নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লিটমাইসোলজিক
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কাঠমোল্লা
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • জহিরুল ইসলাম
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

"মুজীব-স্থপতির মৃত্যু"


(প্রকাশিত) The Times Magazine, USA; 25 August 1975

মুজীবের ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত আকর্ষনীয় ও জাদুকরী। তার প্রাণচাঞ্চল্য উদ্যমী করে তুলতো সবাইকে। তার আবেগময় ভাষণে লক্ষ লক্ষ জনতা উদ্বেলিত হতো।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, "আমি গান্ধী,জিন্নাহ,ও নেহেরুর রাজনীতি এবং জনসম্পৃক্ততা দেখেছি। কিন্তু মুজীব লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে যে প্রেরনা জাগিয়ে তুলতে পারতেন, তার কোন তুলনা হয় না। তার আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবিত করার ক্ষমতা, তা অন্য কোনো নেতার কখনোই ছিল না।"

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কর্মী হিসাবে মুজীব যখন প্রথম কারাবন্দী হন, তখন তিনি সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র। এরপর বিভিন্ন মেয়াদে বৃটিশ ও পাকিস্তানের কারাগারে তার কেটেছে অন্ততঃ দশ বছর। মজা করে তাই বলতেনঃ কারাগারতো আমার দ্বিতীয় বাড়ি।

১৯৪৯ এ তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ১৯৭০ এ পাকিস্তানে প্রথম সাধারন নির্বাচনে দলের জন্য নিরংকুশ বিজয় ছিনিয়ে আনেন। সংবিধান অনুযায়ী তার সমগ্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা। কিন্তু ক্ষমতাসীন পশ্চিম পাকিস্তানীরা নির্বাচনের রায়কে অগ্রাহ্য করে। ফলে খুব দ্রুত পাকিস্তানের দু-অংশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ সময় মুজীব পশ্চিম পাকিস্তানীদের উদ্দেশ্যে বলেনঃ "তোমাদের হাতে অস্ত্র আছে, তোমরা আমাকে হত্যা করতে পারো। কিন্তু সাড়ে সাতকোটি বাঙালির স্বাধীনতা তোমরা আটকে রাখতে পারবে না"।

এরপর সামরিক একনায়ক ইয়াহিয়া খান তাকে বন্দী করে নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে। আর পুর্ব পাকিস্তানে শুরু হয় সামরিক আগ্রাসন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যা করে ৩০ লক্ষ বাঙালি, এক কোটি শরনার্থী হয়ে আশ্রয় নেয় ভারতে। পরে ভারত বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ৯ মাসের মাথায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। পরাজিত পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবর্তনে ইয়াহিয়া খান গৃহবন্দী হন আর শেখ মুজীব মুক্ত হয়ে ফিরে আসেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে।

১৯৭২ এর জানুয়ারী’র প্রথম সপ্তাহে মুজীব ফিরে এলে দেশবাসী এক অনন্য সম্বর্ধনার মাধ্যমে তাকে বরন করে নেয়। ইতিহাসে এর আগে আর বোধ হয় কোন নেতা এতো বিশাল সম্বর্ধনায় সিক্ত হননি। সম্বর্ধনার সাথে সাথে মুজীব এমন এক রাষ্ট্রের দায়িত্ব পান, যে রাষ্ট্রের কেবল একটা কাঠামোই অবশিষ্ট ছিলো, এর বেশী আর কিছু নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর একটি,সবচেয়ে ঘনবসতিপুর্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ। প্রশাসন বলে কিছু নেই, শিল্পকারখানাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে ,সমুদ্র ও বিমান বন্দরগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, রেললাইন উপড়ে গেছে, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবি ও দক্ষ পেশাজীবিদের প্রায় সকলে নিহত। অর্থনীতির তলানী বলতে যা কিছু ছিল তাও ‘৭৩ এর খরা ও ‘৭৪ বন্যায় শেষ হয়ে যায়।

স্বাধীনতার পরের তিন বছরে ৬০০০ হাজারেরও বেশী রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটে। সহিংসতা সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে পরার আশংকা তৈরী হলে মুজীব রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থা ঘোষনা করেন। চরম বাম ও চরম ডানপন্থী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হয়, পত্রিকাগুলোকে নিয়ে আসা হয় সরকারী নিয়ন্ত্রনে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়।

এই উদ্যোগগুলো বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে গৃহীত হলেও অনেকেই সমালোচনামুখর হয়ে উঠেন। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে মুজীব তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে বলেন, "ভুলে যেওনা আমি মাত্র তিন বছর সময় পেয়েছি। এই সময়ের মধ্যে তোমরা কোনো দৈব পরিবর্তন আশা করতে পারো না"। যদিও শেষ সময়ে তিনি নিজেই হতাশ ও বিরক্ত হয়ে কোন দৈব পরিবর্তন ঘটানোর জন্য অধৈর্য্য হয়ে পড়েছিলেন।

সন্দেহাতীতভাবেই, মুজীবের উদ্দেশ্য ছিলো তার দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন ঘটানো। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুজীব একটা ‘সোনার বাংলা’ গড়তে চেয়েছিলেন, যে ‘সোনার বাংলা’র উপমা তিনি পেয়েছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে, ভালোবেসে মুজীব সেই ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে তার দেশের জাতীয় সংগীত নির্বাচন করেছিলেন।

(মূল কপি থেকে সংগৃহীত)

@ খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

Comments

সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
 

"তোমাদের হাতে অস্ত্র আছে, তোমরা আমাকে হত্যা করতে পারো। কিন্তু সাড়ে সাতকোটি বাঙালির স্বাধীনতা তোমরা আটকে রাখতে পারবে না"।

মহানায়কোচিত উক্তি।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...
সাইয়িদ রফিকুল হক

 
Ramim এর ছবি
 

He is a great leader. There is none second to him.

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

খোরশেদ আলম
খোরশেদ আলম এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 2 দিন ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 27, 2016 - 3:00পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর