নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

আবার রাজনৈতিক সংকটে পাকিস্তান


বলা হয় ভারতের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে দেশের পার্লামেন্ট আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে পার্লামেন্ট। পূর্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেদের স্বার্থে সরকারকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা ও সমর্থন করেছে। এ পর্যন্ত কোন পাকিস্তান গভর্নর বা প্রধানমন্ত্রীই তাদের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। ১৮ জনের কেউই না। এর মধ্যে শুধু নওয়াজ শরীফই তিনবার।

নওয়াজ শরীফ প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ২৪ অক্টোবর ১৯৯০ সালে। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ১৮ এপ্রিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোলাম ইশাক খান কিছু অভিযোগে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের সংবিধানের ৫৮ এর খ ধারা অনুসারে নওয়াজ শরীফের পার্লামেন্টকে ভেঙে দেন এবং মীর বালাখ শেরকে মধ্যবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন। নওয়াজ শরীফ এই প্রত্যাখ্যান করেন এবং সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন। ২৬ মে নওয়াজ শরীফ পুনরায় ক্ষমতা ফিরে পান। এরপর আবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চাপে সেবছরই ১৮ জুলাই তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। তবে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোলাম ইশাক খানেকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ব্যবস্থাও করে যান। পরে সেনাবাহিনীর চাপের ইশাক খানকেও অফিস ছাড়তে হয়।

এরপর আবার ১৯৯৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ২য় বারের মত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নওয়াজ শরীফ। কিন্তু এবারো মেয়াদ শেষ করতে পারলেন না। ১৯৯৯ সালের ১২ অক্তবর প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ পার্লামেন্ট ভেঙে দেন এবং সারাদেশে মার্শাল ল জারি করেন।

২০১৩ সালের ৫ জুন নওয়াজ শরীফ তৃতীয়বারের মত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং গত ২৮ জুলাই ক্ষমতা ছাড়েন। গতকালের নির্বাচনে শহীদ খাকান আব্বাসী ৫০ দিনের জন্য পাকিস্তানের ১৯ তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর নওয়াজ শরীফের ভাই মুহম্মদ শাহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিবেন।

পাকিস্তানে গণতন্ত্রের দশক বলা ৯০ কে। আসলে গণতন্ত্র কতটা ছিল এটা আলোচনা না করাই শ্রেয়। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী সবসময় একটা প্রধান ভূমিকা রেখে এসেছে। এবং তাদের ইচ্ছেমতই দেশ চালিয়েছে। কিন্তু ৯০ এর পর থেকে আমরা সেই প্রভাব কিছুটা কমতে দেখেছি, মাঝে পারভেজ মোশাররফ এর সময় বাদে। এবং আমরা এটাও দেখেছি যে পার্লামেন্ট বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। অর্থাৎ বিচার বিভাগ পার্লামেন্টের প্রভাবের বাইরে ছিল। কারণ আমর বেশ কয়েকজকে আদালত কর্তৃক অযোগ্য হিসেবে ঘোষিত দেখতে পেয়েছি। কিন্তু তারমানে এই না যে পাকিস্তানে গণতন্ত্রের হাওয়া বইছে।

নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে এই রায়ের প্রভাব যে সুদূরপ্রসারী হবে, সে কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। নওয়াজ শরীফই প্রথম অযোগ্য ঘোষিত কোনো প্রধানমন্ত্রী না হলেও এখন কেউ আর এ কথা অস্বীকার করতে পারবেন না যে, ক্ষমতার কেন্দ্রে (কেন্দ্রীয় পাঞ্জাব) যার শেকড় সেই রাজনীতিককেও ক্ষমতা ছেড়ে ঘরে ফিরে যেতে হয়। কারণ আমরা ভালমতই জানি পাকিস্তানের রাজনীতি মূলত পাঞ্জাব কেন্দ্রীক।

নওয়াজ শরীফকে পার্লামেন্ত কর্তৃক অযোগ্য ঘোষনার পর পাকিস্তানে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে বলে যে উৎসব চলছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এমনটা ৯০ এর দশকেও হয়েছিল। তখন বেনজির ভুট্টো ও নওয়াজ শরীফ দু’জনকেই দু’বার করে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়। পাকিস্তানের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক অসিম সাজ্জাদ আখতার বলেন, জনসাধারণের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস ও গণতন্ত্র সুসংহত হচ্ছে বলে আশাবাদ দেখা যাচ্ছে ১৯৭০’র দশকেও তা দেখা গিয়েছিলো যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে বরখাস্ত এবং পরে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছিল। আখতার আরো বলেন, এ ধরনের বারবার বরখাস্তের ঘটনা ও গণতন্ত্র শক্তিশালী হচ্ছে বলে অতিমাত্রায় আশাবাদ শুধু একটি সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল গণতন্ত্র বিকাশে পাকিস্তানের অক্ষমতা নিয়ে হতাশাকেই জোরদার করছে। এই হতাশা এবং সত্যিকারের কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের অভাব থেকে বুঝা যায় গত ৭০ বছর ধরে বহু প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এতসব উদাহরণ থাকার পরও পাকিস্তানে জবাবদিহিতা ও যাচাই প্রক্রিয়া কখনোই ‘অভিশপ্ত রাজনীতিকদের’ বাইরে বিস্তার লাভ করতে পারেনি।

নওয়াজ শরীফ যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন ভাল একটা সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়েই এসেছিলেন। তাকেও যখন আদালত অযোগ্য ঘোষণা করল তখন বিরোধী দল গুলো মনে করছে পাকিস্তান নতুন একটা গণতান্ত্রিক পর্যায়ে যাচ্ছে। আমরাও সেটা বলতে পারি। তবে এটা অবশ্যই ‘হয়ত’। কারণ আগেই দেখেছি পাকিস্তানের অতীত ইতিহাস এমন কোন সাক্ষ্য দেয় না।

নওয়াজ শরীফের এইভাবে ক্ষমতা ত্যাগ পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে বৈকি। নওয়াজ শরীফকে ভারতমুখী বলা হয়। কারণ তার শেষ মেয়াদে তিনি ভারতের সাথে পাকিস্তানের খারাপ সম্পর্ক অনেকটা কমিয়ে এনেছিলেন। এবং সমাধানে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু সেই পুরোনো রাজনীতির গর্তেই পা দিল পাকিস্তান।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সপ্রিম কোর্টের এই গণতান্ত্রিক ক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কি শুধু প্রধানমন্ত্রী অপসারণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হবে নাকি অন্যান্য রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ক্ষেত্র গুলোতেও প্রয়োগ হবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদি করতে পারে তবেই এই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ টিকে থাকবে নয়তো পাকিস্তানের গণতন্ত্র গুণগতভাবে অগণতান্ত্রিক হিসেবেই রয়ে যাবে, সেটালে আর পরিবর্তন বলা যাবে না।

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

অনেক সুন্দর লেখা

আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর গতকাল আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জলের গান
জলের গান এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 46 min ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 1, 2013 - 4:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর