নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

খালেক চাচার অবিশ্বাস!!


আব্দুল খালেক'এলাকায় তাকে সবাই খালেক চাচা বলেই ডাকেন। এই নামটা তার বাবা অনেক আদর করে আল্লাহর নামের সাথে মিল রেখেই দিয়েছিলেন।

খালেক চাচাও আল্লাহকে অনেক ভালোবাসেন আর সবসময় আল্লাহকে নিয়ে ভয়ে থাকেন। তার কারণ একটাই তিনি দোজখে যেতে চাননা। তার পরেও মানুষকে দোজখে যেতে হয় এটা তিনি ভালো করেই জানেন। তাই দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করেন। মাঝে মাঝে মিস্টেক হয় বিশেষ করে ফজরের নামাজ বেশি মিস্টেক হয়।
তার একটাই কারণ ভোরবেলার আরামের ঘুমকে তিনি নষ্ট করতে চাননা।

কিন্তু তিনি এটা ভালো করেই জানেন আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে মাফ পাওয়া যায়। তাই এত বেশি ভয় লাগেনা।

একদিন কি হলো শুনেন তাহলে। তাবলীগের কিছু ভাই রংপুর থেকে এসেছেন খালেক চাচাদের বাড়ির মসজিদে। ওনারা সেখানে তিনদিন থাকবেন। খালেক চাচা আবার তাবলীগের ঘোর বিরোধী কারন তিনি মাঝে মাঝে মাজারে যাওয়া আসা করেন। সেখান থেকেই শিখেছেন তাবলীগ প্রকৃত ইসলাম না। তাই তাবলীগ দেখলেই চাচার গা জ্বলে, কিন্তু তাবলীগের ভাইরা নাছরবান্দা খালেক চাচার সাথে দিনের হেদায়েত সম্পর্কে অালোচনা করতে চান যেকোনো মূল্যে।

কিন্তু তিনি সেটাতে রাজি হন নাই অনেক বুঝানোর পর তিনি তাদের আলোচনা শুনতে রাজি হলেন তিনদিন আলোচনা শোনার পর তাবলীগের প্রতি একধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়ে যায় তার ভিতর, তাই তাদের কথা মত ৪০ দিনের চিল্লায় যাওয়ার জন্যে রাজি হয়ে যান।
৪০ দিনে তিনি ইসলাম সম্বন্ধে অনেক কিছু শিখে ফেলেছেন। যেগুলো আগে তিনি মোটেও জানতেন না।

পরে যখন তিনি আবার গ্রামে ফিরে আসেন তার পরিবর্তন দেখে গ্রামের সবাই অবাক। তিনি এখন সারাদিন মসজিদে থাকেন, আর আল্লাহ বিল্লাহ করেন। কারো সাথে তেমন কথা বলেননা। তবে একটা দিক দিয়ে ভালো হয়েছে। এখন তিনি গ্রামের সাধারন মানুষের মত নয় এখন আগের থেকে ইসলাম নিয়ে ভালো আলোচনা করতে পারেন,যেটা আগে পারতেন না।

একদিন শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় বেহেস্তের হুর নিয়ে আলোচনা চলছে। তখন তিনি সবার সামনে বলে উঠলেন ইমাম সাহেব আমি কি বেহেস্তে আমার বউকে পেতে পারি এটা শুনে মসজিদের ছোট বাচ্চারা হেঁসে উঠলো। আর মুরব্বীরা সবাই বলে উঠলো নাউজুবিল্লা নাউজুবিল্লা। যদিও ইমাম সাহেব শেষ পর্যন্ত বলেছেন যে তিনি তাহার বউকে বেহেস্তে পাবেন। এটা শুনে তিনি মোটামুটি খুশি হলেন।

তিনি আবার সানি লিওনের বিরাট ভক্ত যদিও তাবলীগে যাওয়ার পর থেকে সানিলিয়নের কোন ভিডিও দেখা হয়নি। আগে গ্রামের নাতির বয়সী ছেলেদের থেকে মোবাইল নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে অনেক ভিডিও দেখছেন। তাই তিনি সানি লিওনকে একপ্রকার ভালোবাসেন। এবং মনে মনে সানি লিওনকে নিয়ে সবসময় চিন্তা করেন। এটাই সানি লিওনের প্রতি তার আগ্রহের কারন।

একদিন তিনি পাশের গ্রামের মাদ্রাসার এক বড় মাওলানাকে ডেকে তার হাতে ১০০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন? আপনাকে একটা পার্সোনাল কথা বলতে পারি। হুজুর অনুমতি দিলেন। তারপর তিনি হুজুরের হাত দরে জিজ্ঞেস করলেন "হুজুর বেহেস্তে যদি আমি সানি লিওনকে আশা করি তাহলে পাওয়া সম্ভব? হুজুর বললেন সানি লিওন আবার কে? তিনি হুজুরকে সব বুঝিয়ে বললেন তাররপর হুজুর বললেন এইটা সম্ভব না কারণ সানি লিওন জাহান্নামী। এটা শুনে খালেক চাচার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ৭২ হুর দিয়ে কি হবে যদি আমার মনের মানুষকে না পাই।

কি আর করা সানি লিওনকে পাওয়া হলোনা খালেক চাচার তাই আর আগের মত ইবাদত করতে মন চায়না। যার জন্যে এতকিছু তাকেই যদি পাওয়া না যায়। এত ইবাদত করে আর কি হবে।

একদিন কি হলো শুনেন তাহলে। খালেক চাচা গেল কবরস্থান পরিস্কার করার জন্যে। কবরস্থান পরিস্কার করলে নাকি অনেক নেকি পাওয়া যায়।
কবরস্থানে তিনি যখন পরিস্কার করতে ঢুকলেন। তখন তার চোখে পড়লো কয়েকদিন আগের একটা কবর যে কবরটা ছিলো গ্রামের একজন মানুষের।

আসল ঘটনা হলো বৃষ্টির কারণে খবরটা ভেঙ্গে গেছে। তিনি সেই ভাঙ্গা কবরটা দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে গেলেন। পরে নিজের মনের অজান্তে কবরের দিকে তাকিয়ে যেটা দেখলেন সেটা বিশ্বাস করার মত না।কেননা তাবলীগের ভাইরা তাকে বলেছে মানুষের মৃত্যুর পর পর কবরের আজাব শুরু হয় কিন্তু এখানে তেমন কিছুই হচ্ছেনা সব ঠিকঠাক। তাই তার মনের ভিতর একটা খঠকা লাগলো এতদিন কি তিনি ভুল শুনেছেন। কবরে তো কোন কিছুই হচ্ছেনা। তাহলে হুজুররা কি মিথ্যা বলেছে?

তার মনের ভিতর সন্দেহ জাগতে থাকে। তিনি গেলেন পাশের মাদ্রাসার মুফতি সাহেবের কাছে। তাকে এই ঘটনা খুলে বললেন কিন্তু মুফতির কথা শুনে তিনি একপ্রকার হাতাশ হয়ে গেলেন। তিনি তার এতদিনের সব বিশ্বাস গুলিয়ে ফেলেছেন। তিনি আর কিছুতেই বিশ্বাস রাখতে পারছেন না।

কিছুদিন পর তার গ্রামের একজন বয়স্ক লোক মারা যায়। তিনি তার জানাজার নামাজ পড়তে গেলেন সেখানে জানাজার নামাজের আগে এলাকার এক বড় আলেম মানুষের মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করতেছেন। তখন সেই মাওলানা বললেন মানুষ মারা যাওয়ার পর তার পরকালের জীবন শুরু হয়। মৃতদেহ কবর দেওয়ার পর সেই কবরে দুইজন ফেরেস্তা হাজির হয়। এবং মৃতদেহকে জাগিয়ে তোলে আর তাদেকে কিছু প্রশ্ন করা হয়। তিনি আরো বলেন যদি কেহ সঠিক উত্তর দিতে পারে তাহলে তার কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দেওয়া হয়। আর যদি সঠিক উত্তর দিতে না পারে তাহলে সেই কবরে জাহান্নামের আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

এই কথা শুনে খালেক চাচা আর চুপচাপ থাকতে পারলেন না। কারন তিনি নিজে কবর দেখেছেন কবরে কোন কিছুই হয়না। এটা তিনি মাওলানা সাহেবকে বললেন। মাওলানা সাহেব তাকে বললেন এগুলো আল্লাহর কুদরত এগুলো মানুষের দেখা সম্ভব না।

এটা শুনে খালেক চাচা মানতে পারলেন না।

খালেক চাচার শয়তান এবং ফেরেস্তা নিয়েও সন্দেহ আছে। একদিন এক মাওলানাকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন ফেরেস্তারা নাকি সব দেখে তাহলে যখন তিনি তার বউয়ের সাথে রাত্রে ঘুমায় তখন ফেজরেস্তারা কি করে? নাকি সেটাও দেখে। এটা শুনে মাওলানা সাহেব কি বলবে নিজেও বুঝতে পারছেনা। মাওলানা শেষ পর্যন্ত বললেন এই ব্যাপারটা আমি নিজেও জানি না পরে জেনে আপনাকে জানিয়ে দিব।

কিন্তু খালেক চাচাকে থামায় কে। তিনি পাশের মাদ্রসার বড় হুজুরের কাছে গিয়ে এই ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করলেন। হুজুর তাকে বললেন ফেরেস্তা সব দেখতে পারে আল্লাহ ফেরেস্তাকে সেই শক্তি দিয়েছেন। এটা শুনে খালেক চাচা হতাশ হয়ে গেলন।

আল্লাহ কেন এইরকম লুচ্চা ফেরেস্তা বানিয়েছে যে কিনা রাত্রে মানুষ কি করে সেটাও দেখে। এটা ঠিক না তাই খালেক চাচা আর আগের মত এই বিষয় গুলো বিশ্বাস করতে পারতেছেনা। তিনি অনেক বদলে গেছেন আগের মত আর নিয়মিত নামাজ পড়েননা। সবসময় ধর্মের এই বাজে সিদ্ধান্ত গুলো নিয়ে চিন্তা করেন আল্লাহ কেন এমন ফেরেস্তা বানিয়েছে? শয়তান বনিয়েছে? আর কবরের আজাব এটাতো ডাহা মিথ্যাকথা। যার প্রমাণ তিনি নিজে। আর মাওলানা সাহেবরা অনেকে মিথ্যা কথা বলেন। তাই তিনি তাদের কথাও আর বিশ্বাস করেন না।

শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আর নামাজ পড়বেন না, রোজা রাখবেনা, আল্লাকেও আর ডাকবেননা। মৃত্যুর পর যা হওয়ার হবে, আর মৃত্যুর পর মানুষকে একবার জ্বালিয়ে আবার ভালো করে আবার জ্বালাবে এটাও তিনি মানতে চাননা। এটা নাকি কোন ভাবেই সম্ভব না। তাই খালেক চাচা এখন নিজের এলাকায় একজন অবিশ্বাসী লোক হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। এলাকার মানুষ তাকে এখন অবিশ্বাসী বলেই জানেন। তিনি নিজেও এটা বলে বেড়ান সবার কাছে।

আর কোন মাওলানা সাহেব তাকে সঠিক ভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেননা। কারন তারা নিজেরাও এই বিষয়ে অভগত নন।

তাই খালেক চাচা এখন একজন অবিশ্বাসী হয়ে বেঁচে আছেন। আর মৃত্যু পর্যন্ত থাকবেন এটাই নাকি তার শেষ ইচ্ছে। এলাকার মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে আবার কেউ কেউ খারাপ মন্তব্যও করে তাতে খালেক চাচার কিছু আসে যায়না। কারন তিনি জানেন গ্রামের মানুষগুলো একপ্রকার মূর্খ।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
সাহাবউদ্দিন মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 8, 2017 - 12:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর