নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • হাসান নাজমুল
  • শ্রীঅভিজিৎ দাস
  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল
  • নিরব
  • সুব্রত শুভ
  • কুমকুম কুল

নতুন যাত্রী

  • নিনজা
  • মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী

আপনি এখানে

বাংলার রেনেসাঁ (শেষ পর্ব)


ইটালির রেনেসাঁর পেছনে তৎকালীন ইটালির বিকাশমান অর্থনীতির ভূমিকা ছিলো বলে অনেক পণ্ডিত মত দিয়েছেন।মার্ক্সবাদীরা বলে থাকেন ইটালির বাণিজ্যিক বিপ্লব,বুর্জোয়া শ্রেণীর অভ্যুদয়, ধনতন্ত্রের সূচনা এসবই নাকি ইটালীর রেনেসাঁকে সম্ভব করেছিল। কিন্তুু এ বিষয়ে কোন স্থির সিদ্ধান্তে এখনো পৌছানো যায়নি। কেউ বলেছেন যে রেনেসাঁর আগেই অর্থাৎ মধ্যযুগে ভেনিস, জেনোয়া নেপলস্, পিসা প্রভৃতি শহরের বণিকশ্রেণী খুব উন্নতি করেছিল।সেটা ছিল "বাণিজ্যের স্বর্ণযুগ"। তের ও চৌদ্দ শতকেই কেউ কেউ ইটালিতে ধনতন্ত্রের এবং বুর্জোয়ার দেখা পাচ্ছেন। এই সময়ে ইটালির কোন কোন অঞ্চলের জনসংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল বহুগুণ।বাণিজ্যিক বিপ্লবের কারনে এক নতুন বণিকশ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। এই বণিকেরা জন্ম দিয়েছিল নগরায়নের। চতুর্দশ শতকের শেষদিকে আবার ইটালিতে অর্থনৈতিক সংকট শুরু হয়। মহামারীতে ফ্লোরেন্সের জনসংখ্যা নেমে আসে পঞ্চাশ হাজারে। যে সব অভিজাত বণিক এবং বেনিয়ারা বিশেষ করে মেডেসি ব্যাংকের ইটালির রেনেসাঁর প্রথম দিককার কুশীলবদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছিল তাদের ব্যাংক ব্যবসা এবং বাণিজ্য উভয়েরই পতন শুরু হল। অর্থাৎ রেনেসাঁ শুরু হয়েছিল মধ্যযুগের অর্থনৈতিক উন্নতির উপর ভিত্তি করে এবং যাত্রাপথে তাকে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে ফ্লোরেন্সের অর্থনৈতিক ক্ষয়িষ্ণুতা এবং মন্দা। এজন্যই নাকি রেনেসাঁর শিল্পের প্রথম পর্বে যে আশা উদ্দীপনা প্রাণোল্লাস দেখা গিয়েছিল পরে আর সেরকমটা থাকেনি। সৃষ্টির সব ক্ষেত্রে লেগেছিল সংশয় ও হতাশার সুর।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক এ এফ সালাহউদ্দিন আহমদ উনিশ শতকের বাঙালি সমাজ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজে তিনি পিএইচডি ডিগ্রির জন্য গবেষণার বিষয় হিসেবে নিয়েছিলেন উনিশ শতকের প্রথমার্ধের ভারতীয় বাঙালি সমাজ। সেই গবেষণা থেকেই উদ্ভুত তাঁর বই Social Ideas and Social Changes in Bengal 1818-1835 . বইটি ১৯৬৫ সালে নেদারল্যান্ডস থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটকে প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে ধরা যেতে পারে। আমি অনেক বিখ্যাত ইতিহাসবিদ যারা উনিশ শতকের ভারতের বিশেষ করে বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন তারা সালাহউদ্দিন আহমেদের বইকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সেই বই থেকে কিছু তথ্য আমি ব্যবহার করছি। তাঁর মতে উনিশ শতকের শুরুতে ভারতীয় সমাজে যে সকল তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হয় তার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসনের ফলে উদ্ভুত নতুন নতুন ধ্যান ধারণার প্রবর্তন।পরিবর্তনের সূচনাকাল হিসেবে তিনি ১৮১৮ সালকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন।

বাংলার রেনেসাঁর ক্ষেত্রে ১৮১৮ সালকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছিলেন ইতিহাসবিদ সালাহউদ্দিন আহমদ। এই বছরে প্রথম স্বদেশী ভাষায় সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় চার পৃষ্ঠার মাসিক দিগদর্শন প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষায়। সাথে থাকত ইংরেজি অনুবাদ। এই পত্রিকা ভারতীয় তথা বাঙালিদের মত প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। প্রেসের উপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় ১৮১৮ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। আরো কিছু বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্র ওই বছরে প্রকাশ লাভ করে। এর মধ্যে বেঙ্গল গেজেট এবং সমাচার দর্পণ উল্লেখযোগ্য। ১৮১৮ সালে হিন্দু কলেজ একটি সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাড়াতে সক্ষম হয়। ১৮১৭ সালে কলকাতা স্কুল বুক সোসাইটি, ১৮১৮ সালে কলকাতা স্কুল সোসাইটি এবং শ্রীরামপুর কলেজ শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধনে আবির্ভূত হয়। ওই সালেই তিনি সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম পুস্তিকা "প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ" প্রকাশ করেন। এসকল কারনেই ১৮১৮ সালকে সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলার রেনেসাঁর সূচনাবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরপর থেকে বাংলার সমাজ সংস্কৃতি ধর্মচিন্তায় একধরনের ভাঙাগড়া চলতে থাকে।

কিন্তুু বাংলার রেনেসাঁর রয়েছে নিজস্ব দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা। এই রেনেসাঁ অতিক্রম করতে পারেনি যেমন নগর কলকাতার চৌহদ্দি তেমনি প্রভাবিত করতে পারেনি এলিট শ্রেনীর বাইরের সাধারণ নাগরিকদেরকে। কলকাতা ইটালির ফ্লোরেন্স নয়। কলকাতা বাণিজ্যর শহর, তার মূল ভিত্তি বন্দর। ফ্লোরেন্স ছিল শিল্পের শহর, তার কার্যক্রম নানামুখী। ফ্লোরেন্স করেছিল শিল্পপণ্যের উৎপাদন, কলকাতা করেছে পণ্যের বাণিজ্য। কলকাতা আবার ছিল উপনিবেশিক শাসকদের অধীনে, বাণিজ্য তাদের নিয়ন্ত্রণে।

ফ্লোরেন্সের কিছু ধনিক ও বনিক পরিবারের আনুকূল্য পেয়েছিলেন রেনেসাঁর শিল্পী ও লেখকেরা। সেই ধনী মেডেসি পরিবার ,যাদের ব্যাংক ব্যবসা দুইশত বছর ধরে সমগ্র ইউরোপে রাজত্ব করেছিল তারা শিল্পী,বিজ্ঞানী এবং বুদ্ধিজীবীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। মেডেসি পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, মিকালেঞ্জেলো,দোনাতেল্লি, রাফায়েল প্রভৃতি বিখ্যাত রেনেসাঁ শিল্পীরা। গ্যালিলিও পেয়েছিলেন মেডেসিদের সহায়তা। রোম পেয়েছিল নিকোলাস পঞ্চমের মতো একজন মহান পোপ যিনি ভ্যাটিকান লাইব্রেরী গড়ে তোলেন এবং প্রচুর পরিমাণ গ্রীক বইপুস্তক সংগ্রহ করে সেখানে জমা করেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় রোম হয়ে ওঠে ফ্লোরেন্সের মতো আরেকটা রেনেসাঁ নগরী। এই কাজে নিকোলাসকেও সহায়তা দিয়েছিল মেডেসি পরিবার। বাংলার রেনেসাঁর পেছনে সেইরকম কারো অবদানের ইতিহাস নেই।

ইটালির রেনেসার সময়ে ফ্লোরেন্স ছিলো উৎপাদন ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ স্বাধীন রিপাবলিক। সেখানে অর্থনৈতিক ভাবে পরিপুষ্ট হওয়াটা সহজসাধ্য ছিলো। আর আমাদের রেনেসাঁ ঘটেছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের লৌহদন্ডের নিচে। আমাদের ধনে মানে মননে প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ হওয়ার সে সুযোগ ছিলোনা। ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক ভূমি ব্যবস্থা ভারতীয়দের উৎপাদনকে পশ্চাৎপদ কৃষিতে আবদ্ধ রেখেছিল। গড়ে উঠতে দেয়নি ভারতীয় নিজস্ব শিল্প কারখানা। পুঁজিকে বিকশিত হওয়ার সকল রাস্তাই তারা বন্ধ রেখেছিল। তাছাড়া উপর্যুপরি শোষণ তো ছিলই।তবে ব্রিটিশদের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য এবং এজেন্সি হাউজ পরিচালনার সুবাদে বাঙালিদের মধ্যেও কিছু ধনী লোকের উদ্ভব হয়। আঠারো শতকের শেষ দিকে বাংলার তেমনি এক বিখ্যাত ধনাঢ্য বণিকের নাম রামদুলাল দে। মার্কিন দেশের সাথে ছিল তার ব্যবসা। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর পরবর্তী প্রজন্মের কলকাতার আরেক ঢনাঢ্য ব্যক্তিত্ব। রাধাকান্ত দেব, কেশব সেন প্রভৃতিরাও যথেষ্ট ভূসম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। কিন্তুু ইটালির মেডেসি পরিবার বা পেপেসিদের মতো এরা কোন শিল্পী সাহিত্যিকের পৃষ্ঠপোষকতা দেননি। বাংলার রেনেসাঁর প্রধান পুরুষেরা যতটুক করেছেন তা নিজের প্রাণশক্তি ও প্রতিভাবলেই করেছেন ;কারো পৃষ্ঠপোষকতা তাঁরা পাননি।ইতিহাসবিদ অমলেশ ত্রিপাঠী জানাচ্ছেন রামমোহন ছিলেন রংপুরের কালেক্টরের দেওয়ান, কলকাতায় তাঁর জমি ও বাড়ি ছিল।ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মাইকেল মধুসূদন ছিলেন কলকাতার পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিশোরী চাঁদ মিত্রের হেড ক্লার্ক ও দোভাষী, পরে হাইকোর্টের দলিলপত্রের পরীক্ষক। রাজনারায়ণ বসু ছিলেন সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ভূদেব মুখোপাধ্যায় স্কুল পরিদর্শক। বিদ্যাসাগর ছিলেন সরকারি সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ। রঙ্গলাল সেন, বঙ্কিমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র তিনজনই ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। দীনবন্ধু মিত্র কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে বাংলার ডাক বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার সহকারী হয়েছিলেন। সাহিত্য ক্ষেত্রে নিজ নিজ প্রতিভার বলে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

দ্বিতীয়ত রেনেসাঁর অর্থ যদি হয় পুনর্জাগরণ, তাহলে ধরে নিতে হয় যে অতীতে আমাদের একটা ঐশ্বর্যময় সময় ছিলো। মাঝখানে আমরা সেটা হারিয়ে ফেলেছি। এখন আবার সেটার অনুসন্ধান এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কাল উপস্থিত হয়েছে। ইটালিয়ান রেনেসাঁর বেলায় সেটাই ঘটেছে। ইউরোপের তো সমৃদ্ধ গ্রীস আর রোম ছিলো। তাদের সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল ছিলো, হোমার, ভার্জিল ছিলো। প্রোটাগোরাসের মতো সফিস্ট ছিলো,হেলেনিস্টিক আমলের আলেকজান্ড্রিয়ার লাইব্রেরী আর জাদুঘর ছিলো। আমাদের কী ছিলো? বিশেষত বাংলায়? আমরা তাহলে কিসের পুণর্জাগরণ ঘটাবো? আমাদের ইউরোপের মতো অতোকিছু ছিলো না। তবে ইংরেজি শিক্ষার প্রভাবে উনিশ শতকে বাংলায় কিছু মননশীল এবং উদ্যমী ও স্বাপ্নিক মানুষ তৈরী হয়েছিলেন। পাশ্চাত্যের রেনেসাঁ আর এনলাইটেনমেন্ট তাঁদেরকেও আলোকিত করেছিলো। সেই আলোকচ্ছটা তাঁরা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। তাঁরা অবশ্য পাশ্চাত্যের সাথে প্রাচ্যের সমন্বয় সাধনেরও চেষ্টা করেছেন। একটা রক্ষণশীল সমাজ, অশিক্ষা, কুসংস্কার আর পুরোহিততন্ত্রের আদিগন্ত বিস্তারের মধ্যে ইস্ট আর ওয়েস্টের একটা মিশ্রিতরূপের বিকাশ ঘটানোটাও কম বৈপ্লবিক নয়। বাংলার রেনেসাঁর সীমাবদ্ধতাও প্রচুর। এটি সীমাবদ্ধ থেকে গেছে শহরকেন্দ্রিক উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে। পুরো হিন্দু সমাজও এটাকে স্বাগত জানায় নি। প্রথমদিকে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, সুব্রহ্মণ্য শাস্ত্রী, রাধাকান্ত দেব, ভবাণীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ গোড়া হিন্দুর ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা বজায় ছিলো। অন্য একটা সীমাবদ্ধতা হলো বাংলার মুসলমান সমাজ একেবারেই বাইরে থেকে গেলো বা অংশ নিলো না উনিশ শতকের এই প্রাণবান আন্দোলনে। জাতীয়তাবাদের বিকাশ বাংলার রেনেসাঁসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, তবে সেটাও সীমাবদ্ধ। সেই জাতীয়তাবাদের ঝোঁক হিন্দু মানসিকতার দিকেই প্রবল ছিলো। হিন্দুধর্ম যখন লাগাতার সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, পুরোহিততন্ত্র , সতীদাহ প্রথা,বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ বিলোপ করছে, বিধবা বিবাহ চালু করতে যাচ্ছে, বহুঈশ্বরবাদ থেকে একেশ্বরবাদের দিকে যাচ্ছে, মূর্তিপূজা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করছে, পাশ্চাত্য আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান ধ্যান ধারনার সাথে পরিচিত হচ্ছে, নিজেদের প্রচেষ্টায় স্কুল কলেজ স্থাপন করছে, ব্রিটিশ রাজের কাছে চিঠি লিখছে স্কুলগুলোতে মৃতভাষা না পড়িয়ে বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য এবং যখন এতোসব অগ্রসরমূলক কাজের জন্য হিন্দুর মনে হিন্দুত্বের অহংকার দানা বাঁধছে, জাতীয়তাবাদ হিন্দুত্বের দিকে ঝুকে পড়ছে তখন মুসলমান সমাজ আমদানি করেছে ওয়াহাবি আন্দোলন। এর ফলাফল অনির্ণেয়। কলকাতার মুষ্টিমেয় মুসলমান ভদ্রশ্রেণীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন তখন নবাব আব্দুল লতিফ। তিনি মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি গড়ে তোলেন। তাঁর সমাজচিন্তাও রক্ষণশীল, ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষপাতী। লিটারারি সোসাইটির সভায় বক্তৃতা হতো আরবি, ফার্সি, উর্দু ও ইংরেজীতে। বাংলা অপাঙ্ক্তেয় থেকে গেলো। উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমেদের ওয়াহাবী আন্দোলনের বাংলাদেশের অনুসারী ছিলেন তিতুমীর। ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা ছিলেন শরীয়তউল্লাহ আর তাঁর পুত্র দুদু মিয়া। উনিশ শতকে মুসলমানদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চিন্তা বলতে এইটুকুই।

মার্ক্সবাদী লেখকেরা বাংলার রেনেসাঁকে সুপারফিশিয়াল মনে করেন। পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাঙালিদের বুদ্ধিবৃত্তির অগ্রগতিকে অন্যরা যখন রেনেসাঁ বলে চিহ্নিত করেছেন, বামপন্থী লেখকেরা বলছেন যে এর ফলে উপনিবেশিক ভারতে ব্রিটিশদের অত্যাচারের বিষয়টাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেকগুলো কৃষক বিদ্রোহ, এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ রেনেসার আলোচনায় স্থান না পাওয়ায় মার্ক্সবাদী লেখকেরা এর সমালোচনা করেছেন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুবিনয় মুস্তফী
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 23 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 4, 2016 - 4:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর