নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

সময়ের সীমাবদ্ধতা (সৌগত দাস)


সময়ের সীমাবদ্ধতা

সৌগত দাস (চিত্ত ভানু)

সকাল থেকে আকাশটা খারাপ। ঘনঘন বৃষ্টি পরছে। আমি দাঁড়িয়ে আছি দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে। যাবো নাটোর- আমার দিদির বাসায়। শুধু দিদির বাসায় যাবো বলেই এতো অপেক্ষা, লুকনো আনন্দ।
হাতের ঘড়িতে সময় দেখলাম। ১২.০০ বাজে! ট্রেনের টিকিটে স্পষ্ট লেখা আছে- যাত্রার সময় ৯.১৫ মিনিট।
তাহলে কী তাদের ঘড়ি নষ্ট হয়ে গেছে! স্টেশনের ঘড়ি নষ্ট হলে চলে!
আরে আমি কী সব আজেবাজে ভাবছি। কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করলে যে মানুষ এতো আজেবাজে ভাবে তা জানা ছিল না।
আবার ঘড়িটা দেখলাম। ১২.৩০ বাজে। দূর থেকে একটা ট্রেনের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এবার তাহলে ট্রেনটা এলো।
আমি নিজের সিটে চেপে বসলাম। সিটটা জানালার পাশেই পেয়েছি এর জন্য একটা অন্যরকম আনন্দ কাজ করছে।
সিটে বসে আমি আশেপাশে তাকিয়ে দেখছি- আমার সামনের সিটে এক ভদ্রলোককে দেখতে পেলাম। বেশ কোর্ট-টাই পরে বসেছেন। তারপাশের সিটে একজন রূপবতী নারীকে দেখলাম। এরকম রূপবতী আমি আগে দেখিনি। দেখলাম সে মোবাইলে কার সাথে যেন কথা বলছে এবং একটু পরপর হাসছে। ডানদিকে তাকাতেই দেখি ওইপাশে সিটের জানালার পাশে এক বয়স্ক লোক বসে আছেন। হয়ত তিনি কাশি দেওয়া ছাড়া অন্য কিছুই শিখেননি! অনবরত কেশেই চলছেন। আবার আমার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়েও আছেন। পরে বুঝলাম তার চোখ দুটো এমনই। বেশ বড় বড়। মানুষের এতো বড়ও চোখ হয়? ভেবে বসলাম এই যাত্রায় অনেক অজানাকে জানবো।
আমার পাশের সিটটা এখনও খালি। হয়ত এই সিটে বসার মত কেউ নেই- এটা ভেবে বেশ খুশি হতে হতেই দেখি একটা মহিলা হাজির। তার কোলে একটা ছোট শিশু। মেয়েশিশু নাকি ছেলেশিশু তা জানা নেই। শিশু হওয়ার জন্য মেয়ে বা ছেলে হতে হয় না, শিশু হওয়াই যথেষ্ট।
ট্রেনটি যাত্রা শুরু করলো। বাহির থেকে সুন্দর বাতাস আসছে। আমার চোখ সেই ছোট শিশুটার দিকে। দেখলাম তার একটা বুড়ো আঙ্গুল মুখের ভেতরে দিয়ে সে নিশ্চিন্তে ঘুমচ্ছে। বেশ বাজে অভ্যাস। শুনেছি ছোটবেলায় আমারও নাকি একই অভ্যাস ছিল। এখনও আছে কিনা কে জানে। মহিলাটা চেষ্টা করছে শিশুটির হাত মুখে থেকে বের করার। তবে শিশুটি করতে দিচ্ছে না, ঘুমের তালেই কেঁদে উঠছে। জানি না কেন তবে আঙ্গুল মুখে দেওয়া দৃশ্যটা আমার আজ খুব ভাল লাগছে।
ছোট মানুষগুলো এতো সুন্দর কেন হয়?
মহিলাটিকে বললাম," আন্টি বাবুটাকে কি একটু কোলে নিতে পারবো?"
মহিলাটা অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। কি যেন ভেবে আমার কোলে বাবুটাকে দিলেন।
কী যে নরম আর সুন্দর বাবুটা! আচ্ছা তুলাও এরকম নরম হয়?
শুনেছি শিশুরা অন্যের আঙ্গুল বেশ জোরাল ভাবে ধরে থাকে। কথাটার সত্যতা প্রমাণ করতে আমার আঙ্গুলটা বাবুটার হাতের কাছে নিয়ে যেতেই দেখি ঘুমের তালে সে আমার আঙ্গুল ধরে ফেলেছে। এতো নরম আঙ্গুলও এতো জোরে করে কোনোকিছু ধরতে পারে তা আমার জানা ছিল না। শিশুদের সব কাজকর্মের ব্যাখ্যা দেওয়া বেশ কঠিন।
ট্রেন চলছে নিজের গতীতে। শিশুটা হঠাৎ আমার কোলে কাঁদা শুরু করলো।
কাঁদতে ধরলেও শিশুদের এতো সুন্দর লাগে?
আমি দেখছি, মহিলাটা অনেক চেষ্টা করছে শিশুটাকে থামানোর।
মহিলাটা হঠাৎ বলে উঠলেন, "এই যে এখনই বাবার কাছে চলে যাবো। বাবা অনেকগুলো চকলেট নিয়ে দাঁড়ায় থাকবে।"
এতো ছোট বাচ্চাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে থামানো বেশ হাস্যকর বলেই মনে হলো। তবে বাচ্চাটা সত্যিকার অর্থে থামলো! তাহলে কী বাচ্চাটা চকলেট অনেক পছন্দ করে?
আমার ব্যাগে দুইটা চকলেট আছে। আমি কী বাচ্চাটাকে দেব চকলেট দুইটা? তবে ট্রেনের দেওয়ালে একটা পোস্টার লাগানো আছে- অপরিচিত কারও কাছ থেকে কিছু নিবেন না।
দেখলাম শিশুটা এখন হাসছে। কথাটা তাহলে সত্য - "কান্নার পর আসে হাসি"।
অপ্রস্তুতভাবে মহিলাটিকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আন্টি, বাবুটার আব্বু কোথায়?"
মহিলাটি উত্তর দিল না। দেখলাম তিনি মাথা নিচু করে বসে আছেন। বেশ লজ্জিত বোধ করলাম।
আর মাত্র ১৫ মিনিনিট লাগবে পৌছতে। দেখি শিশুটা বাবার কথা শুনে খিলখিল করে হাসছে।
আমার বাবা জন্মের কিছুদিন পরেই মারা যান, তাই আমি এই হাসির রহস্য ধরতে পারলাম না।
মহিলাটিকে আবার জিজ্ঞেস করলাম," আন্টি, বাবুটার আব্বু কোথায়?"
ভেবেছিলাম তিনি এবারও জবাব দিবেন না। তবে তিনি দিলেন।
তিনি বললেন- ও নাই!
-নাই মানে?
- নাই মানে। আজ সকালে নাটোরে মারা গেছেন। ওর এক্সিডেন্ট হয়েছে। স্পটডেড। মাথা নাকি থেতলে গিয়েছে। পকেটে মোবাইল ছিল। সেখানে সর্বশেষ নম্বারটা 'জান' নামে সেভ করা ছিল। কিছু পথচারী সেই নম্বারে ফোন দিয়ে আমাকে জানায়। তাই আমি নাটোর যাচ্ছি তার লাশটা নিতে।
একটা মূর্তির মত এসব কথা বললেন মহিলাটা। বিশেষ মুহূর্ত কী মানুষকে মূর্তিতে পরিণত করে দেয়? কথা শেষ করার সাথে সাথেই তিনিকেঁদে ফেললেন।

স্টেশন চলে এসেছে। আমি দেখছি সবাই নামছে। আমিও তো নামবো। আমি চেষ্টা করি উঠে দাঁড়ানোর, তবে পারি না। আমার মনে পড়তে থাকে সেই অবুঝ শিশুটার কথা, সেই মা'টার কথা। আমার ছোটবেলায় আমি কিভাবে ছিলাম, আমার মনে নেই।
আমার শরীরটা পাথর হয়ে গেছে। আচ্ছা পাথর কী এতো ভারী হয়?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

চিত্ত ভানু
চিত্ত ভানু এর ছবি
Offline
Last seen: 6 months 1 week ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 9, 2017 - 12:57অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর