নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাজ্জাদুল হক
  • শঙ্খচিলের ডানা
  • তাকি অলিক
  • ইকরামুল শামীম

নতুন যাত্রী

  • মোমিত হাসান
  • সাম্যবাদ
  • জোসেফ স্ট্যালিন
  • স্ট্যালিন সৌরভ
  • রঘু নাথ
  • জহিরুল ইসলাম
  • কেপি ইমন
  • ধ্রুব নয়ন
  • সংগ্রাম
  • তানুজ পাল

আপনি এখানে

অরুপার বিয়ে


ডাইনিং রুমের দরজা থেকে ড্রইং রুমের ভেতর উঁকি দিলো অরুপা। বর মহাশয় বিস্কুট মুখে দিয়ে চিবোতে চিবোতে বাবার সাথে মুচকি হেসে কথা বলছে। কোনো পাত্রপক্ষ পাত্রী দেখতে এলে অন্তত নূনতম লজ্জাটা চেহারায় বজায় রাখে। এই ব্যাটার তো দেখি তাও নেই। দিব্যি ভবিতব্য শ্বশুরের সাথে হাসিমুখে কথা বলে যাচ্ছে। বিয়ে করতে এসেছে নাকি ঘটকালি করতে এসেছে!

কেউ দেখে ফেলে এই ভয়ে ওখান থেকে সরে যায় অরুপা। নিজের ঘরে এসে বড় আয়নার সামনে বসে। কপালে কি টিপ দেবে? না দিলেও অবশ্য ক্ষতি নেই। বেশ রুপসীই লাগছে তাকে, ভাবল অরুপা। পাঁচ টাকা দামের একপাতা নীল টিপ পরে আছে ড্রয়ারে। শরীফের দেওয়া। শরীফ এখন কোথায় জানেনা সে। হয়তো একগাদা সার্টিফিকেট হাতে কোনো বিল্ডিং এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে চাকরি পাবার আশায়! কয়েকদিন ধরে কথাও হয়নি তার সাথে। ছেলেটা চাকরির খোঁজে খুব ব্যস্ত।

পাত্রপক্ষ থেকে জানালো, মেয়ে তাদের অনেক পছন্দ হয়েছে। তবে মেয়ে দেবার সাথে সাথে দশ লাখ টাকায় ওদের বাড়িটা সাজিয়ে দিতে হবে আরকি! অরুপার বাবা নিমরাজি হয়েও রাজি হলেন। যদিও টাকা যোগার করতে কিছু দেনা হবে কয়েক জায়গায়!

অরুপা চাপা মনে চিঠি লিখছে। শরীফের ঠিকানায়। মন খারাপ করে বালিশের উপর ঝুঁকে লিখছে। বাবা যে তাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে তা না। তার নিজেরও অমত নেই এই বিয়েতে। কারণ শরীফের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

দুদিন পর শরীফের মেসে চিঠি এলো। হলুদ খামের ছোট চিঠি। চিঠির ভেতরেও ছোট কথা। তাতে লেখা,

"সুপ্রিয় শরীফ,
আমাকে তুমি খুব পছন্দ করো জানি। তোমাকে যে আমার ভালো লাগেনা তা নয়। কিন্তু বাস্তবতার এই মর্মান্তিক জনজীবনে এই মুহূর্তে তোমার চাকরি পাওয়াটা অসম্ভব। প্রয়োজনীয় কুয়ালিফিকেশন তোমার নেই। বড় কথা হচ্ছে আমি তোমার থেকে দুই ব্যাচ সিনিয়র। এবছরে বিয়ে না হলে লোকে নানা কুমন্তব্য রটাবে আমার নামে। আর বদনাম হবে বাবারও। তাই নিরুপায় হয়ে তোমার মন ভাঙতে হলো। আশা করি নিজেকে সামলে নেবে। তোমার জন্য খারাপ লাগছে। ভালো থেকো।
ইতি,
অরুপা।"

বুকের ওপর চিঠিটা নিয়ে শুয়ে পড়ে শরীফ। ভাবলেশহীন চোখে সিলিং দেখে। এটাই অরুপার প্রথম এবং শেষ চিঠি। মেয়েটার হাতের লেখা বেশি সুন্দর না। হয়তো সুন্দর! কাঁদতে কাঁদতে লেখায় অক্ষরগুলো ভেঙ্গে গেছে।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাদিক আল আমিন
সাদিক আল আমিন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 3 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, মার্চ 28, 2017 - 6:21অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর