নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • অভিজিৎ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • সজীব সাখাওয়াত
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • নুর নবী দুলাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী
  • শুভ্র আহমেদ বিপ্লব
  • রোহিত
  • আকাশ লীনা
  • আশরাফ হোসেন
  • হিলম্যান
  • সরদার জিয়াউদ্দিন
  • অনুপম অমি
  • নভো নীল

আপনি এখানে

এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয়ের পরেও এতএত জিপিএ ৫ ও গোল্ডেন জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের ভবিষ্যত কি?


এইবছর নাকি এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয় ঘটছে। জিপিএ ফাইভ, গোল্ডেন কমে গেছে। কিন্তু যতজন গোল্ডেন আর জিপিএ ফাইভ পাইছে, তাদেরই সরকারি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ কম। তিনভাগের একভাগ হয়তো নিজের পছন্দমত ভালো কিছু পাইতে পারে, বাকিরা চরমভাবে হতাশ হবে। ভালো কোথাও ভর্তি হইতে না পারার মানসিক চাপ ওই বয়সে অনেকেই নিতে পারেনা।

এই প্রজন্মের পোলাপানরে বানানো হইতেছে ফার্মের মুরগী। বাপ-মারাই পোলাপাইনরে প্রতিযোগিতা কইরা গণহারে ফার্মে ভরতেছে আর বিশাল সাইজের ডিম্ব আশা করতেছে। পোলাপানও ডিম্ব দিয়াই যাইতেছে। কিন্তু এতো এতো ডিম্ব সংরক্ষনের ব্যবস্থ্যা তো এইদেশে নাই। তাই এইসব ডিম্ব কয়দিন পরেই বর্জ্যপদার্থ্যের মত পইচা গিয়া দূর্গন্ধ ছড়াইতেছে। যদিও এত চাপাচাপি না করলেও, এত গিলায় না দিয়া স্বাভাবিকভাবে শিখাইলেও নিজের মধ্যে যা ঢুকাইতো তা ভবিষ্যতে কাজে লাগতো। পেশাগতক্ষেত্রে রেজাল্টের চেয়ে দক্ষতা, স্মার্টনেস, আত্মবিশ্বাস এইসব কাজে দেয় বেশি। যে পদার্থবিজ্ঞান পড়বে, তার হয়তো বাংলা সাহিত্য অন্তরে ধারণ করার দরকার নাই, হয়তো গল্প কবিতা তার ভালো নাও লাগতে পারে। তার আগ্রহ হইতে পারে গণিতে, বিজ্ঞানের নানাকিছু নিয়া জানবার ব্যাপারে। কিন্তু তাদের গিলানো হয় সবকিছু। আমরাও গিলছি। এখন বুঝি যে যা যা মুখস্ত করে আসছিলাম, গিলে ফেলছিলাম নাম্বারের জন্য না বুঝেই, এইসব এখন তেমন কোনো কাজেই আসেনা। এরচেয়ে ইংরেজী সিরিয়াল দেখা, পেপার আর গল্পের বই পড়ার অভ্যাস অনেক কাজে দিছে।

আহ, কি সোনালী দিন কাটাইয়া আসছি আমরা! উন্নতমানের ডিম্ব দেইনাই কিন্তু পচন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়াও যাইতে হয়নাই। আমাদের সময় বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় চাইছিলো মনে হয় জিপিএ 4। ঢাবিতে সাইন্সে 3.5। আর এখন গোল্ডেন না হইলে এপ্লাই-ই করা যায়না। আমাদের ব্যাচের আমরা সবাই কি ঘাস খাইয়া পাস করছিলাম যে সারা দেশ মিলাইয়াও হাজার ক্যান, জিপিএ ফাইভ (তখন জিপিএ ফাইভ মানেই গোল্ডেনই ছিলো, ফোর্থ সাবজেক্ট এড হইতো না) এর নাম্বার ১০০ ও পার করতে পারলো না? বেশ কয়টা বোর্ড ছিলো যেই বোর্ডে একটাও জিপিএ ফাইভ ছিল না, গোল্ডেন তো দিল্লী বহুদুর!

আজকালকার পোলাপাইন যদি আমাদের জিপিএ জিগায়, তাইলে এই লজ্জা রাখবো কই? আর এখন তো সবই গোল্ডেন। এই বিপুল সংখ্যক স্বর্ণডিম্ব সংরক্ষণের ব্যাবস্থ্যা কি আমাদের আছে? বাই দ্য ওয়ে, আমার এইচএসসির জিপিএ ছিল এই সময়ের হিসাবে লজ্জাজনক। কিন্তু আমি জীবনে কোথাও আটকাই নাই। ভর্তি পরীক্ষা, চাকরীর পরীক্ষা কিছুতেই না। আমার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা ছিল সাধারণ জ্ঞান আর ইংরেজী। যার কিছুই আমাকে স্কুল কলেজ থাইকা গিলায় দেয়নাই। এসএসসির আগপর্যন্ত আমি কোনো টিচারের কাছেও পড়িনাই। টেস্ট পরীক্ষার আগে স্কুল থেকে কোচিং করাইছিল, ওইটাই ছিল শ্রেণিকক্ষের বাইরে আলাদা শিক্ষা, অবশ্য স্কুলের শিক্ষকদের দ্বারাই। তখন বুঝতাম না, এখন বুঝি ওইটাও আসলে ছিল স্কুলের ব্যবসা। ওইটুকু জ্ঞান শ্রেণিকক্ষেও দেয়া সম্ভব ছিল।

পরীক্ষায় পাস করাইতে ছাড় দেয়া যাইতে পারে, কিন্তু এইবারও কড়াকড়ির পর যতজন জিপিএ ফাইভ, গোল্ডেন পাইছে, তা অত্যাধিক। এত মেধাবী ধারণের সক্ষমতা আমাদের দেশের এখনো হয়নাই। এমন গণহারে গোল্ডেনের ছড়াছড়ি বন্ধ হওয়া উচিত। ভালো আর খারাপের পার্থক্য করা খুব কঠিন। মেধার চেয়ে লটারীর মত ভাগ্যের খেলা হইয়া যাইতেছে ভর্তি পরীক্ষাগুলা। অতিমেধাবী কিছু ঠিকই উইঠা আসে, কিন্তু ধরাও খাইয়া যায় অনেক মেধাবী যাদের ভাগ্য অন্যরকম হওয়ার কথা ছিল যোগ্যতা বলেই। নির্মম সত্য হইলো এইটাই যে এ প্লাস পাওয়া এই বাচ্চাগুলার ৮০%ই কোন ভালো পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণির প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারবে না। ১৬ কোটি মানুষের দেশে শিক্ষার বাজের সম্ভবত ১৪ হাজার কোটি। এরকম বাজেট রাখলে দেশ কেবল মালয়েশিয়া, সৌদিতে শ্রমিকই সাপ্লাই দিবে। দক্ষ কর্মশক্তি হবে না, ম্যানেজমেন্টে আসবে ইন্ডিয়ান, শ্রীলংকান এমনকি পাকিস্তানীরাও। সোনালি ব্যাংক, হলমার্ক কেলেংকারী ধামাচাপা দিতে সরকার ধুমছে সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, ব্যাংকের নানা খাত থেকে টাকা কাটছে। এমন টাকা কেটে যদি শিক্ষাখাতে দিয়ে আরও অনেকগুলো মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় করতো, ভবিষ্যতের কাজে দিত। দেশের উন্নতির জন্য আমার মতে একটা পদ্মাসেতু কিংবা যমুনা সেতুর চেয়ে আরেকটা ঢাকা ভার্সিটি কিংবা শাহজালাল ভার্সিটিও অনেক অনেক বেশি অবদান রাখতো।

বোর্ডে বোর্ডেও পরীক্ষারর ফলের যে পার্থক্য তা অগ্রহণযোগ্য। মেধার মূল্যায়ন হওয়া উচিত সমান সুযোগের ভিত্তিতে, একই মানদন্ডে। কিন্তু দেখা যায় রাজশাহী বোর্ডে ফলাফল করুণ, আর ঢাকায় সবসময় হাইফাই অবস্থা। প্রকৃত সত্য হইলো ঢাকার পোলাপান মার্কিং এ কিছু হইলেও সুবিধা পায়। স্কুল কলেজের পরীক্ষার ভিতর নকল কিংবা এদিক্সেদিক তাকানোর কথা কল্পনাও করতাম না। কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষায় অন্য কলেজে সিট পড়ার পর পরিদর্শকদের গা ছাড়া ভাগ, নকল করতেছে, দেখাদেখি করতেছে দেখেও না দেখার ভানের অভিজ্ঞতা এখনো অটুট। অবশ্য আমাদের আমল প্রশ্ন ফাঁসের আমল ছিল না। এখন লোকমুখে শোনা যায় বাক-স্বাধীনতা, অবাধ তথ্যপ্রবাহের নিশ্চয়তা থাকুক আর না থাকুক, হোয়াটস এপ, ভাইবার, মেসেঞ্জারে প্রশ্নপ্রবাহ ঘটে।

সবাই যদি গোল্ডেন হয়, অথবা গোল্ডেনের নাম্বার যেহেতু এতো বেশি, গোল্ডেনেরও গ্রেডিং করা যাইতে পারে। জিপিএ ফাইভ এবং গোল্ডেনরেও কুচিকুচি কইরা ভাগ করা হোক। এই ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করি।

শিক্ষামন্ত্রী নিতান্তই ভালোমানুষ, পুরস্কারও নাকি পাইতেছেন। স্বর্ণডিম্ব আরও দূর্লভ করিয়া প্রকৃত মেধা সনাক্তকরণের একটা উপায় উনারই বের করা উচিত। নাইলে পাসের হারে সরকারের বিজয় হইলেও হারবে এই প্রজন্মই, ভুগবেও ওরাই...

Comments

সত্যর সাথে সর্বদা এর ছবি
 

সবাই এ প্লাস পেলে ছাত্ররাও খুশি, শিক্ষকরাও খুশি, অভিভাকরাও খুশি, শিক্ষামন্ত্রীমহদয়ও খুশি, প্রধানমন্ত্রিও খুশি- সবাই খুশি। আমরাই ছিলাম গ্রেডিং এর প্রথম ব্যচ। সারা বাংলাদেশে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি এ প্লাস। আমাদের রেজাল্ট এর কথা শুনলে এখন অনেকেই হাসে- অথচ আমি এখন এক লাখ টাকা বেতনে চাকরি করছি।চাকরির কোন পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হইনি।এক সময় যখন শিক্ষক ছিলাম,এইস এসসির খাতা চেক করতে নিলে আমাদেরকে বলা হল ভাল মার্ক দিতে হবে এবং লেখা থাকলে যেন মার্ক দেয় যদিও উহা ভূল হোক-কারন ছাত্ররা কষ্ট করে লিখেছে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 17 min ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর