নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বাপ্পার কাব্য
  • নীল কষ্ট
  • মুফতি মাসুদ
  • অনন্য আজাদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
  • সংশপ্তক শুভ

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

ভালো পুরুষ খারাপ নারী


বিশ্বাস খুবই ভয়ঙ্কর একটা ভাইরাস। এটি মানুষকে না দেয় যুক্তি মানতে না দেয় প্রমাণে আস্তা রাখতে। তেমনি পুরুষতন্ত্র মানুষের জীবনে এমন ভাবে লেপ্টে আছে যে এ থেকে বের হবার উপায় খোঁজে পাওয়া কঠিন। এটি বিশ্বাসের মতো ভাইরাসে আক্রান্ত। এ ভাইরাস এমনই কঠিন ভাইরাস যে এটিই এখন এন্টিভাইরাস বলে মানুষ বিশ্বাস করে।

ধরুণ, আমি নাস্তিক। আমি যুক্তি দিয়ে, প্রমাণ দিয়ে, রেফারেন্স দিয়ে যদি বলি সৃষ্টিকর্তা বলে কিছু নেই তখন ধার্মিকরা কি আমার কথা মেনে নিবে? না। তারা তাদের মতো করে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে কু যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চাইবে যে সৃষ্টিকর্তা আছে। আবার যদি ধার্মীকদের ধর্মগ্রন্থ কোরান, হাদীস, গীতা, বাইবেল থেকে বিভিন্ন রেফারেন্স যা তাদের সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে লিপিবদ্ধ আছে তা থেকেও প্রমাণ করি যে সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে যা আছে আদতে তা মানুষের লেখা বাণী, মানুষের চিন্তা, চেতনা, বিশ্বাস থেকে এসেছে তাহলে কী ধার্মিকরা আমাকে ছেড়ে কথা বলবে? বলবে না। তারা আমার দিকে হাজার টাইপের কুৎসিত, জঘণ্য মন্তব্য ছুড়ে দিবে। আমাকে ঘায়েল করতে চাইবে। খুন করতে চাইবে। কেন ওরা আমার উদ্দেশ্যে কুৎসিত, জঘণ্য মন্তব্য ছুড়ে দিবে? খুন করতে চাইবে? কারণ তাদের মনে হচ্ছে আমি তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, তাদের ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। তাদের হাজার বছরের বিশ্বাসকে এক নিমিষেই ভেঙ্গে দিতে চাইছি। মানে আমি আমার চিন্তায়, লেখনিতে ধর্ম বিরোধী মনোভাব পোষন করছি। তাই তারা তাদের বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখার জন্যে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে। আমাকে ঘায়েল করতে চাইবে। সেই বিশ্বাসের বিপরীতে যত খোড়া যুক্তিই থাকুকনা কেন।

তেমনি পুরুষরা চায় তাদের কালে কালে গড়ে উঠা পুরুষতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে। পুরুষতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে ওরা ভালো করেই জানে নারীদের দমিয়ে রাখতে হবে। নারীর কথা বলা বন্ধ করে রাখতে হবে। নারীর শরীরকে ট্যাবু বানি ঘরে বন্দী করে রাখার জন্যে হাজার রকমের নিয়ম, আইন, আদেশ জারি করতে হবে। যাতে নারীর তার শরীর লুকিয়ে রাখে, ডেকে রাখে, নিস্তেজ করে রাখে। নারীর তাঁর কথা বলা বন্ধ রাখে।ধার্মিকরা যেমন ভয় পায় তাদের বিশ্বাসকে কেউ ভেঙ্গে দিতে চাইলে তেমনি পুরুষতন্ত্রের পুরুষরা চায় নারীকে দমিয়ে রেখে, কথা বলা বন্ধ রেখে পুরুষতন্ত্রকে টিকে রাখতে। ধার্মিকরা যেমন তাদের ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে কুৎসিত, জঘণ্য মন্তব্য ছুড়ে দেয় তেমনি পুরুষরা নারীদের পক্ষ নিয়ে কেউ নারী মুক্তির কথা বললে কুৎসিত, জঘণ্য মন্তব্য ছুড়ে দেয়। ধর্মের বিরুদ্ধে বললে যেমন ধার্মিকরা ধর্মবিদ্বেষী না বলে ইসলাম বিদ্বেষী, মুসলিম বিদ্বেষী, হিন্দু বিদ্বেষী, খ্রিস্টান বিদ্বেষী বলে তেমনি পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কিছু বললে হতে হয় পুরুষবিদ্বেষী। কোন অনিয়ম, ভুল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বললে সেটা সেই অন্যায়, অনিয়ম, ভুলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ হবেই। সুনাম হবে না। সেটা নারীই হউক, পুরুষই হউক আর ধর্মই হউক। বিদ্বেষ হবে বলে কি নারীর বিরুদ্ধে যে অন্যায়, অবিচার, অনিয়ম হচ্ছে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে না? চুপ করে বসে থাকবে? অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে, অনিয়মের বিরুদ্ধে, নারীকে দমিয়ে রাখার পুরুষতন্ত্রের যে মানসিকতা তার বিরুদ্ধে বললে যদি পুরুষবিদ্বেষ হয় তবে প্রত্যেকটি নারীর পুরুষবিদ্বেষী হওয়া উচিৎ। কারণ নারী মুক্তির প্রধান বাধা এই পুরুষতন্ত্র। পুরুষের এই দমিয়ে রাখার মানসিকতা।

ভালো পুরুষ খারাপ পুরুষ চিনবেন কী করে? আবার ভালো নারীর খারাপ নারীই বা চিনবেন কী করে? ধরুণ আপনি একটা শহরে থাকেন। বাবা মা, ভাই বোনদের সাথে। আপনার আচার ব্যবহার, কথাবার্তায় সবসময় অমায়িক একটা ভাব না রাখলেই না। সেই সাথে আপনি কোন অন্যায় করেন না, কোন আড্ডায় জাননা, ঝগড়া করেন না। কোন গণ্ডগোল দেখলে পাশ ফিরে চলে আসেন। মেয়েদের দেখলে মাথা নিচু করে রাখেন। বাসায় এসে বোনকে উপদেশ দেন, সবসময় শালিন হয়ে চলার জন্যে, কোন ছেলে বন্ধুর সাথে না মেশার জন্যে, সন্ধ্যার পরে বাইরে না থাকার জন্যে, প্রয়োজনে বোরখা-হিজাব পরার জন্যে। ইন্টারনেট, ফেসবুক ব্যবহার না করার জন্যে। বোন বাহিরে যেতে চাইলে আপনি সাথে যান অথবা কাউকে দিয়ে পাঠান। বোনকে বলে দেন পাশের বাসার সমবয়সী মেয়ের সাথে না মেশার জন্যে। কারণ সেই মেয়ে একা চলাচল করে, ছেলে বন্ধুদের সাথে মেশে, বোরখা হিজাব করে না। উচ্চস্বরে কথা বলে, হাসাহাসি করে, কোন পুরুষ দ্বারা অন্যায়ের শিকার হলে প্রতিবাদ করে, মুখে মুখে তর্ক করে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে। আপনি চান আপনার বোন ঘরে থাকুন, ঘরের কাজ করুক, রাস্তার কোন পুরুষ দ্বারা নির্যাতিত হলে কেউ দেখার আগে যেনো চুপ করে চলে আসে। না হলে যে কেলেংকারী হয়ে যাবে। লোক জানাজানি হলে আপনার সম্মান চলে যাবে। আপনি চান বোনকে নিজের পছন্দমত ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিবেন। অতএব আপনি চান হাজার বছরের পুরুষদের বানানো নিয়ম মেনেই নারী চলুক। পুরুষের সাথে তর্ক না করুক। নির্যাতিত হলেও, শোষিত হলেও প্রতিবাদ না করুক। পুরুষের কথায় উঠুক, বসুক, চলুক, দেখুক। অর্থাৎ যে নারী পুরুষের রুচিমতো চলে সে-ই আপনার চোখে ভালো নারী।

আপনার মাঝে উপরের এই গুণগুলো থাকলে অবশ্যই আপনি ভালো পুরুষ। সমাজের চোখে, পরিবারের চোখে আত্মীয়স্বজনের চোখে। সবাই আপনাকে আইডল মানবে, আপনার মতো হতে স্বপ্ন দেখবে। সবার ছেলেকে চাইলে আপনার মতো বানাতে। কথায় কথায় আপনার উদাহরণ টানবে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন পুরুষতন্ত্রকে কি ভয়ঙ্কর ভাবে আপনি লালন করছেন? শুধু আপনি লালন করছেন না আরও হাজারটা পুরুষের মাঝে আপনার পুরুষতান্ত্রীকতার মনোভাব ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। যারা আরো একশো বছর সেই পুরুষতান্ত্রীকতাকে টেনে নিয়ে যাবে। তারপর তাদের দেখে শিখবে পরের প্রজন্ম। এভাবে চলতেই থাকবে।

আপনি ভালো পুরুষ বলে খুব সহজেই আপনি "খারাপ নারীকে" চিনতে পারেন। আপনার চোখে সেই নারীই খারাপ যে নারী এই পুরুষতান্ত্রীকতাকে মেনে নিতে পারে না। নারীর সাথে ঘটে যাওয়া সকল অন্যায়, অবিচার, অনিয়মের প্রতিবাদ করে। কোন নারী যদি স্বামীর নির্যাতন সহ্য না করে, স্বামীর প্রভুত্ব খাটানোকে মেনে না নেয়, স্বামীর কথা মতো নিয়মিত উঠবস না করে, সেক্রিফাইসের নামের আজীবন সংসারের ঘানি না টেনে ডিভোর্স দিয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে চায় আপনার চোখে সেই নারী খারাপ।

আপনি নারীবাদীদের নিয়ে কোন কথা তুললে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তসলিমা নাসরিনকে টেনে আনবেন। যেন প্রাসঙ্গিক অপ্রাসঙ্গিক সব বিষয়ে আপনার তসলিমাকে চাই। যুক্তি-কুযুক্তি দিয়ে বলবেন তসলিমা এতো বড় নারীবাদী হয়ে দিন শেষে পুরুষের সাথে শোতে যায় কেন? পুরুষ ছাড়া উনার চলেই না কেন? শিক্ষিত হয়েও আপনি ভুলে যান পুরুষ বিদ্বেষ আর পুরুষতন্ত্র বিদ্বেষের মধ্যে পার্থক্য। ভুলে যান পুরুষের সাথে শোয়া মানেই পুরুষের চাপিয়ে দেয়া নিয়মের সাথে শোয়া না। ধর্ষক, নির্যাতক, নারীকে দমিয়ে রাখা কোন প্রভুর সাথে শোয়া না।

আপনার চোখে তসলিমা নাসরিন নারীকে দমিয়ে রাখার প্রধান বাধা। যেন তসলিমাকে ঘায়েল করতে পারলেই আপনি নারীদের ঘায়েল করতে পারবেন, ঘরে বন্দী করতে পারবেন, আপনার কথামতো চালাতে পারবেন। কারণ তসলিমা চায় নারী মুক্তি, নারীর স্বাধীনতা, নারীর সমানাধিকার। আপনার চোখে ভালো নারীবাদী বেগম রোকেয়া। কারণ রোকেয়া মাথায় ঘোমটা দিয়ে রাখতো, স্বামী সংসার করতো, পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলতো। কিন্তু রোকেয়া যখন পুরুষদের কুকুরের সাথে তুলনা করে, পুরুষকে অক্ষম, বন্দী করে রাখার কথা বলে তখন আপনার চোখ সেদিকে যায় না। আপনার চোখ তসলিমাকে দেখায় ব্যস্ত থাকে। যেনো তসলিমাই একমাত্র নারীর শত্রু। আর দুনিয়ার সকল পুরুষ নারীর বন্ধু!

আজকাল অনলাইনে একপাল ভালো পুরুষ দেখা যায়। ছোট করে বললে ফেসবুকে। ভাবসাবে এমন যেনো ওরাই নারীর আসল বন্ধু। বাকি সবাই শত্রু। নারী মুক্তি নিয়ে অনলাইন, অফলাইনে যে নারীবাদীরা কথা বলে, নারীর সাথে হওয়া অনিয়ম, অন্যায়গুলো তুলে ধরে তারা সেই নারীদের আক্রমণ করে কিটিবাদী, নেকড়েবাদী, শৌখিন নারীবাদী বলে উপহাস করে! ওদের চোখে এই নারীবাদীরা নারীর শত্রু, নারী মুক্তির প্রধান বাধা! ভালো পুরুষরা এই নারীবাদীদের কেন নারীর শত্রু ভাবে? কারণ ভালো পুরুষরা চায় নারীরা যেনো সেক্রিফাইস করে তাদের কথা মতো চলে। পুরুষের দোষ না ধরে যেন গুণগান গায়। যেনো নারীবাদীরা বলে, পুরুষরা সবসময় কি আর নারীকে দমিয়ে রাখতে চায়? মাঝে মাঝে তো ছাড় দিয়ে নারীকে নিয়ে লংড্রাইভেও বের হয়, ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়ায়, সিনেমাও দেখায়! ঐযে সিনেমায় মাঝে মাঝে নারী চরিত্রের ডায়লগ থাকে, আমার স্বামী মানুষটা ভালো কিন্তু রাগ উঠলে মাঝে মাঝে চুলের মুঠি ধরে পিটায়। ব্যপার না, পুরুষ মানুষ এরকম একটু আধটু করেই! মানুষটা ভালো তা নারীবাদীরাও জানে কিন্তু চুলের মুঠি ধরে কেন পিটায় সেটা বললেই ভালো পুরুষদের গায়ে ফুসকা পড়ে। ওরা চায় ঘরের নারী যেনো ভালো খাওয়ার লোভে, লংড্রাইভে বের হবার লোভে, সিনেমা দেখার লোভে অন্তত সামান্য নির্যাতন সহ্য করুক। ভালো পুরুষদের মতে এটা পুরুষের অধিকার। আবার ভালো পুরুষরা ফুসুরফাসুর করে নারীবাদীরা কেন বউ শাশুড়ির ঝগড়া নিয়ে কথা বলে না? কেন নারীরাই নারীর শত্রু বলে গালমন্দ করে না? কেন বলেনা ভালো মন্দ যা করছে ভালবেসেই করছে, ব্যপার না।

এই যে আপনি যখন নারীবাদীদের কি করা উচিৎ কি করা উচিৎ না। নারীবাদীরা কী করে কী করে না বলে হা-হুতাশ করেন এটাও নারীদের দমিয়ে রাখার একটা পন্থা। এটাই প্রমাণ করে আপনি আপনার ভালো লাগা, মন্দ লাগা, ইচ্ছা অনিচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার অধিকার চান। আপনি ভুলে যান আপনি তাদের পথ দেখি দেয়ার কেউ না। পথ আটকে রাখারও কেউ না।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হাবিজাবি গল্পকার
হাবিজাবি গল্পকার এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 27, 2013 - 12:39পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর