নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • আকাশ লীনা
  • সীমান্ত মল্লিক

নতুন যাত্রী

  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম
  • মোঃ মনজুরুল ইসলাম
  • এলিজা আকবর
  • বাপ্পার কাব্য

আপনি এখানে

বাবরি মসজিদ ইস্যুতে অনলাইনে ভোট যুদ্ধ ও রক্তাক্ত অতীত: বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘু বলছি



.
বাবরি মসজিদ ইস্যু,
jaagoindian.com নামের একটি ওয়েবসাইট বাবরি মসজিদ চান নাকি রাম মন্দির চান, নাকি দুটোই চান, এইটাইপের একটি ভোট জরিপ চালাচ্ছে ভোট দেবার জন্যে। ফেসবুকে অনেকে লিংক পাঠাচ্ছে।
আমি এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কনফিউজড,
যেন আরেকটা দাঙ্গার আশংকা দেখতে পাচ্ছি। কিছু অতীত না মনে করলেই নয়।
.
উজবেকিস্তানে জন্ম নেওয়া জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নির্দেশে ১৫২৭ সালে ভারতের অযোধ্যায় একটি মসজিদ নির্মিত হয়। এ নিয়ে কিছু দ্বিমত রয়েছে। অনেকের মতে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন বাবরের সাথে আগত মীর বাকী নামে একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। বাবরি মসজিদের মধ্যে প্রাপ্ত প্রস্তরফলক থেকে জানা যায়, মীর বাকী মসজিদটি স্খাপন করেন ৯৩৫ হিজরিতে, খ্রিষ্টাব্দের হিসাবে যা দাঁড়ায় ১৫২৮। বাবর মৃত্যুবরন করেন ১৫৩০ খৃষ্টাব্দে।
.
সাল ১৮৫৩, নির্মোহী নামে এক হিন্দু সম্প্রদায় দাবি করে একটি হিন্দু মন্দির ধ্বংস করে বাবরি মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। ঘটনাটি বেশ আলোচিত ও প্রভাবিত হয়ে ওঠে। সেবারই প্রথম সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
.
সাল ১৮৫৯, দ্বন্দ্ব ক্রমেই বাড়ছে, ব্রিটিশ প্রশাসকরা এর সুরাহা করতে বেড়া তৈরি করে হিন্দু ও মুসলিমদের প্রার্থণার জন্য আলাদা আলাদা জায়গা তৈরি করে দিলেন।
.
সাল ১৯৪৯, মসজিদের ভেতরে রামের মন্দিরের অস্তিত লক্ষ্য করে হিন্দু সম্প্রদায় এবং দুইপক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা করে। সরকার পরিস্থিতির উগ্রতা দেখে শেষ পর্যন্ত মসজিদ প্রাঙ্গণকে তালা ঝুলিয়ে বন্ধ করে দেয়।
.
সাল ১৯৫৯, সালে নির্মহী সম্প্রদায়রা একে মন্দিরের জমি বলে তৃতীয় বারের মত মামলা করে, অন্যদিকে ১৯৬১ ইসলামিক সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড মসজিদের ভূমি ও আশেপাশের জমিকে কবরস্থান বলে দাবি করে।
.
সময়ের সাথে সাথে পরিবেশ আরো সহিংস হতে থাকে, কোনভাবে থামানো সম্ভব হচ্ছেনা।
সাল ১৯৯২, ডিসেম্বর ৬, শিবসেনা ও বিজেপির সমর্থকরা মসজিদটি ভেঙে ফেলে। এটি এতটাই প্রভাবক হয়ে ওঠে যে সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে এক বড়ধরণের দাঙ্গার সৃষ্টি করে ও শুধুমাত্র ভারতবর্ষে প্রায় ২০০০ মানুষকে নির্মম হত্যার শিকার হতে হয়। বাংলাদেশে কি হলো তা পরে বলছি। ঘটনাটা এখানেই শেষ হলেও পারতো। কিন্তু এখনো যে অনেক প্রাণ ঝরার বাকী।
.
সাল ২০০১, অযোধ্যায় সেই স্থলে আবার রাম মন্দির পূনস্থাপনের দাবি তোলা হয়, এর ফলস্বরুপ ২০০২ সালে ট্রেনে যাত্রাপথে ৫৮ জন করসেবককে হত্যা করা হয়। দাঙ্গা আবারো প্রকটতা লাভ করে। ফলাফল আরো ১০০০ মানুষের নির্মম হত্যা।
ভারতের হাইকোর্ট প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে নির্দেশ দেয় সেখানে আদৌ কোন মন্দির আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে। তিনজন বিচারপতি মামলার শুনানি শুরু করেন।
.
সাল ২০০৩, বিচারপতি এস আর আলম,বিচারপতি ভানওয়ার সিং এবং বিচারপতি খেমকারণের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের আদেশে আরকিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া ওই স্থান খনন করে একটি সুবৃহৎ হিন্দু ধর্মীয় স্থাপত্যের সন্ধান পায়। কিন্তু বিচারের রায় কখনো দেওয়া হয়না, দীর্ঘকাল এই বিচারের রায় ঝুলিয়ে রাখা হয়, কেউ কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে পারেনা। এর কারন এই বিচারের বিষয় মসজিদ ও মন্দির। এগুলো এতটাই ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা যার জন্য বিচারের যেকোন রায়েই সহস্র রক্তধারা বয়ে যেতে পারে।
.
কালোচিত সাল ১৯৯২,
বাংলাদেশ, সুদূর অযোধ্যায় সেই মসজিদ ধ্বংসের শোধ এদেশে থাকা হিন্দুদের উপরই তুলতে হবে। সেবার শুধুমাত্র ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত
১৫ হিন্দু নারী-পুরুষ খুন হয়,
২৬০০ উপর নারী ধর্ষিতা হয়,
১০ হাজার মানুষ আহত হয়,
২ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়,
৩৬০০ অধিক মন্দির জ্বালিয়ে দেওয়া হয়,
৪০ হাজার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া ও দখল করা হয় এবং
দশ হাজারের উপর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।
অন্যসব মন্দিরের মত ঢাকেশ্বরী মন্দিরটাও একই ইস্যুতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
.
২০১০ সাল, ৩০ সেপ্টেম্বর, এলাহবাদ হাইকোর্টের তিন জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ অবশেষে তাদের রায় প্রদান করেন। এতে ২.৭৭ বা ১.১২ হেক্টর ভূমি সমান তিনভাগে ভাগকরার রায় দেন। যার এক অংশ পাবে হিন্দু মহাসভা,দ্বিতীয় অংশ পাবে ইসলামিক সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং বাকি তৃতীয় অংশ পাবে নির্মোহী আখরা সংগঠন।
.
অর্থাৎ সবাইকে সমান ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই স্থল কি এবার পাশাপাশি মন্দির-মসজিদ প্রতিষ্ঠা করবে? আবার কি রক্তপাত হবে না?
সারা বিশ্বের এত মসজিদ আইএস ধ্বংস করছে, বাংলাদেশে মৌলবাদ এত মন্দির ধ্বংস করছে, তাতে এদের কারো মাথাব্যাথা নেই। অথচ সেই একটা জায়গাকে কেন্দ্রকরে এতো রক্তপাত, এতো মৃত্যু! আমরা জানিনা সময় আরো কত মৃত্যু দেখাবে আমাদের। তারপরও jaagoindian.com নামের ওয়েবসাইট গুলো নিয়ে আসবে নব্য দাঙ্গার দাওয়াত নিয়ে।
হে বিবেক, তুমি কাকে ভোট দেবে?
.
আইএস সিরিয়ায় একটা মসজিদ ভাঙলে
লোকে বলবে তারা সন্ত্রাস।
সন্ত্রাসের কোন জাত নেই, ধর্ম নেই।
দায় কারো উপর যাবে না,
কিন্তু অযোধ্যা ইস্যুতে একটা মন্দির গড়লে
কেউ তাদের সন্ত্রাস বলে উড়িয়ে দেবে না,
দেশের মানুষ বলবে তারা স্রেফ "হিন্দু"
অযোধ্যার শোধ নেওয়া হবে বাংলাদেশের প্রতিটি হিন্দুর উপর।
ধ্বংস করা হবে আমার দেশে সহস্র মন্দির।
লক্ষাধিক সংখ্যালঘু হত্যা হবে।
কেন ভাই ভোট যুদ্ধে সবাই মেতেছেন?
আপনারা কি আরো রক্ত চান?
.
জানিনা এইসবের পরিশেষ কোথায়,
অযোধ্যা আমাদের কাছে গল্পের পাতার মতো,
কখনো দেখিনি, যাইও নি, তবু তার ইস্যুতেই মরতে হয়েছে,
আমরা জানি আমার দেশ কে বাঁচাও,
আমরা আর কোন রক্তের স্রোত চাই না।
.
.
.
.
.
হৃদয় মজুমদার,
মহারাজাপুর, ঢাকা।।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হৃদয় মজুমদার
হৃদয় মজুমদার এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 3 দিন ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 23, 2016 - 5:13অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর