নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 12 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আরমান অর্ক
  • উর্বি
  • নুর নবী দুলাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কিন্তু
  • পৃথু স্যন্যাল
  • মিশু মিলন
  • সুমিত রায়
  • মিসির আলী
  • হেজিং

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

অন্য চোখ (উপন্যাস:পর্ব-ছয়)


নয়টা বাজে।সকালে নাস্তা না করে অবন্তি বের হলো।১০টায় অফিস শুরু।অবন্তি একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে।
অবন্তি টিকিট কাউন্টারে দাড়িয়ে আছে।বিশাল লম্বা সিরিয়াল।ঢাকার শহরে প্রতিদিন অফিস টাইমে লোকাল বাসের অপেক্ষায় মানুষ লম্বা লাইনের পর লাইন ধরে দাড়িয়ে থাকে।ঘন্টার পর ঘন্টা সবাই দাড়িয়ে থেকে কর্মক্ষেত্রে যায়।তারপরে তো জ্যাম আছেই।

প্রায় মিনিট বিশেক পরে একখান গাড়ি আসলো।লাইনের সামনে থেকে সবাই ঠেলেঠুলে গাড়িতে উঠলো।অবন্তি ভিড় ঠেলে উঠতে পারলো না।দাড়িয়ে রইলো আবার গাড়ি আসার অপেক্ষায়।প্রতিদিন সকালে বাসের অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকা অবন্তির আর ভালো লাগে না।আনিসের যদি একটা বাইক থাকত তাহলে সকালে ওর বাইকের পিছনে বসিয়ে অফিসে নামিয়ে দিয়ে আসতো।এরকম লাইনে দাড়ানো লাগতে না।
অবন্তি কথা গুলো মনে মনে ভাবছে আর বাসের জন্য অপেক্ষা করছে।হঠাৎ পিছনে কে যেন অবন্তি নাম ধরে ডাকছে।অবন্তি সেটা প্রথমে খেয়াল করেনি। পরে যখন খুব কাছ থেকে কণ্ঠটি আবার শুনতে পেল তখন অবন্তি ঠিক পিছনে তাকালো।অবন্তি একটা প্রাইভেট কার দেখতে পেলো।প্রাইভেট কারটির পিছনের গ্লাস নামানো ছিলো।অবন্তি গাড়ির ভিতরে পরিচিত কাউকে আবিষ্কার করে।
"ইবলু ভাই!আপনি এখানে কি করেন?"
প্রাইভেট কারে বসে থাকা লোকটি অবন্তিকে বললো।
"আগে গাড়িতে উঠো পরে সব বলছি।"
অবন্তি প্রাইভেট কারটিতে উঠার কোন রকম ইচ্ছা প্রকাশ করলো না।তাই অবন্তি লোকটিকে একটু এড়িয়ে চলতে চাইলো। প্রাইভেট কারে বসা লোকটির নাম ইবলু। অবন্তি ইবলুকে বললো।
"ঠিক আছে ইবলু ভাই।আপনি চলে যান আমি ঠিক সময়ই চলে আসব।"
ইবলু বললো।
"না।তা কি করে সম্ভব।আমার গাড়ি থাকতে কেন তুমি লোকাল বাসে যাবে?এটা মানতে পারবো না। জলদি গাড়িতে উঠো।

ইবলুর অনেক বাড়াবাড়ির পরে অবন্তির ইচ্ছা শক্তি না থাকা সত্যেও প্রাইভেট কারে উঠতে হলো।ইবলু সাহেব ড্রাইভারকে যেতে বললো।অবন্তি নিরবে প্রাইভেট কারে বসে রইলো।
অবন্তিকে চুপচাপ দেখে ইবলু অবন্তিকে বললো।
"প্রতিদিনই তোমার এখানে লাইনে দাড়াতে হয়?"
অবন্তি উত্তর দিলো।
"না।আমি আজ এখানে প্রথমই দাড়াইছি।এই এলাকায় নতুন বাসা নিয়েছি।পুরনো বাসাটা ছেড়ে দিতে হলো।গতকালই এখানে আসছি।"
"লাইনে দাড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে তোমার কষ্ট হয় না?"
"না।কষ্ট হবে কেন?আমার অভ্যাস হয়ে গেছে।"
"আমার বাসাও এদিকটায়।এখন থেকে প্রতিদিন আমি যাবার সময় তোমাকে আমার সাথে করে নিয়ে যাব।"
"না।তার প্রয়োজন হবে না ইবলু ভাই।আমি একলাই যেতে পারবো।তাছাড়া লোকাল বাসে যাতায়াতের অভ্যাস আছে।"
"আচ্ছা বুঝছি না তুমি সব কিছুতে এত না না করো কেন?"
"ইবলু ভাই আপনি কেন আমার জন্য কষ্ট করবেন?তাছাড়া আমার অভ্যাস হয়ে গেছে এভাবে আসা-যাওয়া করতে।"
ইবলু একটু অধিকার খাটিয়ে বললো।
"তারপরও আজ থেকে তুমি আর এভাবে যাবে না।এখন থেকে প্রতিদিন আমি তোমাকে নিয়ে যাবোই।"

অবন্তি ইবলুকে কোন কথা বলার আগেই ইবলু বললো।
"সকালে ব্রেকফাস্ট করছো?"
অবন্তি মাথা নাড়িয় বললো।
"হ্যাঁ।"
"করলেও সমস্যা নাই।আবার করবা।আমি এখনও ব্রেকফাস্ট করি নাই।"
ইবলু ড্রাইভারকে উদ্দেশ্যে করে বললো।
" গাড়িটি সামনের ক্যাফেতে দাড় করিও।"
ড্রাইভার মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি জানালো।
ইবলু এবার অবন্তিকে বললো।
"অবন্তি সামনের ক্যাফেতে অনেক ভালো মানের খাবার তৈরি করে।ভিআইপিরা ওখানে ছাড়া খাবেই না।চলো আজকের সকালের ব্রেকফাস্ট ওখানেই সেরে ফেলি।"
অবন্তির কোন রকমই ইবলুর সাথে রেস্টুরেন্টে যাবার ইচ্ছা নাই।তাই ইবলুর প্রস্তাবে অবন্তি না যাবার মানসিকতা দেখালো।শেষে যখন কাজ হচ্ছে না দেখে অবন্তি ইবলুকে বললো।
"না ইবলু ভাই অফিসের টাইম হয়ে গেছে।আপনি বরং ব্রেকফাস্ট করে নিন।আমি বাস ধরে সোজা অফিসে চলে যাবো।
"অবন্তি বাচ্চাদের মত কথা বলো না।আধ ঘন্টা পরে গেলেও অফিস তোমাকে আর বাদ দিবে না।অফিসের চিন্তে বাদ দাও তো।বসকে আমি সামলাবো।চলো দুজনে একসাথে ব্রেকফাস্ট করি।"
অবন্তি একটু রেগে গিয়ে বললো।
"ইবলু ভাই।আমি বারবার বলেছি আমি ব্রেকফাস্ট করেছি।তবুও এত জোরাজুরি করছেন কেন?"
"এত হাইপারটেনশন হওয়ার কিছুই হয়নি।যাবে বলছি যাবে।তোমাকে তো টিপস দিতে বলিনি।আমার সাথে যাবে তাতে প্রবলেম কোথায়?

অবন্তি কোন কথা বললো না।ড্রাইভার ক্যাফের সামনে প্রাইভেট কারটি থামালো।ইবলু অবন্তি কথার কোন মূল্য না দিয়ে সোজা অবন্তির হাত ধরে ক্যাফেতে ঢুকে গেল।অবন্তির কিছু করার ছিলো না।ক্যাফের সামনে ভিতরে অনেক মানুষ জন।অবন্তি ইবলুর সাথে তাই বারাবারি করতে পারলো না।
ইবলু অবন্তিকে নিয়ে ক্যাফের পূর্ব কর্ণের একটি টেবিলে বসলো।অবন্তি চুপচাপ।কোন কথা বলছে না।
ইবলু অবন্তিকে বললো।
"এখানে কখনও আগে এসেছো?"
অবন্তি মাথা নাড়িয়ে বললো।
"না।"
"ও।আমি প্রতিদিন অফিসে যাবার সময় এখানেই ব্রেকফাস্ট করি।
কথা বলার ফাঁকে ওয়েটার খাবার মেনু নিতে হাজির।ইবলু কয়েক ধরনের খাবারের অর্ডার দিলো।

প্রায় আধঘন্টা পর ওরা দুজন বের হলো।তখন ঘড়িতে ১০টা ২০ বাজে।অবন্তি হাতের ঘড়ি দেখে চোখ কপালে উঠলো।চাকরিটা আজ নাও থাকতে পারে।
অবন্তি এরকম হাজারও জল্পনা কল্পনা করতে করতে এক সময় অফিসের গেটে পৌছালো।ঘড়িতে তখন ১১টা ছুঁই ছুঁই।অবন্তি কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা অফিসে ঢুকে পড়ল।ইবলু প্রাইভেট কার থেকে বের হয়ে দাড়ালো।ইবলু অবন্তির হেটে যাওয়া পথের দিকে অপলক তাকিয়ে ছিলো।ইবলু অবন্তিকে ভাবতে ভাবতে চোখের সানগ্লাসটা খুলে হাসলো।বড্ড বেরসিক হাসি।
..................
.........চলবে আগামী পর্বে.......

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

পরের পর্বের অপেক্ষায়!

আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার "বন্ধু" হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজিব আহমেদ
রাজিব আহমেদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 18 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 30, 2017 - 1:55পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর