নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বাঙালির ঈদ/ইদ বিতর্ক ও ফেসবুকিয় শুভেচ্ছা


বাঙলা একাডেমির সংশোধিত বানানরীতির ফলে আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।সামনের ইদকে কেন্দ্র করে অনলাইনে তুমুল আলোচনা-সমালোচনায় লিপ্ত বাঙালিদের আমি তাদের মন্তব্যের ধরণ অনুযায়ী কয়েকটা শ্রেণিতে বিভক্ত করেছি।

১.বুদ্ধিজীবী শ্রেণি: ইনারা সর্বদা যেকোনো বিষয়ে দুই ভাগে বিভক্ত থাকেন।এখনো বাঙলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ঈদ বানান নিয়ে একরকম কথা বলছেন, বর্তমান মহাপরিচালক এক রকম কথা বলছেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগের দুজন শিক্ষক কেউ ঈদকে আবার কেউ ইদকে বেশি গ্রহণযোগ্য বলেছেন।ইনাদের এই মতবিরুদ্ধতার কারণে ভক্তকুলও দুও ভাগে বিভক্ত হয়ে তর্কে নামে।

২.আরবিপ্রেমী ইসলামিস্ট শ্রেণি:ইনারা মোটামুটি ভালো আরবি জানেন এবং আরবি ভাষায় ঈদ ও ইদের অর্থগত পার্থক্য দেখিয়ে ইনারা বাঙলা ভাষাতেও দুটা বানানের আলাদা অর্থ চান।এই শ্রেণির লোকেরা বাঙলা একাডেমির বানান সংস্কারকে সরাসরি আরবি ভাষা ও ইসলামের প্রতি ষড়যন্ত্র হিসেবে নিয়েছেন।কুরানের ভাষা হওয়ার কারণে ইনারা আরবিকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ভাষা হিসবে বিবেচনা করেন। তাই আরবি ভাষার নিয়ম-কানুন বাঙলা ভাষাতেও চালু করার ব্যাপারে ইনারা সচেষ্ট।

৩.সেক্যুলার শ্রেণি:এই শ্রেণির পণ্ডিতরা বাঙলা ভাষায় আরবি শব্দ মেনে নিতে পারেন না। ইনারা মনে প্রাণে চান আরবি শব্দের বানান বিকৃত হোক।স্বভাবতই এই শ্রেণি ইদ বানানের সমর্থক।

৪.কার্বন মনোক্সাইড শ্রেণি:এই শ্রেণির লোকদের বিবেচনাবোধ ভালো।তারা ভালবাবে সব ধরণের মন্তব্য লক্ষ্য করেন।প্রতিপক্ষের সাথে নরম সুরে কথা বলতে বলতে তাদের লাইনচ্যুত করেন।অত:পর কামড়ে ধরেন।

৫.আবাল শ্রেণি: এরা হচ্ছে টিপিক্যাল বাঙালি।কিছু না জেনে, না বুঝেই শুধু অন্যের পোস্ট পড়ে একটা পক্ষ গ্রহণ করে।অত:পর তার নিজের যে একটা মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে সেটা জাহির করার জন্য কারো ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে কয়েকটা লাইন কপি করে নিজের ওয়ালে স্ট্যাটাস দেয়।

৬.আতেল শ্রেণি:এদের কাম হলো বড় বড় ব্যক্তিদের সমালোচনা করে নিজকে পণ্ডিত হিসেবে উপস্থাপন করা। এদের সর্বশেষ ধারণা হলো: বাঙলা একাডেমিতে সব মূর্খরা বসে আছে। এখন সে নিজে ভাষা সংশোধন অভিযানে না নামলে বাঙলা ভাষা নষ্ট হয়ে যাবে।

৭.নির্ভেজাল আদমি শ্রেণি:এরা যা কিছু নিয়েই বিতর্ক হোক না কেন চুপ থাকেন।একটা পক্ষ নিয়ে অন্য পক্ষের লোকদের শত্রু হতে এরা ভয় পান।

যাই হোক,বাংলাদেশে একটা টপিক নিয়ে বেশিদিন হৈ-হল্লা চলেনা।নতুন টপিক চলে আসে।ইদ বানানটা আমার কাছে অনভ্যস্ততার কারণে দৃষ্টিকটু লাগলেও আমি জানি আজ থেকে ৫ বছর পরে কেউ দীর্ঘ-ঈ কার ব্যবহার করে ইদ লিখবেনা। আর আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অতৎসম কোনো শব্দেই দীর্ঘ-স্বর ব্যবহার করবেনা।কয়েকদিনের বিতর্কের পর বাঙলাদেশের সকল ধর্মের,মতের,জাতের মানুষকে জানাই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব Eid এর শুভেচ্ছা।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

উলুল আমর অন্তর
উলুল আমর অন্তর এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 6 দিন ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 15, 2017 - 1:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর