নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • হাসান নাজমুল
  • শ্রীঅভিজিৎ দাস
  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল
  • নিরব
  • সুব্রত শুভ
  • কুমকুম কুল

নতুন যাত্রী

  • নিনজা
  • মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী

আপনি এখানে

ব্যাংক লুটপাট অর্থমন্ত্রী ও সিনেমা সারেন্ডার!


রোজার ইদকে কেন্দ্র করে তখন বিটিভি'তে তিন দিনের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকতো। ইদের অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো বিকেলবেলা বাংলা সিনেমা। ঘরভরা লোকজন। শ্বাসপ্রশ্বাস ফেলার ফুসরত নেই। ইদ উপলক্ষে মফস্বল-শহর থেকে গ্রামের বাড়ি ফেরা লোকজন মিলিয়ে সরগরম। তখন আমাদের এই ছোট্ট গাঁ'য়েও দু'চার দশজন সরকারি চাকুরে। কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যাংকার কেউবা স্বাস্থ্যসহকারি। তো এমনি এক ইদে আমরা বাংলা সিনেমা দেখছিলাম। সারেন্ডার। নায়ক জসিম আর নায়িকা শাবানা। আরও অনেক নায়ক-প্রতিনায়ক ছিলেন। আজ আর এতোকিছু মনে নেই। কাহিনি শুরু মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী অস্থিরতা, বেকারত্ব এইসবকে অবলম্বন করেই। জনা পাঁচ-সাতেক বন্ধু সেই সময় চাকুরি বাকুরি না পেয়ে হতাশ। তাদের প্রেমিকারাও হতাশ। বিয়ের বয়স হয়েছে অথচ বিয়ে হচ্ছে না। শাবানা-জসিমের মধ্যেও এইরকম সমস্যা আরকি। অন্যদেরও এইরকম সমস্যা ছিলো। আর সবারই সংসার তো নয় যেনো 'নুন আনতে পান্তা ফুরোয়' দশা!

সবাই এইসব সমস্যা থেকে রাতারাতি মুক্তি চায়। কী করা তাহলে? একটাই পথ আছে। আর তা হলো ব্যাংক ডাকাতি। যা ভাবা তাই কাজ। সফল ব্যাংক ডাকাতি করে তারা। প্রায় প্রত্যেকেই রাতারাতি কোটিপতি বনে যায়। কিন্তু টাকা হলেই কী সব হয়? হ্যাঁ, হয় না। তাই শাবানার বিয়ে হয়ে যায় অন্যত্র। এরপর বুড়িগঙ্গার জল মরে মরে দখল, বেদখল হতে হতে সেই বুড়িগঙ্গার জল আজ আলকাতরাসম হয়েছে। কাহিনি মোচড় খেয়েছে বাঁকে বাঁকে। শেষতক এই তরুণ ডাকাতেরা পুলিশের গুলিতে একে একে মরে। মোর‍্যাল অব দ্য সিনেমা, লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু!

তো, এই সিনেমা চলাকালে, ফাঁকতালে সেই শহুরে লোক যে কি না ব্যাংকার, তিনিও ছিলেন আমাদের সাথে, দর্শক সারিতে। বললেন স্বাধীনতা চলাকালীন ও স্বাধীনতা পরবর্তী ব্যাংক ডাকাতি, লুটপাট নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র ছিলো। এমনকি সেই নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি অবধিও নাকি ব্যাংক ডাকাতি প্রায়ই হতো। ভারতেও নাকি এসব প্রায়ই ঘটতো। মোদ্দাকথা আমরা এইরকম টানটান উত্তেজনার সিনেমার ফাঁকেফাঁকে এইসব গল্পও কান খাড়া করে শুনতাম। সিনেমাও বাস্তবকে ঠিক আলাদা নয়, দুইয়ে মিলিয়ে মিশিয়ে বাস্তবজ্ঞান করে দেখতাম। এঁরা ছাড়াও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সিনেমায়ও আমরা এইরকম এক দু'জন গপ্পোবাজ লোক অনায়েসেই পেয়ে যেতাম।

এইসব অবতারণা করার একটি উদ্দেশ্য ছিলো বৈকি। মানে শেষ যে কিভাবে করবো এর ঠিক মোর‍্যালিটি খুঁজে পাচ্ছি না! কল্পনা ও বাস্তব তন্নতন্ন করেও পাচ্ছি না। মানে এই যে, দেশের ব্যাংকখাত ডিজিটাল ডাকাতি, লুটপাট, ঋণ-খেলাপি, শেয়ারবাজার ধ্বংস করে দেশের ব্যাংক খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতি দেউলিয়া হয়ে বসলো তার তো কোনো দৃশ্যমান বিচার-আচার, শাস্তি, জেল-জুলুম হলোই না! উপরন্তু এসব মহাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সরকারের অর্থমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের কর্তা-ব্যক্তিরা আদর করে মৃদুমন্দ তিরস্কার-ভর্ৎসনা করে পূনরায় অর্থবিত্ত দিয়ে আবার যথাস্থানে বহাল রাখা হয়েছে! আর সিনেমার নাম কীনা 'সারেন্ডার' দিয়ে নায়ক জসিম, নায়িকা শাবানারে চিরতরে আলাদা করে, বিরহ যন্ত্রণায় ভাসিয়ে শেষতক নায়ক প্রতিনায়ক সবাইকে গুলি করে মেরে ফেলবে, এ কেমন বিচার! এ কেমন ইনসাফ!? উপন্যাস, গপ্পো-সিনেমায় মোর‍্যাল অব দ্য স্টোরি হয়, হয়তোবা মোর‍্যালিটি দিয়ে বাস্তব হয় না। বা বাংলাদেশে এসবের বালাই নাই! অথবা বাস্তব বাস্তবিকই রাবিশ... বা হাজার হাজার কোটি টাকার মতো কিছুই না! এই আরকি!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মনির হোসাইন
মনির হোসাইন এর ছবি
Offline
Last seen: 15 ঘন্টা 24 min ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 20, 2013 - 10:17অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর