়ে থাকে বেহুলা সতীত্বের বলে স্বর্গে গেছেন। আমাদের বামুন পুরুতঠাকুররা সতী নারীদের স্বর্গে পাঠাবার কথা বলে ভারতবর্ষের ১৮ লক্ষ নারীকে পুড়িয়ে মেরেছে। রাজা রামমোহন রায় না জন্মালে তো এই সংখ্যা আরো বাড়তো। বেহুলার যুগে এমন কোন পাকনা পুরুত ছিলোনা, নইলে বেহুলাকে আর ভেলায় করে স্বর্গে যেতে হতো না, জ্যান্ত পুড়িয়ে স্বর্গে পাঠিয়ে দিতো।
.

.
যাইহোক কাব্যের শেষাংশে শিব বাধ্য করেন মনসাকে লখিন্দরের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে ও বাকী ছয় ভাইকে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে। সবাই প্রাণ ফিরে পেল।
ছয়ভাইকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলার পর আবার কিভাবে প্রাণ ফিরব পায় আমার বুঝে আসেনা। যাইহোক, মিথোলজিগুলোতে সবই সম্ভব।।
.
সমস্ত "মনসামঙ্গল কাব্য" জুড়ে মনসাকে ভিলেন আর স্বর্গ না পাওয়ায় ফ্রাস্টেশনে ভোগা একদেবী রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আর বেহুলাকে মহাসতী রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। মনসামঙ্গল কাব্যে মনসা নয়। বরং বেহুলা ই হাইলাইট করা।
.
চাঁদ সওদাগর শেষে সন্তান ফিরে পেয়ে বাম হাতে মনসা পূজা করতে রাজি হয়েছিলেন। আজকে যারা মনসা পূজা করছেন তারা কি ভেবে পূজা দিচ্ছে। সন্তানদের সাপের কামড় থেকে বাচাতে?
মা মনসার মাতৃরূপ কি?
মনসা ভক্তরা জানাবেন।
.
.
বি:দ্র: মনসা একটি অনার্য দেবী।
অথর্ববেদে সর্পদেবীর কথা থাকলেও মনসা দেবীর মূল আবির্ভাব মনসামঙ্গল কাব্য হতে। এটি মধ্যযুগে রচিত
বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম কাব্য এটি।
মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি হরিদত্ত। বিজয়গুপ্ত এই কাব্যের প্রথম উল্লেখযোগ্য কবি এবং এই কাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি নারায়ণ দেব।
.

.
মনসামঙ্গল কাব্যের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অথবা বিহার অঞ্চলে।পরবর্তীতে এটি পূর্ববঙ্গ ও উত্তরবঙ্গেও এই কাব্যের অনুবাদিত হয় ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
এই কাব্য লোকসমাজে এতটাই প্রভাব ফেলে যে লোকে এর পূজা দেওয়া শুরু করে। মনসাপুজার সূত্রপাত ১০০০-১১০০ খৃষ্টাব্দ হতে। শুরুটা অশিক্ষিত ধর্মভীরুদের দিয়ে হলেও বাঙালী শিক্ষিত সমাজে মনসার পূজা শুরু হয় ১৫০০ খৃষ্টাব্দের পর থেকে।
.
মাঝে মাঝে মেসেজ আসে, এই মেসেজটি ১১ জনকে পাঠান তাহলে ১১ দিনের মধ্যে ভালো কিছু ঘটবে আর যদি না পাঠান তাহলে ১১ বছরেও ভালো কিছুর মুখ দেখবেন না। এই আধুনিক সভ্যতার যুগেও মানুষ নিজের উপর ভরসা পায় না, সামান্য একটা মেসেজে ভয় পেয়ে ১১ জনকে পাঠানো শুরু করে দেয়। সেখানে মধ্যযুগে কবিদের লেখা একটি কাব্যকে ভয় পেয়ে মনসা পূজা শুরু করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।।
.
.
.
.
.
হৃদয় মজুমদার,
মহারাজাপুর, ঢাকা।।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হৃদয় মজুমদার
হৃদয় মজুমদার এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 5 দিন ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 23, 2016 - 5:13অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর