নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • রিপন চাক
  • বোরহান মিয়া
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ
  • দীপ্ত অধিকারী

আপনি এখানে

“বাংলা গান! ছিঃ, সেটা আবার বিয়ে বাড়ির গান হয় নাকি !” সানাই ! সে আবার কি !!


পশ্চিমা দেশে বলিউড, ইউটিউব, পাঞ্জাবের বিয়ের রংঢং আর ছেলে মেয়েদের মত প্রকাশের কিছু ক্ষেত্রে অযৌক্তিক অবাধ স্বাধীনতার কাছে বাংলা কৃষ্টি ও ঐতিহ্য প্রবাসে নিদারুণ ভাবেই ধরাশায়ী, এখানে আমরা বলতে পারি পশ্চিমা দেশে বাংলাদেশী প্রবাসী সন্তানদের মাঝে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বিষয়টি পরিলক্ষিত হচ্ছে । তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান ও আয়োজন দেখতে অনেকটা বলিউড বা পাঞ্জাবী কায়দার, ঐসব বিয়ের অনুষ্ঠানে বাংলা ও তার সংস্কৃতি বলতে কিছুই বিদ্যমান থাকে না, মনে হবে পাঞ্জাব বা লাহোরের কোন বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান অথবা সম্পূর্ণ রূপে ইউরোপীয় কায়দায় বিয়ের অনুষ্ঠান, গান বাজানা বলতে পাঞ্জাবী, হিন্দি কিংবা ইংরেজী, অবশ্যই বাংলা গান না ! “বাংলা গান! ছিঃ, সেটা আবার বিয়ে বাড়ির গান হয় নাকি !” সানাই ! সে আবার কি !!

প্রবাসে ছেলে মেয়েদের সাংস্কৃতিক পরিচয় না থাকলে কৃষ্টির উপর ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা জন্মায় না, প্রবাসী মা বাবাদের প্রায়শই বলতে শুনি "আমার ছেলে মেয়েরা বাংলা খুব ভালো বোঝে তবে বলতে একটু কষ্ট হয় এই যাহ" ।

আমি ইউরোপ অথবা পশ্চিমা দেশগুলোতে দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের কথাই বলছিলাম, ছেলে মেয়েদের বা সন্তানদের মত প্রকাশের ও চালচলনের স্বাধীনতার কাছে অনেক সময় মাতা পিতাদের মতামত অনেকটা অসহায়, তাদের বিয়ে শাদী নিয়ে চিন্তা ভাবনা পুরোটাই ছেলে মেয়েদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিতে হয়, এক্ষেত্রে পারিবারিক পরিচয় ও সামঞ্জস্য বিষয়গুলো সম্পূর্ণরূপেই উপেক্ষিত, ছেলে মেয়েরা পূর্ব পরিচয় সূত্রে নিজেদের নিজেরাই পাত্র পাত্রী নির্বাচন করেই বিয়ের পিড়িতে বসে যায় । বাবা মাদের বড়জোর কাজের মাঝে যে অংশটা পরে সেটা হচ্ছে দুপক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে খরচের ভাগাভাগিতে একটা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা, বিয়েতে মা বাবাদের মতামত দেবার ইচ্ছে থাকলেও সেটার গুরুত্ব পশ্চিমা দেশে দিন দিন বলতে গেলে লোপ পেয়েছে | বিয়ের অনুষ্ঠান ও সাজসজ্জায় পিতা মাতারা দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ছেলে মেয়েদের রুচিহীন বা দৃষ্টিকটু আনুষ্ঠানিকতাকেই আধুনিক কৃষ্টি মেনে নিয়ে দুরে গিয়ে অনেকেই চোখের জল ফেলেন ।

চিন্তা চেতনায় আধুনিক হওয়া মানেই নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিসর্জন দেয়া নয়, যা কিনা প্রবাসে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে অনেক দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের মাঝেই আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বিষয়টি দুঃখ জনক ভাবেই লক্ষণীয় । এর মূলত কারণ ব্যাখ্যা করতে গেলে বলতে হয় মাতা পিতাদের মাঝে প্রকৃত অভিভাবক হয়ে সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই কৃষ্টি ও সংস্কৃতি শিক্ষা দেবার অভাব ।

ঘটনা প্রসঙ্গে বলছি, কিছুদিন আগে বাসায় নতুন অতিথি বেড়াতে আসবেন, স্বভাবতই বাসায় অতিথি আসলে বাঙালী আতিথিয়তা আমাদের রক্ত মাংসে মিশে আছে বিধায় বেশ খাবার-দাবারের আয়োজন চলছে । মা বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার কারণে মায়ের উপর চাপ কমাতে বিশ বছর বয়সী বড় মেয়ে দেশী কায়দায় সব রান্না-বান্নার বিশাল এক আয়োজন শেষ করলো, মা’র উপর করা নির্দেশ জারি হলো যেন মা কোন অবস্থাতেই রান্না ঘোরের দিকে পা না বাড়ায় । ঘরের কর্তা বা কর্ত্রী বলতে বিশ বছর বয়সী ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষের বড় মেয়ে, বাবার ভূমিকা অনেকটা ঘরের পিচ্চি মানে বাজার সদাই তড়িৎ গতিতে করে আনার লোক মাত্র । অতিথিরা খাওয়া দাওয়ার পর বেশ আড্ডায় জমে গেলেন মা ও মেয়েদের সাথে, ছোট মেয়েটা মার গা ঘেঁষে বসে থাকাতে অতিথিরা ধরে নিলেন ঘরের কর্ত্রীর হয়তো একটি মাত্র সন্তান আর তাই হঠাৎ তারা ঘরের বড় মেয়েটিকে প্রশ্ন করে বসলেন “সুইডেন কেমন লাগছে, কতদিন হলো সে এ দেশে এসেছে, কতদিনই বা থাকবে, বাংলাদেশে কোথায় বাসা” বিবিধ নানা প্রশ্ন, অতিথিরা ধরে নিয়েছিলেন ঘরের বড় মেয়েটি হয়তো বাংলাদেশ থেকে সদ্য আগত একজন আত্তীয়া, বড় মেয়েটি উত্তর দিল “আরে না না আমরা দুই বোন আমি বড়, এখানেই আমার জন্ম, আমি স্টকহোল্ম ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছি”, কথাগুলো শুনেই অতিথিদের চোখ চরক গাছ, তারা বুঝতে পারেননি যে এই বাসার বড় মেয়েটি চলনে, বলনে, কয়নে একজন প্রকৃত বাঙালী পরিচয়ে অভিভাবকদের অতি যত্নে এই দেশেই বেড়ে উঠেছে আর আর তার পিতা মাতাই প্রকৃত অভিভাবকের মতো বিশটি বছর তাদের শ্রম দিয়ে সন্তানদের অন্তরে শক্ত ভাবেই তাদের বাঙালী সাংস্কৃতিক পরিচয়ে গড়ে তুলেছে ।

নিজেদের অপারগতা ও অক্ষমতাকে কখনোই ছেলে মেয়েদের উপর চাপাতে নেই, নিজের সন্তানদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ে গড়ে তোলা তার পিতা মাতারই দায়িত্ব, কাজেই প্রতিটি মাতা পিতাকে অভিভাবক হতে হলে নিজেদেরকে শিক্ষা ও জ্ঞানে বিকশিত করুন ।
--- মাহবুব আরিফ কিন্তু

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

পড়লাম। বেশ !

আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার "বন্ধু" হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
কিন্তু এর ছবি
 

ধন্যবাদ অবস্যই পড়বো

মানবতাই ধর্ম

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কিন্তু
কিন্তু এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 10 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 5:41অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর