নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • নুর নবী দুলাল
  • পৃথু স্যন্যাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার

আপনি এখানে

আমাদের কি ক্ষমা করতে পারবে সীমারা?


দু চোখ বন্ধ করে তার কথাগুলো শুনছি।
কান গরম হয়ে যাচ্ছে, তবুও শুনছি ; আর ভাবছি, এই অণ্ডকোষ, এই পুরুষত্ব, এই আমি পুরুষ কতটা নিচ, হীন কতটা জানেয়ার!
পতিতাদের প্রতি অনেক আগে থেকেই একটা আলাদা সম্মান ছিলো। সম্মানটা উচু স্তরের। কখনও তাদের এই পতিতা হওয়ার জন্য আমার ভেতরে বিন্দু মাত্র ঘৃণা জন্মায় নি, উপরন্তু যথেষ্টতার খুব বেশে সম্মান জন্মেছে। ঠিক সে জায়গা থেকে পতিতাদের নিয়ে আমার আগ্রহ ছিলো প্রবল। শরীরের নয়, কেন একটা নারী পতিতা হলো? কি কারণ ছিলো তার পেছনে? একটা নারী কি এমনি এমনি পতিতা হয়ে যা? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার আগ্রহ ছিলো। প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলা গত ৪ দিন আগে। আমি গাজীপুরে ডুয়েটের ক্যাম্পাসে। ওখানে আছি বেশ কিছু দিন হলো। তো আমার এক বন্ধু এসে বললো,
- চল, দোস্ত! পাড়ায় যাই। (উল্লেখ্য, পাড়া বলতে সে পতিতা পল্লিকে বুঝিয়েছে)
আমার ভেতরটা কেমন যেন করে উঠলো। আমি ছটফট করে উঠলাম এবং আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
- কেন? কিছু করবি নাকি?
বন্ধুটা বললো,
- হু, ওখানে দুটা মাগীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। একটু আগে কল করেছিলাম, করতে যেতে পারবো কিনা জানতে। বললো রাতে যেতে। তুইও চল। তুই তো শালা গার্লফ্রেণ্ড ছাড়া। করতে পারোস না। হাত মারোস।
আমি তার কথায় কিছু মনে করলাম না। তবে তার 'মাগী' শব্দটা আমাকে ভীষণভাবে আঘাত করলো। 'মাগী' একজন নারী হতে পারে সে বেশ্যা, পতিতা কিংবা আমাদের শব্দের ভাণ্ডারে থাকা শব্দে আরও অনেক কিছু। তাই বলে 'মাগী'! ওই পতিতা নারীটা কি তার বোন হলে 'মাগী' হতো!(?)
আমাদের সমাজে কিছু শ্রেণির মানুষ (উন্নত প্রজাতির পশু) আছে যারা নারীকে 'মাগী', 'খানকি' বলে বেশ মজা পায়। মনে মনে একটু যৌনসুখও অনুভব করে। কিন্তু যখন ওই 'মাগী', 'খানকি' বলে সম্ভোধন করা নারীটাকে তার বোন কিংবা মায়ের স্থানে বসিয়ে ভাবতে বলা হয় তখন বড্ড কষ্ট হয়। অনেক সময় রাগে গজগজ করতে করতে আক্রমনার্তক হয়ে মারধরও করে।

তো যা হোক, বন্ধুর অফার গ্রহন করে রাত ৮ টার দিকে পতিতা পল্লিতে (পাড়া) উপস্থিত হই। পতিতা নারী দুটো মানে বন্ধুর পরিচিত পতিতা দুটো হয়তো আমাদের অপেক্ষাতেই ছিলো। আমরা পৌছাতেই কাছে আসে। আমার বন্ধুকে দুজনেই জড়িয়ে ধরে গায়ে হাতড়াতে থাকলো। আমি এক পলকে তাকিয়ে দেখছি। হঠাৎ আমার বন্ধু ওই দুজনকে বললো,
- আজকে সীমা ওর সাথে যাও।
পতিতাদের দুজনের একজনের নাম সীমা। সীমা দেখতে খুব সুন্দর। খাটো মত গড়ন, স্লীম। তো সীমা বন্ধুর কথা শুনে আমার দিকে তাকালো এবং তাকিয়ে মুচকি হাসলো। বন্ধু ও আরেক জন পতিতা একটা রুমে চলে গেলো। সীমা আমার থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে। আমি কিছু বলছি না দেখছিও মানে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। এমন সময় আঁচমকা সীমা আমাকে হ্যাচকা টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একটা দরজার দিকে। দরজার কাছে এসেই কপাট খুলে ভেতর ঢুকলো আমাকেও টেনে ঢুকালো। ঘরটা বেশ বড় নয়। একটা চৌকি, তার ওপর রঙিন চাদর বিছানো। একটা এনার্জি বাল্ব ও একটা ফ্যান। আমি দাঁড়িয়ে, সীমা ঘুরে আমার দিকে তাকালো এবং ছোট্ট হাসি দিয়ে দরজার কপাট বন্ধ করে দিলো। এরপর এসে আমাকে চৌকিতে বসালো। আমি বসলাম। আমি এদিক ওদিক দেখছি। ও হ্যাঁ, একটা সিগারেটের প্যাকেট, ব্যানসন, একটা স্ট্রে রয়েছে। আমি প্যাকেটটা টেনে এনে সিগারেট বের করে ধরালাম। সীমা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। হাসতে হাসতে সীমা তার সেলোয়ারের ভাজ থেকে এক প্যাকেট কনডম বের করলো এবং সেটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। আমি হাত বাড়িয়ে নিলাম। প্যাকেটা পাশে রেখে সিগারেটে একটা টান দিয়ে স্ট্রেতে রেখে সীমাকে বললাম,
- আমি তোমার সাথে সেক্স করবো না।
কথাটা শুনে হয়তো সে শকড। কি বলে? পতিতার কাছে কি কেউ এমনি আসে?
সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
- তাহলে কেন আইছেন?
সীমার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, এতক্ষণ যে হাসিটা তার মুখে ছিলো সেটা আমার কথায় উবে গিয়ে একটা রাগ জায়গা করে নিয়েছে। যা হোক আমি বললাম,
- আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে এখানে এসেছি। আসলে ক্লিয়ালি বলি। আপনাদের প্রতি মানে পতিতাদের প্রতি আমার প্রচণ্ড সম্মান.....
আমার কথা শেষ না হতেই সীমা রাগে গজগজ করতে বললো,
- আমাদের সম্মান দ্যাখাইতে আইছেন! কি সম্মান দ্যাখাবেন? সম্মান নাকিকি করুণা!(?)
আমি কি বলবো ঠিক বুঝে উঠতে না পেরে বললাম,
- দেখুন, আপনাদের সত্যিই আমি সম্মান করি। আর সে সম্মানবোধ থেকেই বলছি, আমি কিছু প্রশ্নের উত্তরের জন্য এসেছি।
মেয়েটা হাসলো। হেসে বললো,
- দ্যাখুন, আপনার কাছ থেকে আমি এমনিতেও টাকা নিতাম না। কারণ কি জানেন? আপনাকে আমার ভালো লেগেছে। আপনার বন্ধু প্রতি সপ্তাহে আসে। আমরা দুজনেই শুই। কিন্তু কখনও ভালো লাগে নি। আমার কথা শুইন্যা কি ভাবতাছেন? বেশ্যাগ ভালো লাগতে নাই?
সীমা একমনে বলেই যাচ্ছে। আমি শুনছি। হঠাৎ সীমা আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি ছাড়াতে চেষ্টা করছি, পারছি না। সীমা বোধয় উন্মাদ হয়ে গেছে। এতটা জোরে আমাকে চেপে ধরেছে যে আমার গলায় ফাঁস লেগে যায়। তাকে ছাড়াতে পারছি না। কি করবো বুঝতে না পেরে আমি সীমাকে থাপ্পর দিলাম। থাপ্পরটা গালেই লেগেছে। সীমা আমাকে ছেড়ে উঠে চৌকির এক কোণায় বসে রইলো। আমি ঘামছি। ফ্যান ঘুরছে তবুও ঘামছি। হঠাৎ সীমা বলতে লাগলো,
- আমাদের সবাই ভোগ করতে চায়। এই সমাজের প্রতিটা পুরুষ, সে হোক জন্মদাতা বাবা কিংবা এক মায়ের পেটের ভাই। সবাই চায় বুকটা চেপে দেখতে, তলপেটের নিচ পুরুষদণ্ডটা ঢুকাতে। জানেন, আমিও সমাজে ভালো একটা মেয়ে ছিলাম। ক্লাস টেনে পড়তাম তখন। খুব ভালো ছাত্রী ছিলাম। সেদিন বাসায় কেউ ছিলো না। মা ছোট ভাইকে নিয়ে নানার বাড়ী গিয়েছে। আমি আর আমার বাবা বাড়ীতে। আমি আমার ঘরে শুয়ে। তখন রাত হবে ১২/১২.৩০ মি.
আমি ঘুমিয়ে, তো হঠাৎ আমি অনুভব করলাম আমার বুকে কেউ দু হাত দিয়ে জোরে চাপছে। চোখ খুলতেই দেখি সে কেউ ব্যক্তিটা আমার জন্মদাতা। আমি বাবাকে অনেক অনুরোধ করি। কিন্তু কোন কাজ হয় নি। আমার বাবা আমাকে.....
কথাটা বলতে গিয়ে সীমার বাক রোধ হয়ে গেলো। তার গাল বেয়ে টুপটুপ করে জল পরছে।
নিজেকে সামলে নিয়ে সীমা বলতে লাগলো,
- মা যখন ফিরলো তখন মাকে জানাই। কিন্তু মা আমার কথা বিশ্বাস করে নি। আমাকে তখন মা খুব মারে। এবং বাবা-মা দু জন মিলেই আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। ঘরে যখন হিংস্র জানোয়ার বাবা তখন বাইরে তো থাকবেই। একটা বাড়ীতে ঝি এর কাজ নেই। সেখানেও ভোগ হতে হয় পুরুষেরঅত্যাচার-নিপীড়ন। সেখানেও একই ভাবে মেরে তাড়িয়ে দেয়। এত কিছুর পর আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তুতু পারি নি। আমাকে এক লোক বাঁচায় তবে পুরোপুরি মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে এই বেশ্যা পাড়ার মৃত্যুপুরিতে দিয়ে যায়। আমাকে আমার বাবা, আমার মালিক ভোগ করে। মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে যে পুরুষ এই বেশ্যা জীবন দিলো সে কি আমার বাবা, মালিক পুরুষগুলোর থেকে কম অপরাধী?
আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর জানত এসেসে এক কঠিন প্রশ্নের সম্মুখিন হলাম। কি উত্তর দিবো সীমার এই প্রশ্নের? কান গরম হয়ে গিয়েছে। আমি বাকহীন। সীমার চোখ দিয়ে জল পরছে। আমি বেশিক্ষণ বসলাম না। বেরিয়ে আসলাম এবং সোজা বাসায় চলে আসলাম।
আজকে কি কারণে কি বুঝাতে আমি সীমাকে নিয়ে লিখছি তা জানি না। দায়সারাভাবে বলবোও না, সীমা আমায় ক্ষমা করো না। আমি বললেও সীমা ক্ষমা করবে না। বাবা নামক শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ আসনের ব্যক্তি যখন হিংস্র শুয়োর হয়ে একটা বাচ্চা মেয়ের যোনী চষে দেয় সেখানে আমার মত অণ্ডকোষ, পুরুষদণ্ডঅলা পুরুষকে ক্ষমা করতে কি কখনও পারবে সীমারা!(?)

বিভাগ: 

Comments

রাজিব আহমেদ এর ছবি
 

স্যালুট আপনার লেখাটি পড়ে।মাঝে মাঝে আমারও কিছু প্রশ্ন জানতে ইচ্ছে করে।একটি নারী পতিতা হয়ে জন্মায় না।তবে কেন সমাজে এত পতিতার ছড়াছড়ি?

Razib Ahmed

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

চমৎকার লেখা !

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার "বন্ধু" হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রুদ্র মাহমুদ
রুদ্র মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 1 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, নভেম্বর 29, 2016 - 1:57অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর