নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
  • দ্বিতীয়নাম
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • পৃথু স্যন্যাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার

আপনি এখানে

নোয়াখালীর "শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম" এর এই মুক্তিযোদ্ধা ভুলু কে?



.
শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম।
বৃহত্তর নোয়াখালীতে এমন কোন সচেতন নাগরিক নেই যারা নোয়াখালীর এই স্টেডিয়ামটির নাম শোনেননি। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে নোয়াখালীর প্রাণকেন্দ্র মাইজদীতে এক হাজার আসনের এই স্টেডিয়ামটি স্থাপিত হয়। নোয়াখালীতে এটিই বৃহত্তর স্টেডিয়াম।
কিন্তু কে এই শহীদ ভুলু?
.
মুক্তিযোদ্ধা ভুলুর সম্পূর্ণ নাম শাহাবুদ্দিন ইস্কান্দার, ডাক নাম ভুলু। জন্ম নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার ১৬ নং কাদিরপুর ইউনিয়ন।
পাকিস্তান আমলে বৃহত্তর নোয়াখালীতে ক্রিয়াঙ্গনে তিনটি নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হত, কচি, ছালু, ভুলু। তারা তিন সহোদর, তিনজনই ছিলেন তুখোড় ফুটবলার। সবাই তাঁদের একনামে চিনতো "ইস্কান্দার ব্রাদার্স"।
বাবা ছিলেন সুখ্যাত উকিল, জেলা উকিল বারের সভাপতি ও বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।
.

.
এপ্রিলের শেষের দিকে নোয়াখালীতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো, দেশ ১১ সেক্টরে ভাগ করা হলো, নোয়াখালী পড়লো ২ নং সেক্টরে। সেক্টর প্রধান সেক্টরের প্রধান ছিলেন মেজর খালেদ মোশারেফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) এবং পরবর্তীতে কমান্ডার হিসেবে মেজর এটিএম হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) আসেন, তাঁর নেতৃত্বেই ইস্কান্দার ভুলু যুদ্ধ করেছেন। এই বাহিনী কে ফোর্স নামে পরিচিত ছিল। সমগ্র নোয়াখালীকে ৫ টি জোনে ভাগ করা হয়। জোনগুলোর নামকরণ করা হয় যথাক্রমে এ, বি, সি, ডি, ই এবং হাতিয়াকে আলাভাবে রাখা হয়।
.
মুক্তিযোদ্ধা ইস্কান্দার ভুলুর দল তাঁর এলাকা নোয়াখালীর উত্তর কাদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে তাঁদের ঘাঁটি পাতেন। ভারতীয় মিত্রবাহিনী থেকে ক্যাপ্টেন অমল নাগও তাঁদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে করেন তাদের সাথে।
৫ সেপ্টেম্বর সেই ঘাঁটির উপর দিয়ে একটি পাকিস্তানী ফাইটার বিমান খুব নীচু হয়ে উড়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা তা লক্ষ্যকরে মেশিনগান থেকে গুলি ছোঁড়েন। এতে স্থানীয় রাজাকাররা তাদের অবস্থান ধরে ফেলে।
সেদিন রাতে বসুর হাটে মুক্তিযোদ্ধাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শহীদ ভুলু ও ক্যপ্টেন নাগ গভীর রাতে কাদিরপুর ক্যাম্পে ফিরে আসেন ও ক্যম্পের পাশে খালের মধ্যে নৌকা বেঁধে তাঁরা নৌকার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন।
.
৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১,
রাজাকারগণ খুব ভোরে ছয়টি নৌকা বোঝাই এক প্লাটুন পাকিস্তানী সৈন্য নিয়ে হাজির হয় ও সমগ্র এলাকা ঘিরে ফেলে।
সেদিন সহযোদ্ধারা স্থানান্তরিত হতে পারলেও মুক্তিযোদ্ধা ইস্কান্দার ভুলু ও মুক্তিযোদ্ধা অমল নাগ তখনো নিদ্রাশ্রিত, কিছুটা দেরী হলেও তারা টের পেয়ে জেগে উঠেন, যতটা সম্ভব গুলির দ্বারা প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যান। হঠাৎ একটা গুলি ইস্কান্দার ভুলুর বাম বাহুতে এসে বিদ্ধ হয় তিনি মারাত্বক আহত হন।
কিছু সময়ের মধ্যে তারা দুজনই ধরা পড়ে যান। তাদের স্কুলের বারান্দায় এনে গরুর দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে দেওয়া হয় পিছন দিক হতে।
.
মৃত্যু নিশ্চিত জানেন, পাকিস্তানি সেনারা চাইলো ক্যাম্পে নিয়ে হত্যা করবে। কিন্তু রাজাকাররা এখানেই হত্যা করে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত, শহীদ ভুলু "জয় বাংলা" বলে বার বার শ্লোগান দিতে থাকেন। পাকিস্তানিরা ক্ষুব্ধ হয়ে বেয়নেট দিয়ে তাঁর কণ্ঠনালী কেটে দেয়,
এরপর পিছন দিক থেকে পরপর তিনবার গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। শহীদ ভুলুর লাশ পড়ে থাকে।
পাকিস্তানিরা ক্যাপ্টেন অমল নাগকে নিয়ে বেগমগঞ্জ ক্যাম্পে ফিরে আসে, এরপর তাঁর উপরেও চলতে থাকে অমানুষিক নির্যাতন।
.
মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ ভুলুর লাশটি উদ্ধার করেন ও পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁর বাবার কবরের পাশে দাফন করেন। এর কিছুদিন পরে সেনবাগে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় শহীদ ভূলু হত্যার সহযোগী সেই রাজাকারদ্বয় কাজী আবু বকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান মারা পড়ে।
.

.
৭ ডিসেম্বর ১৯৭১,
এফএফ ও বি.এল.এফসহ সম্মিলিত বাহিনীর বীর যোদ্ধাদের পরাক্রমের কাছে পাকিসেনারা হার মানতে বাধ্য হয়।
নোয়াখালী পাক বাহিনীর মুক্ত হয়।
সেদিন সারা গ্রামগঞ্জ থেকে অজস্র বিজয় মিছিল এসে নোয়াখালী টাউনকে মিছিলে মিছিলে মুখরিত করে তোলে।
ক্যাপ্টেন অমল নাগ অর্ধমৃত অবস্থায় মুক্তি লাভ করেন।
আর সেই রাজাকারদ্বয়ের সন্তানরা পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ভোগ করতে থাকে।
.
মৃত্যুর পূর্বে শহীদ ভুলু তিনজন শিশু সন্তান রেখে যান। বড় ছেলে জুয়েল চার বছর, মেঝো ছেলে সোহেল আড়াই বছর ও ছোট ছেলে দীপেলের বয়স ছিলো মাত্র ছয়মাস।
পাকিস্তানীরা তাদের বাস্তুভিটা পুড়িয়ে দিয়েছিলো। নিস্ব, অসহায় হয়ে আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় তারা মানুষ হয়।
.

.
১৯৭৩ সালে নোয়াখালীতে স্টেডিয়াম তৈরীর কাজ শুরু হলে এই তুখোড় ক্রিয়াবিদ ও দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা কে স্মরণে রাখতেই স্টেডিয়ামের নাম "শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম" রাখা হয়।
.
.
.
উপাত্ত সহায়তায়:
উইকিপিডিয়া,
সাংবাদিক মাহমুদুল হক ফয়েজ,
সাংবাদিক ইকতেদার আহমেদ,
মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা খানম সাকীর সাক্ষাতকার,
নোয়াখালী মুক্তিযুদ্ধ তথ্য বাতায়ন।।

.
.
.
.
.
হৃদয় মজুমদার,
মহারাজাপুর, ঢাকা।।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হৃদয় মজুমদার
হৃদয় মজুমদার এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 6 দিন ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 23, 2016 - 5:13অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর