নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জয়বাংলা ১৯৭১
  • মোগ্গালানা মাইকেল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দীব্বেন্দু দীপ

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

আমার ব্যক্তিগত পাঠাগারঃ কস্মিন কালের কথা


অন্যান্য আর দশটি পল্লী বালকের ন্যায় আমার বাল্যকালও নিভৃত পল্লিতে অত্যন্ত দুরন্তপনার মধ্যদিয়াই কাটিয়াছে। আমাদের গ্রামে বিজলি বাতি আগে যেমন ছিলনা বোধকরি এখনও নাই। সকাল হইতে সন্ধা পর্যন্ত আমার বাটীর চতুপার্শে আমাকে খুঁজিয়া পাওয়া ভার ছিলো। মধ্যবিত্ত মুসলমান পরিবারের কন্যা ও গৃহবধু হইবার কারণে আমার মাতা আমাকে বাটীর চৌহদ্দির বাহিরে খুঁজিতে পারিতনা বলিয়া মায়ের কিছু নিয়োগকৃত পেয়াদা ছিলো, যাহারা নানা প্রকার উটঢৌকন গ্রহন পূর্বক আমাকে ধরিতে যাইতো। উক্ত নিয়োগকৃত পেয়াদাদের বাড়তি উৎকোচ প্রদান ককরিয়া আমি অধিক নিরাপদে দশ্যিপনা চালাইয়া যাইতাম।

আমার কিশোরী মাতা প্রত্যাহ সন্ধ্যায় আমাকে স্নান করাইতো আর স্বীয় মৃত্যু কামনা করিত। কোন পাপের প্রাশ্চিত্য স্বরুপ আল্লাহ পাক তাহাকে এইরুপ ত্যাঁদড় পুত্র দিয়াছে তাহা আমার মাতা কোন ক্রমেই খুঁজিয়া পাইতো না। আমি মুখ দিয়া নানা প্রকার উদ্ভট শব্দ করিতে থাকিতাম যাহাতে মাতৃ গঞ্জনা আমার কর্ণ কুহরে কিছুটা ম্লান হইয়া প্রবেশ করে। তবে যেই সকল দিনে আমি ফিরিবার পূর্বেই প্রতিবেশি আহত বালক বালিকার অভিবাকেরা স্বাক্ষি সহিত হাজির হইতো আমার দশ্যিপনারর বাড়াবাড়ির নিদর্শন সরুপ সেইদিন আমি সম্ভাব্য প্রহারের শঙ্কায় বাটীতে ফিরিতাম না। প্রতিবেশীর বাটীতে রাত্রিযাপন করিয়া পিতার গৃহত্যাগের পরে সকলের গোচরীভূত হইতাম। উহাতে এক প্রকার থ্রিলও অনুভব করিতাম। এইরুপ একদা এক রাত্রি অন্যত্র যাপন শেষে বাটীতে ফিরিয়া শুনিলাম পিতা অদ্য কর্মস্থলে যাইবেনন না। আমি তাহাতে আনন্দিত হইয়া পূনরার বাটীর বাহির হইয়া গেলাম। কিন্তু অপরাহ্নে কিছু পূর্বে পেটের ক্ষুধা আমাকে বাটীতে ফিরিতে টানিয়া আনিল। আমার পিতামহি আমাকে অতি আদরে ত্যাঁদড় বানাইয়াছে এই কথা অদ্য বলিব না তবে সে আমাকে সর্বদা লুকাইয়া খাইতে দিতো। আমি আহার শেষে সকলের দৃষ্টি এড়াইয়া ঘরের পাটাতনে উঠিয়া দিবা নিদ্রায় গেলাম। নিদ্রার মধ্যে আমার গড়াগড়ি করিবার অভ্যাস নাকি সেই নাড়ি কাটিবার পর হইতে। ইহা বলিয়া বলিয়া প্রত্যাহ সকালে আমার মাতা চৌকির নিচ হইতে বালিস কুড়াইততো। সেই দিনও আমি নানা দিকে গড়াইয়া যখন নিদ্রা হইতে যাগ্রত হইলাম তখনও আসরের আজান দিবার জন্য মুয়াজ্জিন ব্যস্ত হইয়া ওঠেনাই। আমি চক্ষু মেলিয়া দেখিলাম সম্মুখে এক পুস্তেক এর পাহাড়! আমি তখন চতুর্থ শ্রেণী হইতে পঞ্চম শ্রেণীতে উঠিয়াছি মাত্র! আমার সম্মুখে এত পুস্তক দেখিয়া আমি কি করিব বুঝিয়া উঠিতে পারিলাম না। একখানা পুস্তক টানিয়া লইয়া দেখি তাহার উপরে লাল অক্ষর দিয়া লেখা 'দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন'। নীচে লেখা 'জন রিড'। আমি পুস্তকের পাতা উল্টাইতে লাগিলাম। সেই পুস্তক খানায় অনেক অনেক বিদেশি লোক, বন্দুক, লাঠি, পতাকা ইত্যাদির ছবি আমাকে মুগ্ধ করিয়া ফেলিলো। তেলতেলে কাগজ আর ঝকঝকে ছাপা।

আমার পিতা শিক্ষক হইবার ফলে আমাদের গৃহে পুস্তকের অাধিক্য ছিলো চোখে পরিবার মতো। কিন্তু এই নতুন পুস্তকের পাহাড় আমি অদ্যই আবিস্কার করিলাম! যতক্ষন আলো পাইয়াছিলাম পুস্তক খানা উল্টাইয়া পাল্টাইয়া পাঠ করিতে লাগিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটি অধ্যায়ও আমার বোধগম্য হইলো না। তবে এটা বুঝিতে পারিলাম সোভিয়েত ইউনিয়ন নাম্নি কোন এক ইউনিয়নে বহু পূর্বে বড় রকমের গোল বাঁধিয়াছিলো, আন্দলোন হইয়াছিলো, জ্বালাও পোড়াও হইয়াছিলো যাহা এই পুস্তকে লিপিবদ্ধ রহিয়াছে। সবচাইতে দুঃখের বিষয় আমি কাহারো নাম বা স্থানের নাম উচ্চরণ করিতে পারিলাম না। যাহা হউক সেই দিনের পর হইতে আমি পুস্তকের সাগরে ডুবিয়া গেলাম। শত শত পুস্তক! বিচিত্র সব পুস্তক। উক্ত ঘটনার পর আমার দশ্যিপনা খানিকটা স্তিমিত হইয়া আসিলো। আমি ঘরের মাচায়ই বেশি সময় কাটাইতে লাগিলাম। নানা করম পুস্তকে ভরপুর স্থানটি আমি সাজাইয়া গুছাইয়া লইলাম। দুঃখের বিষয় উক্ত পুস্তকের অধিকাংশই আমি বুঝিতে পারিতাম না। যাহা খানকতক বুঝিতাম তাহা নিতান্তই শিশু পাঠ্য ছিলো।

সকলের অগোচরে শুরু হইলো আমার পাঠাগার স্থাপনের পালা।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইফুল বাতেন টিটো
সাইফুল বাতেন টিটো এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 1 week ago
Joined: শনিবার, জুলাই 29, 2017 - 12:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর