নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত(শেষ পর্ব): মুক্তিসংগ্রাম নাকি সন্ত্রাসবাদ


একটি জাতি যখন তাদের দখলদার শাসকদের বৈষম্য আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বা স্বতন্ত্রতা রক্ষার জন্য লড়াই করে তখনই তাকে মুক্তিসংগ্রাম বলে। এই মুক্তিসংগ্রাম পরোক্ষভাবে হয়তো সেই পুরো প্রতিপক্ষ জাতিটির বিরুদ্ধে ঘটে কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে এই লড়াইটা অবশ্যই সেই প্রতিপক্ষ জাতিটির সসস্ত্র সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধেই হতে হবে। যদি সেই লড়াইটা প্রতিপক্ষের নিরস্ত্র সিভিলিয়ান বা বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় তাহলে তা আর মুক্তিসংগ্রাম থাকে না, সেটা হয়ে যায় সন্ত্রাসবাদ। আর তার সাথে যদি ধর্মীয় আদর্শগত দ্বন্দ্ব জড়িত থাকে তাহলে তো সেটা মুক্তিসংগ্রাম হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্যালেস্টাইন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম চালাচ্ছে গত প্রায় ৭০ বছর ধরে তা কি মুক্তিসংগ্রাম নাকি সন্ত্রাসবাদ। কিংবা বর্তমানে পুরো পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে মুসলিমরা যে তান্ডব চালাচ্ছে তা কি আসলেই কোন মুক্তিসংগ্রাম বা অত্যাচারীর ইটের বদলে পাটকেল? এই শেষ পর্বে এসে আমরা সেই প্রশ্নগুলোরই উত্তর খুঁজবো।

প্রথমে আমাদের যুদ্ধের সংজ্ঞা বা এর প্রকৃতি জানতে হবে। দুটি প্রতিপক্ষ যখন মুখোমুখি সসস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয় তখনই তাকে যুদ্ধ বলে। যদি একটি সসস্ত্র ও সংগঠিত প্রতিপক্ষ আরেকটি নিরস্ত্র ও অপ্রস্তুত প্রতিপক্ষের উপর হামলা করে তখন তাকে যুদ্ধ নয়, অতর্কিত আক্রমণ বলে। এ ধরনের আক্রমণ বীরোচিত নয় বরং কাপুরুষোচিত। প্রাচীনকাল থেকেই মানবসভ্যতা এ ধরনের আক্রমণকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর আজকের যুগে তো এধরনের আক্রমণকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সভ্য বিশ্ব। "ভালোবাসা এবং যুদ্ধের প্রান্তরে সবই ন্যায্য"- এ ধরনের বাণী তাই সাহিত্যের পাতাতেই মানায়। কারণ যুদ্ধের প্রান্তরে যারা সকল নীতি এবং মানবতাকে বিসর্জন দিয়ে শুধুমাত্র যুদ্ধ জেতার জন্য রক্ত নিয়ে হোলিখেলায় মেতে উঠে ইতিহাস তাদেরকে নরপিশাচ হিসেবে আখ্যা দেয়, বীর হিসেবে নয়। গায়ের জোড়েই যদি সবকিছু ন্যায়সিদ্ধ হয়ে যেত তাহলে ইরাকে মার্কিন ঈগলদের আক্রমণও ন্যায়সিদ্ধ। আবার অস্ত্র হাতে নিলেই যদি বীর হওয়া যেতো তাহলে রাতের আঁধারে কাপুরুষের মত পিছন থেকে নিরস্ত্র ব্লগারদের উপর ঝাপিয়ে পড়া আনসারুল্লাহ থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টারে নিরপরাধ শিশুদের উপর উন্মাদের মত গুলি চালানো আইএস জিহাদিদেরও আমরা বীর বলতাম।

এখন প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম চালাচ্ছে তাকে কি মুক্তিযুদ্ধ বা বড়জোড় যুদ্ধও বলা যেতে পারে। মোটেও না। কারণ আমরা "আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ" এই টার্মটির সাথে পরিচিত। কিন্তু "প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল যুদ্ধ" এরকম কোন টার্ম আমাদের অজানা। এর দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, প্যালেস্টাইন নামে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোন দেশ নেই। দ্বিতীয়ত, প্যালেস্টাইনের আক্রমণগুলো কোন যুদ্ধ নয়, ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের উপর অতর্কিত হামলা তথা সন্ত্রাসবাদ। একই যুক্তিতে প্যালেস্টাইনের অতর্কিত হামলাগুলো তাই মুক্তিসংগ্রামও নয়। মুক্তিসংগ্রামের প্রকৃতি আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য একটি জাতির মুক্তিসংগ্রামকে একটু জানা দরকার। বহু ক্রোশ দূরে, বহু দেশ ঘুরে পর্বত আর সিন্ধু দেখতে না গিয়ে আসুন একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দুই নাহয় চোখ মেলে দেখি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইটা অবশ্যই ছিল পুরো পাকিস্তান জাতিটির বিরুদ্ধে, কিন্তু সেটা যুদ্ধের প্রান্তরে নয়। যুদ্ধের প্রান্তরে তাদের লড়াইটা ছিল সসস্ত্র পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যারা গণহত্যা, গণধর্ষণসহ এমন কোন মানবতাবিরোধী অপরাধ নেই যা করতে বাকি রেখেছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় বা তার আগে পাকিস্তানী বেসামরিক সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে মুক্তিযোদ্ধারা বা বাঙালীরা কোন ধরনের সসস্ত্র অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছিল(সেই সুযোগও অবশ্য খুব একটা ছিল না) এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন, পেলেও তা হবে ব্যতিক্রম যা কখনই উদাহরণ নয়। এখন দয়া করে কেউ বিহারী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনবেন না, কারণ বিহারীরা নিরস্ত্র ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে পাকিস্তানী সেনাদের সাথে তারাও অনেক মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরেও তারা বাঙালীদের উপর সসস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে। তাই "বোমা হামলাকারীরা সন্ত্রাসী হলে মুক্তিযোদ্ধারাও সন্ত্রাসী"-এ ধরনের কথাবার্তা যারা বলেন তারা নিজেদের দেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রায় অর্ধশতক পার করলেও এখনও মুক্তিসংগ্রাম আর সন্ত্রাসবাদের মূল পার্থক্য ধরার মত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। এখন আশা করি পাঠকরা বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম আর প্যা্লেস্টাইনের মুক্তিসংগ্রামের মাঝে যেই সূক্ষ্ম পার্থক্য দেখানোর চেষ্টা আমি করছি তা ধরতে পেরেছেন। এবার মুক্তিসংগ্রামের কিছু বৈশিষ্ট্য এবং তার আলোকে প্যালেস্টাইনের মুক্তিসংগ্রামকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা যাক।

মুক্তিসংগ্রামের বৈশিষ্ট্যঃ
১. একটি জাতি তাদের ‘দখলদার’ শাসকদের বৈষম্য, শোষণ আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ করে তখন তা হয়ে যায় মুক্তিসংগ্রাম। এখন ইসরায়েল কি প্যালেস্টাইনকে দখল করে তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থা জারি রেখেছে। আরও পরিষ্কার করে বলা যায়- ইসরায়েল কি দখলদার বাহিনী? উত্তর হচ্ছে-না। প্রথম পর্ব থেকেই আমরা জেনেছি ইসরায়েলের প্রথম প্রজন্মের নাগরিকরা প্যালেস্টাইনে জমি কিনে তাদের বসতি গড়ে তুলতে থাকে এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের ভোটের মাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠা করে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কিন্তু বর্তমান প্যালেস্টাইন( ওয়েস্ট ব্যাংক ও গাজা) নিয়ে ইসরায়েলের কোন মাথাব্যথা ছিল না। প্যালেস্টাইনের জনগণ প্যালেস্টাইনকে একটি আধুনিক সভ্য অঞ্চলে পরিণত করে স্বাধীনতার রাস্তাকে প্রশস্ত করুক নাহয় বোমাবাজি আর গলা কাটাকাটি করে রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত করুক তাতে ইসরায়েলের কোনই যায় আসতো না যদি না তারা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াত। আরবের এই ছোট্ট অংশটুকুতে ইহুদিরা যদি কোনদিন নাও আসতো তবুও বর্তমান প্যালেস্টাইন থেকে সেই কল্পনার প্যালেস্টাইনের অবস্থা ভিন্ন কিছু হতো না। কেন হত না, তার উত্তর আপনি মধ্যপ্রাচ্যের বাকি মুসলিম দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন। এদেরকে ইসরায়েলের ঐ ছোট্ট ভূখন্ড কেন পুরো পৃথিবীকে এনে দিলেও তারা সেটাকে নরকে পরিণত করবে। তার চাইতে ইহুদিদের মত মেধাবী এবং মননশীল জাতির হাতে ইসরায়েল অনেক নিরাপদ। এরপরে ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের ফলে ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজাও ইসরায়েলের অধীনে চলে আসে। তাহলে আর ওয়েস্ট ব্যাংক ও গাজার উপর কি প্যালেস্টাইনের জনগণের কোন অধিকার থাকে? ইয়াসির আরাফাত থেকে শুরু করে মাহমুদ আব্বাসরা তাহলে কোন মুখে প্যালেস্টাইনের উপর নিজেদের অধিকার দাবী করে? ইসরায়েল যদি এরপর প্যালেস্টাইনের জনগণকে ঘাড় ধরে প্যালেস্টাইন থেকে বের করে দিত সেটা কি অন্যায় হতো? প্যালেস্টাইন তার স্বাধীনতা চায়- খুব ভালো কথা। ইসরায়েলের জন্মলগ্নে ব্রিটেন এবং জাতিসংঘ তাদেরকে সেই প্রস্তাবই দিয়েছিল। ইসরায়েল নিজেও সেই প্রস্তাবগুলোকে মেনে নিয়েছিল। কেন তখন তারা সেই সুযোগগুলোকে হাতছাড়া করলো? আবার আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ করতেই বা কেন গেল? যুদ্ধে হারার পরেই বা আবার কেন বেহায়ার মত প্যালেস্টাইনের উপর নিজেদের অধিকার দাবি করে? বরং এটা তো অনেক সৌভাগ্যের বিষয় যে যুদ্ধের মাধ্যমে জেতার পরেও ইসরায়েল ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজা প্যালেস্টাইনকে ভিক্ষা দিয়েছে। কোথায় তা নিয়ে একটা আধুনিক সভ্য রাষ্ট্র গড়ে তোলার বদলে প্যালেস্টাইন নিজেদের আরব মুসলিম ব্রাদারদের দেখানো পথকে অনুসরণ করে গলা কাটাকাটিতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। সবকিছুকে মগের মুল্লুক ভাবলে তো তার পরিণতি ভোগ করতেই হবে। এই প্রশ্নগুলো কেউ প্যালেস্টাইন বা তার তথাকথিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের সামনে তুলে ধরে না। সবসময় সেই একই তথাকথিত ইসরায়েলি দখলদারী নীতির সমালোচনা আমরা করলেও প্যালেস্টাইন এবং তার তথাকথিত বন্ধু মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর এইসব ফ্যাসিস্ট নীতির সমালোচনা আমরা কখনই করি না। যেই মুসলিম ভাতৃত্ববোধের জোড়ে প্যালেস্টাইনের জনগণ আরব দেশগুলোকে ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ করার সম্মতি দিয়েছিল সেই মুসলিম ব্রাদাররা কেন ইয়োম কিপুর যুদ্ধের পরে ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজাকে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল? কেন একটা মিথ্যা মরীচিকার পিছনে ছুটিয়ে আরব দেশগুলো প্যালেস্টাইনের জনগণকে শেষ পর্যন্ত একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিল। সময় এসেছে আমরা যেন ইসরায়েলের তথাকথিত দখলদার নীতির মত একটা মিথ্যাকে নিয়ে সারাদিন না চেঁচিয়ে প্যালেস্টাইন এবং আরবদের ফ্যাসিস্ট নীতি নিয়ে সমালোচনা করি। কারণ ইসরায়েল প্যালেস্টাইনকে জোর করে দখল নয়, যুদ্ধের মাধ্যমে জয়লাভ করেছে এবং তা প্যালেস্টাইনের জনগণের কাছে ফেরতও দিয়েছে। তাই দখলদারিত্বের পয়েন্টে এসে প্যালেস্টাইনের সংগ্রামটি মুক্তিসংগ্রাম নয়।

২. মুক্তিসংগ্রামের আরো একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তা "সময়ের প্রয়োজনে" ঘটে। অর্থাৎ মুক্তিসংগ্রামে জড়িত কোন একটা দেশ শত্রুমুক্ত হয়ে গেলে তার মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। আপনার দেশ স্বাধীন হবার পরে আপনি আবার সেই শত্রু দেশটিকে পালটা আক্রমণ করার বৈধতা পান না। যদি তা ঘটে তাহলে সেটা মুক্তিসংগ্রাম থেকে সাম্রাজ্যবাদে রূপ লাভ করে। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে আবারো টেনে আনা যেতে পারে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পর থেকেই আমাদের মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। আমরা কিন্তু আবার পাকিস্তানকে পালটা আক্রমণ করি নি বা তাদের মত করে গণহত্যা আর গণধর্ষণে মেতে উঠিনি। বরং এখন পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানে খেলতে যায়। ভারতবর্ষের মুক্তিসংগ্রামের ক্ষেত্রেও একই বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। এখন কি ভারতীয়রা তাদের উপর চালানো ব্রিটিশদের শোষণ আর নিপীড়নের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বর্তমান ব্রিটিশদের উপর বোমা হামলা চালাচ্ছে? এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে বাংলাদেশ বা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সাথে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার প্রাসঙ্গিকতা কোথায় যেখানে প্যালেস্টাইন তার স্বাধীনতাই পায়নি। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা খুব কঠিন কিছু না যদি ২০০৫ সালে গাজা থেকে ইহুদি সেটেলমেন্ট প্রত্যাহারের ইতিহাস আপনার জানা থাকে। এই ইহুদি জনবসতি প্রত্যাহার প্যালেস্টাইনের জনগণের হাতে তাদের স্বাধীনতা পাবার এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছিল যা আগামী ৫০ বছরেও আসবে কিনা সন্দেহ। তারা চাইলে গাজাকে একটি সভ্য অঞ্চলে পরিণত করে পুরো বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে পারতো যে ইসরায়েলের সেটেলমেন্টই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার পথে প্রধান বাধা। ফলে ইসরায়েল কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়তো যা ওয়েস্ট ব্যাংক তথা পুরো প্যালেস্টাইনকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যেত। কিন্তু গাজার জনগণের কাছে স্বাধীনতা তো মুখ্য নয়, মুখ্য হচ্ছে ইহুদি জাতির ধ্বংস। ইহুদিদের প্রতি প্রবল ঘৃণা তাদের ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন হামাসকে ক্ষমতায় আনতে ধাবিত করে। ফলাফল যা হবার তাই হল। পতঙ্গরা যেমন মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আগুনে ঝাপ দেয় একইভাবে গাজার জনগণও সব জেনেবুঝেই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে। ইসরায়েলের সিভিলিয়ানদের লক্ষ্য করে ছোঁড়া হামাসের একেকটা রকেট যেন প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার কফিনে একেকটা পেরেক ঠুকতে থাকে। অর্থাৎ এখানে পরিষ্কার যে ইসরায়েল প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা মেনে নিলেও প্যালেস্টাইন ইসরায়েলি সিভিলিয়ানদের লক্ষ্য করে তার হামলাগুলো অব্যাহত রাখবে যা মুক্তিসংগ্রামের বৈশিষ্ট্য নয়। কারণ প্যালেস্টাইনের জনগণকে আসলে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নয়, কোন মধ্যযুগীয় মতাদর্শ ইসরায়েলের ধ্বংসকার্যে অনুপ্রাণিত করছে। বুদ্ধিমান পাঠকরা আশা করি আমার ইশারাটি ধরতে পেরেছেন। এই পয়েন্টে এসেও প্যালেস্টাইনের সংগ্রামকে তাই মুক্তিসংগ্রাম বলা যাচ্ছে না।

৩. এই পয়েন্টটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যার ধারণা লেখাটির প্রথম অংশে কিছুটা দিয়েছি। অনেক জানাশোনা শিক্ষিত স্কলাররাও এই পয়েন্টটিকে গুলিয়ে ফেলেন। আর তা হল মুক্তিসংগ্রাম আর সন্ত্রাসবাদ। বর্তমানে ধূর্ত মুসলিম থেকে শুরু করে অনেক অমুসলিম বামপন্থী এবং তথাকথিত মানবতাবাদীরাও জেনে অথবা না জেনে এই কাজটি করে সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করেন। তারা বলেন যে মুক্তিসংগ্রাম এবং সন্ত্রাসবাদ আপেক্ষিক। অর্থাৎ তারা বুঝাতে চান যে দুটি প্রতিপক্ষের মাঝে এক প্রতিপক্ষের কাছে যেটা মুক্তিসংগ্রাম অপর প্রতিপক্ষের কাছে সেটাই সন্ত্রাসবাদ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভারত যাকে স্বাধীনতা সংগ্রাম বলতো ব্রিটেনের কাছে সেটাই ছিল সন্ত্রাসবাদ। কিন্তু আসলেই কি মুক্তিসংগ্রাম আর সন্ত্রাসবাদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই? অবশ্যই আছে। মুক্তিসংগ্রাম প্রতিপক্ষের নিরস্ত্র বেসামরিক জনগণের জানমালের কোনপ্রকার ক্ষতিসাধন না করে( হলেও তা অনাকাঙ্ক্ষিত) শুধুমাত্র প্রতিপক্ষের সসস্ত্র সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় ঠিক সেই সময় পর্যন্ত যে সময়টিতে তারা তাদের স্বাধীনতা অর্জন করে। অপরদিকে সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদ কোন একটি গোষ্ঠীর নিজস্ব মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাধারণ নিরস্ত্র সিভিলিয়ানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় জিম্মি, বোমা হামলা, হত্যা প্রভৃতি ধংসাত্মক কর্মকান্ড ও ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি অনেকেই ধরতে না পেরে ইসরায়েলি সিভিলিয়ানদের লক্ষ্য করে হামাসের রকেট আর বোমা নিক্ষেপকে তাদের মুক্তিসংগ্রাম ধরে নিয়ে জাস্টিফাই করেন। একইরকম জাস্টিফিকেশন আমরা কোন নাইটক্লাব বা কনসার্টে তান্ডব চালানো ইসলামিক জিহাদিদের ক্ষেত্রেও দেখি। এইসব জিহাদিরা নাকি সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, ইরাকে চালানো পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের মুক্তির জন্য লড়াই করছে! কি অদ্ভুত যুক্তি! প্রথমত এটা কোন মুক্তিসংগ্রামের ধরণ নয় আর দ্বিতীয়ত একই যুক্তিতে তাহলে আমরা হিরোশিমা, নাগাসাকিতে জাপানি গণহত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দলে দলে জাপানি সুইসাইড বম্বার কেন দেখিনি বা দেখিনা? তারাও তো চাইলে হিরোশিমার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সাধারণ আমেরিকানদের উপর এখন বোমা আর গুলি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে পারে। আসলে দুরাত্মার ছলের যেমন অভাব হয় না তেমনি অজুহাতেরও অভাব হয়না। প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোও আসলে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার জন্য নয়, ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এইসব সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসবাদের কিছু উদাহরণ এখানে দেওয়া প্রয়োজন।

প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসঃ
ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের ইতিহাস যারা একদম শুরু থেকে জানেন তারা একটা বিষয় নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে প্যালেস্টাইনের জনগণের হয়ে লড়াই করেছিল মিশর, সিরিয়া, জর্ডানের মত আরব দেশগুলো। এই অধিকার তারা কোথায় থেকে পেলো? মানে তারা বড়জোড় প্যালেস্টাইনকে যুদ্ধে সহায়তা করতে পারে কিন্তু যুদ্ধটা আসলে প্যালেস্টাইনকেই করতে হতো। অথচ আমরা ইসরায়েল আর আরবদের মাঝে যে তিনটি বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয় সেখানে প্যালেস্টাইনের কোন সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাই না। আসলে তারা সংশ্লিষ্ট হবেই বা কিভাবে? তখন প্যালেস্টাইন নামে তো কোন দেশই তৈরি হয় নি। অর্থাৎ তখনো তাদের মাঝে কোন স্বাধীনতার ধারণাই জন্ম নেয় নি। আরব দেশগুলো যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল তারা প্রত্যেকেই প্যালেস্টাইনের বিভিন্ন অংশকে নিজেদের বলে দাবী করতো। যেমন- ওয়েস্ট ব্যাংককে জর্ডান, গাজাকে মিশর আর গোলান হাইটসকে সিরিয়া নিজেদের অংশ বলে দাবী করতো এবং ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের আগ পর্যন্ত প্যালেস্টাইনের এই অঞ্চলগুলো আসলে তাদের দখলেই ছিল। তাহলে এখানে সম্পূরক প্রশ্ন এসে যায়, প্যালেস্টাইনকে আসলে কারা দখল করেছিল- ইসরায়েল নাকি আরবরা? ইতিহাস ঘাটলে তো এখানে আরবদেরই দখলদার বলে মনে হচ্ছে।
প্যালেস্টেনীয়দের মাঝে স্বাধীনতার ধারণা আসলে তখনই জন্ম লাভ করে যখন আরবরা ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে। প্যালেস্টাইনের জনগণ তাদের আরব প্রভুদের জেতার অপেক্ষায় ছিল। জেতার পরে আরবরা যদি খুশি হয়ে কিছু ভিক্ষা দেয় তো ভালো, না দিলেও সমস্যা নেই। অন্তত আরবদের গোলামী আর চাকরামি তো করা যাবে। ইহুদিদের সাথে মিলেমিশে বসবাসের চেয়ে আরব মুসলিম ভাইদের জুতা চাটাও অনেক গৌরবের বিষয় তাদের কাছে। সেটা যখন হলই না তখন আর কি করা! গলা কাটাকাটি করে কিছু করা যায় কিনা দেখা যাক। সেই লক্ষ্যে মিশরীয় বংশোদ্ভূত ইয়াসির আরাফাত ১৯৫৯ সালে ফাতাহ নামের একটি গেরিলা সন্ত্রাসী দল তৈরি করে। এখন ভিতরে যাই থাকুক উপরে তো একটা ভদ্রস্থ চেহারা থাকতে হবে। প্যালেস্টেনীয় তথা আরবরা নাহয় গলা কাটাকাটিতে অভ্যস্ত কিন্তু সভ্য বিশ্ব তা কেন মেনে নিবে। তাই তাদের অন্তরের ইহুদি বিদ্বেষকে আড়াল করার জন্য তথাকথিত মুক্তিসংগ্রাম এর নাম দিয়ে ১৯৬৪ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন(পিএলও) গঠিত হয় এবং ফাতাহ তার সাথে যুক্ত হয়। ১৯৬৮ সালে তারা বিমান অপহরণের মাধ্যমে তাদের সন্ত্রাসবাদকে উদ্বোধন করে। এরপর পিএলও এবং ফাতাহর সরাসরি হস্তক্ষেপে প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসীরা ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে অংশ নেওয়া ১১ জন ইসরায়েলি অ্যাথলেটকে জিম্মি করে হত্যা করে। এই ট্র্যাজেডির মাধ্যমে তাদের মুক্তিসংগ্রামের উপরও কালিমা লেপন হয়ে যায়। একটা দেশের খেলোয়ারদের মত বেসামরিক নাগরিকদের জিম্মি এবং তাদের হত্যা করাটা কোনভাবেই মুক্তিসংগ্রাম নয় বরং সন্ত্রাসবাদ। পালটা প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলও প্যালেস্টাইনের সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করতে পারতো। সেটা না করে পরবর্তীতে শুধু এই হত্যাকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্টদের ইসরায়েল বিভিন্ন দেশে খুঁজে বের করে হত্যা করে। এরপরে ১৯৮৭ সালে শেখ আহমেদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের অঙ্গসংগঠন হামাস গঠিত হয় যার মূল মতাদর্শ ইসলামিক জিহাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। অনেকে আবার হামাসের প্রতিষ্ঠার পিছনে ইসরায়েলি যোগসাজশও আবিষ্কার করে যা অনেকটাই আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠার পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত খুঁজে বের করার মত ব্যাপার। যদিও হামাস বা আল-কায়েদা যখন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে শত শত সাধারণ নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করে তখন ইহুদি-নাসারা নয় বরং বিশ্বজুড়ে মুসলিমদেরই উল্লাস করতে দেখা যায়। যেহেতু এইসব সন্ত্রাসী দলগুলোর প্রতিষ্ঠাতা থেকে শুরু করে সদস্য পর্যন্ত সবাই মুসলিম সুতরাং এদের দায় অবশ্যই মুসলিমদেরই নিতে হবে। এদেরকে কারা অস্ত্র যোগান দিচ্ছে বা কোন কোন অমুসলিমরা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য এদের প্রতিষ্ঠালগ্নে সাহায্য করেছে সেসব টেনে এনে মুসলিমরা এদের দায় এড়াতে পারে না।
এরপরে ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে ইসরারেলি প্রধানমন্ত্রী ইতঝাক রাবিন ও ইয়াসির আরাফাত অসলো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন যাতে প্যালেস্টাইনের জন্য সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়ার শর্ত ছিল। এর বিনিময়ে ইসরায়েলের জন্য প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা মেনে নেওয়ার শর্ত ছিল। তবে এই চুক্তি কেবল কাগজের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, বাস্তবিকতার মুখ দেখেনি। অনেকে আবার এই অসলো চুক্তিটিকে ঘিরে আরাফাতের গোপন অভিলাষের কথা বলেন যার মূল বক্তব্য হল আরাফাত এই পুরো চুক্তিটিকে ইসলামিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হুদায়বিয়া চুক্তির সাথে তুলনা করেছিলেন যেখানে মুসলিমরা কুরাইশদের সাথে করা চুক্তিটিকে পরবর্তীতে ঠুনকো অজুহাতে ভঙ্গ করেছিল। লেখাটিকে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রভাবমুক্ত রাখার প্রয়াস থেকে আমি সেই প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। আরাফাতের ধর্ম যদি সেরকম কোন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অনুমোদন দেয়, তাহলে আরাফাত যে তা করবে সেটাই স্বাভাবিক। ১৯৯৪ সালে ৮ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক হত্যার মাধ্যমে হামাস তাদের প্রথম আত্মঘাতী বোমা হামলা শুরু করে। এরপরে ২০০০ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক মারা যায়। ২০০৫ সালে গাজা থেকে ইসরায়েলি জনবসতি প্রত্যাহারের ঠিক একবছরের মাথায় ফাতাহ ও পিএলওকে হটিয়ে হামাস গাজার ক্ষমতায় আসে এবং গাজায় ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করে। সাথে সাথে ইসরায়েলি সিভিলিয়ানদের লক্ষ্য করে তাদের রকেট আর আত্মঘাতী বোমা হামলাও তড়তড় করে বাড়তে থাকে। এই কাজে তাদেরকে সহায়তা করে ইরানের আশীর্বাদপুষ্ট লেবাননভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হেজবুল্লাহ। ইসরায়েলের যাত্রীবাহী বাস আর যানবাহনগুলোই ছিল হামাসের প্রধান লক্ষ্য। এগুলোতে যা হতাহত হয়েছে তা বললে সেটা হবে কেবলই একটা পরিসংখ্যান, লেখাটির মূল বিষয়বস্তু প্রাধান্য পাবে না।এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে ফাতাহ ও পিএলও বর্তমানে ইসরায়েলকে বৈধ রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিলেও হামাস ইসরায়েলের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। এরপরে আরো অনেকবার হামাসের মত প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি হামলা চালিয়ে অসংখ্য ইসরায়েলি নাগরিকদের হত্যা করে। লেখাটির এই পর্যায়ে এসে হয়তো অনেকের কাছে একচোখা লাগতে পারে এই জন্য যে ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণে যে অসংখ্য সাধারণ প্যালেস্টেনীয় নাগরিক আর নিরপরাধ শিশু মারা গেছে, তাদের কি হবে। এখানে ইসরায়েলও তো সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে। -হ্যাঁ, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অনেক প্যালেস্টেনীয় সিভিলিয়ান মারা গেছে সত্য কিন্তু তা অনাকাঙ্ক্ষিত। কেন অনাকাঙ্ক্ষিত তা হামাস আর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আক্রমণের ধরণ বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ করে জনবসতি থেকে অনেক দূরে। অপরদিকে হামাস আক্রমন করে সাধারণ প্যালেস্টেনীয় জনগণের বসতি থেকে। বিশেষ করে নারী এবং শিশুদেরকে তারা এইসব অতর্কিত আক্রমণের ক্ষেত্রে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। হামলা চালানোর পরে তারা এইসব জনবসতিতে লুকিয়ে পড়ে। এখন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর কাছে আর কোন উপায় থাকে না এইসব প্যালেস্টেনীয় বসতিতে হামলা করে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা ছাড়া। হাজার হোক, নিজেদের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা সবার আগে। ইসরায়েল যদি প্যালেস্টাইনের সিভিলিয়ানদের কথা চিন্তা করে এইসব সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেয় তাহলে তারা আবার ইসরায়েলি সিভিলিয়ানদের টার্গেট করে রকেট আর বোমা নিক্ষেপ করবে। তাই ইসরায়েল যখন পাল্টা আক্রমণ চালায় তখন এইসব সন্ত্রাসীদের সাথে সাথে সাধারণ কিছু প্যালেস্টেনীয় সিভিলিয়ানও মারা যায়। তবে এইসব সিভিলিয়ানদের সবাই যে ধোয়া তুলসীপাতা তা কিন্তু না। এদের মাঝেও অনেক জিহাদী সিম্প্যাথাইজার আছে যারা মনে প্রাণে ইসরায়েলের ধ্বংস কামনা করে, শুধু অস্ত্রটা হাতে তুলে নিতে ভয় পায়। অনেকটা মডারেট মুসলিমদের মত। অর্থাৎ ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আর প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসীদের মাঝে যে সংঘাত হয় তাতে বেসামরিক নাগরিক উভয়পক্ষেই মারা যায়। পার্থক্য হলো প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসীরা তা করে জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে। প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসীরা যদি সত্যিই মুক্তিসংগ্রাম করতো তাহলে বাস, ক্যাফে বা পাবলিক প্লেসে এভাবে আত্মঘাতী বোমা হামলা করে বেসামরিক নাগরিকদের মারতো না। এই পয়েন্টে এসেই তাই প্যালেস্টাইনের সংগ্রামকে মুক্তিসংগ্রাম বলার কোন সু্যোগ নেই, বরং তাকে সন্ত্রাসবাদ বলাটাই যুক্তিযুক্ত। ঠিক এই কারণেই আমরা একজন ইজরায়েলি 'টেরোরিস্টকে' কমান্ডো আর প্যালেস্টাইনি 'কমান্ডোকে' টেরোরিস্ট বলি। মুক্তিসংগ্রাম আর সন্ত্রাসবাদও তাই আপেক্ষিক নয়।

এই পুরো সিরিজটি আমি ইসরায়েলি পয়েন্ট থেকে লেখার চেষ্টা করেছি ঠিকই কিন্তু কোন ইতিহাসকে বিকৃত করে নয়।লেখাটিতে আমি এমন সব ইতিহাসকে স্থান দিয়েছি যা ইসরায়েল বা প্যালেস্টাইন কোন প্রতিপক্ষই অস্বীকার করতে পারবে না। শুধু এই ইতিহাসের বিশ্লেষণগুলো যা এতদিন প্যালেস্টাইনের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা দেখেছি তার বিপরীত মেরুটা আমি আমার এই লেখায় দেখানোর চেষ্টা করেছি। লেখাটি শেষ করবো কিছু অপ্রিয় সত্যকে তুলে ধরার মাধ্যমে কারণ আমাদের সবসময় সত্যের পথেই থাকা উচিত তা যতই অপ্রিয় হোক না কেন। ইসরায়েলে ইহুদি এবং মুসলিমদের পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ান, বাহাই এবং আরো কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষও বাস করে। কিন্তু শুধু মুসলিমদের সাথেই ইহুদিদের ঝামেলা কেন বাধে তা বোঝা খুব একটা কঠিন কিছু না। কারণ মুসলিমদের এই সমস্যা শুধু ইহুদিদের সাথে নয়, তারা যেখানেই বসবাস করে(হোক সে স্থান ক্রিশ্চিয়ান সংখ্যাগরিষ্ঠ, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ বা বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ) সেখানেই তারা সমস্যা তৈরি করতে সিদ্ধহস্ত। বর্তমান পৃথিবীতে এ এক আশ্চর্য্যজনক এবং বহুল আলোচিত বিষয়। এমন তো না যে ক্রিশ্চিয়ানদের সাথে ইহুদিদের কোন দ্বৈরথের ইতিহাস নেই। বরং প্রথম ক্রুসেডের সময় যখন ক্রিশ্চিয়ানরা ইহুদিদের কচুকাটা করছিল তখন সুলতান সালাহউদ্দীন ইহুদীদের ত্রাণকর্তারূপে আবির্ভূত হয়েছিল। তখন ইহুদীরা বরং মুসলিমদের সাথে জোট বেঁধে ক্রিশ্চিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জেরুজালেমকে মুক্ত করেছিল। আজ এত শতাব্দী পরে ইহুদি আর ক্রিশ্চিয়ানরা তাদের পুরনো শত্রুতাকে ভুলে মিলেমিশে বসবাস করতে পারলেও মুসলিমরা কেন পারছে না তার উত্তর প্যালেস্টাইনের মুসলিমদেরই খুঁজে বের করতে হবে। প্যালেস্টেনীয় মুসলিমদের তাই ''মুসলিম ভাতৃত্ববোধ'' নামক মরীচিকার পিছনে না ছুটে ইসরায়েলের ইহুদিদের সাথে সমঝোতা আর শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বের করতে হবে। যখন সিরিয়ার মত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে মুসলিমরা শরণার্থী হয়ে সমুদ্রের দুর্গম পথকে পাড়ি দিয়ে অসহায়ের মত ইউরোপের পথে পা বাড়ায় আর সৌদি আরব, আরব আমিরাত বা কাতারের মত তৈলাক্ত অভিজাত মুসলিম দেশগুলো বিলাসিতার স্রোতে গা ভাসিয়ে কাঠের পুতুলের মত নির্বিকারভাবে আয়লান কুর্দিদের নিথর দেহের দিকে চেয়ে থাকে তখনই ''মুসলিম ভাতৃত্ববোধ'' এর অসারতা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। একইরকম উপলব্ধি প্যালেস্টাইনের মুসলিমদের মাঝেও আসা ছাড়া কোন পথ খোলা নেই। কারণ একমাত্র ইহুদি-মুসলিম সহাবস্থানই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা লাভের একমাত্র উপায়। আর সেই সহাবস্থানের জন্য ইসরায়েল অনেক আগে থেকেই তার হাত বাড়িয়ে রেখেছে। এখন প্যালেস্টাইন সেই হাতটি কবে ধরবে, তার জন্য বিশ্বের অগুণিত মানবতাবাদী অপেক্ষার প্রহর গুণছে। আশা করি, প্যালেস্টাইন সেই অপেক্ষাকে আর দীর্ঘায়িত করবে না......।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

আগের পর্বসমূহঃ
পর্ব-১
পর্ব-২

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

অত্যন্ত যৌক্তিক লেখা। ইহুদি জাতিরা কখনো সন্ত্রাসী ছিল এটা ইতিহাস বলেনা। বরং তারা সব সময় সন্ত্রাসের শিকার ।

আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার "বন্ধু" হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

ধন্যবাদ।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

লজিক্যাল বাঙালী ভাই, "ইহুদী" ঠিক কি অর্থে জাতি এটা যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন তাহলে উপকৃত হতাম। আর বর্তমান পৃথিবীতে সবচাইতে বড় ও আক্রমণাত্মক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি হচ্ছে একটি অশুভ ত্রয়ী - "আমেরিকা - ইসরায়েল - সৌদী আরব"...... ইহুদী রা হয়তো কখনই সন্ত্রাসী ছিলোনা, কিন্তু ইসরায়েল বরাবরই একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এটা ইসরায়েল এর বিবেকবান মানুষ ও বলে থাকেন।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

লেখাটির সবচাইতে আগ্রহ উদ্দীপক অংশ হচ্ছে - "তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট" এই অংশ টুকু। ভালো চেষ্টা, লেগে থাকুন, বাঙালী বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস সমৃদ্ধ হচ্ছে।

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

গোলাম সারওয়ার, বাঙালীর বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব আমি কাঁধে নেইনি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ টানা হয়, আমি শুধু সেগুলোকে খন্ডন করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আপনার যদি বাঙালীর বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার এতই তাগিদ থাকে আপনি সেটা আপনার একাডেমিক জ্ঞান দিয়ে করতে পারেন। তাতে বাঙালী যেমন উপকৃত হবে সাথে সাথে এই লেখাটিরই একটা রিবিউটাল তৈরি হয়ে যাবে।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

আরমান অর্ক, আপনার এই লেখার রিবিউটাল? সেটা কি প্রয়োজনীয়? তাহলে তো দুই লক্ষ কিম্বা ছয় লক্ষ রিবিউটাল লিখতে হবে। "ইসরায়েল - আমেরিকা - সৌদী" টাকায় লেখা এরকম লক্ষ লক্ষ প্রবন্ধ নানান ভাষায় অনলাইনে আছে, যেখানে প্যালেস্টাইন কে একটি সন্ত্রাসী দেশ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমি বলছিনা আপনার লেখাটি ওদের অর্থায়নে হয়েছে, কিন্তু লেখার চরিত্র টি একই। কেবল ভাষাটি বাঙলা।

কিন্তু ভাই, আমার পয়েন্ট কিন্তু সেটা ছিলোনা। আমি আপনার লেখার সবচাইতে আগ্রহ উদ্দীপক অংশ টুকু উল্লেখ করেছি মাত্র। আর কিছু নয়। প্লিজ চালিয়ে যান। ইসরায়েল সম্মন্ধে বাঙালী ভ্রান্ত ধারণা গুলোকে দূর করে দিন। বহু দূরে। বাংলা ব্লগের আর্কাইভ এই সকল লেখায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক।

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

এই যে আপনি আমার লেখার কমেন্টবক্সে এসে জবাব দিচ্ছেন, তাই ভাবলাম হয়তোবা সেটা প্রয়োজনীয় মনে করছেন। রিবিউটাল না হোক অন্তত বাঙালীর বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস থেকেও তা করতে পারেন। আমি বা যারা প্যালেস্টাইনকে সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছি সেটার পিছনে যুক্তিও দিয়েছি। এখন আপনার কাছে যদি পাল্টা যুক্তি থাকে তাহলে সেটা দিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দিন যে কেন প্যালেস্টাইন একটি সন্ত্রাসী দেশ নয়।
//"ইসরায়েল - আমেরিকা - সৌদী" টাকায় লেখা এরকম লক্ষ লক্ষ প্রবন্ধ নানান ভাষায় অনলাইনে আছে, যেখানে প্যালেস্টাইন কে একটি সন্ত্রাসী দেশ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।//- আপনি এরকম একটি লেখা আমাকে খুঁজে বের করা দেখান যেখানে বাংলাদেশ বা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের আলোকে প্যালেস্টাইনের মুক্তিসংগ্রামকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আর লেখার যে অংশটি আপনার কাছে আগ্রহ উদ্দীপক মনে হয়েছে, একইরকম আগ্রহ নিয়ে আমিও অপেক্ষা করছি যে কখন আমার লেখাটিতে যেসব তথ্যসূত্র দেওয়া হয়েছে তা ভুল প্রমাণ করার জন্য কেউ এগিয়ে আসবে। সেটা যেন না হয় তার জন্যই আমি এমন কিছু ইতিহাসকে বেছে নিয়েছি যা জানার জন্য এমন কোন হাতি-ঘোড়া মার্কা ঐতিহাসিক বই পড়ার প্রয়োজন না হয়। ইসরায়েল-আরব যুদ্ধ, মিউনিখ ম্যাসাকার, অসলো চুক্তি, গাজা থেকে ইহুদি সেটেলমেন্ট প্রত্যাহার, হামাসের সন্ত্রাসবাদ এগুলো খুব বেসিক ইতিহাস যা জানার জন্য ইন্টারনেটই যথেষ্ট। আপনার কাছে যদি তা যথেষ্ট মনে না হয়, তাহলে পাল্টা লেখা না হোক, অন্তত এই কমেন্টবক্সেই কিছু মূল্যবান মন্তব্য দিবেন আশা করি।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
ঘোগ এর ছবি
 

লেখোকরে এই মহান লেখার জন্য নুবেল প্রাইজ দেওয়ার জোড় দাবি জানাচ্ছি

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

না ভাই, নুবেল প্রাইজ পাওয়ার জন্য লেখাটি লিখি নাই। সেটা আপনাদেরই প্রাপ্য যারা সারাদিন ইসরায়েলকে গালমন্দ করে গলা শুকিয়ে ফেলেন অথচ প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসবাদকে মুক্তিসংগ্রাম আখ্যা দিয়ে বোমাবাজি, গলা কাটাকাটিকে জাস্টফাই করেন।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

আপনি "ইতিহাস কে বেছে" নেন নাই। আপনি যেটা বেছে নিয়েছেন আপনার লেখার সুত্র হিসাবে তাঁকে বলে "ন্যারেটিভ" বা বয়ান। শক্তিমানের বয়ানগুলোকেই আপনি বাঙলায় প্রচার করছেন। এবং আমি কিন্তু আপনার এই শক্তিমানের বয়ান প্রচারের বিরোধিতা করছিনা। আমি শুধু বলছি, আপনি শক্তিমানের বয়ানটিকেই বাঙলায় প্রচার করছেন, যা করার ১০০ ভাগ অধিকার আপনার আছে।

আর আপনার কাছ থেকে আমি বয়ানের বাইরে কিছু আশাও করিনা কারণ আপনার নিকট ইতিহাসের পুস্তকগুলো "হাতি-ঘোড়া মার্কা" পুস্তক, তার চাইতে অনেক সহজ ইন্টারনেট এ ড্যানিয়েল পাইপ ধরনের ওয়েবসাইট থেকে মাল - মসল্লা জোগাড় করা। সুতরাং আপনি সঠিক কাজটিই করেছেন। অতিশয় সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

আপনার এই কাজের জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

গত পর্বের মতই একই ত্যানা পেচানো আপনি শুরু করেছেন। মিউনিখ ম্যাসাকার তাহলে বয়ান? গাজা থেকে ইহুদি সেটেলমেন্ট প্রত্যাহার তাহলে বয়ান? হাসালেন ভাই। দুদিন পরে হয়তো পুরো ইসরায়েলকেই ইতিহাসের বয়ান বলবেন। আর ইতিহাসের বয়ান হলেই বা সমস্যা কোথায়? বয়ান যদি সঠিক হয়, তার মাঝে যদি বস্তুনিষ্ঠতা থাকে তাহলে আমরা তা গ্রহণ করবো না কেন? আপনার কাছে যদি সেই বয়ান অসত্য, বিভ্রান্তিকর বলে মনে হয়, আপনি তাহলে সব না হোক অন্তঃত এক থেকে দুইটা বয়ানকে তো খন্ডন করতে পারেন। আপনার কাছে আগের কমেন্টে প্রমাণ চেয়েছি যে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের আলোকে প্যালেস্টাইনের মুক্তিসংগ্রামকে বিশ্লেষণ করে যে লেখাটি আমি লিখেছি তার মত লেখা ইন্টারনেটে কোথায় আছে তা দেখাতে। সেটা তো দেখালেনই না আবার উলটো আরেকটা অভিযোগ তুলছেন। এখন আসলে বয়ান ঝাড়ছেন আপনি। তার সাথে আমার এখন মনে হচ্ছে যে আপনি নিজেই আপনার উল্লেখিত একাডেমিক লেখকদের লেখা পড়েননি বা পড়লেও আমার যুক্তিগুলোকে খন্ডন করার মত যথেষ্ট মাল- মশলা পাননি।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

আপনার লেখাটি অকাট্য যুক্তিতে ভরপুর। এই লেখার যুক্তিগুলোকে খন্ডানো আমার মত গন্ড অশিক্ষিত মানুষের পক্ষে তো দূরের কথা খোদ নোয়াম চমস্কি'র ও ক্ষমতার বাইরে।

 
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
 

ঢালাও প্যালেস্টাইনিদের বিপক্ষে বলা হয়েছে। ইসরায়েলিদের আমার তাদের বুদ্ধিমত্তার কারণে ভালোলাগে। কিন্তু তাদের মধ্যেকার যেকোনো সংঘাতে সামরিক হতাহতের হিসাব বাদে বেসামরিক মানুষ হতাহতের হিসেব নিয়ে দেখেন, ১ জন ইসরাইলীর বিপরীতে অন্তত ১০ জন প্যালেস্টাইনি মারা গেছে। যারা মারা গেছে তাদের বেশিরভাগই নারী এবং শিশু।

একটা পোস্ট পড়েন সামহোয়্যার ইন ব্লগের, ফিলিস্তিনিদের ওরা কোন পর্যায়ে দেখতে চায় এই সামান্য ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ আপনাকে হয়তো অন্য উপলব্ধি দেবে। একটা জাতির নতুন প্রজন্মের আচরণ সম্পূর্ণ পাল্টে যায় যখন তারা ছোট থেকেই সহিংসতা দেখে বড় হয়। যখন জাতি হিসেবে তাদের সামনে এগুবার সকল পথ শুরুতেই নষ্ট করে দেয়া হয়।

এখানে ক্লিক করুন

মরতে মরতে ভুল হয়ে যাবে, শেষ নিঃশ্বাসে রয়ে যাবে পাপ। আমি তো নাদান, আমি যে বান্দা খারাপ...

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

আমি অথবা অন্য কেউ, আপনার মন্তব্যতে কোন ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ নেই দেখে ভালো লাগলো। ধরেন, আমি ঢালাওভাবেই প্যালেস্টাইনিদের বিপক্ষে বলেছি। কিন্তু আমি কি বানিয়ে বানিয়ে ঢালাওভাবে বলেছি। প্যালেস্টাইনি জনগণকে তো স্বাধীনতা পাবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তখন তারা মুখ ফিরিয়ে কেন নিল? তারপরেও এই পরিস্থিতি এতোটা জটিল হতো না যদি না তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতো। সেই যুদ্ধগুলোতে জেতার পরেও ইসরায়েল প্যালেস্টাইনের জনগণকে গাজা এবং ওয়েস্ট ব্যাংককে ফেরত দেয় যেন তারা তাদের নিজেদের মত করে প্যালেস্টাইনকে স্বাধীন করতে পারে। এর বিনিময়ে তারা ইসরায়েলি এ্যাথলেটদের হত্যা করে, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে তাদের সন্ত্রাসবাদ চালাতে থাকে। এখন পৃথিবীতে কোন দেশটা আছে এরকম নিমকহারামী মেনে নিবে? ইসরায়েলের ভূখন্ডের উপর তো ইহুদিদেরও অধিকার আছে। আর ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে প্যালেস্টাইনি নিরপরাধ নারী শিশুদের হত্যার কথা তো আমি অস্বীকার করি নি। ইসরায়েলিদের মাঝেও সন্ত্রাসী আছে। কিন্তু তার কিছু কারণও আমি এই লেখাটিতে বলেছি। হামাস প্যালেস্টাইনিদের জনবসতি থেকে রকেট নিক্ষেপ করার কারণেই মূলত এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যেসব প্যালেস্টাইনি বাস করে তারা তো এরকম নির্মমতার স্বীকার হয় না। এমনকি ওয়েস্ট ব্যাংকে যেসব প্যালেস্টাইনি বাস করে তারাও ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে খুব কম মারা যায়। কিন্তু গাজাতে এরকম হতাহতের সংখ্যা বেশি কেন হয়? তার কারণ হল হামাস। আর আমি আপনার সাথে সহমত যে একটা জাতির নতুন প্রজন্মের আচরণ সম্পূর্ণ পাল্টে যায় যখন তারা ছোট থেকেই সহিংসতা দেখে বড় হয়। তাই বলে কি ইসরায়েলি সিভিলিয়ানদের হত্যা করার বৈধতা তারা পেয়ে গেল? ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তো আরো বড় ছিল। আমরা কেন তখন ভারতীয়দের মাঝে এরকম সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের টার্গেট করা ভারতীয় জঙ্গি পাইনি? পৃথিবীর অসংখ্য মানবতাবাদীদের মত আমিও প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা চাই, কিন্তু সেটা হামাস বা হেজবুল্লাহর মত জঙ্গি দলগুলোর সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে নয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুখোমুখি বীরের মত যুদ্ধ করে যদি তারা তাদের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে তাহলে তাদের স্বাধীনতার প্রতি একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমার আগাম শুভেচ্ছা থাকলো।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

ইসরাইলি যে আক্রমন করে তাকেই ইসরাইল করে। বাংলাদেশকে ইসরাইল আক্রমন করেনা।

আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার "বন্ধু" হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
 

আচ্ছা, ধরেন আমেরিকা অনেক শক্তিশালী। সে যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো এবং যুদ্ধে জিতে সেই দেশ দখল করে নিলো। স্থানীয় অধিবাসীদের তাড়িয়ে দিয়ে আমেরিকার মূল ভূখন্ড থেকে এনে নতুন দেশ বানিয়ে দিলো। সেটা কি অন্যায় হবেনা?

একটা দেশ কখনো বড় শক্তির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বানানো যায়না, তা অন্যায় হয়। ১৯২০ সালে বেলফুর ঘোষণার সময় কিংবা ১৯৪৬-৪৭ সালেই আপনি বর্তমান ইস্রায়েল সহ প্যালেস্টাইন ভূখন্ডে ইহুদী মুসলমান এবং ক্রিশটানদের শতকরা হারের হিসেব করে দেখেন। তারা সেখানে কোনোক্রমেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল না। যদি কোন রাষ্ট্র গঠিত হতেই পারে, তা সবাইকে নিয়ে একক রাস্ট্র হতে পারতো, লেবানন যেমন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলে যতজন ইহুদী ছিল, ১৯৫৮ সালে তার থেকে অন্তত ৩ গুণ ইহুদী চলে আসে পৃথিবীর নানাদেশ থেকে। এদের কারো মাতৃভূমি ইসরায়েল বা প্যালেস্টাইন ছিলনা। আপনি বাংলাদেশের পাহাড়ে বাঙালির সেটেলমেন্ট মানবেন না একই দেশের অংশ হয়েও (ধরে নিচ্ছি আপনি পাহাড়িদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল), কিন্তু ইহুদীদের বেলায় কেন মানবেন বলেন? ওরা তো সেই ভূমিরও কেউ না। ইসরায়েল বা প্যালেস্টাইন ভূখন্ডে যদি তাদের চাপালে স্থানীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবদের প্রতিবাদ যৌক্তিক। আর এমন প্রতিবাদের সময় সমাজের নানা অংশ থাকে, একেকদলের আচরণ একেকরকম হয়। যেই ফিলিস্তিনী তার ভূমি হারিয়েছে, বাপ ভাই হারিয়েছে তার মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা থাকবে, যে সেভাবে কিছু হারায়নি, সে অন্যভাবে ভাবতেও পারে।

যুদ্ধে ইসরায়েল কেন জিতেছিল তাও সবার জানা। আমেরিকান সাপোর্ট, ব্রিটিশ সাপোর্ট। কেউ কারো দলে থাকতেই পারে, কিন্তু সমর্থন যখন নগ্ন হয় তখন সেটা খারাপ। সবাই জানে ইসরায়েল এটমিক বোম বানিয়েছে, মিসাইল প্রোগ্রাম অনেক ভালো। সব জানবার পরেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবরোধ হবে না। ইরান, ইরাক কিংবা সিরিয়ার পারমানবিক কর্মসূচী বিমান হামলায় ধ্বংস করে দিলেও নিন্দা জানাবেনা। শত্রু হোক আর মিত্র, জাতি হিসেবে ভালো হোক আর খারাপ, অন্যদেশে বিমান হামলা মানেই যুদ্ধ ঘোষণার সামিল। আমার সামান্য বিবেচনা বলে যদি ইসরায়েলের এটমিক বোম থাকে, এবং সেটা জেনেও কেউ কথা না বলে কিন্তু কোরিয়া, ইরান, ইরাককে নিয়ে লাফালাফি করে, তা হিপোক্রেসি হয়। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে সব রাষ্ট্রেরই সমান অধিকার আছে।

মুখোমুখি লড়াইয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা আনবার কথা বললেন তো। ইসরায়েলকে অস্ত্র দেয় ব্রিটেন, আমেরিকা। সামান্য একটা শিশুও জানে প্রথাগত যুদ্ধে ইসরায়েলকে হারানো প্যালেস্টাইনীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর যা বাকী থাকে তা হচ্ছে গেলিরা যুদ্ধ, চোরাগোপ্তা হামলা। এসবে সাধারণত সেনাদের চেয়ে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধও এর বাইরে ছিলনা।

আমেরিকা, ব্রিটেন যদি চাইতো সমস্যার সমাধান হোক, তবে অনেক আগেই হয়ে যেতো। কিন্তু হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে সমস্যা জিইয়ে রাখলে আমেরিকা সহ অন্যান্য পরাশক্তিদের অনেক ফায়দা। অস্ত্র ব্যবসা, তেল ব্যবসায় প্রভাব বজায় থাকে। সম্ভবত এ কারণেই তারা কখনো ইসরায়েলকে স্বাধীন প্যালেস্টাইন মেনে নিতে বাধ্য করবে না। দখলকৃত ভূমিও আরবেরা আর কখনো ফেরত পাবেনা।

মরতে মরতে ভুল হয়ে যাবে, শেষ নিঃশ্বাসে রয়ে যাবে পাপ। আমি তো নাদান, আমি যে বান্দা খারাপ...

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

আচ্ছা, ধরেন আমেরিকা অনেক শক্তিশালী। সে যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো এবং যুদ্ধে জিতে সেই দেশ দখল করে নিলো। স্থানীয় অধিবাসীদের তাড়িয়ে দিয়ে আমেরিকার মূল ভূখন্ড থেকে এনে নতুন দেশ বানিয়ে দিলো। সেটা কি অন্যায় হবেনা?

অবশ্যই অন্যায়। কিন্তু যুদ্ধ তো ইসরায়েল শুরু করে নি, করেছিল প্যালেস্টাইন তথা আরব দেশগুলো। আর ইসরায়েল রাষ্ট্র তো প্রতিষ্ঠা হয়েছিল জাতিসংঘের ভোটের মাধ্যমে। কাজেই আপনার উদাহরণটি ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এখন ছয় দিনের যুদ্ধের পরে প্যালেস্টাইনের অঞ্চলগুলো জেতার পরে ইসরায়েল যদি গাজা বা ওয়েস্ট ব্যাংককে নিজেদের দখলে রেখে দিতো তাহলে আপনার যুক্তিটি খাটতো। কিন্তু জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী ইসরায়েল এই এলাকাগুলোকে প্যালেস্টাইনের জনগণের কাছে ফেরত দিয়েছে। বিশেষ করে গাজা তো এখন পুরোপুরি প্যালেস্টাইনি জনগণ কন্ট্রোল করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও আপনার উদাহরণটি প্রযোজ্য নয়। সবচাইতে ভালো হয় আপনি সময় নিয়ে পুরো সিরিজগুলো আরেকবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েলে যতজন ইহুদী ছিল, ১৯৫৮ সালে তার থেকে অন্তত ৩ গুণ ইহুদী চলে আসে পৃথিবীর নানাদেশ থেকে। এদের কারো মাতৃভূমি ইসরায়েল বা প্যালেস্টাইন ছিলনা।

তাদের পূর্বপুরুষদের তো ছিল। ইসরায়েল বিশেষ করে জেরুজালেম আর ইহুদি জাতি দুটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধরেন আজকে সৌদি আরব দখল করে কোন পশ্চিমা দেশ স্থানীয় সৌদি মুসলিমদের তাড়িয়ে দিলো গায়ের জোরে। তবু কিন্তু সৌদিসহ পুরো মুসলিম জাহানের সৌদি বিশেষ করে মক্কা-মদিনার উপর অধিকার থেকেই যাবে। ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও ঠিক একই বিষয়টিই ঘটেছে। আর এইসব ইহুদিরা তো জোর করে সব স্থানীয় প্যালেস্টাইনিদের তাড়িয়ে দিয়ে ইসরায়েল দখল করে নি। এইসব ইহুদিরা স্থানীয় প্যালেস্টাইনিদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে জমি কিনে তাদের বসতি স্থাপন করে। আপনি প্রথম পর্বটি পড়তে পারেন।

আপনি বাংলাদেশের পাহাড়ে বাঙালির সেটেলমেন্ট মানবেন না একই দেশের অংশ হয়েও (ধরে নিচ্ছি আপনি পাহাড়িদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল), কিন্তু ইহুদীদের বেলায় কেন মানবেন বলেন? ওরা তো সেই ভূমিরও কেউ না। ইসরায়েল বা প্যালেস্টাইন ভূখন্ডে যদি তাদের চাপালে স্থানীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবদের প্রতিবাদ যৌক্তিক।

ভাই গাজাতে তো কোন ইহুদি সেটেলমেন্টই নেই। গাজা পুরোপুরি মুক্ত। শুধু হামাস তার সন্ত্রাসবাদকে বন্ধ করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ওয়েস্ট ব্যাংকে কিছু ইহুদি সেটেলমেন্ট আছে বটে কিন্তু গাজার পরিণতির কথা চিন্তা করে ইসরায়েল আবার একই ভুল করতে চাচ্ছে না। সবকিছুই এখন আসলে হামাসের হাতে। আর ইহুদিরা এই ভূমির কেউ না- আপনাকে কে বললো। ইসরায়েল তথা পুরো প্যালেস্টাইনের সাথে ইহুদিদের বন্ধন তিন হাজার বছরেরও বেশি। আর জেরুজালেমে তো সবসময়ই ইহুদিরা ছিল। এছাড়া আপনি কি জানেন ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময়ে আরব মুসলিম দেশগুলো থেকে সাড়ে আট লাখ ইহুদি বিতাড়নের স্বীকার হয়ে ইসরায়েলে অভিবাসী হয়েছিল। এইসব ইহুদিদের তাহলে তাদের মাতৃভূমিতে ফেরার সুযোগ কেন ঐসব আরব দেশগুলো দিচ্ছে না? এমনকি মদিনা একসময় ইহুদিদের শহর ছিল, আর আজ সেখানে তাদের প্রবেশই নিষেধ। ইহুদিরা হল আরবের ভূমি সন্তান, তারা বহিরাগত নয়।

যুদ্ধে ইসরায়েল কেন জিতেছিল তাও সবার জানা। আমেরিকান সাপোর্ট, ব্রিটিশ সাপোর্ট। কেউ কারো দলে থাকতেই পারে, কিন্তু সমর্থন যখন নগ্ন হয় তখন সেটা খারাপ।

আমি জানি না আপনি লেখাটি পড়েছেন কিনা। ইসরায়েলকে যদি আমেরিকা, ব্রিটেন সহায়তা দিয়ে থাকে তাহলে প্যালেস্টাইনকে সহায়তা দিয়েছিল মিশর, সিরিয়া, জর্ডানের মত আরব দেশগুলোসহ সোভিয়েত ইউনিয়ন। সবচাইতে বড় কথা যুদ্ধ তো ইসরায়েল শুরু করে নাই। এখন শুরু করার পর কে ইসরায়েলকে সহায়তা দিচ্ছে তা নিয়ে কান্না করাটা হাস্যকর।

সামান্য একটা শিশুও জানে প্রথাগত যুদ্ধে ইসরায়েলকে হারানো প্যালেস্টাইনীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর যা বাকী থাকে তা হচ্ছে গেলিরা যুদ্ধ, চোরাগোপ্তা হামলা। এসবে সাধারণত সেনাদের চেয়ে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধও এর বাইরে ছিলনা।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও গেরিলা হামলাটা ছিল পাকিস্তানী সসস্ত্র সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। প্যালেস্টাইন গেরিলা হামলাই করুক, কিন্তু সেটা যেন করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। সিভিলিয়ানদের উপর হামলা কোন অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য নয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যদি এমনটা ঘটতো তাহলেও আমার এবং সভ্য বিশ্বের বক্তব্য একই হতো।

আমেরিকা, ব্রিটেন যদি চাইতো সমস্যার সমাধান হোক, তবে অনেক আগেই হয়ে যেতো। কিন্তু হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে সমস্যা জিইয়ে রাখলে আমেরিকা সহ অন্যান্য পরাশক্তিদের অনেক ফায়দা। অস্ত্র ব্যবসা, তেল ব্যবসায় প্রভাব বজায় থাকে। সম্ভবত এ কারণেই তারা কখনো ইসরায়েলকে স্বাধীন প্যালেস্টাইন মেনে নিতে বাধ্য করবে না। দখলকৃত ভূমিও আরবেরা আর কখনো ফেরত পাবেনা।

একুশ শতকের প্রেক্ষিতে আপনার এই বক্তব্য অনেকটাই সঠিক। সেই কারণেই তো আমি এখনো প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা যারা চায় তাদের দলে। তবে এখনো সম্ভব। কারণ গাজা ইতোমধ্যেই মুক্ত, ওয়েস্ট ব্যাংকও পুরোপুরি ইসরায়েলি সেটেলমেন্ট মুক্ত হতে পারে শুধুমাত্র হামাসের সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হয়ে গেলেই। কিন্তু ইসরায়েলের জন্মলগ্নে প্যালেস্টাইন যে ভুল করেছিল সেই ভুল যদি তারা আবারো করে তাহলে তাদেরকে আমি অপরিণামদর্শী, সন্ত্রাসী একটি দেশ ছাড়া আর কিছু বলতে অপারগ।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আরমান অর্ক
আরমান অর্ক এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 17 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, মে 4, 2017 - 12:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর