নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জয়বাংলা ১৯৭১
  • মোগ্গালানা মাইকেল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দীব্বেন্দু দীপ

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

বিচারপতি-নামের এইসব অবিচারপতির বিচার করবে কে?


বিচারপতি-নামের এইসব অবিচারপতির বিচার করবে কে?
সাইয়িদ রফিকুল হক

এই দেশে বিচারপতিরা খুব সুখে আছে। আর খুব মজায় মজে আছে। আর তারা টাকাপয়সার সমুদ্রে হাবুডুবু খেয়ে বহাল তবিয়তে বসবাস করে মহাসুখে জাবর কেটে জীবনযাপন করছে। এরা গরিবের দুঃখ বুঝবে কীভাবে? গরিব-দুঃখী মানুষজন এদের কখনও কিছু হয় না। এরা শুধু টাকা চেনে আর ধনীদের তেলে মাথায় তেল দিতে ব্যস্ত। নইলে, দেশস্বাধীনের ৪৬ বছর পরও আজ পর্যন্ত গরিবমানুষ বিচার পায়নি আর এখনও পাচ্ছে না। আর ভবিষ্যতেও যে তারা বিচার পাবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নাই।

বাংলাদেশের সুপ্রীমকোর্ট (হাইকোর্ট ও আপীলবিভাগ) বিচারের নামে এখন প্রহসন শুরু করেছে। এরা দেশের সর্বস্তরের নিম্নআদালতের দেওয়া সঠিক রায়কে নিজেদের ইচ্ছেমতো রদবদল করছে। এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো গত ০৬/০৮/২০১৭ তারিখ হাইকোর্টের দেওয়া দেশের আলোচিত ‘বিশ্বজিৎ-হত্যাকাণ্ড’-এর রায়। এই রায়ে নিম্নআদালতের দেওয়া আটজনের ফাঁসি রদবদল করে মাত্র দুইজনের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাও এই দুইজনের একজন আবার পলাতক!

রায়ের পরে বিশ্বজিতের বাবা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

দেশের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘদিন বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৮জনকে ফাঁসি আর ১৩জনকে যাবজ্জীন দিয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান হাইকোর্টের রায়ে মাত্র দুইজনের ফাঁসি বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকী ৬জনের মধ্যে দুইজনকে বেকসুর খালাস (!) আর অপর ৪জনকে মাত্র যাবজ্জীবন দিয়েছে। এছাড়াও, ১৩জন যাবজ্জীবনদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্য থেকেও দুইজনকে বেকসুর খালাস (!) দেওয়া হয়েছে। এখন সহজেই অনুমেয়: যাবজ্জীবনদণ্ডপ্রাপ্ত বাকী ১১জন যদি আপীল করতো তাহলে...? কিন্তু কীসের জন্য এসব হচ্ছে? আর কীসের ভিত্তিতেই বা এমনটি করা হচ্ছে? সাধারণ মানুষজনসহ সমগ্র বাংলাদেশ এতে উদ্বিগ্ন।

বিশ্বজিতকে এভাবেই পশুগুলো হত্যা করেছে।

২০১২ সালের ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টায় ছাত্রনামধারী একদল পাপসন্তান পুরানো ঢাকার একজন দর্জি ও হিন্দুযুবক বিশ্বজিৎ দাসকে কিল-ঘুষি-লাঠিপেটাসহ রড ঢুকিয়ে হত্যা করেছিলো। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড এটি। সেদিন অসহায় বিশ্বজিৎ এই হত্যাকারী-পাপসন্তানদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কতরকম কাকুতিমিনতী করেছিলো। তবুও ওই বেজন্মাগুলো তাকে ছাড়েনি। শেষমেশ বাঁচার জন্য ছেলেটি কতবার বলেছিলো, “ভাই, আমি হিন্দু! আমি হিন্দু! আমি হিন্দু...।” তবুও ওই বেজন্মাগুলো তাকে প্রকাশ্যদিবালোকে হত্যা করেছে। আর এসব দেশের প্রায় সমস্ত জনগণ দেখেছে। এই রায়ে কি তার বিচার হয়েছে? আর এটি বিচার না প্রহসন?
সেদিন এই নারকীয় ঘটনার সরাসরি ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করেছিলো দেশের প্রায় সমস্ত প্রাইভেট-টিভিচ্যানেল। তাদের কাছে এখনও এই ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তবুও কেন ফাঁসির আসামীদের দণ্ড-মওকুফ করা হয়েছে? এর পিছনে কোন্ রহস্য কাজ করছে? এখানে, কাদের স্বার্থ জড়িত? কারা সেই হত্যাকারীগোষ্ঠী? কেন দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের রায় বানচাল করা হয়েছে? এর জবাব আজ কে দিবে?
এই চক্রটিই সাক্ষ্য-প্রমাণের পর্যাপ্ত অভাবের মিথ্যাঅভিযোগ দেখিয়ে ২০১২ সালে একাত্তরের ‘কসাই কাদের’খ্যাত কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড-মওকুফ করে তাকে যাবজ্জীবন দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিলো। জাতি সেদিন তা মানেনি। আজও মানবে না।
বিচারের নামে এই চক্রটিই একাত্তরের চিহ্নিত-যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেনকে ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করে তাকে বহাল তবিয়তে জেলে রেখেছে! এদের কার্যকলাপ জাতি এখন বুঝতে শিখেছে। আর এরা বাংলাদেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করার ক্ষমতা দেখাতে পারে। কিন্তু বিশ্বজিৎ-এর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে নিম্নআদালতের রায়-দেওয়া ৮টি প্রাণীর ফাঁসি বহাল রাখতে পারে না! এসব আমরা বিশ্বাস করি না।

প্রকাশ্য দিবালোকে বিশ্বজিৎ দাসকে ১০/১২টা ছাত্রনামধারী-নরপশু পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা করেছে। আর তার বিচারে বুঝি মাত্র দুইজনের ফাঁসি হয়? তাই না? এরই নাম বুঝি বিচার?
দেশের বিচারব্যবস্থা এখন পাকিস্তানীকায়দায় চলছে। হানাদারবাহিনীর দোসরগণ দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের রায়কে বানচাল করে চক্রান্তের রায় প্রদান করেছে। আর তারা এখনও চক্রান্ত করছে? এরা আসলে কে? আর কী এদের পরিচয়? জাতি এসব এখন জানতে চায়।

বিচারপতিরা যদি সঠিক বিচার করতো—তাহলে, বাংলাদেশে অপরাধ একেবারে কমে আসতো। এদের বিচারের নামে অবিচারের কারণেই বাংলাদেশ আজ অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের একশ্রেণীর নষ্টচরিত্রের রাজনৈতিক হোমরাচোমরাদের সঙ্গে এইজাতীয় অবিচারপতিরাও বহুলাংশে দায়ী। এরা বিচারের নামে অবিচার করবে—তবুও এদের কিছু বলা যাবে না। এরা যেন সবসময় ধরাছোঁওয়ার বাইরে। আর এদের জন্য সাত খুন মাফ! এদের কখনও কিছু বলা যায় না। এদের সমালোচনা করা নাকি আইনতঃ নিষিদ্ধ! কোন্ দুষ্টচক্র এই অবিচারপতিদের রক্ষা করার জন্য এই বেআইন তৈরি করেছে? জাতি আজ তা জানতে চায়।
একমাত্র বাংলাদেশেই বিচারপতিদের অবিচারের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। এতে নাকি এদের সম্মানে আঘাত লাগে! নাকি সত্য শুনে আঁতে ঘা লাগে? এইসব অবিচারপতিদের জন্য ১৯৭১ সালে দেশের ত্রিশলক্ষ মানুষ জীবন দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে বিচারের নামে অবিচার চলতে পারে না। চলতে দেওয়া হবে না। জাতি এই অবিচার মানবে না।

আজ বাংলাদেশের হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্টের কোথাও কোনো বিচার নাই। সবখানে এখন অবিচারের মহোৎসব! আর সবখানে চলছে বিচারের নামে প্রহসন।

এই দেশে আজ খুনের বিচার নাই!
এখন খুনীর জামিন হয় তাড়াতাড়ি!
এই দেশে আজ ধর্ষণের বিচার নাই!
ধর্ষক অতিসহজে জামিন পেয়ে নতুন করে
আবার ধর্ষণের জন্য তৈরি হচ্ছে!
এই দেশে আজ মানুষহত্যার কোনো বিচার নাই!
আর এরই নাম বুঝি সুবিচার?
দেশের আদালত এসব এড়িয়ে যেতে পারে না।

বিশ্বজিতের রায়ে জাতি বিস্মিত।

বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত কোনো বিচারপতির সন্তান কারও হাতে খুন হয়নি! তাদের কারও মেয়ে কখনও ধর্ষিত হয়নি! তাদের কারও স্ত্রী কখনও লাঞ্ছিত কিংবা ধর্ষিত হয়নি! তারা নিজেরাও থাকে সবসময় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়ে! এরা খুন-ধর্ষণ-হত্যার বিচার করবে কীভাবে?

ন্যায়বিচার করতে না পারলে এই দেশে খুনীর প্রশ্রয়দানকারী হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্ট রেখে লাভ কী? মানুষ আর মানুষের জীবনের চেয়ে হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্ট কখনও বড় হতে পারে না। মানুষের স্বার্থে এখন এগুলোকে শুদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। আর এদেশের সকল পেশার মানুষকে বিচারের ও আইনের আওতায় আনা হোক। আর এই অবিচার জাতি সইবে কেমন করে?

সঙ্গত কারণে দুঃখভারাক্রান্তমনে আজ প্রশ্ন জাগে: বিচারপতি-নামের এইসব অবিচারপতির বিচার করবে কে?

সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
০৭/০৮/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 ঘন্টা 14 min ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর