নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ক্যাম পাশা
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • লুসিফেরাস কাফের

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

সিদ্দিকুরের অন্ধ করে দেওয়া চোখ ও বর্বর রাষ্ট্র



এ বছরের শুরুর দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী এই সাতটি কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষ থেকে এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত রয়েছে। প্রত্যেকটিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩০টি বিষয়ে পড়ানো হয়।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তের পর কলেজগুলোর অবস্থার অবনতি চরম পর্যায়ে ঠেকতে থাকে। অনেক আগে থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা এই কলেজগুলোর। সেশনজট, নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়া,নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষার ফল না দেওয়া, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট, পরীক্ষার হলের অপর্যাপ্ততা, আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থার সংকট- সব মিলিয়ে জগাখিচুড়ি অবস্থা ছিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনার পর এই সংকটগুলো দূর হওয়ার বদলে আরও বাড়তে লাগলো। সেশনজট প্রকট আকার ধারণ করলো। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পরও পরীক্ষার কোনো তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছিলো না। আর অন্যান্য সমস্যা তো চলছিলোই।

নানা সংকট-সমস্যা নিরসন ও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে গত ২০ জুলাই, বৃহস্পতিবার শাহবাগে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে এই সাত কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য মিছিল শুরু করলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলে পড়ে পুলিশ। ব্যানার কেড়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ।

ওই সময় কাঁদুনে গ্যাসের শেলের আঘাতে সিদ্দিকুর রহমান নামে সরকারি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আহত হন। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ওপরের দিকে না ছুড়ে সিদ্দিকুরের চোখের দিকে তাক করে মারে। সাথে সাথেই মাটিতে পড়ে যায় সিদ্দিকুর। পুলিশের ভিড়ে বেশ কিছুক্ষণ আহত অবস্থায় রক্ত ঝরে পড়তে থাকে সিদ্দিকুরের। পুলিশ ঘুরেও তাকায়নি। পরবর্তীতে সিদ্দিকুরের সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে লাঠিপেটা, রাবার বুলেট, কাঁদুনে গ্যাসের কারণে আরও অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়। পুলিশ ১৩ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ অজ্ঞাতনামা ১২০০ শিক্ষার্থীকে আসামী করে শাহবাগ থানায় মামলা করে। ওসি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা পুলিশের দিকে ফুলের টব ছুড়ে মারার সময় সিদ্দিকুর চোখে আঘাত পান।মানে দাঁড়ালো, সিদ্দিকুর নিজেই নিজের চোখ হারানোর জন্য দায়ী! অথচ ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ঘটনা কী ঘটেছিল সেদিন।
ভিডিওটা দিচ্ছি পাঠকদের জন্য- https://www.facebook.com/ali.nayeem.mb/videos/10155535197614004/?fref=me...

ছোটবেলায় বাবা হারানো সিদ্দিকুরের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দি উপজেলার ডাকিরকান্দা গ্রামে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। দরিদ্র পরিবারে বড় ভাই মো: নায়েব আলী রডের কাজ করে পরিবার চালায়। নিজে টিউশনি করে ও ছাগল-মুরগি পালন করে অনেক কষ্টে লেখাপড়া করছিলো সিদ্দিক। কিন্তু পুলিশের এই বর্বরতায় সে এখন দুই চোখই হারিয়েছে।

আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,সিদ্দিকুরের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, আলো ফিরে পাবার সম্ভাবনা নেই। আহত সিদ্দিকুরের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা লাগছে। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এতো ব্যয় মেটানোরও সামর্থ নেই। সিদ্দিকের বন্ধুরা টাকা তুলে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে এই বিপদে সিদ্দিকের পাশে দাঁড়াবার।

সিদ্দিকুর তার মা ছুলেমা আক্তারকে ক’দিন আগেও বলেছিলো, “মা, আর মাত্র এক-দুই বছর পরেই চাকরি করমু। তখন আর কষ্ট থাকব না।” মায়ের কষ্ট দূর করবে কী, নিজের কষ্টেরই আর কূল-কিনারা পেল না ছেলেটা। এই কষ্টের দায় কে নেবে? যাদের বর্বরতায় সিদ্দিকুর আজ অন্ধ হলো, তাদের বিচার কে করবে? ২২ জুলাই ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে, দাবি জানিয়েছে সিদ্দিকুরের চিকিৎসার ভার সরকারকে নিতে হবে।আজও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নেমেছে। যদিও ছাত্রলীগ তাদের বার বার বাঁধা দিয়েছে, মেরেছে।

তবে সরকার ভার নেবে, নাকি আরও ভার চাপাবে- তা তো ঘটনার দিনই আভাস পেয়েছিই আমরা। শিক্ষার্থীরা ন্যায্য দাবিতে কথা বলতে গেলে সরকারের পাণ্ডারা মেরে চোখ কানা করে দিলো, আবার উলটো মামলাও দিলো! তবু সরকারকে চাপ দিতে হবে, তার অন্যায়কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে থাকতে হবে, এর বিকল্প নেই।

সরকার কবে নতি স্বীকার করবে, সে আশায় আবার বসে থাকলে তো চলবে না। আমরা তো আর আমাদের বিবেককে বিসর্জন দিয়ে চুপ করে নিজেকে নিয়ে বসে থাকতে পারি না। সিদ্দিকুরের সুস্থ হতে আরও সময় লাগবে। প্রতিদিনই অনেক খরচ করতে হচ্ছে ছেলেটার পেছনে। সুতরাং বিবেকবান মানুষদের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা যে যতোটুকু পারুন, এই মুহূর্তে সিদ্দিকুরের পাশে দাঁড়ান।

আর্থিকভাবে সিদ্দিকুরকে সহযোগিতা করতে চাইলে এই দুই নাম্বারে যোগাযোগ করুন। একটা সিদ্দিকুরের নিজের নাম্বার, আর অন্যটি সিদ্দিকুরের বন্ধু ফরিদের। দুটোই এখন বন্ধুর কাছে আছে এবং বিকাশ করা।
০১৫২১২০৯৮৫৮-সিদ্দিকুর রহমান
০১৯২৫৩০৬৬৪১-মো ফরিদ

বিভাগ: 

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

এসব গণতান্ত্রিক (ঘনতান্ত্রিক) রাষ্ট্রের চেয়ে চৈনিক একদলীয় শাসনব্যবস্থা অনেক ভাল ।

ইস্টিশনে আমার গল্প/প্রবন্ধ পড়ার ও ফেসবুকে আমার "বন্ধু" হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফাহিমা কানিজ লাভা
ফাহিমা কানিজ লাভা এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 5 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 16, 2014 - 2:55অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর