নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
  • দীপ্ত সুন্দ অসুর
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • সুবিনয় মুস্তফী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

অস্থির সময়ের গল্প: নকশালবাড়ি ৫:


নকশাল আন্দোলনকে রুশ কিংবা চীনা বিপ্লবের পাশে রাখা যায় না, কিন্তু এই উপমহাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলনটা বেশ প্রভাবশালী । মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত ছাত্র-যুবা স্টাইলিস্ট পোষাক ফেলে মার্ক্স, লেনিন আর মাও সে তুং এর একগাদা বই কাছে টেনে নেবে, ব্যাপারটা একটু হলেও আজকের জনমানসে খটকা লাগায় ! সরকার আন্দোলনটা রাষ্ট্রীয় শক্তির দ্বারা দমন করলেও এর আগুন কিন্তু ছড়িয়ে পরেছিলো কলকাতা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে। নকশাল আন্দোলন ছিল মূলত চীনে মাও সে তুং এর বিপ্লবের পদানুসারী। লক্ষ ছিল মাও সে তুং যেমন চীনে বিপ্লব ঘটিয়ে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কৃষক-গরীব-শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ঠিক সেরকম ভারতে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে কৃষকদের জমি ও শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা। এক কথায় তথাকথিত আধা সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থাকে সরিয়ে একটা উন্নত সমাজ ব্যাবস্থা কায়েম করা।

নকশাল আন্দোলনে “শ্রেণী সংগ্রাম” এবং “শ্রেণী শত্রু” শব্দ দুটো খুব জরুরি| তার সাথে সশস্ত্র বিপ্লবের যোগ কিভাবে এবং কেন? এটাও বুঝতে হবে| কোন একটি অঞ্চলের কৃষক যদি মনে করে জমিদাররা তাদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে তবে তারা ঐ সুবিধাবাদী শ্রেনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম ঘোষনা করতে পারে। এটা জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের শ্রেণী সংগ্রাম। এখানে জমিদার শ্রেণী শত্রু| মাও সে তুং চীনা বিপ্লবের সময় শ্রেণী সংগ্রামের বাস্তব সকলের সামনে এনেছিলেন| নকশাল আন্দোলনের এক আলোচিত দিক ছিল শ্রেণী শত্রুদের খতম করা, আর এইখানে এই আন্দোলনের বিচারগত বিচ্যুতি দেখা গিয়েছিল|

কলকাতার ছাত্র-যুবাদের মধ্যে এই আন্দোলন ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল । ছাত্রদের একটা বড় অংশ যোগ দিয়েছিল বিপ্লবী কর্মকান্ডে। তত্কালীন শিক্ষাব্যবস্থাকে তারা একটি মেকি বুর্জুয়া প্রক্রিয়া হিসেবে দেখত| বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির পরিবর্তনে উত্তাল হয়েছিল ছাত্রসমাজের বহুলাংশ| বলা হয়েছিল :'কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদর দরজায় কামান হাঁকা' হবে| নেতাদের নির্দেশে তারা ছড়িয়ে পড়েছিল শহর থেকে গ্রামে। উদ্দেশ্য হল শ্রেণী শত্রু খতম করা! তাদের শ্রেণী শত্রুর তালিকায় ছিল ভূস্বামী, জমিদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মহাজন, পুলিশ … । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দখল হয়ে গেল , সেখানে ওয়ার্ক শপে তৈরী হতে লাগলো লড়বার জন্য অস্ত্র ! কলকাতার প্রসিডেন্সি কলেজ তখন কাঁপাচ্ছে অমর্ত সেনের রেকর্ড ভেঙ্গে দেওয়া অর্থনীতির ছাত্র অসীম চ্যাটার্জি আর দীপাঞ্জন রায়চৌধুরী| এতটাই বিপ্লবী তারা যে নকশাল আন্দোলনের ভেতরে প্রেসিডেন্সিতে তৈরী হলো 'প্রেসিডেন্সি কনসলিডেশন' !! দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার : “চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান”, “ভিয়েতনাম, লাল সালাম”, “কমরেড মাও লাল সালাম” ইত্যাদি।

(চলবে..........)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজর্ষি ব্যনার্জী
রাজর্ষি ব্যনার্জী এর ছবি
Online
Last seen: 30 min 22 sec ago
Joined: সোমবার, অক্টোবর 17, 2016 - 1:03অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর