নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • রিপন চাক
  • বোরহান মিয়া
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ
  • দীপ্ত অধিকারী

আপনি এখানে

ইসলাম ধর্ম কী সমকামিতাকে অনুমোদন করে?


ইসলাম ধর্ম কী সমকামিতাকে অনুমোদন করে?

প্রচলিত উত্তর – “না, করে না”।

কিন্তু বর্তমান সময়ের বেশ কিছু রিসার্চারেরা তথ্য আর যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে সমকামিতার জন্য ইসলামে যে ধরণের শাস্তির কথা আমরা শুনে থাকি, তার কোন ভিত্তি কুরআন বা সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। ।
“Progressive Muslims: On Justice, Gender, and Pluralism” গ্রন্থে যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক Scott Kugle দেখিয়েছেন যে জেন্ডার ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের ব্যাপারে ইসলাম অনেক উদার। Kugle তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, ইসলাম সমকামী মানুষদের পরিত্যাগ করে না। বরং ইসলামে তাদের জায়গা আছে।

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে প্রশ্ন করি ইসলাম কি রিজিড নাকি লিবারেল? কুরআনকে কিভাবে পড়া ও জানা উচিত- আক্ষরিক অর্থে নাকি এখানে ব্যখ্যার সুযোগ আছে?

And when the forbidden months have passed, kill the idolaters wherever you find them and take them prisoners, and beleaguer them, and lie in wait for them at every place of ambush. (Quran9ঃ5)

slay them wherever you catch them (Qur'an 2:191)

উপরে উল্লিখিত কুরআনের ভার্সেস গুলো লিটারাল বা আক্ষরিকঅর্থে অর্থে অনুসরণ করলে নির্দ্বিধায় বলা যায় ইসলাম বিধর্মীদের কতল করতে বলেছে!
সুতরাং বর্তমান বিশ্বে আইসিস হল সবচেয়ে ঈমানদার মুসলিম গোষ্ঠি। শুধু এই ভার্সেস মেনে নিলে, ইসলাম যে অহিংস বা শান্তির ধর্ম তা বলার কোন অবকাশ আর থাকে না। যে ধর্মগ্রন্থ বিধর্মীদের দেখামাত্র খুন করার পারমিশন দেয়, সে ধর্ম শান্তির ধর্ম হতে পারে না।
এই আলোচনায় তখন ইসলামিক রিসার্চারেরা বলেন - কুরআনের এই আয়াতগুলো যারা আক্ষরিক অর্থে অনুবাদ আর অনুসরণ করছে তারা কুরআনকে র্যাডিকাল ইন্টারপ্রেট করছে, তারা বলে উক্ত আয়াত বা ভার্সেসগুলোকে আক্ষরিক অর্থে নয় বরং ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যখ্যা করা উচিত।

সুতরাং, আমরা এই অনুসিদ্ধান্তে উপনীত হই যে -

১. কুরআনের কোন একটি-দুটি আয়াত দিয়ে আমরা কোন বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসলে তা কুরআন বা ইসলামকে র্যাডিকালাইজড করা হবে, এ এ্যটিটিউড শুদ্ধ হবে না
২. কুরআনকে বিভিন্ন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন উপায়ে (আক্ষরিক বা ভাবানুবাদ)ব্যখ্যা করার সুযোগ আছে। কুরআন বা ইসলাম খুব রিজিড কিছু নয়, যদি না কুরআনে কোন বিষয়কে সরাসরি হারাম বা শিরক বা বলে উল্লেখ করা হয়

সমকামিতা প্রসঙ্গে ফিরে যাই আবারো-

আব্রাহামিক রিলিজিয়নে (জুডাইজম, ক্রিসচিয়ানিটি, ইসলাম) সমকামিতা প্রসঙ্গে ধর্মগ্রন্থগুলোতে যে ব্যখ্যা সাধারণভাবে বর্ননা করা হয় তাল প্রফেট লূত এর কাহিনী।
সমকামিতার তীব্র বিরুদ্ধাচারন করে যারা ইসলামে সমকামিতার কোন জায়গা নেই, তাই একে মহাপাপ বিবেচনা করেন, তারা মূলত কুরআনের এই আয়াতগুলো প্রচার বা উল্লেখ করেন-

"Do ye commit lewdness such as no people in creation (ever) committed before you? For ye practice your lusts on men in preference to women: ye are indeed a people transgressing beyond bounds"

"Of all the creatures in the world, will ye approach males, And leave those whom Allah has created for you to be your mates? Nay, ye are a people transgressing (all limits)! "

"Would ye really approach men in your lusts rather than women? Nay, ye are a people (grossly) ignorant"

লেখার শুরুতে বিধর্মীদের প্রতি ইসলামের মনোভাব নিয়ে যে আয়াতগুলো উল্লেখ করেছি এবং এই আয়াতের র্যাডিকাল আর লিবারেল ব্যখ্যার ও অনুসিদ্ধান্তের কথা ও বলেছি- সেই ব্যখ্যা মনে রেখে সমকামিতা প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াতের ব্যখ্যাগুলোকে ও লিবারেলি ব্যখ্যা করা উচিত।

লূত- এর যে ঘটনার প্রেক্ষিতে কুরআনে সমকামিতাকে ঘৃণিত এবং মহাপাপ বলা হয়েছে সেই ঘটনা হল-

একদিন বিকেলে নদীর পাড়ে লূতের মেয়ে তিনজন মতান্বরে দুজন পুরুষকে আসতে দেখল। এই পুরুষেরা লূতের মেয়ের কাছে লূত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিল। খবর পেয়ে লূত সেখানে এল, ওই পুরুষেরা জানালো তারা পথিক, তারা লূতের কাছে তার বাড়িতে রাত্রিযাপনের শরণ চাইল। সডম ও গোমরাহ শহরের নাগরিকেকদের নৈতিকস্খলনের (সমকামি বিহেভিয়ারের কথা বলা হয়নি) কথা চিন্তা করে লূত ওই ব্যক্তিদের সেখানে রাত্রিযাপন না করার কথা বললেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বারংবার অনুরোধে রাজি হয়ে, রাতের অন্ধকারে তার বাড়িতে প্রবেশের উপদেশ দিলেন লূত যাতে করে শহরের লোকজন তাদের না দেখতে পারে।
লূতের স্ত্রী মারফত খবর পেয়ে সেই রাতেই শহরের লোকেরা লূতের বাড়িতে আক্রমন করে এবং তাদের হাতে ওই পথিক তিনজনকে তুলে দিতে বলে। লূত তখন তাদেরকে স্রষ্টার ভয় দেখায়এবং এমনকি ওই অতিথিদের পরিবর্তে নিজের কুমারি মেয়েদের তাদের হাতে তুলে দিতে চায়। রাজী না হলে, তারা বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। তখনই অতিথিরা নিরুপায় লূতকে জানায় তারা সাধারণ মানুষ নয়, বরং স্রষ্টা প্রেরিত ফেরেশতা বা এন্জেল। এরপরই সডম শহর ধ্বসিয়ে দেওয়া হয়। লূত এবং তার পরিবার সেই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পরিত্রান পায়,যদিও পরিত্রান পায়নি লূতের স্ত্রী অথবা একজন বৃদ্ধা ( কুরআন দুই স্থানে দুই মহিলার কথা উল্লেখ করেছে)

এখন যুক্তিতে আসি-

লূত-এর কাহিনী এবং কুরআনের নির্দিষ্ট কয়েকটি আয়াতকেও যদি আমরা র্যাডিকালি ব্যখ্যা করি তাহলেও সমকামিতা সম্পর্কে ধর্মের মতামত নিয়ে আমাদের রিজিড ধারণার বৈসাদৃশ্য চোখে পড়ে -

১. সমকামিতা আর ধর্ষনের মধ্যে পাথর্ক্য হল- সমকামি ব্যক্তি অপর একজন ব্যক্তির সাথে দুজনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে, বিনা অনুমতিতে গড়া সম্পর্ক তা সে পুরুষ বা নারী যার সাথেই হোক , ধর্ষন। এবার লূত এর কাহিনী থেকে প্রশ্ন করি- তিনজন অতিথি কি শহরের অন্য লোকদের সাথে যৌন সম্পর্কে নিজেদের থেকেই আগ্রহী ছিল নাকি তাদেরকে জোর করে ধর্ষন করতে চাইছিল শহরের লোকেরা?

২. যে ভার্সেসগুলোকে সমকামিতার বিরদ্ধে দাঁড় করানো হয়, সেখানে বারবার Lust বা লালসার কথা বলা হয়েছে। নারী-পুরুষের যে সম্পর্ককে ইসলাম অনুমোদন দেয়, সেখানেও লালসার কোন স্থান নেই। এই লালসা কখনও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়া স্বাভাবিক সম্পর্কে থাকে না, থাকে জোরপূর্বক গড়া সম্পর্কে, যেমন ধর্ষন।

৩. বিজ্ঞান বলে, কোন একটি সমাজ বা প্রজাতিতে সর্বোচ্চ শতকরা দুই থেকে পাঁচ ভাগ প্রাণী সমকামি হতে পারে। বিজ্ঞানের এ কথার সত্যতা নিরূপন করতে যদি আমরা আমাদের আশেপাশেও তাকাই তবে দেখব বিসমকামি মানুষের ভীড়ে সমকামি মানুষের সংখ্যা আসলেই খুব বেশি নয়। ঘরে ঘরে সবাই সমকামি নয়! যদি তাই হয়, এখন প্রশ্ন করি তাহলে সোডম আর গোমরাহ শহরে অধিকাংশ মানুষ কেমন করে সমকামি হয়? হতে পারে বিসমকামি মানুষেরা লালসার বশবর্তী হয়ে সমলিঙ্গের সাথে জোরপূর্বক যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হত- এ ধরনের আচরন অবশ্যই গর্হিত অপরাধ বলে বিবেচিত।

Kugle-এর যুক্তিসমূহ সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরা হলোঃ
১। সমকামিতার জন্য বিভিন্ন ইসলামী দেশে বা সমাজে যেসব শাস্তির প্রচলন দেখা যায়, সেগুলো স্থানীয় সংস্কৃতি থেকে উদ্ভুত। এগুলোর কুরআনিক কোন ভিত্তি নেই।

২। কুরআনে নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরণের দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। এর কারণ হলো, স্ট্রেইট বা বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে (heterosexual) এমন মানুষের সংখ্যা সমকামীদের চেয়ে অনেক বেশি।একই সাথে গর্ভধারণ, উত্তরাধিকার বা সন্তানের কাস্টডির মত বিষয়গুলো সাধারণত বিসমকামী সম্পর্ক থেকে উদ্ভুত হয়।

সমকামি সম্পর্কের ব্যাপারে কুরআন মোটামুটি নীরব। তার মানে এই না যে কুরআনে সমকামী সম্পর্ক নিষিদ্ধ।

৩। হোমোসেক্সুয়ালিটি বা সমকামিতা বলতে আমরা যা বুঝি, তার উদ্ভব হয় মহানবী (সাঃ) এর জীবদ্দশার অনেক পরে। কুরআন ও হাদিস যে সময়ে এসেছে, সেই সময়ে আমরা সমকামী সম্পর্ক বলতে যা বুঝি, তার নাম “সমকামী সম্পর্ক” ছিলো না। তাই কুরআন বা হাদীসে সরাসরি “সমকামিতা”-র রেফারেন্স পাওয়া সম্ভব না। কিন্তু সেই সময়ে স্ট্রেইট বা বিসমকামী সম্পর্ক ছাড়াও আরও নানা ধরণের সেক্সুয়াল প্র্যাকটিস বিদ্যমান থাকার নিদর্শন পাওয়া গেছে। এবং কুরআনে তার প্রমাণও পাওয়া যায়। প্রমাণ নিচের পয়েন্টে।
৪। সূরা নূরের (২৪:৩১) আয়াতে “men who are not in need of women” এর কথা বলা হয়েছে। এই পুরুষরা asexual হতে পারে, homosexual হতে পারে। কিন্তু কুরআনের বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে এরা heterosexual men বা বিসমকামী পুরুষ নয়। কুরআনের কোথাও কিন্তু “men who are not in need of women” দের শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়নি।

মুকানাথ বলে এক ধরণের মানুষ ছিলেন যাদের মুহাম্মাদ (সাঃ) সমাজের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। মুকানাথদের এখনকার সময়ের transgender বলা যেতে পারে। আবার তাদেরকে gay men বা সমকামী পুরুষও বলা যেতে পারে। কারণ তাদের সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশান heterosexual বা বিসমকামী পুরুষদের মত ছিল না।

৫। মহানবী (সাঃ)-এর জীবদ্দশায় তিনি কখনও কাউকে হোমোসেক্সুয়ালিটির জন্য শাস্তি দেননি।

৬। লুত (আঃ) এর ঘটনাকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয় “ইসলামে সমকামিতা নিষিদ্ধ” এটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। লুত (আঃ) এর অনুসারীদের শাস্তি দেয়া হয়েছিলো “transgression” বা সীমা লংঘন করার জন্য। অনেক ইসলামিক পন্ডিত বলেছেন, এখানে যে transgression বা সীমা লংঘনের কথা বলা হয়েছে, সেটি হলো সমকামিতা। আমরা যদি ধরে নেই আসলেও transgression = homosexuality, তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ায় যে সমকামী সম্পর্কে জড়িত না থাকার পরও নারী ও শিশুরা পুরুষদের পাশাপাশি শাস্তি পেয়েছিলো। পুরুষদের সমকামিতার জন্য নারী এবং শিশুরা শাস্তি পাবে – এটা ইসলামের মূলনীতির বিরোধিতা করে।

৭. Muhammad ibn Abdallah Al-Kisaর বর্ণনায় জানা যায়, লুত (আঃ)এর পুরুষ অনুসারীরা নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করার জন্য বহিরাগত পুরুষদের ধর্ষণ করতো। ধর্ষণের উদ্দেশ্য ছিলো প্রতিবেশী গোষ্ঠীগুলোকে ভয় দেখানো যাতে করে তারা লুত (আঃ)এর অনুসারীদের শহরে কখনও অনুপ্রবেশ বা শহর দখল করার কথা চিন্তা না করে। লুত (আঃ) অনুসারীরা শাস্তি পেয়েছিলো তাদের আগ্রাসী ও সহিংস মনোভাব এবং কাজের জন্য শাস্তি পেয়েছিলো। কুরআনে যে সীমা লংঘনের কথা বলা হয়েছে, তা এই আগ্রাসী ও সহিংস মনোভাব এবং কাজকেই নির্দেশ করছে।সমকামিতাকে নয়।

৮। লুত (আঃ) এর অনুসারীরা শুধু সমকামী সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শাস্তি পায় নি। তারা শাস্তি পেয়েছিলো জোর পূর্বক সমকামী স্থাপন করার জন্য। কারণ জোর পূর্বক যেকোন যৌন সম্পর্ক – সেটা সমকামী হোক বা বিসমকামী হোক – স্থাপন করা হলো ধর্ষণ।

কিন্তু পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যে সমকামী সম্পর্ক স্থাপিত হয়, সেটা ধর্ষণ নয়। তাই লুত (আঃ) এর ঘটনাটি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যে সমকামী সম্পর্ক হয়, সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

৯। দুটো হাদিসে এই বক্তব্যের পরোক্ষ সমর্থন পাওয়া যায়। একটি হাদীসে আছে, জিবরাইল (আঃ) মহানবী (সাঃ)কে বলেছেন, লুত(আঃ) এর অনুসারীরা তিনটি কারণে শাস্তি পেয়েছিলোঃ
ক) তারা কারও সাথে খাদ্য শেয়ার করতো না। কারণ তারা সম্পদের সমবন্টনে বিশ্বাসী ছিলো না।
খ) তারা প্রচন্ড আগ্রাসী ভাবাপন্ন ছিলো এবং অন্যের জিনিস দখল করতে চাইতো।
৩) তারা বহিরাগতদের ধর্ষণ করতো ।

এখানে আমরা দেখি শাস্তি পাওয়ার তিনটি কারণের মধ্যে মাত্র একটি কারণ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার সাথে জড়িত। অথচ দিনের পর দিন ইসলামের রক্ষণশীল পন্ডিতরা - যারা নিজেরা সমকামিতা পছন্দ করে না - তারা কুরআন এবং হাদীসের দোহাই দিয়ে বলে এসেছে লুত (আঃ) এর অনুসারীরা শাস্তি পেয়েছে সমকামিতার জন্য।

১০। আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি মহানবী (সাঃ) কাছে stinginess অর্থাৎ টাকা বা দ্রব্যের ব্যাপারে ছোট মনোভাবের পরিচয় দেয়া বা নিজের জিনিস কারো সাথে শেয়ার করতে না চাওয়ার শাস্তি কী জানতে চাইলো। মহানবী (সাঃ) তখন তাকে লুত (আঃ) এর ঘটনার উদাহরণ দিয়েছিলেন। উনি সমকামিতার শাস্তির ব্যাপারে কখনই লুত (আঃ) এর প্রসঙ্গ টানেননি।

১০। ইসলামে কিছু অপরাধকে hadd crime বা স্রষ্টার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। যেমন – চুরি, ডাকাতি, খুন, পরকীয়া, এবং কারো বিরুদ্ধে পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ আনা। কিন্তু হোমোসেক্সুয়ালিটি বা সমকামিতা এই অপরাধগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

তথ্যসূত্রঃ
১। http://www.mpvusa.org/sexuality-diversity/
২। Kugleএর লেখা অধ্যায়টি পড়তে চাইলে দেখুন - http://othersheepexecsite.com/Other_Sheep_Resource_Sexuality_Diversity_a...
৩। Scott Kugle সম্পর্কে জানতে চাইলে পড়ুন - http://mesas.emory.edu/home/people/faculty/kugle.html

Comments

চাঁদসওদাগর এর ছবি
 

"এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি ? তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।" (আরাফ ৭:৮১-৮২)

• "সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?
এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্য সঙ্গিনী হিসেবে যাদের সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।" (শুয়ারা ২৬:১৬৫-১৬৬)

• "স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ! তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়। উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললো, লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়। অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তাঁর স্ত্রী ছাড়া। কেননা, তার জন্যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম।" (কুরআন 27:54-57)

• "আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের কাছে আগমন করল, তখন তারা বলল, আমরা লুতের জনপদের অধিবাসীদেরকে ধ্বংস করব। নিশ্চয় এর অধিবাসীরা অপরাধী।" (২৯:৩১)

chadsaowdagor

 
চাঁদসওদাগর এর ছবি
 

"ইবনে আব্বাস বলেন, অবিবাহিত কাউকে যদি সমকামিতায় পাওয়া যায় তাহলে তাঁকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে।" (আবু দাউদ, 38:4448 )

"যে কাউকে লুতের কওমের মতো করতে দেখলে যে দিচ্ছে আর যে পাচ্ছে দুজনকেই হত্যা কর।" (তিরমিজি 1:152)

মুয়াত্তা শরীফের 41 41.111 নাম্বার হাদিসে এর শাস্তি বলা আছে পাথর মেরে হত্যা।

"ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স) বলেছেন, অভিশপ্ত সে যে কিনা কোন পশুর সাথে সেক্স করে, আর অভিশপ্ত সে যে কিনা সেটা করে যা লুতের সম্প্রদায় করত।" (আহমাদ:1878)

"ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, আলী (রা) তাঁর সময়ে ২ জন সমকামীকে পুড়িয়ে দেন। আর আবু বকর(রা) তাদের উপর দেয়াল ধ্বসিয়ে দেন।" (মিশকাত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৬৫, প্রস্তাবিত শাস্তি)

chadsaowdagor

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

বাহ, বেশ সুন্দর লেখা

আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার "বন্ধু" হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফারজানা সুমনা
ফারজানা সুমনা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 21, 2017 - 7:39অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর