নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

সমাধিমন্দির


একটা রাতচরা পাখি ডানা ঝাপটে কদম গাছ থেকে উড়ে সমাধিমন্দিরের চূড়ার উপর দিয়ে দক্ষিণদিকে চলে গেল। কোথায় গেল কে জানে! হয়তো নতুন আবাসনের খোঁজে! আজ ভরা পূর্ণিমা। পৃথিবীর অতিথিশালায় চাঁদের আলোর নিমন্ত্রণ আজ। নিমন্ত্রণ রক্ষার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও ক্ষণে ক্ষণে মেঘের কালচে খড়খড়ির ভেতর দিয়ে উঁকি দেওয়া ছাড়া যথাযথভাবে নিমন্ত্রণ রক্ষা করা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না। বিকেলের পর থেকে বৃষ্টি নেই ঠিকই, কিন্তু এখন আকাশ ক্রমাগত ধমক আর চোখ রাঙানি দিচ্ছে ধরিত্রীকে। চোখ রাঙানির আলোর হঠাৎ ঝলকানিতে দেখা যাচ্ছে যোগমায়াকে। পরনে ধবধবে সাদা থান। সমাধিমন্দিরের গায়ে মাথা রেখে বামদিকে কাত হয়ে বসে আছেন। ডানহাতে কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো একখানা পুরোনো সাদাকালো ছবি। বামহাতে একখানা চিঠি, তাও বহুদিনের পুরোনো। আকাশের চোখ রাঙানির আলোতেই বেশ বোঝা যাচ্ছে বাঁধানো ফ্রেমবন্দী ছবির মানুষটি সম্ভ্রান্ত এবং সুপুরুষ।

ছবির পুরুষ নারায়ণ চন্দ্র দাস। প্রবল প্রভাব এবং বিত্তশালী বংশের সন্তান ছিলেন। শোনা যায় নারায়ণ চন্দ্র দাসের ঠাকুরদা নগেন্দ্র চন্দ্র দাস পাবনার কোনো এক জমিদারের উচ্চ পদস্থ কর্মচারী ছিলেন। তখন তিনি ফরিদপুর শহরের অদূরে নিজ গ্রাম হরিপুরে অঢেল সম্পদ করেন। বিঘার পর বিঘা জমি কেনেন। বলা যায় এখানে তিনি ছোটখাটো এক জমিদারী গড়ে তোলেন এবং পদ্মা নদীর অদূরে পৈত্রিক ভিটেয় বিশাল প্রাসাদসম এক বাড়ি নির্মাণ করেন।

কোনো এক বর্ষায় নগেন্দ্র চন্দ্র দাস মেজো এবং ছোটছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নৌপথে পাবনা থেকে ফরিদপুরের নিজ বাড়িতে আসছিলেন। মাঝ নদীতে তারা ঝড়ের কবলে পড়েন। দুই ছেলে এবং তিনজন মাঝিসহ পদ্মা গর্ভে সলিল সমাধি হয় নগেন্দ্র চন্দ্র দাসের। আবার এমনও শোনা যায় নদীতে তারা ডাকাতের কবলে পড়েছিলেন। ডাকাতরা সবাইকে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে টাকা-পয়সা নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়। যাইহোক, নগেন্দ্র চন্দ্র দাসের মৃত্যুর কিছুকাল পরেই তার নির্মিত প্রাসাদসম বাড়িটিও ভাঙনে পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এরপর নগেন্দ্র চন্দ্র দাসের বড় ছেলে অর্থাৎ নারায়ণ চন্দ্র দাসের বাবা নিরঞ্জন চন্দ্র দাস পদ্মা থেকে অনেকটা ভেতরের দিকে নিজ জমিতে একখানা দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। ততোদিনে সংসারে ভাটার টান লেগেছে। ক্রমাগত পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা জমি। তার ওপর নিরঞ্জন চন্দ্র দাস ছিলেন স্বভাব কবি। কবিতা লিখতেন তিনি। সংসারে তাঁর মন বসে নি কখনও। মোটেও বৈষয়িক ছিলেন না। শুধু কাব্য চর্চা করেছেন আর সংসারের ক্ষয় দেখেছেন। দেখেছেন পদ্মাগর্ভে বিঘার পর বিঘা জমি বিলীন হয়ে যাওয়া। নতুন করে আর কিনতে পারেন নি একটুকরো মাটিও।

সেই তুলনায় নিরঞ্জন চন্দ্র দাসের ছেলে নারায়ণ চন্দ্র দাস অনেক হিসেবী এবং বিষয় বুদ্ধি সম্পন্ন ছিলেন। কিন্তু ততোদিনে সম্পদের আর খুব বেশি কিছু অবশিষ্ট ছিল না। তারপরও নারায়ণ চন্দ্র দাস সংসারটাকে টিকিয়ে রেখেছিলেন তার বিষয়বুদ্ধি দিয়েই। তিনি ছিলেন বৃটিশ সরকারের কর্মচারী। কলকাতায় লেখাপড়া শেষে রেলে চাকরি পান। কয়েক বছর বর্ধমান এবং নদীয়ায় চাকরি করার পর বদলি হয়ে আসেন নিজ এলাকা ফরিদপুরে। পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্থান এবং নতুন বাংলাদেশের ফরিদপুরেই চাকরি জীবন শেষ করেন তিনি। যদিও বৈষয়িক অবস্থা আর আগের চেহারা ফিরে পায় নি কিন্তু খানিকটা শ্রী-বৃদ্ধি করেছিলেন। তার জীবনযাপনেও ছিল ঠাকুরদা নগেন্দ্র চন্দ্র দাসের প্রভাব। চেহারা এবং চালচলনে বনেদী ভাব।

নারায়ণ চন্দ্র দাস তেইশ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন এগার বছরের যোগমায়াকে। সেই এগার বছরের যোগমায়ার বয়স এখন বাহাত্তর। ছবিখানা নারায়ন চন্দ্র দাসের ছাব্বিশ বছর বয়সের। কলকাতা থেকে তুলে বাঁধিয়ে এনেছিলেন। সাথে এনেছিলেন হাতঘড়ি। সেই হাতঘড়ি আর ছবিখানা দেখার জন্য সারা গ্রামের মানুষ ভেঙে পড়েছিল। আর চিঠিখানা যোগমায়ার কাছে লেখা নারায়ন চন্দ্র দাসের। বর্ধমানে চাকরিকালীন লিখেছিলেন।

মৃত্যুর আগে নারায়ন চন্দ্র দাস স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘আমি মরলে আমাকে আগুনে পুড়িয়ে ভস্ম করে দিও না। আগুনে আমার বড় ভয়। আমায় সমাধি দিও।’

তাই যোগমায়ার আদেশে ছেলেরা বাবার মৃত্যুর পর তাঁর সমাধি দিয়েছে বাড়ির সামনের পতিত জমিতে। কয়েক বছর বাদেই সমাধির ওপর সমাধিমন্দির গড়ে দিয়েছে ছেলেরা। যোগমায়া ধুপ-সন্ধ্যা দেন, পূজা করেন। নারায়ণ চন্দ্র দাসের পাশেই জায়গা রাখা আছে যোগমায়ার জন্য। যোগমায়া শেষবারের মতো চোখ বুজলে তাকেও স্বামীর পাশেই শুইয়ে রাখা হবে।

উনিশ বছর আগে নারায়ণ চন্দ্র দাস মারা গেছেন। বিয়াল্লিশ বছরের সংসার জীবনের মায়াজাল ছিন্ন হয় তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। যোগমায়া এতোদিন স্বামীর শূন্যতা অনুভব করলেও বাড়ির সামনে স্বামীর সমাধিমন্দির থাকায় তাঁর সেই শূন্যতার অনেকটাই যেন পূরণ হতো! মনে হতো স্বামী তার কাছেই আছেন। স্বামী যে তাকে ছেড়ে কোন দূর দেশে পাড়ি জমিয়েছেন একাই, তা যেন একটু একটু ভুলে করে গেছেন যোগমায়া। তার কেবলই মনে হতো, মানুষটা ঘুমিয়ে আছেন। এই বুঝি ডেকে বলবেন-
‘মায়া এক গ্লাস জল দাও।’
‘কিছু খেতে দাও মায়া।’
‘মায়া আমার চশমাটা খুঁজে পাচ্ছি না।’
‘আমার সাদা পাঞ্জাবিটা কোথায় রেখেছ মায়া? তুমি এতো ঘর গোছাতে পারো!’
‘মায়া বাবুর কাপড়টা বদলে দাও, হিশি করেছে।’

এতোদিন যোগমায়ার মনে হতো এসবের মধ্যেই আছেন তিনি, স্বামীর সাথেই সংসার করছেন। মন খারাপ হলেই চলে আসেন সমাধিমন্দিরের কাছে। সমাধিমন্দিরের দেয়ালে হাত বুলিয়ে যেন স্বামীর স্পর্শ অনুভব করেন! গল্প করতেন স্বামীর সাথে! গ্রামে কী হলো না হলো সে-সব গল্প, ছেলেমেয়ের গল্প, নাতি-নাতনিদের গল্প, আরো কতো গল্প!

প্রচণ্ড বাতাস বইছে। ঠাণ্ডা বাতাস। শীতে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে যোগমায়ার। তবু ঘরে ফেরার নাম নেই। এদিকে মধ্যরাত পেরিয়ে যাচ্ছে। তিনি যে ঘর থেকে বের হয়ে এসেছেন ছেলে-বৌমারা কেউ টের পায় নি। টের পেলে তাকে এখানে কিছুতেই আসতে দিতো না। দুই ছেলে এবং দুই বৌমা তাকে খুব ভালবাসে। নাতি-নাতনিরাও তাকে খুব ভালবাসে। তবু সমস্ত ভালবাসা ছাপিয়ে যোগমায়ার হৃদয়টা আজ ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছে। স্বামীকে কতোটা ভালবাসলে এই মধ্যরাতে ঠাণ্ডা জোলো হাওয়ার মধ্যে স্বামীর ছবি বুকে জড়িয়ে, স্বামীর সমাধিমন্দিরের দেয়ালে মাথা রেখে বসে থাকতে পারেন কোনো নারী, যে নারীর বয়স এখন বাহাত্তর, বিয়াল্লিশ বছরের সংসার জীবন শেষে স্বামীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দাম্পত্য জীবন শেষ হয়েছিল যে নারীর! তাও উনিশ বছর হলো! উনিশ বছর আগে এক শীতের ভোরে মানুষটা তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। তবু প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালবাসা এতোটুকু ফিকে হয় নি। মানুষটাও যে তাকে খুব ভালবাসতেন।
মানুষটা পাগলের মতো ভালবাসতেন তাকে। অসুখ হলে সারারাত মাথার কাছে জেগে বসে থাকতেন, জ¦র হলে মাথায় জলপট্টি দিতেন, নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন, মাথায় হাত বুলিয়ে শিশুর মতো ঘুম পাড়াতেন। তখনকার দিনে স্ত্রীকে এতোটা যত্ন করতে যোগমায়া আর কোনো স্বামীকে দেখেন নি।

একবার বড়ছেলেকে বাড়িতে রেখে ছোট ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে গেলেন যোগমায়া। কয়েকদিন থাকবেন বাবার বাড়িতে। দু-দিন যেতে না যেতেই বড়ছেলেকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত জামাই। বললেন, ‘বড়খোকা তোমার জন্য খুব কান্নাকাটি করছিলো তাই নিয়ে এলাম।’

কেউ না বুঝুক, যোগমায়া ঠিকই বুঝতে পারলেন, আসলে বড়খোকা উপলক্ষ্য মাত্র। মানুষটাই তাকে ছেড়ে দু-দিনের বেশি থাকতে পারেন না। এজন্যই তো তাঁর মা-মাসিরা ঠাট্টা বলতেন, ‘বউ পাগল ছেলে!’ আর পাড়া-পড়শিরা বলতো, ‘স্ত্রৈণ!’

একবার শিবরাত্রির উপোবাস করলেন যোগমায়া। মানুষটা উপোবাস দিলেন ভেঙে। বললেন, ‘আমিই তো তোমার শিব। আবার উপোবাস থাকা কিসের জন্যে!’
এরপর সারারাত্তির শিবলীলা হলো! ভাবলে এখনও লজ্জায় লাল হয়ে যায় শতেক বলিরেখাময় যোগমায়ার মুখ। তারপরই তো রানু পেটে এলো!

মর্মর শব্দে কদম গাছটা ভেঙে পড়লো পদ্মায় আর সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা রাতচরা পাখি পতনোন্মুখ গাছ ছেড়ে কণ্ঠে অদ্ভুত শব্দ করে উড়ে গেল সমাধিমন্দিরের উপর দিয়ে। পাখির বাসায় কি ডিম কিংবা ছোট বাচ্চা ছিল? এটা কি মা পাখি? বাবা পাখিটা নিজের প্রাণ নিয়ে অনেক আগেই উড়ে গেলেও মা পাখিটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হয়তো আগলে রেখেছিল ডিম অথবা বাচ্চাকে। কণ্ঠের ওই অদ্ভুত শব্দ নিশ্চয় মৃত্যুপথযাত্রী সন্তানের জন্য এক অসহায় মায়ের হাহাকার-আর্তনাদ।

পার ভাঙার শব্দ হলো, ছয়-সাত হাত পারের মাটি একবারে ভেঙে পড়লো। যোগমায়া কান খাড়া করলেন, বিড়বিড় করলেন, ‘সর্বনাশী মাগি, সর্বগ্রাসী! বংশের পূর্বপুরুষদের খেয়েছিস, আদি ভিটে খেয়েছিস, একশো বিঘার ওপরে জমি খেয়েছিস। আর এখন প্রাণপ্রিয় মানুষটার সমাধিমন্দির খাবার জন্য জিভ্ লক লক করছে মাগির। মাগির পেটে কতো মানুষ গেল, সম্পত্তি গেল, গ্রামের পর গ্রাম গেল। তবু মাগির পেট ভরে না। রাক্ষুসী মাগি!’

আবার বিদ্যুৎ চমকালো। আলোর ঝলকানিতে স্পষ্ট দেখা গেল যোগমায়ার অধরে জলের রেখা। বুকে জাপটে ধরে আছেন ছবিখানা। হাতে চিঠি।
কতো ইচ্ছে ছিল মৃত্যুর পর মানুষটার পাশে শেষ ঘুম দেবেন। নিশ্চিন্ত ঘুম! শান্তির ঘুম! যেমন করে মানুষটার ইচ্ছে পূরণের পর অবসন্ন দেহে, মানুষটার পাশে ঘা ঘেঁষে শুয়ে থাকতেন। আর মানুষটা তার চুলে চিরুনির মতো করে আঙুল চালিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন।
কান্ত, বয়সের ভারে এখন কান্ত যোগমায়া। তাইতো মানুষটার পাশে নিশ্চিন্ত ঘুম দিতে চান তিনি। মানুষটা পাশে না থাকলে যে তার শান্তির ঘুম হবে না!

আজ সকালেই যোগমায়া বুঝেছিলেন, রাক্ষুসী পদ্মা যেভাবে ছোবল দিচ্ছে পারের দিকে, তাতে আজ রাতের মধ্যে সমাধিমন্দির গিলে ফেলবে। তাইতো সকাল থেকে গোপনে অঝোরে কেঁদেছেন, কারো সাথে কথা বলেন নি তেমন, ঠিক মতো খেতে পারেন নি।
সূর্য ডোবার সাথে সাথেই ভেতরটায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছটফট করেছেন আর জানলা দিয়ে বারবার সমাধিমন্দিরের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন। চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ায় খুব ঝাপসা দেখেছেন, তবু তাকিয়ে থেকেছেন-যেনবা বিপদগ্রস্ত স্বামীকে দেখছেন অসহায় স্ত্রী! তারপর সবাই শুতে যাবার পর চুপি চুপি চলে এসেছেন সমাধিমন্দিরের কাছে।

পারের মাটি ভেঙে পড়লো। কদম গাছটি এখন পদ্মার জলে হাবুডুবু খাচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও গাছটায় অনেক ফুল ফুটেছিল। মাথার চুলে বিলি কাটতো কতো পাখি! ঘর বেঁধেছিল ওরা। ওরাও আজ ঘরছাড়া হলো। মানুষটার লাগানো কদম গাছ। হাজার রকম ভাবনা এখন ভর করছে তার মাথায়। দমকা হাওয়ায় অসংখ্য স্মৃতির কপাট খুলে যাচ্ছে একের পর এক।

আর মাত্র কয়েক হাত। তারপরই সমাধিমন্দির পদ্মার উদোরে চলে যাবে। এক কালের বউ পাগল, প্রভাবশালী নারায়ণ চন্দ্র দাসের শেষ স্মৃতিটুকুও বিলীন হয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতেও পারবে না এখানে কোনো একদিন, কোনো এক নারায়ণ চন্দ্র দাস বাস করতেন। পরেশ মাঝির ছেলেরা এখানে জাল ফেলে মাছ ধরবে!

টিপ টিপ বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা তো আছেই। কোনোদিকেই খেয়াল নেই যোগমায়ার। হঠাৎ চিঠিখানা হাত ফসকে বেরিয়ে বাতাসে উড়ে গেল। ছোট একটা গাছের সাথে কয়েক মুহূর্ত ধস্তাধস্তি করে আবার মাটিতে গড়িয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারলো না। বৃষ্টিবাণে ধরাশায়ী হলো চিঠিখানা।

আবার পার ভাঙার শব্দ হলো। প্রচণ্ড বাতাসের শব্দ। পারে ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ। যোগমায়ার মাথাটা সমাধিমন্দিরের দেয়ালে কাত হয়েই থাকলো। শুধু বুকের সাথে জাপটে ধরে রাখা ছবিখানা থেকে ডান হাতটা ফসকে তার কোলের ওপর পড়ে গেল।

রাতের শেষ প্রহর। মেঘের চাদর মুড়ি দিয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে চাঁদ। এখন ফ্যাকাসে অন্ধকার। কোনো পাখির ডাক নেই। কোথাও কোনো প্রাণের সাড়া নেই। শুধু ঢেউ ভাঙার শব্দ, বাতাসের শব্দ, পার ভাঙার শব্দ, বৃষ্টির শব্দ....!

টোলারবাগ, ঢাকা
২০১১।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মিশু মিলন
মিশু মিলন এর ছবি
Offline
Last seen: 19 ঘন্টা 52 min ago
Joined: সোমবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2017 - 9:06অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর