নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জয়বাংলা ১৯৭১
  • মোগ্গালানা মাইকেল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দীব্বেন্দু দীপ

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

খালেক চাচার অবিশ্বাস!!


"আব্দুল খালেক,এলাকায় তাকে সবাই খালেক চাচা বলেই ডাকে।এই নামটা তার বাবা অনেক আদর করে আল্লাহর নামের সাথে মিল রেখে রেখেছেন।খালেক চাচাও আল্লাহকে অনেক ভালোবাসেন আর ভয়পান। তার কারণ একটাই, তিনি দোযখে যেতে চাননা।তার পরেও মানুষকে দোযখে যেতে হয় এটা তিনি ভালো করেই জানেন তাই দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করেন মাঝে মাঝে মিস্টেক হয় বিশেষ করে ফজরের নামাজ বেশি মিস্টেক হয়, তার একটাই কারণ সকালের ঘুম তিনি নষ্ট করতে চাননা।
কিন্তু তিনি এটা ভাল করেই জানেন আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে মাফ পাওয়া যায় তাই এত বেশি ভয় লাগেনা।

একদিন কি হলো শুনেন তাহলে, তাবলীগের কিছু ভাই রংপুর থেকে এসেছেন খালেক চাচাদের বাড়ির মসজিদে, ওনারা সেখানে তিনদিন থাকবেন। খালেক চাচা আবার তাবলিগের ঘোর বিরোধি কারন তিনি মাঝে মাঝে মাজারে যাওয়াআসা করেন সেখান থেকেই শিখেছেন তাবলীগ প্রক্রিত ইসলাম না, তাই তাবলীগ দেখলেই চাচার গা জ্বলে কিন্তু তাবলীগের ভাইরা নাছরবান্দা খালেক চাচার সাথে দ্বিন সম্পর্কে অালোচনা করতে চান কিন্তু তিনি সেটাতে রাজি হন নাই অনেক বুঝানোর পর তিনি তাদের আলোচনা শুনতে রাজি হলেন তিনদিন আলোচনা শোনার পর তাবলীগের প্রতি একধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়ে যায় তার ভিতর, তাই তাদের কথা মত ৪০ দিনের চিল্লায় যাওয়ার জন্যে রাযিহয়ে যায় ৪০ দিনে তিনি ইসলাম সম্মন্ধে অনেক কিছু শিক্ষা পেলেন যেগুলো আগে তিনি জানতেন না।

পরে যখন তিনি আবার গ্রামে ফিরে আসেন তার পরিবর্তন দেখে সবাই অবাক। এখন সারাদিন মসজিদে থাকেন আর আল্লাহবিল্লাহ করেন, কারো সাথে তেমন কথা বলেননা। তবে একটা দিক দিয়ে ভালো হয়েছে, এখন তিনি গ্রামের সাধারন মানুষের মত নয় এখন আগের থেকে ইসলাম নিয়ে ভালো আলোচনা করতে পারেন,যেটা আগে পারতেন না।

একদিন শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় বেহেস্তের হুর নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন তিনি সবার সামনে বলে উঠলেন
ইমাম সাহেব আমি কি বেহেস্তে আমার বউকে পেতে পারি এটা শুনে মসজিদের ছোট বাচ্চারা হেসে উঠলো আর মুরব্বীরা সবাই বলে উঠলো নাউজুবিল্লা নাউজুবিল্লা, যদিও ইমাম সাহেব শেষ পর্যন্ত বলেছেন যে তিনি তাহার বউকে বেহেস্তে পাবেন। এটা শুনে তিনি মোটামুটি খুশি হলেন। তিনি আবার সানিলিয়নের বিরাট ভক্ত যদিও তাবলীগে যাওয়ার পর থেকে সানিলিয়নের কোন ভিডিও দেখা হয়না। আগে গ্রামের নাতীর বয়সি ছেলেদের থেকে মোবাইল নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে অনেক ভিডিও দেখছেন। তাই তিনি সানিলিয়ন কে একপ্রকার ভালোবাসেন এবং মনে মনে সানিলিয়নকে নিয়ে সব সময় চিন্তা করেন। এটাই সানিলিয়নের প্রতি তার আগ্রহের কারন ।

একদিন তিনি পাশের গ্রামের মাদ্রাসার এক বড় মাওলানাকে ডেকে তার হাতে ১০০ টাকার একটা নোট দিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন আপনাকে একটা পারসোনাল কথা বলি কিছু মনে করবেননাতো? হুজুর অনুমতি দিলেন। তারপর তিনি হুজুরের হাত দরে জিজ্ঞেস করলেন "হুজুর বেহেস্তে যদি আমি সানিলিয়নকে চাই তাহলে পাওয়া সম্ভব কিনা?"হুজুর বললেন সানিলিয়ন আবার কে?তিনি হুজুরকে সব বুঝিয়ে বললেন তাররপর হুজুর বললেন এইটা সম্ভব না কারণ সানিলিয়ন জাহান্নমি। এটা শুনে খালেক চাচার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ৭২ হুরদিয়ে কি হবে যদি আমার মনের মানুষকে যদি না পাই।কি আর করা সানিলিয়নকে পাওয়া হলোনা খালেক চাচার তাই আর আগের মত ইবাদত করতে মন চায়না, যার জন্যে এতকিছু তাকেই যদি পাওয়া না যায়, এত ইবাদত করে আর কিলাভ ।একদিন কিহলো শুনেন তাহলে খালেক চাচা গেলো কবরস্থান পরিস্কার করার জন্যে কবরস্থান পরিস্কার করলে নাকি অনেক নেকি পাওয়া যায়,
কবরস্থানে তিনি যখন পরিস্কার করতে ঢুকলেন,তখন তার চোখে পড়লো কয়েকদিন আগের একটা কবর যে কবরটা ছিলো গ্রামের একজনের। আসল ঘটনা হলো বৃষ্টির কারনে কবরটা ভেংঙে গেছে, তিনি সেই ভাংঙা কবরটা দেখে প্রথমে ভয়পেয়ে গেলেন। পরে নিজের মনের অজান্তে কবরের দিকে তাকিয়ে যেটা দেখলো সেটা বিশ্বাস করার মত না,কেননা তাবলীগের ভাইরা তাকে বলেছে মানুষের মৃত্যুর পর কবরে আজাব শুরু হয় কিন্তু এখানে তেমন কিছু হচ্ছেনা সব ঠিকঠাক তাই তার মনের ভিতর একটা খটকা লাগলো এতদিন কি তিনি ভুল শুনেছেন। কবরের তো কোন কিছুই হচ্ছেনা তাহলে হুজুররা কি মিথ্যা বলেছে। তার মনের ভিতর সন্দেহ জাগতে থাকে। তিনি গেলেন মুফতি সাহেবের কাছে তাকে এই ঘটনা খুলে বললেন কিন্তু মুফতির কথা শুনে তিনি একপ্রকার হাতাশ হয়ে গেলেন। তিনি তার এতদিনের সব বিশ্বাস গুলিয়ে ফেলেছেন। তিনি আর কিছুতেই বিশ্বাস রাখতে পারছেন না কিছুদিন পর তার গ্রামের একজন বয়স্ক লোক মারা যায়। তিনি তার জানাজার নামাজ পড়তে গেলেন, সেখানে জানাজার নামাজের আগে এলাকার এক বড় আলেম মানুষের মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করতেছেন, তখন সেই মাওলানা বললেন মানুষ মারা যাওয়ার পর তার পরকালের জীবন শুরুহয় মৃতদেহ কবর দেওয়ার পর সেই কবরে দুইজন ফেরেস্তা হাজির হয় এবং মৃতদেহকে জাগিয়ে তোলে এবং তাদেকে কিছু প্রশ্ন করা হয়। তিনি আরো বলেন যদি কেহ সঠিক উত্তর দিতে পারে তাহলে তার কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দেওয়া হয়। আর যদি সঠিক উত্তর দিতে নাপারে তাহলে সেই কবরে জাহান্নামের আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই কথা শুনে খালেক চাচা আর চুপ থাকতে পারলেন না কারন তিনি নিজে কবর দেখছেন কবরে কোন কিছুই হয়না এটা তিনি মাওলানা সাহেবকে বললেন মাওলানা সাহেব তাকে বললেন এগুলো আল্লাহর কুদরত এগুলো মানুষের দেখা সম্ভব না। এটা শুনে খালেক চাচা মানতে পারলেন না।

খালেক চাচার শয়তান এবং ফেরেস্তা নিয়েও সন্দেহ আছে একদিন এক মাওলানাকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন ফেরেস্তারা নাকি সব দেখে তাহলে যখন তিনি তাহার বউ এর সাথে রাত্রে ঘুমায় তখন ফেরেস্তারা কি করে? নাকি সেটাও দেখে। এটা শুনে মাওলানা সাহেব কি বলবে নিজেও বুঝতে পারছেনা, মাওলানা শেষ পর্যন্ত বললেন এই ব্যাপারটা আমি নিজেও জানিনা পরে জেনে আপনাকে জানিয়ে দিব। কিন্তু খালেক চাচাকে থামায় কে তিনি পাশের মাদ্রসার বড় হুজুরের কাছে গিয়ে এই ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করলেন হুজুর তাকে বললেন ফেরেস্তা সব দেখতে পারে আল্লাহ ফেরেস্তাকে সেই শক্তি দিয়েছেন। এটা শুনে খালেক চাচা হতাশ হয়ে গেল। আল্লাহ কেন এইরকম লুচ্চা ফেরেস্তা বানিয়েছে যে কিনা রাত্রে মানুষ কি করে সেটাও দেখে। এটা ঠিক না তাই খালেক চাচা আর আগের মত এই বিষয় গুলো বিশ্বাস করতে পারছে না। তিনি অনেক বদলে গেছেন আগের মত আর নিয়মিত নামাজ পড়েনা, সব সময় ধর্মের এই বাজে সিদ্ধান্ত গুলো নিয়ে চিন্তা করে আল্লাহ কেন এমন ফেরেস্তা বানিয়েছে, শয়তান বনিয়েছে। আর কবরের আজাব এটাতো ডাহা মিথ্যা কথা, যার প্রমাণ তিনি নিজে আর মাওলানা সাহেবরা অনেকে মিথ্যা কথা বলেন। তাই তিনি তাদের কথাও আর বিশ্বাস করেন না।

শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আর নামাজ পড়বেন না, রোজা রাখবেনা, আল্লাকেও আর ডাকবেননা মৃত্যুর পর যা হওয়ার হবে, আর মৃত্যুর পর মানুষকে একবার জ্বালিয়ে আবার ভালো করে আবার জ্বালাবে এটাও তিনি মানতে চাননা, এটা নাকি কোন ভাবেই সম্ভব না। তাই খালেক চাচা এখন নিজের এলাকায় একজন অবিশ্বাসী লোক হিসেবে পরিনিত হয়েছে। এলাকার মানুষ তাকে এখন অবিশ্বাসি বলেই চিনে, তিনি ও এটা বলে বেড়ান সবার কাছে আর কোন মাওলানা সাহেব থাকে সঠিক ভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেনা। কারন তারা নিজেরাও এই সম্মন্ধে অভগত নন।তাই খালেক চাচা এখন একজন অবিশ্বাসী হয়ে বেছে আছে। আর মৃত্যু পর্যন্ত থাকবে এটাই নাকি তার শেষ কথা। এলাকার মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে আবার কেউ কেউ খারাপ মন্তব্যও করে তাতে খালেক চাচার কিছু আসে যায়না কারন তিনি জানেন গ্রামের মানুষ গুলো একপ্রকার মূর্খ।।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
সাহাবউদ্দিন মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 14 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 8, 2017 - 12:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর