নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দিন মজুর
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ
  • রুদ্রমঙ্গল
  • নুর নবী দুলাল
  • এফ ইউ শিমুল
  • জহিরুল ইসলাম
  • অন্ধকারের শেষ প...

নতুন যাত্রী

  • অন্ধকারের শেষ প...
  • রিপন চাক
  • বোরহান মিয়া
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ

আপনি এখানে

আমাদের জন্য এ নগর মৃত্যু ফাঁদ


এই নগরের বেশিরভাগ নাগরিক নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারের সদস্য। হয় আপনি হয় সকাল নয়টা টু রাত আটটা কর্পোরেট ঘানি টানেন কিংবা সরাদিন সন্তান সামলান। পড়াশুনা কিংবা ব্যাবসা আর সরকারী চাকরি করেই জীবনযাপন করে হয়তো বাকি লোকগুলো। এ শহরে জীবনযাপন যতই দিন যাচ্ছে ততই নরকময় হয়ে উঠছে। ঘরে থাকলে পানি পাবেন না, গ্যাস নেই, লোডসেডিং। বাসার বাইরে বের হলেই আপনার প্রথম পা ফেলতে হবে নাক চেপে। ঢাকা শহরের রাস্তার চেয়ে অজপাড়া গায়ের রাস্তা এখন ঢের ভালো। এখানে হাঁটতে গেলে প্যান্ট গুটিয়ে হাঁটুর উপরে তুলে হাঁটতে হবে আপনাকে। বর্ষা হলে সাঁতার না জানলে রাস্তা বের হওয়া ঠিক হবে না। রাস্তার দুইপাশে যে ময়লার স্তুপ থাকে বৃষ্টির পানিতে সেই ময়লা ড্রেনে মুখ আটকে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে তা প্রায় কারো বুক কারো গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে দেয়। ময়লা ফেলার জন্য আমাদের দুই বিজ্ঞ সিটি মেয়র আসলে ডাস্টবিন দিয়েছিলেন না হিরোঞ্চিদের একদিনের খোরাক ম্যানেজ করে দিয়েছিলেন বলা মুস্কিল। এদেশে রাস্তা ও রাস্তা সংশ্লিষ্ট সকল কাজ (খোঁড়াখুড়ি) শুরু হয় বর্ষার শুরুতে। কেন তার কোন সদুত্তর আজপর্যন্ত কোথাও মেলেনি। কোনদিন মিলবেও না। যাই হোক যে কারণে লিখতে বসেছিলাম সেটা হলো কনস্ট্রাকশন কাজের ফলে সৃষ্ট নাগরিক যন্ত্রণা। এমনিতে আবাসিক এলাকার একটা রাস্তার ৫০% ভাগ যায়গা জুড়ে থাকে সব্জি বিক্রেতা, ঝালমুড়ি ওয়ালা, ফল বিক্রেতা। রাস্তার পাশে রড, বালি খোয়া, ইট রেখে সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘ্ন ঘটানো যেন বাড়িওয়ালাদের অধিকার। এ নিয়ে কারো কিছু বলার নেই। বাড়িঘর করতে গেলে শব্দদুষন হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা রিডিউস করার চিন্তা কোন কালে না করেছে কোন বাড়ি ওয়ালা না করেছে কোন নগর পিতা। আপনি আমি তো ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। বেঁচে থাকার জন্য কত্ত যন্ত্রণা নিয়ে যে মানুষ চলে তা মাপার জন্য কোন যন্ত্র থাকলে তা নিমিষেই অকেজ হয়ে যেত চাপ সামলাতে না পেরে। হেলদি এন্ড ওয়াইজ হওয়ার জন্য আপনি যতই আর্লি টু বেড, আর্লি টু রাইজের প্রাকটিস করেন না কেন আপনি রাত বারোটার আগে বিছানায় গা এলানোর কথা ভাবতেও পাবেন না। তার উপর যদি আপনি কোন নবজাতকের বাবা মা হন তাহলে তো আপনাকে একপ্রকার নির্ঘুম রাতই কাটাতে হবে। আপনার যদি নয়টায় অফিস হয় তাহলে সাড়ে ছয়টার পর আপনি বিছানায় পরে থাকার সাহস দেখাতে পারবেন না কারণ আপনাকে পনের মিনিটের পথ পাড়ি দিতে হবে দেড় ঘন্টায়। সব ভেবে আপনি ধরুন কোনদিন শুইতে শুইতে একটা বাজিয়ে দিলেন। শোয়ার পর বউ/স্বামী কানের কাছে হয় শরীরের চাহিদার কথা জানাবে কিংবা অর্থনৈতিক চাহিদার কথা। আপনাকে ভালো মন্দ একটা সাড়া তো দিতেই হবে। তাতে ধরুন রাত দুইটা। সবকিছু মিলিয়ে দুইটার দিকে আপনার চোখ যখন সবে বুজে এসেছে ঠিক তখন শুনলেন আপনাদের গলির মাথা দিয়ে একটা ট্রাক ঢুকছে। ঘোৎঘোৎ শব্দ করে এসে থামল ঠিক আপনার জানালার কাছে। ব্যাস! এরপর শুরু হলো ইট নামানো। আপনার ঘুমের বারোটা বেজেছে না একটা এবার আপনিই ভেবে দেখুন। এ নিয়ে আপনি 'দেড় টাকার ভাড়াটিয়া' আপনি কিছু বলার রাইট রাখেন না। রাত দুইটায় ইট নামানোর কারণ দিনে ট্রাক ঢুকতে দেয় না। আরে ভাই সে জন্য তুমি রাত দুইটার সময় একটা ঘুমন্ত আবাসিক এলাকায় ঢুকে মানুষের কানের কাছে ঠাস ঠাস শব্দে ইট নামাবা? এখানে তো কোন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাঁতর মানুষও থাকতে পারে। এটা কোন সমাধান? দেখা গেলো এক ট্রাক শেষ হলে আরেক ট্রাক ইট এসে থামলো। এটা কেমন কথা? এর কোন বিকল্প নেই? রাত দুইটায়-ই ইট নামাতে হবে? বৃষ্টির সময়ই রাস্তা কাটতে হবে? এত এত মানুষ বসে আছে এসির মধ্যে আমার দেয়া টাকায় লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন নিচ্ছে প্রতি মাসে অথচ রাত দুইটায় কানের পাশে ইট নামানোর কোন বিকল্প তাদের মাথায় আসছে না? বর্ষাকালে রাস্তা কাটার বাইরে কোন চিন্তাই এরা করতে পারছে না? কেন? কারণ যারা নীতি নির্ধারক তারা থাকে সরকারি কোয়াটারে। তাদের কানের কাছে কোন রাতেই ইটের ট্রাক থামে না। তাদের ঘুমে অসুবিধা হয়না কারণ এসি করা ঘরে বাইরের শব্দ যায় না বললেই চলে। আর আমার মতো আপনার মতো সাধারণ নাগরিকের জানালা খুলে রাখতে হয় শিসা যুক্ত বাতাস দিয়ে শরীর জুড়ানোর আশায়। এ নগর পয়সা ওয়ালাদের স্বর্গ, আমাদের জন্য মৃত্যু ফাঁদ!

© মোটা দাগের কথা
সাইফুল বাতেন টিটো

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইফুল বাতেন টিটো
সাইফুল বাতেন টিটো এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 1 week ago
Joined: শনিবার, জুলাই 29, 2017 - 12:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর