নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • অভিজিৎ
  • মূর্খ চাষা
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • রোহিত
  • আকাশ লীনা
  • আশরাফ হোসেন
  • হিলম্যান
  • সরদার জিয়াউদ্দিন
  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়

আপনি এখানে

শহীদ সাবের : জীবন ও সাহিত্য


চিন্তাই কর্মের উদ্দেশ্য। যে চিন্তাকে কর্মের দিকে প্রেরণাা দেয় না, সে পণ্ডশ্রম প্রবঞ্চনা মাত্র। অতএব চিন্তার সেবক যদি আমরা হয়ে থাকি, তবে কর্মেরও সেবক আমাদের হাতে হবে”। উক্তিটি মার্কসবাদের বাস্তবায়নকারী ভ. ই. লেনিনের। রাজবন্দী হিসাবে শহীদ সাবের জেলখানায় থাকাকালে তার ডায়েরীতে লিখে রেখেছিলেন। তার ডায়েরীতে এ উদ্ধৃতি দেখে বুঝা যায় শহীদ সাবের’র চিন্তাধারা কোন্ দিকে অগ্রসর হচ্ছিল; তিনি কেবল চিন্তা নয়, কর্মের সঙ্গেও যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা করতে পারেন নি। শহীদ সাবের’র সময় সমাজ বিপ্লবের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, মুসলিম লীগের দুর্দাণ্ড প্রতাপ, সমাজ বিপ্লবীদের ধরে ধরে জেল গারদে বন্দি করা হত। শহীদ সাবেরকেও বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী ছাত্র ফেডারেশনের সাথে যুক্ত থাকায় এবং পাকিস্তানি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জড়িত থাকার অজুহাতে জেলে পাঠানো হয়েছিল। শহীদ সাবের পযর্টন রাজধানী কক্সবাজারের সূর্য সন্তান।

চকরিয়া উপজেলার হারবাং নিবাসী সরকারী উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছালামত উল্লাহর ঔরসে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও (বর্তমান ইসলামাবাদ ইউনিয়ন)’র ফাসিয়াখালী সিকদার পাড়াস্থ নানার বাড়িতে ১৯৩০ সালের ১৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। সাবেরের পূর্ব পুরুষেরা ছিল এককালে পর্তুগিজ-অধ্যুষিত দিয়াং এলাকার অধিবাসী। পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত দিয়াঙ। দাদা আসাদ আলী চট্টগ্রাম শহরতলীর চন্দনপুরার জনৈক ইংরেজ সাহেবের কাছ থেকে এক খণ্ড জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেন। পরে সাবেরের বাবা সালামতউল্লাহ হন বাড়িটির অধিবাসী। অন্যদিকে নানা হামিদুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন ঈদগাঁর জমিদার। হামিদুল্লাহ চৌধুরীর একমাত্র কন্যা শফিকা খাতুনের সঙ্গে সালামত উল্লাহর বিয়ে হয় পারিবারিকভাবেই। তাঁদের বিয়ে পরবর্তী দাম্পত্য জীবনে প্রথমে শহীদ সাবের এবং পাঁচ বছর পর মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, ডাকনাম পিয়ারু, আসেন পৃথিবীর আলোতে। সালামতউল্লাহকে সরকারি চাকরিসূত্রে ঘুরে বেড়াতে হত বিভিন্ন জায়গায়। কখনো দার্জিলিং, কখনো কলকাতা। ফলে সাবের বড় হতে লাগল নানা বাড়িতেই মায়ের স্নেহছায়ায়। ছোটবেলা থেকেই শান্ত-স্বভাবের ছিলেন তিনি। দামাল ছেলের দুরন্তপনা তাঁর মধ্যে ছিল না। ছেলেবেলায় ঘুড়ি, লাটাই, গুলতি আর ডাঙ্গুলি খেলতেন। তবে এইসব খেলার বাইরেও খুঁজে পেতে চাইতেন অন্যকিছু। ঈদগাঁর শান্তÍ -প্রকৃতির মতো একটা স্থিরতা ছিল তাঁর মজ্জাগত। আর সেই সাথে আবেগের বাহুল্য এবং ভাবপ্রবণতাই ছিল তাঁর চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট। ঈদগাঁর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা জীবনের শুরু। নানাবাড়ির পাশেই ছিল মায়ের নিজস্ব একটি বাড়ি। সেই বাড়িতেই শৈশবের মনোরম দিনগুলো কাটিয়েছেন সাবের। সকালে কোনোদিন ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠতে পারতেন না। একজন মাস্টার ছিল বাড়ির ছেলেÑমেয়েদের পড়াবার জন্য। সাবেরকে উঠাবার জন্য তিনি নানারকম ফন্দি করতেন। বলতেন, আজ ভোরবেলা যে সবার আগে উঠতে পারবে সে একটা মজার জিনিস পাবে। লজেন্স, বিস্কুট, মিষ্টি এমনি ধরনের ছোটখাটো জিনিস তিনি ওদের দিতেন। কিন্তু এইসব প্রলোভনেও কাজ হতো না। আর এজন্যে তাঁর কোনো ক্ষোভ বা লজ্জা ছিল না। তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্র। ঘুম থেকে পরে উঠলেও পড়ালেখায় কেউ তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারতো না। মা-বাবা শখ করে নাম রেখেছিলেন একেএম শহীদুল্লাহ। পিতৃ প্রদত্ত নাম বাদ দিয়ে তিনি লেখালেখির জগতে শহীদ সাবের নামে পরিচিত। যদিও চট্টগ্রামে থাকাকালীন সময়ে তারই বন্ধু মাহবুব উল আলম চৌধুরী সম্পাদিত ‘সীমান্ত’ পত্রিকায় ‘শহীদুল্লাহ সাবের’ নামে ‘আবেগ’ এবং মাসিক সীমান্ত এর ২য় বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, পৌষ ১৩৫৫, জানুয়ারি ১৯৪৯ সংখ্যায়ও তিনি ‘সীমান্ত, সাংস্কৃতিক সম্মেলন, ‘চট্টগ্রাম কলেজের বিচিত্রানুষ্ঠান এবং শেষ রক্ষা ও অভিনয়’ নামে তিনটি আলোচনাধর্মী লেখা লিখেন তিনি।

তিনি ঈদগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নাবস্থায় বাবার কর্মসূত্রে কলকাতায় চলে যান। ভর্তি হন হেয়ার স্কুলে। এ সময়ে কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ছন্দশিখা’ নামক পত্রিকা সম্পাদনায় জড়িত পড়েন। পাশাপাশি সমাজ বিপ্লবীদের সংগঠন মুকুল ফৌজের সাথেও জড়িত ছিলেন। সাহিত্যিক সাবের’র সৃজনশীল বিকাশের প্রথম সিঁড়ি এখান থেকেই বলা যায়। প্রাক-প্রস্তুতি পর্বে কলকাতা হেয়ার স্কুলে অধ্যয়নকালীন সময়ে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তিনি সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। জড়িত পড়েন পার্ক সার্কাসের তালক্লার্ক লেনের ‘ছোটদের আসর’ এবং ‘কিশোর সংঘ’ নামে কিশোর সংগঠনের সাথে।

কর্ণেল সুরেশ বিশ্বাস রোডে ছোটদের আসর নামে একটি ছোট গ্রন্থাগার ছিল। এ গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক ছিলেন শহীদ সাবের। পড়ালেখার পাশাপাশি কর্মকে তিনি বেছে নেন। সাথে সাথে চিন্তার সাথেও পরিচিত হন। ছোটদের আসরের গ্রন্থাগারের অন্য অনেক বইয়ের সাথে, ‘তানিয়া, ‘ছোটদের রাজনীতি’, ‘ছোটদের অর্থনীতি’ প্রভৃতি মুক্তচিন্তার বইয়ের পাঠ গ্রহণ করেন। আর এই দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধুম্রজাল। এ যুদ্ধের পরিবেশে কিশোর সাবেরর মন-মানস গড়ে উঠতে থাকে এবং এই সময়েই শহীদ সাবের রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠে।

‘কিশোর সংঘ’ ছিল পার্ক সার্কাসের কিশোর ছেলেদের প্রাণস্বরূপ। ছেলেরা প্রায়ই বিতর্ক অনুষ্ঠান করতো, আলোচনা সভায় বসতো। সাবের উৎসাহের সাথে তাতে অংশ নিতেন। এ সংঘ ‘ছন্দশিখা’ নামে হাতে লেখা একটি পত্রিকা বের করতো। সম্পাদনা করতো সাবের। ঔপন্যাসিক রশীদ করিম ছিলেন কিশোর সংঘের উপদেষ্টা। আর এই সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্যেই কিশোর সাহিত্যিক শহীদ সাবেরের মানস গড়ে উঠতে থাকে। ‘ছন্দশিখা’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ একে দিয়েছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী জয়নুল আবেদীন। সাবেরের সাহিত্য প্রতিভা বিকাশের প্রথম ধাপের প্রথম সিঁড়ি হিসাবে ‘ছন্দশিখা’ পত্রিকার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

এ সময়ে আবুল মনসুর আহমদ সম্পাদিত ‘দৈনিক ইত্তেহাদ’ পত্রিকার সাহিত্য পাতায় শহীদ সাবের’র লেখা ‘বিষকন্যা’ ছাপিয়ে সবার দৃষ্টি কাঁড়েন। এই পত্রিকার সাহিত্য পাতা দেখতেন জহুরী সম্পাদক কবি আহসান হাবীব। তিনি শহীদ সাবের’র গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর বলেন- ‘অমন সপ্রতিভ ছেলে আমার চোখে পড়ে নি। বয়সের তুলনায় তাঁর মানসিক পরিপক্কতা ছিল অনেক বেশি।’

আহসান হাবীব’র সম্পাদনা উত্তীর্ণ হয়ে কোন লেখা প্রকাশ পাওয়া চাট্টিখানি ছিল না। সম্পাদনায় তাঁর নিবিষ্ট মন, আন্তরিকতা, মূল্যায়নের রীতি শুনে হতবাক হতে হয়। কোনো লেখককেই কম মূল্য দিতেন না! তাঁর বেলায়- লেখক নয়, লেখাই মুখ্য। কোনো লেখার ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে তা নিজের হাতে কাটছাট করতেন না। স-সম্মানে ফেরত দিয়ে দিতেন লেখককে। তাঁর প্রমাণ পাওয়া যায় নজরুল একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা কবি তালিম হোসেনের স্ত্রী তৎকালিন ‘দৈনিক আজাদ’ এবং পরবর্তীতে ‘দৈনিক পাকিস্তান’ (দৈনিক বাংলা)’র মহিলা বিভাগের সম্পাদক মাফরোহা চৌধুরীর ‘সঙ্গ-প্রসঙ্গ’ পাঠে। তিনি লিখেন- ‘আহসান হাবীবের সম্পাদনা উত্তীর্ণ হয়ে কোন লেখা সেখানে প্রকাশ পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। আমি লেখা দেব, তারপর দেখে-শুনে আমার সামনের চেয়ারে এসে বসে লেখাখানি ফেরত দিবেন স-সম্মানে। বলবেন- এটা রাখুন, এর পরেরটা দিবেন। ভাবতেই খারাপ লেগেছে। এমনি দ্বিধা-সংকোচে আর লেখা দেওয়া হয়নি। পরে ‘পকিস্তানি খবর’ এ ‘চন্দন’ গল্পটি প্রকাশ হওয়ার পর তাঁর অনুরোধে ‘প্রকৃতি সংলগ্ন’ নামে ছোট গল্পটি দেই। তাও অনেক বাচ-বিচার করে ছাপেন।’’( মাফরোহা চৌধুরী, সঙ্গ প্র্রসঙ্গ, ১৯৯১ঃ ৫২)। এ উদ্বৃতি থেকে বুঝা যায় শহীদ সাবের’র লেখাটি কতখানি মানসম্পন্ন হয়েছিল বলে ছাপানো হয়েছে।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর নিজ দেশ বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়। নিজ জেলা চট্টগ্রামে ফিরে এসে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হয়। ওই স্কুল থেকেই ম্যাট্রিক পাশ করে ছুটিতে কাটাতে যান জন্মভূমি কক্সবাজারে। ১৯৪৭ সালের ফেব্র“য়ারির দিকে আরেক সহকর্মী সাইমুম শমসের এর সঙ্গে কক্সবাজার থেকে জাগরণ নামে একটি সাহিত্য প্রকাশ করেন। ‘জাতীয় জাগরণের অগ্রদূত’ স্লোগানে প্রকাশিত ‘জাগরণ’-এ বাংলা ভাষার স্বীকৃতি দানের বিষয়টি তুলে ধরে সম্পাদকীয় লেখেন শহীদ সাবের।

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যয়নকালে তিনি মুকুল ফৌজ আন্দোলনে শরিক হন এবং চট্টগ্রামে সু পরিচিতি হয়ে উঠেন। এ সময় তিনি সংগঠনের কাগজ ‘মুকুল’ লিখতেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্রি করতেন। নন্দনকানস্থ উদয়ন পত্রিকায়ও লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তার লেখা ও বক্তৃতার পারদর্শিতা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। ১৯৪৯ সালের শেষের দিকে মুকুল ফৌজ আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের আই.এ প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির একমাত্র অসম্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন।

এ সময় তিনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায় তথা ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর এবং ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আন্দোলনে ভাষাসৈনিক মাহবুবুল আলম চৌধুরীসহ অন্য অনেকের সাথে আন্দোলনে শরিক হন। ১৯৪৮ সালের শুরু দিকে শুরু হয়েছে ভাষা সংস্কৃতিতে আঘাত। ১৯৪৮ সালের ২৪-২৭ মার্চের পাকিস্তানের জনক মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’-এই প্রতিবাদে চট্টগ্রাম জে.এম.সেন হলে অনুষ্ঠানের প্রচার করতে গিয়ে মুসলিম লীগের প্রতিক্রিয়াশীল অংশের ভাড়াটে গুণ্ডারা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবাধীন মাহবুব উল আলম চৌধুরী, গোপাল বিশ্বাসের সাথে শহীদ সাবেরও হামলার শিকার হন। সেদিন হামলাকারীরা আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সভাপতিত্বে নির্ধারিত সভাও পণ্ড করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী পর্বে ২১ ফেব্র“য়ারি এবং ১৯৫৪ সালে পূর্ববঙ্গ নির্বাচনের পর মুসলিম সরকারের পতন পর্যন্ত শহীদ সাবের ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে আটক থাকায় ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি রাজপথে। রাজপথে আন্দোলনে শরীক হতে না পারলেও ঢাকা জেলে প্রগতিশীল নেতারা ভাষার আন্দোলন বিষয়ে যেসব বৈঠক করে তাতে শহীদ সাবের উপস্থিত ছিলেন বলে ধনঞ্জয় দাশ ‘আমার জন্মভূমি ঃ স্মৃতিময় বাঙলাদেশ’ নামে স্মৃতিমূলক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

১৯৪৯ সালের শেষের দিকে নিজ জন্ম মহকুমা কক্সবাজারে রাজনৈতিক সফরে আসেন তিনি শহীদ সাবের। তিনি ছাত্র ফেডারেশনের সক্রিয় কর্মী হয়ে কক্সবাজারের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কক্সবাজারের বিভিন্ন বিদ্যালয় রাজনৈতিক সফর করেন।
বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়লে মুসলিম লীগ’র রোষানলে পড়েন। অন্যদিকে এই একই সময়ে দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া ঘোলাটে। মুসলিম লীগ সরকারের দোর্দণ্ড প্রতাপের রাজত্ব তখন। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীদের ওপর যখন তখন হামলা ও নির্যাতন চালায়। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাইকারী হারে গ্রেফতার করে মুসলিম সরকার তখন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কণ্ঠরোধে বদ্ধ পরিকর। অন্যদিকে শুরু হয়েছে পঞ্চাশের ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও বাস্তুত্যাগের হিড়িক।
মুসলিম লীগ সরকারের দমননীতির শিকার হয়ে অন্য অনেকের সাথে প্রগতিশীল চিন্তার বাহক শহীদ সাবেরকেও ১৯৫০ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে মূলনীতি কমিটি বাতিলের দাবিতে ‘ছাত্র ফেড়ারেশন’র এক কর্মীসভায় বক্তৃতারত অবস্থায় আলী আকসাজ ও সুভাষ চৌধুরীর সাথে নিরাপত্তা (রাজবন্দী) হিসেবে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা ছাড়ায় চট্টগ্রাম জেলে পাঠানো হয়। পরে ঢাকা, রাজশাহী জেলেও পাঠানো হয় তাকে।

শহীদ সাবের বিদ্রোহের আগুন বুকে ধারণ করে কাটাতে থাকে জেল জীবন। ইতোপূর্বে সমগ্র পাকিস্তান ব্যাপী মুসলিম লীগ ও কমিউনিস্ট পার্টি ব্যতীত অন্য কোন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ছিল না। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার অন্য কোনো বিরোধী দলের অস্তিত্ব কোনোভাবে মেনে না দিতে বদ্ধ পরিকর ছিলো। লিয়াকত আলী খান দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন যে, পাকিস্তানে কোন বিরোধী দল সহ্য করবেন না।

শহীদ সাবের দেশ বিভাগের পর ভেবেছিল এ স্বাধীনতা শুধু ভৌগলিক স্বাধীনতা হবে না, এ স্বাধীনতা সকল মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিয়ে শোষক শ্রেণি কর্তৃক শোষিত শ্রেণির মানুষের মুক্তির পথ প্রশস্ত করবে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদ হয়ে সামাজিক মালিকানার মাধ্যমে দেশ শিল্পায়িত হবে। সকল মানুষ একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পরিবেশে বেড়ে উঠবে। যেখানে থাকবে না কোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। মার্কসের রাষ্ট্রশক্তি হচ্ছে শাসক শ্রেণির শোষণের হাতিয়ার’ এ অমোখ সত্য বাণীকে ধারণ করে শহীদ সাবের পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ণয় করেন।

চট্টগ্রাম জেল থেকেই তিনি আই.এ পাস করেন এবং চট্টগ্রাম জেলেই বসে বন্দী জীবনের কাহিনি নিয়ে শুরু করে রাজশাহী সেন্ট্রাল জেলে গিয়ে সমাপ্ত করেন তাঁর বিখ্যাত রচনা ‘আরেক দুনিয়া থেকে’। ‘নিরাপত্তা বন্দী’ বলে স্বনামে লেখা ছাপানো সম্ভব ছিল না। তাই জামিল হোসেন ছদ্মনামে গোপনে রাজশাহী জেল হয়ে কলকাতার অনিল সিংহ সম্পাদনায় প্রকাশিত তৎকালিন সময়ে নামকরা ‘নতুন সাহিত্য’র চৈত্র ১৩৫৭ সংখ্যায় ছাপানো হয়। লেখাটি নিয়ে কলকাতায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি ও পাঠক সমাজে সমাদৃত হয়। এর পর থেকেই কথাসাহিত্যিক শহীদ সাবের’র বলিষ্ঠ সাহিত্য যাত্রা শুরু হয়। কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপধ্যায় এ লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়ে পত্রিকার সম্পাদককে চিঠি লিখে এ নতুন সাহিত্য প্রতিভাকে স্বাগত জানান। এটি পরে ১৯৫১ সালে বই প্রকাশিত হয়। রচনাটি ছিল রাজবন্দীর রোজনামচা জাতীয়। জেল দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা প্রসূত, জেল জীবনের নিখুঁট বর্ণনা লেখাটিকে যেমন সরস তেমনি প্রাঞ্জল করে তুলেছে। লেখকের একঘেয়েমি অতিরিক্ত দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে ক্লান্তিকর বর্ণনা রচনাকে ভারাক্রান্ত করেন নি। বরং মিঠে কড়ার অদ্ভুত আমেজ সকালের বৌদ্দ এ রচনাটি ইংরেজ কবি শোলজেনিৎ সনে’র ‘ইভান ফেনিমেভিয়ের জীবনে একদিন’ কেও হার মানিয়েছে বলে বৌদ্ধামহলের ধারণা। ‘ইভান ফেনিমেভিয়ের জীবনে একদনি’ রচনাটি জেল জীবনের বিভিন্ন ত্রুটি ও সমালোচনা তীর্যকভাবে আলোড়িত হয়েছে। তবে এটি একটি উপন্যাস। কিন্তু শহীদ সাবেরর ‘আরেক দুরিয়া থেকে’রচনাটি উপন্যাস কিংবা ছোটগল্পও নয়- রোজনামচা। বাস্তব জেল জীবনের ত্র“টি নিয়ে রচিত এ রচনায় প্রাণবন্ত, লেখক জীবন নিংড়ানো অনুভূতির প্রাখুর্য তীব্র। তবে মনে হয় শহীদ সাবের এ রচনাটি লেখার আগে কোথাও ইভানফেনিমেভিয়ের জীবনে একদিন’ রচনাটি পড়েছিলেন। যা পড়ে অনুপ্রানিত হয়ে এ রচনাটি লিখেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গী এখানে রূঢ় নয়। মুসলিম লীগ’র নির্মম অত্যাচারের মাঝেও যে তিনি প্রসন্ন মনোলোকের পরিচয় দিয়ে বাংলা সাহিত্যে আপন স্বাতন্ত্রে মহিমায় জেগে ওঠার প্রয়াস পেয়েছেন তাঁর জন্য ধন্যবাদ জানাতে হয়।

সরকার বিরোধী আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক শহীদ সাবের চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং রাজশাহী জেলে বিনা বিচারে ৪ বছর আটক থাকার পর ১৯৫৪ সালে এ কে ফজলুল হক এর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট সরকারের বন্দিচুক্তির আওতায় মুক্তি লাভ করে ঢাকা আজিমপুরস্থ কমিউনিস্ট পার্টির ‘কমিউন’-এ উঠেন। এ সময় তার সাথে মুক্তি পাওয়া কমরেড আলী আকসাদ, নুরুন্নবী (রাজশাহী জেলে গুলি বর্ষণের ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণকারী খুলনার অধিবাসী. পরবর্তীতে কলকাতায় সোভিয়েত তথ্য ও প্রচার বিভাগে কর্মরত ছিলেন), মতিন (বগুড়া), কমরেড ধনঞ্জয় দাশ (খুলনা, পরবর্তীতে কলাকাতায় স্থিত হন; ‘আমার জন্মভূমি ঃ স্মৃতিময় বাঙলাদেশ’ নামক মূল্যবান গ্রন্থের প্রণেতা), কমরেড মির্জা সামাদ, নেপাল নাগ, খোকা রায়সহ কমিউনিস্ট পার্টির অনেকেই থাকতেন ওইখানে। কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কমিউনকে কেন্দ্র করে একটা ‘টিম’ তখন পার্টির প্রকাশ্য কাজকর্ম পরিচালনা করতেন এবং জেল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কমরেডদের কয়েকজনের উপরই প্রধানত ন্যস্ত হয়েছিল এই দায়িত্ব। কমরেড মির্জা সামাদ এ টিমের প্রধান ছিলেন বলে ধনঞ্জয় দাশ ‘আমার জন্মভূমি ঃ স্মৃতিময় বাঙলাদেশ’ নামক গ্রন্থে (তৃতীয় মুদ্রণ জুলাই ১৯৭৪, পৃ : ১২০) উল্লেখ করেছেন। শহীদ সাবের সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি ওই গ্রন্থে (পৃ-১২০) বলেন, ‘শহীদ সাবের ছিলেন তরুণ ছাত্রকর্মী ও উদীয়মান কবি। ঢাকা জেলে তিনি আমাদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন কয়েক মাস। পরে তিনি সম্পূর্ণ উন্মাদ হয়ে যান। কিন্তু হায়, সেই বিকৃত-মস্তিষ্ক সাবেরকেও শুনলাম হত্যা করেছে নরপশু ইয়াহিয়ার জল্লাদ বাহিনী, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার প্রাঙ্গনে।’
শহীদ সাবের এর জেল জীবনে যাদের সঙ্গী পেয়েছেন তার মধ্যে কমরেড মুকুল সেন, ডা. জ্ঞানেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, জ্ঞান চক্রবর্তী, অনিল মুখার্জী, কমরেড ধনঞ্জয় দাশ, অবিভক্ত বাংলার কৃষক সভার সভাপতি কৃষ্ণ বিনোদ রায়, সাধারণ সম্পাদক মনসুর হাবিব, নুরুন্নবী, মির্জা সামাদ, সরদার ফজলুল করিম, আলি আকসাদ, সুভাষ চৌধুরী, নাদেরা বেগম, অজিত গুহ, রওশন আলি, নলিনী দাশ, অমর চক্রবতী, বেনু ধর, চট্টগ্রামের হাসি দত্ত, নারায়নগঞ্জের কমরেড সতীশ ভদ্র, কমরেড সুশীল সেন, অমিয় দাশগুপ্ত, আবদুল হক, অমূল্য লাহিড়ী, সন্তোষ দাশগুপ্ত, প্রশান্ত দাশগুপ্ত, ধীরেন শীল, শরদিন্দু দস্তিদার, শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

কমিউনিস্ট পার্টির কমিউন থেকে তিনি বাবার আজিমপুর কলোনিস্থ বাসায় চলে আসেন। এর মধ্যে জগন্নাথ কলেজ (নৈশবিভাগ) থেকে বিএ পাশ করে আর্থিক মন্দা ঘোচাতে তিনি ১৯৫৫ সালে ঢাকা ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরীও নিয়েছিলেন। কিন্তু বেশিদিন করা হয় নি। সেখানে কথাশিল্পী মাহমুদুল হক ছিলেন তাঁর ছাত্র।

ওই সময়ে কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্তমতে এক বন্ধুর মাধ্যমে দৈনিক সংবাদে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এ সময় সংবাদের সাহিত্য পাতাও দেখতেন। পাশাপাশি কমিউনিস্ট দৃষ্টিভঙ্গীতে লিখেন গল্প কবিতা ও সম্পাদকীয়।
তখন তাঁর লিখিত সম্পাদকীয় খুবই আকর্ষণীয় হতো- তাতে প্রকাশ পেত তীক্ষœ বুদ্ধি ও শানিত মননের দীপ্তি। তাতে উপস্থাপনা ও প্রকাশভঙ্গির মুন্সিয়ানাও ছিল লক্ষণীয়।
শহীদ সাবের একজন থিয়েটার কর্মীও ছিলেন। নাট্যকর্মী হিসেবে তিনি মুনীর চৌধুরী’র ‘কবর’ নাটকটি জেলের বাইরে মঞ্চায়নের ব্যবস্থা করেন চট্টগ্রামে। ১৯৫৫ সালে জেএম সেন হলে মঞ্চায়িত এ নাটক তখনো গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয় নি। মুনীর চৌধুরীর হাতে লেখা একটি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন শহীদ সাবের।

শহীদ সাবের একজন চিত্র-পরিচালকও ছিলেন। পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ নামে একটি ছবি পরিচালনা করেন। প্রগতিবাদীদের এ ছবিতে তিনি (শহীদ সাবের) ও সাদেক খান ছিলেন সহকারী পরিচালক। পরিচালক ছিলেন প্রগতিশীল চলচ্চিত্র পরিচালক এ জে কারদার। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ ছবিতে। এ ছবিতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন খান আতাউর রহমান খান এবং নায়িকা চরিত্রে কলকাতার তৃপ্তি মিত্র। এ চলচ্চিত্রের জন্য পার্শ্ব-চরিত্রের জন্য নায়িকা খোঁজার জন্যে চিঠি দিয়েছিলেন বন্ধু মাহবুব উল আলম চৌধুরীর কাছে (২১.১১.৫৭)।

সংবাদ অফিসে কর্মরত থাকাবস্থায় পিতার আদেশ মোতাবেক সরকারি চাকুরিতে যোগ দিতে ফেডারেল ইনফরমেশন সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে প্রথম হয়েছিলেন। কিন্তু কমিউনিস্ট রাজনীতি করায় চাকরিতে নিয়োগপত্র পান নি। এ সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের সাথেও দেখা করে চাকুরির নিশ্চয়তা নিয়ে আসেন কিন্তু তার পর দিন অর্থাৎ ৮ অক্টোবর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার সামরিক শাসন জারি করলে তার আর চাকুরি করা হয় নি। তাতে সাবেরের পরিবারের আকাঙ্ক্ষা এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রের গণতন্ত্র একই সঙ্গে ভেস্তে যায়। শহীদ সাবেরের লক্ষ্য, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি ছিল সমন্বয়হীন, যা তাঁকে হতাশ করে তুলেছিল। ১৯৫৮ এর শেষের দিকে শুরু হয় তাঁর মানসিক বৈকল্য।

প্রকৃত বিচারে শহীদ সাবের’র কর্ম ও সাহিত্য জীবনের সূত্রপাত হয় কৈশোরকাল থেকে। স্বল্প পরিসরে হলেও শহীদ সাবেরের সাহিত্য জীবনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। কৈশোর থেকে জেল জীবনের পুর্ব পর্যন্ত তাঁর প্রস্তুতি পর্ব, জেল জীবন থেকে মানসিক সুস্থতা হারানোর পুর্ব পর্যন্ত দ্বিতীয় বা সৃষ্টিশীল পর্ব এবং অপ্রকৃতস্থ থাকার গোটা সময়টা তৃতীয় বা সমাপ্ত পর্ব। এ সময়ের মধ্যে শহীদ আমাদের জন্যে অনেক কিছু সৃষ্টি করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের মধ্যে ‘এক টুকরো মেঘ (১৯৫৫), ‘ক্ষুদে গোয়েন্দার অভিযান’ (১৯৫৮)। তার প্রকাশিত অনুবাদ গ্রন্থের মধ্যে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম পুরোধা রাশিয়ান লেখক আলেকজান্দার পুশকিন ( ১৭৯৯-১৮৩৭)এর The Quin of Spades এর বাংলা অনুবাদ ‘ইসকাপনের বিবি’ (১৯৫৮), রুশ সাহিত্যের অন্যতম পৃথিবী বিখ্যাত লেখক লিকোলাই ভাসিলিয়েভিচ গোগল-র ‘পাগলের ডাইরী (১৯৫৮) ও ক্যাথরিন ওয়েন্স পিয়ার’র ‘কালো মেয়ের স্বপ্ন’ (১৯৫৮) প্রভৃতি।

‘ক্ষুদে গোয়েন্দার অভিযান’ ছোটগল্পটি ৯টি ছোটগল্পের একটি সরস সংকলন। গল্পগুলোতে আছে নির্মল কৌতুক রসের সঙ্গে একটুখানি নীতিকথার স্পর্শ-বাস্তব রূঢ় ছবি-নিত্যদিনের না পাওয়ার বেদনা তাঁকে কুরে কুরে জ্বালাতন করেছে। গল্পের উপাদানকে ব্যবহৃত করে নীতিকথা তাঁর প্রাণরসকে হরণ করেন নি। দু’একটি ছোটগল্প ছাড়া বাকী সব ছোটগল্পে লেখক কচি মনের একটি সারিতে দাঁড়িয়ে নিজের বয়সের হিসেব ভুলে গিয়ে কৈশোরের অনাবিল মাদকতায় মেতে উঠেছেন। আবার কোথাও তিনি উচ্চকিত হতে গিয়েও পারেন নি। দারিদ্রের কশাঘাত তাঁর অন্তরকে বেদনাহত করে তুলেছে। ছোটগল্পে নিজের কাহিনিকে তিনি চিত্রিত করেছেন। তিনি তা পেরেছেন কেবল সামাজিক চেতনাবোধের বদৌলতে। শহীদ সাবের’র গল্প সংকলনের বিভিন্ন গল্প ক্ষুদে চরিত্রে কৈশোরবোধ চিত্রিত হয়েছে কিন্তু কল্পনার আশ্রয় এতে স্থান পায় নি। রূঢ় বাস্তবের সাথে তুলনা করে ছোটগল্পের প্রাণরস দিয়ে বাংলা ছোট গল্পে এক অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

শহীদ সাবেরের সাহিত্য জীবনের তৃতীয় বা শেষ পর্বটি তাঁর জীবনের বাস্তব করুণ পরিণতি। এ সময়ে তিনি মূলত অসংখ্য কবিতা লিখেছেন কিন্তু কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করা সম্ভব হয় নি তাঁর জীবদ্দশায়। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিক্ষিপ্ত ভাবে। বাংলা একাডেমী, মাফরোহা চৌধুরী কিছু কিছু কবিতা কবিতা সংগ্রহ করে তাদের সংকলনে স্থান দিয়েছে। আর কিছু কবিতা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতায় ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ ও ‘দৈনিক সংবাদ’ অফিস আগুনে পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাওয়ায় সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি। সেলিনা হোসেন সম্পাদিত ‘শহীদ সাহেব রচনাবলী’তে শহীদ সাবেরের ২১টি এবং মাফরোহা চৌধুরী ‘সঙ্গ প্রসঙ্গ’ (১৯৯১) সংকলনে ২টি এবং সর্বশেষ মাযহারুল ইসলাম বাবলা এর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘শহীদ সাবের রচনাসমগ্র-তে আরো তিনটি নতুন কবিতা স্থান পেয়েছে।

তাঁর বেশির ভাগ কবিতায় ভাবের গ্রন্থে শিথিল হয়েছে এলোমেলো ও খাপছাড়া ভাবে। তবু ও এ মানের পংক্তির স্বকীয়তায় আশ্চর্য উজ্জল্যে বলিষ্ট ও প্রাণবন্ত তাঁর কবিতার স্বর। চেতনার ভাবনা নিদির্ষ্ট আকাশে ডানা মেলেছে বারংবার। কিন্তু মাঝে মাঝে থমকে দাঁড়াতে চেয়েছে। মনে হয় এখানেই শহীদ সাবের হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে সাহিত্যের কাছে। তাঁর কবিতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃৃষ্টি করেছেন ‘শোকার্ত মায়ের প্রতি’ কবিতাটি। এ কবিতাটি চট্টগ্রাম জেলে বসেই লিখেছেন। এ কবিতায় তৎকালীন রাজনৈতিক সহিংসতার বিবরণ শব্দ শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এতে সাঁওতাল নেত্রী ইলামিত্রের গ্রেফতার ও জেল অভ্যন্তরে অমানবিক নির্যাতনের কাহিনি চিত্রিত হয়েছে। রাজশাহীর সাঁওতাল নারীনেত্রী ইলামিত্র তাঁর আপন গোত্রের কৃষকদের আত্মপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন পুর্ব বাংলার মধ্যমণি ছিল। ইলামিত্রের গ্রেফতারের পর মুসলিম লীগ সরকার তাঁর উপর যে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে তা সেই সময়ে ‘টক অব দি কিংবদন্তি’তে পরিণত হয়েছিল। এই অমানবিক অত্যাচার শহীদ সাবেরের অন্তরে গভীরভাবে নাড়া দেয়। শহীদ সাবের’র প্রচণ্ড আবেগে রচিত এবং তাঁর একক বিদ্রোহী কণ্ঠ মুসলিম লীগের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দারুণ সোচ্চার। কবিতার প্রতিটি লাইনে শহীদ সাবের নিজের আত্মাকে আবিস্কার করে যায় বলে প্রতীয়মান হয়-

“মাগো ক্যাপ্টেন ভের্ণর কি বুঝবো বলো
কেন তুমি যোগ দিয়েছ গেরিলা দলে
স্বদেশ প্রেমের আগুন কত জ্বলে
পররাজ্য লোভী নাৎসীরা কি বুঝবে তা
গতকালকে রাতে তুমি যে সব হস্তে দিয়েছ উড়িয়ে
ইউক্রেনের সেই পুলটি/জার্মানদের দেবন মাঝে এক হয়নি সব হারাদের জমি
............
মাগো তুমি পণ করেছ, জবাব দেবে না
স্বাধিকারী পশুকে সওয়ালের
মাগো দিওনা, দিওনা
তুমি এখন জন্ম দিয়েছ একটি সন্তানের
কি দারুণ যন্ত্রণা বলে
একটি ক্ষুদ্র লাল মাংসপিন্ড আগামী দিনের
এক সর্বহারা সেনা বেরিয়ে এসে ধীরে
কাঁদছে শিশুটি পৃথিবীকে স্পর্শের আগে
কেউ কোথাও নেই
কেবল দু’টি শাস্ত্রীয় বিশ্বাসভরা চোখ
তুমি দাঁত দিয়ে টেনে টেনে ছিঁড়ে নিলে নাঁড়ী।”

এ কবিতাটি পুর্ব বাঙলার কবিতার ভান্ডারে একটি উল্লেখযোগ্য রচনা। কারণ এই কবিতার আবেদন সার্বজনীন। চিরকালের শোষক-বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠে এই কবিতা বিপ্লবীদের মাঝে নতুন প্রেরণাা ও উদ্দীপনা যোগাবে নিঃসন্দেহে। তাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ‘রণেশ দাশগুপ্ত’ অসমাপ্ত শিল্পীর জীবনের কথা’ প্রবন্ধে বলেন- শিল্পীর সৃষ্টির প্রয়োজনের দিক দিয়ে এই অনুভবের অবকাশ নিশ্চয় উৎসাহ জনক। কিন্তু মনের আগুন চাপা রাখার বিপদ আছে। একটা স্বাতন্ত্রী অনেক সময় জ্বালা সহ্য করতে পারে না। অনর্থে ঘটে যায়। শহীদ সাবেরের বেলায়ও তেমন ঘটেছিল।

১৯৫০-১৯৫৮ পর্যন্ত প্রথম জীবনের ক’টা বছর তিনি লিখতে পেরেছিলেন। তারপর হতে কোন একটা সময় বিবাগী হয়ে গেছেন। হালছাড়া নৌকার মত যতদিন বেঁচেছিলেন ততদিন অনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ভেসে চলেছিলেন। মাঝে মাঝে অবশ্য সম্বিত ফিরে আসতো এবং তখনই কবিতা লিখে ফেলতেন। মানসিক বৈকল্যের মধ্যেও তিনি অসংখ্য সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কবিতা লিখেছেন এবং সম্পাদকীয় কলাম লিখেছেন। এ সময়ে কবিতার পাশাপাশি রণেশ দাশগুপ্ত ও সত্যেস সেনের অনুসরণে গানও লিখেছেন তিনি।
এ রকম একটি গান ‘ওরে মাঝি, নৌকা ছেড়ে দে’। গানটি ড, সনজিদা খাতুন ও গোলাম মোহাম্মদ ইদু সংগৃহীত এবং শেখ লুৎফর রহমানের সুরে বেতার ও বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার করা হয়েছে। পাঠকের সুবিধার্থে শহীদ সাবের’র অগ্রন্থিত গানটি পত্রস্থ করা হলো-

ওরে মাঝি
দে নৌকা ছেড়ে দে
নৌকা ছেড়ে, ছেড়ে দে

আকাশে ডাকে যদি দেয়া ঘনঘন
ঝড়ো হাওয়া অনুক্ষণ বয় শোন শোন
বজ্রের গর্জন দশদিক কম্পিত লুণ্ঠিত, ছিন্ন
তবু তোর পথ নেই বেয়ে চল ভিন্ন
তুই পাড়ি দিবি আজ তোর বুক বেঁধে॥

ঘনাক আঁধার তাতে ভয় কি রে
তোর ভয় কি
পড়ে থাকা সেকি মরে থাকা নয় কি
তুই নব জীবনের নবযাত্রী
তোর কিবা দিন কিবা রাত্রী
সম্মুখে তোর উত্তাল ঢেউ করতার গর্জাক
বিদ্যুৎ চমকাক

তুই নিৎশঙ্কায় নৌকায় দে
পাল তুলে দে।
সূর: শেখ লুৎফর রহমান

এ গানটি উনসত্তরের গণঅভুত্থানের সময় শেখ মুজিবুর রহমানকে মাঝি বলে উল্লেখ করে লিখেছেন বলে বিখ্যাত রনীন্দ্রগবেষক ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠতা, শহীদ সাবেরের বন্ধু সনজিদা খাতুন ‘আমার বন্ধু’ নামে একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন। সনজিদা খাতুনের ভাষায়- মাঝি বলতে নাকি বুঝিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি তখন অত্যন্ত সরব। অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠছেন ক্রমে। আগরতলা মামলা ডিসমিস হয়ে যাবার পর একদিন প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে গীতিকার শহীদ সাবের ও সুরকার শেখ লুৎফর রহমান মিলে গানখানি শেখ সাহেবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন মুখে মুখে। এসব কথা শুনেছি লুৎফর ভাইয়ের কাছ থেকে।’’

বাংলা সাহিত্যের সপ্রতিভ সাহিত্যিক এবং একাত্তরের অন্যতম শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদ সাবেরকে আমরা যেন ভুলে গেছি। তাকে নিয়ে তেমন একটা মাতামাতি হয় না। হয় শুধু কবিতা ব্যাপারি নিয়ে। আবার কক্সবাজারের সুর্য সন্তান হিসেবে শহীদ সাবেরকে কক্সবাজারের অনেক লোক চেনেন না। কোনো শহীদকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। যাদের কেউ নেই, যাদের সম্পর্কে রাজনীতিবিদ- লেখক-সাহিত্যিক গণ তাদের কলমের ভাষায় কথা বলেন না তারাও বিপ্লবের স্মৃতি থেকে ভুলে যাবার নয়। আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিলুপ্ত করা না হলে, জনগণের পরাধীন শৃঙ্খল মুক্ত হবে না। জনগণকে ভাবতে হবে নিজেদের স্বাধীনতা কোথায় আবদ্ধ? এক শহীদকে নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে আমরা ভাবতে চাই না। সব শহীদদের সমষ্টির মধ্যে খুজব আমরা শহীদ সাবেরকে।

বাংলা সাহিত্যে তার অবদান ইতিহাসে অম্লান করতে বাংলা একাডেমি থেকে সেলিনা হোসেনের সম্পাদনায় ‘শহীদ সাবের রচনাবলী’ (নভেম্বর ১৯৮১), এবং মুহম্মদ ইদ্রীস আলী প্রণীত বাংলা একাডেমি জীবনী গ্রন্থমালা ‘শহীদ সাবের’ ফেব্র“য়ারি ১৯৮৯) এবং মযহারুল ইসলাম বাবলা এর সম্পাদনায় ‘শহীদ সাবের রচনাসমগ্র’ প্রকাশ করা হয়। যা শহীদ সাবেরকে জানতে যথেষ্ট সহায়তা করবে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং প্রতিভাবান কথাশিল্পী সৃজনশীল সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ বাংলা একাডেমী পুরষ্কার (মরনোত্তর, ১৯৭২, ছোটগল্প), কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার (মরণোত্তর-২০০৩), কক্সবাজার পদক (মরনোত্তর-২০০৪) এবং সবুজ বাংলা সংসদ সম্মাননা (মরণোত্তর-২০১১) পান। তাছাড়া স্বাধীনতার পর ২ টাকার দামের ডাকটিকেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার।

২০০৮ সালে তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে তার নিজ জেলা কক্সবাজারের ঈদগাঁও জাহানারা ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একুশে পদক প্রাপ্ত জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, হুমায়ুন ছিদ্দিকি, মনির ইউসুফ, জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ এর তত্ত্বাবধানে ‘শহীদ সাবের পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সংক্ষিপ্ত সময়ে আর বিস্তারিত না বলে এই মুহূর্তে আমি সিরাজুল ইসলাম চৌধূরী’র ‘শুধু আপনার ছেলে নয়, সমাজেরও’ প্রবন্ধের উদ্বৃতি দিয়ে শেষ করতে চাই- “বুকের ভেতর আগুন ছিল, ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। অপচয় ঘটলো উভয়েরই। তাঁর নিজের কারণে নয়। রাষ্ট্রের দৌরাত্ম্যে। ’রাষ্ট্রের দৌরাত্মের শিকার শহীদ সাবের এর চেতনার অনুসারি হয়ে আমরা সাম্প্রদায়িক সকল রাজনৈতিক দল শক্তি (জামায়াত-শিবির) নিষিদ্ধ করে একটি অসম্পদ্রায়িক ও জঙ্গীবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসি।

দোহাই
১) ধনঞ্জয় দাশ ‘আমার জন্মভূমি ঃ স্মৃতিময় বাঙলাদেশ, তৃতীয় মুদ্রণ জুলাই ১৯৭৪, ঢাকা : মুক্তধারা (স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ)।
২) সেলিনা হোসেন সম্পাদিত ‘শহীদ সাবের রচনাবলী;, নভেম্বর ১৯৮১, ঢাকা : বাংলা একাডেমি।
৩) মুহম্মদ ইদ্রিস আলী, ‘শহীদ সাবের’, ফেব্র“য়ারি ১৯৮৯, ঢাকা : বাংলা একাডেমি।
৪) সনজীদা খাতুন, ‘আমার বন্ধু’, ‘স্মৃতি : ১৯৭১’ দ্বিতীয় খণ্ড, ডিসেম্বর ১৯৮৯, ঢাকা : বাংলা একাডেমি।
৫) মাফরোহা চৌধুরী; সঙ্গ-প্রসঙ্গ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩, ঢাকা : জাতীয় সাহিত্য পরিষদ।
৬) মোহাম্মদ খালেদ সম্পাদিত ‘হাজার বছরের চট্টগ্রাম’, নভেম্বর ১৯৯৫, চট্টগ্রাম : কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেস।
৭) মযহারুল ইসলাম বাবলা; শহীদ সাবেরের আরেক দুনিয়া, ৪ এপ্রিল ২০০৮, দৈনিক প্রথম আলো।
৮) কালাম আজাদ, মহান মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজারের শহীদ ও দালাল, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয়’ (অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদিত), ১৬ ডিসেম্বর’ ২০০৯, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদ, উখিয়া।
৯) ------------------, বাংলা সাহিত্যে শহীদ সাবের, ৫ মার্চ ২০১০, বর্ষ-৫০, সংখ্যা-১৭২, দৈনিক আজাদী।
১০) ------------------, মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজার : জানা অজানা তথ্য, বিজয় স্মারক ২০১২, ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, কক্সবাজার : জেলা প্রশাসন।
১১)------------------ শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদ সাবেরের জীবন ও জগৎ, ১-২ এপ্রিল ২০১৩, দৈনিক সমুদ্রবার্তা।
১২) ------------------মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজার : প্রসঙ্গ রাজনীতি’, বিজয় স্মারক ২০১৪, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪, কক্সবাজার : জেলা প্রশাসন।
১৩) ------------------,‘ভাষা আন্দোলনে কক্সবাজার’, ফেব্র“য়ারি ২০১৫, চট্টগ্রাম : তৃতীয় চোখ।

কালাম আজাদ : কবি-সাংবাদিক। সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘রাজাকারনামা
০১৮১৪৪৯৫৪৬৬

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কালাম আজাদ
কালাম আজাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 19 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, আগস্ট 3, 2017 - 2:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর