নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • হাসান নাজমুল
  • শ্রীঅভিজিৎ দাস
  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল
  • নিরব
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • নিনজা
  • মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী

আপনি এখানে

দোকলাম স্ট্যাণ্ডঅফঃ ভারত চিন যুদ্ধ কী আসন্ন?



চিন আর ভারতের মধ্যকার প্রাচীন নাথু লা পাস সীমান্ত, ছবিকৃতজ্ঞতা ইন্ডিয়াটুডে

দোকলাম – চিনাতে দঙলাঙ - ভারতের সিকিম, ভুটান ও চীনের মধ্যবর্তী একটি মালভূমি ও উপত্যকা। ১৯৬১র মানচিত্রে এটিকে ভুটানের অংশ হিসেবে দ্যাখানো হলেও চিনেরও এর ওপর দাবি আছে। সম্প্রতি এই দোকলামকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের ভেতর যে-সংকট শুরু হয়েছে তা সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলেই বিশ্লেষকদের অনুমান।

সংকটের সূচনা হয় গত জুনে যখন পেইচিং সিকিমের দোকলামে একটি রাস্তা তৈরি করার চেষ্টা চালালে নয়া দিল্লি তাতে তীব্র আপত্তি জানায়।

চিন যেহেতু দোকলামের ওপর দাবি রাখে তাই সে এই রাস্তা নির্মাণের কাজটিকে নিজের অধিকার হিসেবে দেখছে। আর ভারত যেহেতু নিজেকে ভুটানের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে দ্যাখে তাই ভারত এটিকে ভুটানি এলাকায় চিনের অনধিকার প্রবেশ হিসেবে দেখছে। ফলে সংকটের সূত্রপাত।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যাখ্যাকার মেঘনাদ দেশাই, ছবিকৃতজ্ঞতা রয়টার্স

ভারতীয় বংশদ্ভূত ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যাখ্যাকার মেঘনাদ দেশাই এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “চিন সীমান্ত সমস্যা তৈরি করছে। তাঁরা সবকিছু জানে। এটা এর আগমন জানান দিচ্ছে, আর ভারত মানসিকভাবে প্রস্তুত আছে।” [১]

পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত এই বিশ্লেষক মনে করেন, দোকলাম স্ট্যাণ্ডঅফ কেবলমাত্র ইন্দো-চিন সংঘর্ষের বিষয় নয়, এটি দক্ষিণ চিন সাগরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যে ভূরাজনৈতিক সংকট ঘণীভূত হয়েছে তারই বহিঃপ্রকাশ। কবে নাগাদ এই যুদ্ধ শুরু হবে তা তাঁর পক্ষে দিনতারিখ উল্লেখ করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। তবে তিনি মনে করেন, যুদ্ধ শুরু হলে তা কেবল দোকলামেই সীমিত থাকবে না, হিমালয়ের পাদদেশের পুরো অঞ্চলটিতেই ছড়িয়ে পড়বে।

এই যুদ্ধে বৈশ্বিকভাবে কাউকে পাশে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন অবশ্যই। চিনের সাথে যে-যেকোনো যুদ্ধে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পাবে বলেই তিনি মনে করেন। কারণ তাঁর বিবেচনা রাষ্ট্র দুটির পরস্পরকে প্রয়োজন। [২]

ধারণাটি অমূলক নয়। বৈশ্বিক নতুন পরাশক্তি হিসেবে চিনের উত্থান ঠেকানোর চিন্তা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এশিয়ায় এই প্রকল্পে ভারতই তার বিশ্বস্ততম সহযোগী।


লেমোয়া সাক্ষরের সময় কার্টার ও পারিকর ছবিকৃতজ্ঞতা এনডিটিভি

গত বছরের আগস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইন্ডিয়া লজিস্টিকস এক্সচেইঞ্জ মোমোরাণ্ডাম অফ এগ্রিমেন্ট (লেমোয়া) সই করে। টাইমস অফ ইণ্ডিয়ার এক প্রতিবেদন এটাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইন্ডিয়ার ‘সামরিক কোলাকুলি’ অভিহিত করে। [৩] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স অ্যাশটন কার্টার এবং ইন্ডিয়ার পক্ষে ডিফেন্স মিনিস্টার মনোহর পারিকার সাক্ষর করেন।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স লিওন পেনেট্টা, ছবিকৃতজ্ঞতা উইকিমিডিয়া কমনস

এরও আগে বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুসারে ২০১২তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স লিওন পেনেট্টা জানিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজ এশিয়া-প্যাসিফিকে নিয়ে আসতে চায় ২০২০এর মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ শক্তির মোট ৬০% মোতায়েন করা হবে। যদিও তিনি বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চিন কোনো ফ্যাক্টর না, কিন্তু, তাঁর এই কথায় বিশ্বাস রাখা কঠিন। [৪]

এদিকে চিনের শাংহাই অ্যাকাডেমি অফ সোশাল সায়েন্সেসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইন্সটিটিউটের একজন গবেষণা ফেলো, হু ঝিওং গ্লোবাল টাইমসকে বলেছেন চিন দোকলামে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে একটি ছোটো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তিনি চিন ও ভারতে চিনা অফিসিয়ালদের দেওয়া সাম্প্রতিক নানান বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তিনি আরো বলেন, এই “যুদ্ধের” উদ্দেশ্য হবে হয় ইন্ডিয়ানদেরকে দোকলাম থেকে “বহিষ্কার” করা অথবা তাদেরকে পাকড়াও করা। [৫]


পিএলএর মার্চপাস্ট, ছবিকৃতজ্ঞতা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিশ্লেষকরা ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে দোকলামের ব্যাপারে চিন কোনো আপোস করবে না। সিনিয়র কর্নেল ঝৌ বো বলেন, “চিন এখন পর্যন্ত ‘ইনভেশন’ শব্দটি ব্যবহার করে নি। আমরা এখন পর্যন্ত স্রেফ ‘ট্রেসপাস’ আর ‘ইনকার্শনের’ মতো শব্দ ব্যবহার করেছি আর এটা করেছি চিনের মঙ্গলের কথা ভেবেই।” তিনি আরো বলেন, “আমরা সবচে ভালোটারই প্রত্যাশা করি, কিন্তু চিনের সরকার ও সেনাবাহিনীর এই ব্যাপারে আপোস করার কোনো সুযোগই নেই। দুই রাষ্ট্রের জনগণের ভালোর জন্য, এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার জন্য, ভারতকে নিঃশর্তভাবে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।” আরেক সিনিয়র কর্নেল ঝাও জিয়াওঝৌ এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে বলেন, ভুটান যেখানে ভারতের কাছে কোনো সাহায্য চায় নি, সেখানে ভারতের সেনা পাঠানোর কোনো সুযোগই নেই। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান চিনের বন্ধু, আজকে যদি চিন পাকিস্তানের সাহায্যকল্পে ইন্দো-চিন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢোকে, সেটাতে ভারত কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে? [৬]

পিএলএর সেনা কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ও সমুদ্র বিষয়ক ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ওয়াং ওয়েনলি বলেন, “এমনকি একটা ভারতীয় সেনাও যদি থাকে, এমনকি একদিনের জন্যও, সেটা আমাদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যাবে।” দোকলাম চিন-ভুটান-ভারতের ট্রাই-জংশনে অবস্থিত, ভারতপক্ষের এই দোহাইটিকে তিনি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এমন ট্রাই-জংশন ভারতেরও আছে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, কালাপানিও তো চিন-নেপাল-ভুটানের ট্রাই-জংশনে অবস্থিত, সেখানে যদি কালকে চিন অনুপ্রবেশ ঘটায় তাহলে ভারত কি সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নেবে? [৭]

ভুটান দোকলামের ওপর চিনের দাবি অস্বীকার করেছে। গত ২৯ জুন ইস্যু করা একটি প্রেস রিলিজে ভুটান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে দোকলামে রাস্তা বানানোর কাজ হাতে নিয়ে চিন ভুটানের সাথে তার চুক্তি বরখেলাফ করেছে। প্রসঙ্গত, চিনের সাথে ভুটানের সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, এবং থিম্ফু পেইচিংএর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে দিল্লিতে এর মিশনের মাধ্যমে। [৮]


ভারতীয় পিএম নরেন্দ্র মোদি তার ভুটানিজ কাউন্টারপার্ট শেরিং তোবগের সাথে, ছবিকৃতজ্ঞতা পিটিআই

চিন আর ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটা শুরু করে ১৯৫০এর দশক থেকে যখন চিন তার নতুন মানচিত্রগুলোতে ভুটানের টেরিটরির এক বিশাল অংশকে নিজের বলে দ্যাখানো শুরু করে। ১৯৬২তে চিন আর ভারতের ভেতরে যে সীমান্তযুদ্ধ সংঘটিত হয়, সেই সময়ই, চিনের সাথে ভুটানের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। ভারত এর পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করে, এবং ১৯৬৩তে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু চিনের ভয়ে ভীত ভুটানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করে, কার্যত ভারতের প্রভাববলয়ে টেনে আনেন। [৯]


কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা, নেপালের ডেপুটি পিএম, ছবিকৃতজ্ঞতা ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

নেপালের ডেপুটি পিএম কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দোকলাম নিয়ে ভারত ও চিনের ভেতর যে দ্বন্দ্ব ঘণীভূত হয়ে উঠছে, এতে নেপাল কোনো পক্ষ নেবে না। [১০] এটি নেপালের সাম্প্রতিক জোট-নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির উদাহরণ। হিমালয়কন্যা নেপাল এসব বৃহৎ শক্তির খেলায় না জড়িয়ে নিজের জাতীয় বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে চায়।

বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিকভাবে একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। মধ্যপ্রাচ্যে আরব বসন্তের সময় সিরিয়ায় যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল তা বহুপক্ষীয় একটি রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে সিরিয়াকে। ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে রাশিয়া আর মার্কিন-নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সংঘাতও অই এলাকাটিকে রক্তাক্ত করেছে। ফলে বিশ্বায়নের এই যুগে দুনিয়ার যে-কোনো প্রান্তে শুরু হওয়া আপাতদৃষ্টিতে ছোটো সংকটও বড়ো যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত দোকলাম স্ট্যাণ্ডঅফ নিয়ে চিন আর ভারতের বিবাদ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর্যায়ে আবদ্ধ আছে। তবে কতোক্ষণ স্রেফ বাগযুদ্ধে এই বিবাদ সীমিত থাকতে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দোকলাম স্ট্যাণ্ডঅফের একটি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সুরাহা হবে, সীমিত আকারে সীমান্তযুদ্ধ হবে, নাকি এর উছিলায় চিন ও ভারত একটি সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে তা সময়ই বলে দেবে।

তথ্যসূত্রঃ

[১] http://www.financialexpress.com/india-news/china-is-creating-the-doklam-...

[২] http://www.dhakatribune.com/world/south-asia/2017/08/07/analysts-full-sc...

[৩] http://timesofindia.indiatimes.com/india/India-and-US-in-military-hug-wi...

[৪] http://www.bbc.com/news/world-us-canada-18305750

[৫] তথ্যসূত্র ২ দেখুন।

[৬] http://economictimes.indiatimes.com/news/defence/china-wont-compromise-o...

[৭] http://indianexpress.com/article/india/doklam-china-india-sikkim-bhutan-...

[৮] http://timesofindia.indiatimes.com/india/bhutan-rejects-beijings-claim-t...

[৯] http://www.livemint.com/Opinion/GXIc4NLACn5jxHv6RkkX7I/Doklam-may-bring-...

[১০] http://indianexpress.com/article/india/doklam-sikkim-india-china-border-...

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইরফানুর রহমান রাফিন
ইরফানুর রহমান রাফিন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, এপ্রিল 12, 2016 - 3:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর