নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাজ্জাদুল হক
  • শঙ্খচিলের ডানা
  • তাকি অলিক
  • ইকরামুল শামীম

নতুন যাত্রী

  • মোমিত হাসান
  • সাম্যবাদ
  • জোসেফ স্ট্যালিন
  • স্ট্যালিন সৌরভ
  • রঘু নাথ
  • জহিরুল ইসলাম
  • কেপি ইমন
  • ধ্রুব নয়ন
  • সংগ্রাম
  • তানুজ পাল

আপনি এখানে

জন্মদিনের প্রচলন করলো কারা, কেক-মোমবাতি কেন? বাংলায় জন্মদিনের প্রচলন করেন কে?



.
যদি বলা হয় জন্মদিন কেন সবাই পালন করা হয় তবে সবাই বলবে স্রেফ আনন্দের জন্য, যদি বলা হয় কেন এটি প্রচলিত হওয়ার প্রয়োজন পড়লো?
উত্তরটা স্রেফ আনন্দের জন্য নয়।
প্রায় কয়েক হাজার বছর ধরে জন্মদিন পালিত হয়ে আসছে, যার শুরুটা হয়েছিলো একটি গোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে।।
.
জন্মদিন কেন পালিত হয়?
জন্মদিন পালনের প্রথাটি মূলত পৌত্তলিক (pagan) সংস্কৃতি ও বিশ্বাস থেকে এসেছে।
৩০০০ খৃস্ট পূর্বতে প্রাচীন মিশরেও ফেরাউনদের জন্মদিন পালন করা হতো যেহেতু তারা জন্মগ্রহণ করতো দেবদেবী হিসেবে। তবে কেক মোমবাতির প্রচলন তখনো আসেনি।
উপরে হায়ারোগ্লিফিকে করা যে ছবিটি দেওয়া আছে তা মিশরীয় ফেরাউন চতুর্থ থুতমোস (১৪০১-১৩৯১ খৃস্ট পূর্ব) এর সময়কার। চিত্রে "।।।" বলতে চতুর্থ থুতমোস কে বোঝানও হয়েছে। আর গোল দ্বারা সূর্যকে। চতুর্থ থুতমোসের ছবি নীচে।
.

.
মূল জন্মদিন পালনের শুরুটা হয় প্রাচীন গ্রীসে। প্যাগানরা বিশ্বাস করতো প্রতিটি মানুষই একটি আত্মা নিয়ে জন্মায় এবং মৃত্যুর পর তাদের আত্মা আলো হয়ে পৃথিবীতে থেকে যায়।
তারা কেক মোম জ্বালাতো এবং পুরোটা জ্বলে যাবার আগেই তা নিভিয়ে দিতো, এতে বোঝাতো যে জীবন সায়াহ্নের এখনো সময় হয়নি।
.

.
গ্রীকদের জম্মদিনের কেক সর্বদা গোল করে বানানো হতো, এর একটা কারন আছে,
চন্দ্র অধিষ্ঠাত্রী দেবী আর্টেমিস কে সম্মান প্রদর্শন করে চন্দ্রের আকৃতিতে গোল করে এটি বানানো হতো। উল্লেখ্য, দেবী আর্টেমিস- দেবতা জিউস ও দেবী লেটোর কন্যা, অ্যাপোলো'র সহোদরা। গ্রীকরা গোল কেক এর উপর বিশেষ পদ্ধতিতে মোমবাতি জ্বালাতো যার দ্বারা চাঁদের আলো বোঝানো হতো।
কথায় কথায় কেক এর প্রসঙ্গ চলে আসছে।
.
কেক কি?
"Cake" শব্দটা viking শব্দ "Kaka" থেকে এসেছে। যার দ্বারা একধরণের বিশেষ রুটিকে বোঝানো হতো। ২০০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রীসে জন্মদিন পালিত হত গোলাকার মোটা একখণ্ড রুটির দ্বারা, যার দুই দিকই ছিলো শক্ত। যা বানানো হতো গমের আটা, জলপাই তেল, মধু এবং গুড়ো গুড়ো পনির দ্বারা।
.

.
"Happy Birthday to You" গান কিভাবে আসে?
১৯৯৮ সালের গিনিজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে এটি বিশ্বে সবচেয়ে বেশিবার গাওয়া গান।
১৮৯৩ সালে দুই বোন “প্যাটি হিল” এবং “মিলড্রেড জে হিল” দুজনে মিলে “good morning to all” শিরোনামে গানটি লেখেন ও সুর করেন। যা স্কুলে বাচ্চারা ক্লাস শুরু হওয়ার আগে গাইতো।
১৯১২ সালে তারা লিরিকগুলো পরিবর্তন করে "Happy birthday to you" গান রচনা করে।
.
বিভিন্ন ধর্মের দৃষ্টিতে এটি খুবই নিষিদ্ধ ব্যাপার। গুগল ঘাটলে এই নিয়ে বহু লেখা চোখে পড়ে।
খ্রিষ্টীয় সমাজে বিভিন্ন সময়ে বহু খৃস্টানকে একে এড়িয়ে যেতে দেখা গেছে শুধুমাত্র প্যাগানের রীতি থেকে এসেছে বলে। শুরুতে এর ঘোর বিরোধীতা হলেও চতুর্থ শতাব্দীর পর খৃষ্টীয় সমাজে যিশু খৃষ্টের জন্মদিন পালন শুরু হয়।
.
জুলিয়াস সিজারকে মৃত্যুর দুই বছর পূর্বেও ১৩ জুলাই ৪২ খৃস্ট পূর্বতে জন্মদিবস পালন করতে দেখা যায়। সিজার ৫৫ বছর বয়সে তিনি রোমে মৃত্যুবরণ করেন।
জন্মদিন মূলত পুরুষরা পালন করত, নারীদের জন্য এটি ছিলো নিষিদ্ধ। ১২০০ খৃষ্টাব্দের পর নারীরাও জন্মদিন পালন শুরু করে।
.

.
বাংলায় জন্মদিনের প্রচলন করেন কে?
বাংলায় জন্মদিনের প্রচলন করেন জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় পুত্র সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী "জ্ঞানদানন্দিনী দেবী"।
পূর্বে বাংলায় বিখ্যাত মানুষদের জন্ম- মৃত্যুর হিসেব রাখা হলেও কখনো জন্মদিন পালন হতো না। সাধারণ মানুষদের মধ্যে বেশিরভাগই তাদের জন্ম তারিখ মনে রাখতেন না।
১৮৭৭ সালে গর্ভবতী অবস্থায় জ্ঞানদানন্দিনী দেবী ইংল্যান্ডে যান, তিনিই প্রথম ভারতীয় নারীর যিনি সাগর পাড়ি দিয়েছিলেন তাও কোন পুরুষ সঙ্গী বিহীন।
ব্রিটেনে তিনি জন্মদিন পালন দেখেন এবং তা তাকে অনুপ্রাণিত করে। কলকাতায় ফিরে আসার পর জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে তিনি তার সন্তান সুরেনের জন্মদিন পালন করেন।
জন্মদিনের উৎসব থেকে ফেরার পর জোড়াসাঁকোর শিশুদের মাঝে একধরণের উন্মাদনা জেগে উঠে এবং শুধু তাই না শিশুরা তাদের জন্ম কবে হয়েছিল তার খোঁজ নিতে শুরু করলো। জন্মদিন প্রথা দ্রুত ছড়িয়ে যেতে থাকে, শেষে ব্রাহ্ম সমাজও এটিকে গ্রহণ করেছিল। (সূত্র: সরলা দেবী চৌধুরানী, জীবনের ঝরাপাতা)।
আজ জন্মদিন প্রথা সমগ্র কলকাতা ছাড়িয়ে আমাদের দেশেও এসে পৌঁছেছে।
.
যদিও এর শুরুটা ছিলো ধর্মীয় বিশ্বাস, দেবতাদের সন্তুষ্ট করার নিমিত্তে।
কিন্তু বর্তমান যুগে কেউ কোন দেবতা বা বিশ্বাস থেকে পালন করেনা, স্রেফ আনন্দ আর স্মরণীয় করে রাখার জন্যই পালন করে, তাই বর্তমান জন্মদিন আর পূর্বের জন্মদিনের সাথে বিশ্বাসগত সম্পর্ক বা নিষিদ্ধতা খোঁজা বৃথা।।
.
.
.
.
.
হৃদয় মজুমদার,
মহারাজাপুর, ঢাকা।।

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

বাহ। চমৎকার। ভাল লাগলো !

আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার "বন্ধু" হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

বাহ। চমৎকার। আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার "বন্ধু" হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হৃদয় মজুমদার
হৃদয় মজুমদার এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 1 দিন ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 23, 2016 - 5:13অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর