নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজের আজ ১৭৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী


১৮৪১ সালের ১৮ জুলাই উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আজকের ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেক ঘাত প্রতিঘাত অতিক্রম করে ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই কলেজটি আজ অবধি মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে রয়েছে এ কলেজ এর ইতিহাস। উপমহাদেশের শিক্ষা সংস্কৃতি চর্চায় এর রয়েছে যেমন অনবদ্য অবদান তেমনি রয়েছে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার অবিচার থেকে মানুষকে মুক্তির লড়াই থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে।

ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অনেক পুরোনো বলতে গেলে ১৭ শ সালে। ১৭৫৭ সালের সেই পলাশী যুদ্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানী লাভের পরই এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পেক্ষাপট শুরু। পলাশী যুদ্ধে বিজয়ের পর ১৭৬৫ সালে বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করলেও প্রকৃতপক্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এ অঞ্চলের শাসকে পরিণত হয়। ১৭৭২ সালে গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস এ মুখোশ খুলে দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হয়ে সরাসরি এ দেশের শাসনভার গ্রহণ করে। ১৭৭২ সালের পরবর্তী ৬২ বছর পর্যন্ত কোম্পানীর শাসকেরা তাদের রাজত্বের এই অধিবাসীদের জন্য কোনো শিক্ষানীতি প্রনয়ণ বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও এ দীর্ঘ সময়ে এ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবেই চলে আসছিল। অবশেষে ১৮৩০ সালে কোম্পানি এক শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছিল, সে নীতিমালায় প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা মুলত পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষা নামে পরিচিতি পায়।

কোম্পানির এ নীতিমালা অনুযায়ী কিছু আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকাতে গড়ে উঠলেও শিক্ষা প্রসারের চেয়ে ধর্ম প্রচার সেখানে মুখ্য হয়ে ওঠে। ফলে উল্লেখ করার মতো তখনও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেখানে গড়ে ওঠেনি। পরবর্তীকালে, ১৮৩৫ সালের ২০ এপ্রিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কিত কর্তৃপক্ষ জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন (General Committee of Public Instruction) লর্ড বেন্টিকের নিকট একটি প্রতিবেদন পেশ করেছিলো, যেখানে বলা হয়েছিলো: সরকারের তত্ত্বাবধানে বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রধান প্রধান জনবহুল শহরে ইংরেজি সাহিত্য এবং বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য যতগুলো সম্ভব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক। পরবর্তীকালে এ প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ঢাকার কর্মকর্তাদের নিকট এ সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করা হলে ঢাকার সেসময়ের সিভিল সার্জন ডা: জেমস টেইলার (Dr. James Tailer) জানান যে, এখানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা যে কেবল উচিতই নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকারের সুবিধা (আর্থিক এবং সামাজিক) পাওয়া যাবে। মূলত তখন থেকেই শুরু হওয়া বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছিলো ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী যা বর্তমানে ঢাকা কলেজিয়াট স্কুল নামে পরিচিত যা বর্তমান সদরঘাটে অবস্থিত।

এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে পাশ্চাত্যের কলাবিদ্যা, বিজ্ঞান এবং দর্শন উন্মোচিত হয়েছিল। শিক্ষা এবং সমাজব্যবস্থায় পাশ্চাত্য শিক্ষার এই ইতিবাচক পরিবর্তনে সেসময়ের গভর্নর জেনারেল লর্ড অকল্যান্ড এবং জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন (General Committee of Public Instruction) কতগুলো কেন্দ্রীয় কলেজ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত ব্যয়ের কথা উল্লেখ এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা তার যথাযথ অনুমোদনসাপেক্ষে১৮৪১ সালে ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী স্কুলকে একটি কলেজে বা একটি আঞ্চলিক উচ্চতর ইংরেজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়, যার নাম দেয়া হয় ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ বা সংক্ষেপে ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী স্কুলের নাম দেওয়া হয় ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল। এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পরপরই ঢাকা হয়ে ওঠে সমগ্র পূর্ববাংলার ইংরেজি শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং হিন্দু কলেজের শিক্ষক জে. আয়ারল্যান্ডকে ঢাকা কলেজের প্রথম প্রিন্সিপাল নিযুক্ত করা হয়। জে. আয়ারল্যান্ড প্রিন্সিপাল হয়ে আসার পর ঢাকা কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিক্ষাগত ব্যবস্থাপনার বেশ পরিবর্তন হয়।

আধুনিক বাংলার ইতিহাসে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৮৫৭ সালের ২৪ জানুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে ঢাকা কলেজকে এর অধিভুক্ত করা হয়। সে সময় থেকেই কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত কোর্সগুলোতে অংশগ্রহণ করে ঢাকা কলেজের ছাত্ররা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলেও এর কাঠামোগত বা অন্য পরিবর্তনসমূহের কথা ভাবা হয়নি গুরুত্বের সঙ্গে। সেসময়ের সরকার মূলত কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের সঙ্গে এর একটি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে।

ঢাকা কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা আবারো হোচট খায় ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময়। শহরের ইউরোপীয় কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবার, এমনকি ঢাকা কলেজের ইউরোপীয় শিক্ষকরাও এ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এ বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিলো ইংরেজ শাসন থেকে মুক্তি। এ সশস্ত্র বিপ্লব কোম্পানীর অর্থনৈতিক ভিত্তি একেবারে ভেঙ্গে পরে ফলে সরকারের তরফ থেকে ঢাকা কলেজের শিক্ষাথাতে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থব্যয়ের ইচ্ছা বা সাধ্য কোনোটাই ছিলো
সিপাহী বিদ্রোহের অবসানের পর দেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে সময় লাগে। সিপাহী বিদ্রোহের পর সরকার মুলত বিদ্রোহীদের ও তাদের শোষণমূলক শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তির আন্দোলনকারীদের রুখতেই বেশী মনোযোগী হয়, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি তেমন গুরুত্ব। একারণে ঢাকা কলেজের অবস্থা ক্রমাবনতির দিকেই যেতে থাকে। কলেজ ভবনটিও সামরিক বাহিনীর অধীনে চলে যায়। যে বাড়ি দুইটিতে কলেজের কার্যাবলী সাময়িকভাবে পরিচালিত হচ্ছিলো, তাও ছিলো বেশ অনুপযোগী। এ পরিস্থিতিতেও কলেজের ছাত্রসংখ্যা বেড়ে ১৮৬০ ৫১জনে দাঁড়ায় যার মধ্যে খ্রিস্টান শিক্ষার্থী ২ জন, মুসলমান ১ জন ও হিন্দু শিক্ষার্থী ৪৮ জন।
১৮৭৫ সালে ঢাকা কলেজ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি বড় সম্মান লাভ করলে সেবছরই ঢাকা কলেজে বিজ্ঞান ক্লাস চালু হয় এবং বিজ্ঞান বিষয়ক নতুন নতুন বিষয় পড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। আর এই বিজ্ঞান বিষয়ক নতুন নতুন বিষয় পড়ানোর ফলে পূর্ববাংলার তরুণদের মধ্যে আধুনিক যুগের হাতিয়ার, বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়ে ওঠে এবং ঢাকা কলেজে ছাত্র ভর্তির হিড়িক পড়ে যায়। একই সঙ্গে এ কলেজের অবকাঠামোগত বেশস পরিবর্তনও হয়। এরপরও নানা ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্যেও কলেজের শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রযাত্রা অব্যাহত থেকেছিল যার সোনালী ফসল ছিলো ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা।

১৮৪১ সালের ২০ নভেম্বর কলকাতার তৎকালীন বিশপ রেভারেন্ড ড্যানিয়েল "ঢাকা কলেজ" হিসেবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে ঢাকা কলেজের ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বুড়িগঙ্গার তীরে সদরঘাটে যার নকশা করেন কর্নেল গ্যাসটিরন। ১৯৫৫ সালে ঢাকা কলেজ বর্তমান জায়গায় চলে আসে। ২৪ একর জমির ওপর ছিল ঢাকা কলেজ। তবে এরশাদ সরকারের সময় ৬ একরর জমি ছেড়ে দিতে হয়। ১৮৪৩ সালে ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকা কলেজে পড়তে আসা ছাত্রদের তথ্য প্রথম পাওয়া যায়। ১৮৪৩ সাল থেকে বহিরাগত ছাত্ররা ঢাকা কলেজে পড়তে আসলেও ১৮৮০ সাল অবধি নির্মিত হয়নি বহিরাগত ছাত্রদের জন্য কোনো ধরণের ছাত্রাবাস। যদিও ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় একটি ছাত্রাবাস স্থাপিত হয়, কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৮৮০ সালের শেষের দিকে এসে বাংলা সরকারের অনুমতিসাপেক্ষে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুদানে বাংলাবাজারের শ্রীদাস লেনে রাজচন্দ্র হিন্দু ছাত্র হোস্টেল নামে প্রথম ছাত্রাবাস নির্মিত হয়। ক্রমেই কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্র সংখ্যা বাড়তে থাকে।

পরবর্তীতে১৯০৪ সালের ২৭ মে এক সরকারি সভায় ঢাকা কলেজের জন্য একটি আধুনিক ছাত্রাবাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেসময়ের অন্যতম স্থাপত্যবিদ পি. ডব্লিউ. ডি. কর্তৃক একটি নকশা পেশ করা হয়। বলা বাহুল্য, এ নকশাটিই ছিলো বাংলাদেশে প্রথম আধুনিক ধারার ছাত্রাবাস নির্মাণের নকশা। ৪জন করে থাকতে পারবে বলে মতামত প্রকাশ করেন।পরবর্তীতে সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং-এ নতুন দুটি ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এতে বহু ছাত্র উপকৃত হয়। হোস্টেলের নামকরণ করা হয় সেক্রেটারিয়েট মুসলিম হোস্টেল। ১৯১৮সাকের ডিসেম্বর মাসে এখানেই বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের একাদশ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ঢাকা কলেজের হিন্দু হোস্টেল রূপান্তরিত হয়ে হয় ঢাকা হল, যা বর্তমান শহিদুল্লাহ হল , এবং সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের মুসলিম হোস্টেলটি হয়ে যায় মুসলিম হল, যা বর্তমানে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল।
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল চোখে পড়ার মত। ৫২ ভাষা আন্দোলন ৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯ গণ অভ্যুত্থানে থেকে শুরু করে ৬ দফা ১১ দফা থেকে শুরু করে মহান মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ ৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও এ কলেজে অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ভাষা আন্দোলনকারী ছাত্রদের মিছিলে গুলি চালালে আহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার প্রমুখ। সেসময় ঢাকা কলেজের ছাত্র সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী ঢাকা মেডিকেলে যান আহত ছাত্রদের দেখতে। ঢাকা মেডিকেলের আউটডোরে তিনি মাথার খুলি উড়ে যাওয়া একটি লাশ দেখতে পান। সেটি ছিল ভাষা সংগ্রামী রফিকের লাশ। লাশটি দেখে তাঁর মনে হয়, এটা জেন নিজের ভাইয়েরই রক্তমাখা লাশ। তৎক্ষণাত তাঁর মনে গানের প্রথম দুইটি লাইন জেগে উঠে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি” পরে কয়েকদিনের মধ্যে ধীরে ধীড়ে তিনি গানটি লিখেন। ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রকাশিত লিফলেটে এটি 'একুশের গান' শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে সংকলনে'ও এটি প্রকাশিত হয়। প্রথমে আবদুল লতিফ গানটি সুরারোপ করেন। তবে পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে, ১৯৫৪ সালের প্রভাত ফেরীতে প্রথম গাওয়া হয় আলতাফ মাহমুদের সুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানটি এবং এটিই এখন গানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুর। ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তাঁর 'জীবন থেকে নেওয়া' চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহার করেন। ঢাকা কলেজের কিছু ছাত্র কলেজ প্রাঙ্গনে শহীদ মিনার স্থাপনের চেষ্টা করার সময়ও গানটি গেয়েছিল। গানটি গাওয়া ও লেখার অপরাধে ঢাকা কলেজ থেকে ১১জন ছাত্রকে বহিস্কার করা হয়েছিল। প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সব অঞ্চল থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শত শত মানুষ এই গান গেয়ে শহীদ মিনার অভিমুখে খালি পায়ে হেঁটে যান।
ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরীতে এই গান গেয়ে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যায়। বিবিসি শ্রোতা জরিপে বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ গানের তালিকায় এটি তৃতীয় স্থান লাভ করেছে।
আজ পর্যন্ত শিক্ষার যতটুকু অধিকার আমরা পাচ্ছি তা ছাত্র সমাজের দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রামের ফল আর শিক্ষার যতটুকু অধিকার আমরা হারিয়েছি বা আজও হারাচ্ছি তা ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র রাজনীতির দূর্বলাতার ফল।ঢাকা কলেজের ছাত্র রাজনীতির ক্রান্তি কাল থেকেই এ কলেজে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। একটি ধারা বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের ছত্র ছায়ায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল-হলের সিট দখল, সিট বাণিজ্য-ভর্তি বাণিজ্য থেকে শুরু করে নানা ধরণের অপকর্মে নিয়োজিত আর একটি ধারা ছাত্রদের অধিকার নিয়ে।

শিক্ষা সংস্কৃতি মনুষত্ববান মানুষ তৈরির এ প্রতিষ্ঠান যদিও একদিকে আজ হল,ক্লাস রুম, শিক্ষক, পরিবহণ থেকে শুরু করে নানা সংকটে অন্যদিকে সরকারী ছাত্র সংগঠনের নানা অপকর্মে ছাত্ররা আজ অতিষ্ঠ তবুও ইতিহাস সৃষ্টির যুগান্তকারী এ কলেজের রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। ‘নিজেকে জানো’ স্লোগান সংবলিত ঢাকা কলেজ আজ শুধু নিজেকে নই পুরো বিশ্বকে জানার রয়েছে সূদুর সম্ভাবনা । আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এই কলেজ অনেক দূর এগিয়ে যাবে কলেজের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ও কলেজের ছাত্রদের অধিকার রক্ষার ছাত্র সংগঠনের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সেই শুভ কামনা। ১৭৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ঢাকা কলেজ নিজেকে মানুষ ও মনুষ্যত্ব তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে অধিষ্ঠিত করুক।
আল আমিন হোসেন মৃধা
সভাপতি
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
ঢাকা কলেজ

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আল আমিন হোসেন মৃধা
আল আমিন হোসেন মৃধা এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 4 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 11:30অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর