নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • গোলাম রব্বানী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • অনন্য আজাদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আব্দুল্লাহ্ আল আসিফ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি ও আসিফ মহিউদ্দিনদের মিথ্যাচারের রাজনীতি


ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন আজকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এ ইসলামি রাস্ট্রের প্রভাব নিয়ে লিখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অপমান করে লিখেছেন,শেখ মুজিব স্বাধীনতার পর সৌদিসহ বিভিন্ন ইসলামি রাস্ট্রের কাছে নিয়মিত ধর্ণা দিতেন নিজেদের মুসলমান প্রমাণের জন্য। শেখ মুজিবের পররাষ্ট্রনীতি দেশ শাসন নীতি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তুলে আসিফ মহিউদ্দিন বঙ্গবন্ধুকে এক ব্যর্থ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।তার বিভিন্ন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে লিখছি।এছাড়া অনেকে দাবি করেন শেখ মুজিব ইন্দিরা গান্ধীর সাথে গোপন চুক্তি করে দেশ বেচেছেন। তাদের উদ্যেশ্যেও এটা লিখছি।পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে দেখলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্তিত্ব যারা মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছিলো। ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দেখা করে শেখ মুজিব দৃড়ভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে স্বাধীন বাংলা থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সরিয়ে ভারতে পাঠান।একাত্তরের আগে যারা ছিল চুনোপুঁটি নেতা তারাই স্বাধীনতার পর নিজেদের দেখতে পেল বড় নেতা হিসেবে।শুরু করল ব্যাপক অন্যায়-অবিচার, লুটতরাজ। দোষ পরতে লাগলো শেখ মুজিবের উপর।পাক বাহিনী দেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে এদেশের ব্যাংক,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,রাষ্ট্রীয় অফিস-আদালত সবকিছু ধ্বংস করে গিয়েছিল।যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া এককটা রাস্ট্রের সব মানুষকে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে শেখ মুজিব আহবান জানিয়েছিলেন।যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়তে এগিয়ে আসা ত দূরের কথা চুনোপুঁটি নেতা এবং অনেক মুক্তিযোদ্ধাও নামলেন লুটতরাজে,ক্ষমতা দখলে।সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টি,জাসদ সারা দেশে থানা আক্রমণ করে বিপ্লবের নামে লুটতরাজ শুরু করলো এবং অনেকে স্বাধীনতাই অস্বীকার করে বসলেন। আব্দুল হকের ইস্ট পাকিস্তান কম্যুনিস্ট পার্টি ত স্বাধীনতার পরেও নিজেদের নাম পাকিস্তান কম্যুনিস্ট পার্টি রাখলো।অনেক রাজাকার জীবন বাচানো ও ক্ষমতার লোভে মোসাহেবি করে ঢুকতে লাগলো আওয়ামীলীগ এ।চলছে লুটতরাজ। শেখ মুজিব আক্ষেপ করে বললেন, আমি পেয়েছি চোরের দেশ।

একেতো বিশৃঙ্খলা তার উপর দেশে এলো দুর্ভিক্ষ। সাত কোটি মানুষকে খাবার-পোশাক দেবার জন্য বৈদেশিক সাহায্য অতি জরুরি হয়ে পড়ে।একাত্তরে নিক্সনের আমেরিকা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল বলে মহান নেতা তাজউদ্দীন আমেরিকার মাতব্বরি মেনে নিতে পারেননি কোনোদিন। আমেরিকা শর্ত দিল,বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষকে তারা সাহায্য করবে কিন্তু তাজউদ্দীন কে পদত্যাগ করতে হবে। বাধ্য হয়ে তাজউদ্দীন মুজিব ভাইয়ের পেছন থেকে সরলেন যা ছিল স্বাধীন বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভুল।এই সুযোগে খন্দকার মোস্তাকের মত জাতীয় বেঈমানরা বঙ্গবন্ধুর চারপাশে ভীড় করে ষড়যন্ত্র শুরু করলো।

তাজউদ্দীন এর অনুপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু নিজেই বুঝতে পারলেন না কাকে বিশ্বাস করবেন।সবাই চুরি -চামারিতে ব্যস্ত। অন্যদিকে উগ্র বামরা সারা দেশে পুলিশ হত্যা আর তাদের চিরায়ত প্রচারণে পদ্ধতির মাধ্যমে লোক ক্ষেপিয়ে তুলতে লাগলো।

এবার আসি মুক্তিযুদ্ধ এর বিরোধী আরব দেশগুলো ও আমেরিকার সাথে শেখ মুজিব কেন সম্পর্ক গড়লেন এই প্রসঙ্গে। দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের জীবন বাচানোর তাগিদেই মুজিব আমেরিকার সাহায্য নিয়েছেন।এর ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন।আমেরিকার নাগরিকরা যুদ্ধে বাংলাদেশকে অকুণ্ঠ সমর্থন করেছে।বাংলাদেশের বেশিরভাগ নাগরিক মুসলিম।তাদের হজ্বে যাবার অনুমতি অর্জনের জন্য এবং
আরব সাম্রাজ্যে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার জন্য সৌদি সরকারের স্বীকৃতি অতি জরুরি ছিল।পাকিস্তানি প্রচারের কারণে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশিরা স্বীকৃতি পাচ্ছিলেন না।দেশ গঠনের জন্য সারা বিশ্বের স্বীকৃতি ও সহযোগিতা দরকার ছিল মুজিবের। একই কারণে পাকিস্তানের মুখে স্বীকৃতি অর্জনের জন্য সরকার ভুট্টকে দেশে এনেছিল আসিফ মহিউদ্দিন যাকে ভুট্টোর পা চাটা বলেছেন।কিন্তু আপনার জানা প্র‍য়োজন ভুট্টোকে জোর করে শেখ মুজিব সরকার স্মৃতিসৌধে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে বাধ্য করেছিলেন।

জাসদের প্রচারণার কারণে দেশে তখন চলছে সমাজতান্ত্রিক ঝড়।দেশ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র একা সামলাতে হবে বঙ্গবন্ধুকে।বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র এর ব্যাপক ঢেউ এর কারণে চিরগণতন্ত্রী শেখ মুজিবকে বাধ্য হয়ে সমাজতন্ত্রী বাকশাল ও লুটতরাজকারীদের ঠেকাতে রক্ষীবাহিনী গঠন করতে হলো।

আমাদের স্বভাব হলো বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে সমালোচনার নামে মিথ্যাচার করে নিজেদের অনলাইন সেলিব্রিটি বানানো। আসিফ মহিউদ্দিনও একই কাজ করেছেন জাতির জনককে সাম্প্রদায়িক প্রমাণের অপচেষ্টার মাধ্যমে।আমি তার লেখার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।শেখ মুজিব যে পরিস্থিতির দেশ পেয়েছিলেন ওই পরিস্থিতে পরলে ১০০ টা আসিফ মহিউদ্দিন কোন দিকে পাগল হয়ে দৌড় মারতেন!

আসিফ তার লেখায় আহমদ শরিফের বয়ান দিয়ে স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধুর অবদান ছোট করে বলেছেন শেখ মুজিব পরিস্থিতির দাবি মিটিয়েছেন।ইতিহাসের দিকে তাকান।দুনিয়ার সব বিপ্লবী রাস্ট্রনায়কই সময়ের প্রয়োজনে এসেছেন।রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু অবাঞ্ছিত কেউ নন।কিশোর বয়স থেকে ছাত্ররাজনীতি করে উপমহাদেশের বড় বড় নেতাদের কাছ থেকে রাষ্ট্রনীতি শিখে বাংলাদেশের জন্মদাতা সময়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান ও অদ্যাবধি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রনায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

Comments

সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
 

আসিফ মহিউদ্দিন পাকিরক্তের সন্তান।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...
সাইয়িদ রফিকুল হক

 
উলুল আমর অন্তর এর ছবি
 

আসিফ মহিউদ্দিনরা ইতিহাস বিকৃতি করে নিজেদের সেলিব্রিটি বানানোতে রত।

উলুল আমর অন্তর

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

উলুল আমর অন্তর
উলুল আমর অন্তর এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 8 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 15, 2017 - 1:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর