নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • উদয় খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

কুমারীত্ব জিন্দাবাদ! (সংযোজিত)


হুটহাট মন্তব্য

কুমারীত্ব জিন্দাবাদ! (সংযোজিত)

বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে অনলাইন বিভিন্ন পোর্টালে দেখা যায় যে, কুমারীত্ব নিয়ে অনেকধরনের উপদেশ-প্রতিবেদন-পরামর্শ; যেমন — “কুমারীত্ব চিনবেন কীভাবে?” “কুমারী মেয়েদের শারীরিক গঠন কীরকম?” “সহজেই চিনে নেন কুমারী মেয়েদেরকে?” এসব উপদেশ-প্রতিবেদন-পরামর্শ পেয়ে যারা হতাশ হোন, অস্বস্তিতে ভোগেন এবং মনে করেন, এসব “পারভার্টেড/ বিকৃত মানসিকতার” প্রতিফলন, পাঠকসংখ্যা বাড়াতে ও জনপ্রিয়তা তৈরি করার জন্য এসব খবর-প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, এখানে আমাদের সামাজিক চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধের পরিচয় প্রকাশিত হয় না — আমি বিনীতভাবেই তাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করি; হ্যাঁ, মেনে নিচ্ছি, এসব প্রতিবেদন ছাপানোর একটা উদ্দেশ্য হচ্ছে পাঠকসংখ্যা বাড়ানো ও জনপ্রিয় হওয়া; কিন্তু এসব প্রতিবেদনে আমাদের সামাজিক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটে না — এই বক্তব্যের সাথে একমত নয়। আমাদের সমাজ, শিশুকাল থেকেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নারীদেরকে কুমারীত্বের শিক্ষা দেয়; কোথায় নেই সেই শিক্ষা — পরিবার-পরিজন-স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-কর্মস্থল-আড্ডা; সবজায়গায়-ই মেয়েদেরকে কুমারীত্ব বা সতীত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হয়, বারবার সাবধান করে দেয়া হয় তার কথাবার্তা-ব্যবহার সম্পর্কে, নজরদারি করা হয় তার চলাফেরার ওপর।

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখি, মেয়েরা ছেলেদের সাথে একটা দূরত্ব তৈরি করে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে — সরে বসে, সহজে মিশে না, কোন মেয়ে খুব সহজেই ছেলের সাথে ঘুরছে না, আড্ডা দিচ্ছে না, কোথাও একইসাথে বসে খাচ্ছে না এই ভয়ে যদি কেউ দেখে ফেলে সে একজন ছেলের সাথে ঘুরছে, একইসাথে বসে খাচ্ছে, আড্ডা দিচ্ছে বা একান্তে কিছুসময় কাটাচ্ছে; আর বাবা-মা-ভাই-বোন-আত্মীয় কেউ যদি উল্লেখিত অবস্থায় কোনো মেয়েকে দেখে ফেলে, তাহলে তো সর্বনাশ! এই মেয়ের বারোটা বেজে যাবে, মেয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, এই মেয়েকে কে ঘরে নিবে? মেয়েকে আর বিয়ে দেয়া যাবে না, ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি। এই সমাজে বিয়ে হচ্ছে যেকোনো মেয়ের প্রথম ও প্রধান ক্যারিয়ার, ট্যালেন্ট-লেখাপড়া-কাজকর্ম এসব হচ্ছে পরের ব্যাপার; মেয়েদের এমন কোনোকিছু করা যাবে না যা ভালো বিয়ের প্রতিবন্ধক, একটি ভালো বিয়ে না হলে মেয়ে যতোই কর্মঠ-শিক্ষিত-সুন্দরী হোক না কেনো তার জীবন নষ্ট, ব্যর্থ, তার এ জীবনের কোনো মানে নেই। তাই পরিবার-আত্মীয়স্বজন-মেয়েরাই সচেতন থাকে তাদের কুমারীত্ব নিয়ে; সবাই সর্বদা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, মেয়ে ভালো, কোনো পুরুষের সাথে শারীরিক তো দূরের কথা মানসিক কোনো সম্পর্ক-ই নেই, সে কোনো পুরুষের (মানে পরপুরুষ) সাথে বাইরে বের হয়নি, একান্তে সময় কাটায়নি, ঘোরাঘুরি করেনি, সে হচ্ছে সতী মেয়ে। মেয়ের যদি শারীরিক বা মানসিক সম্পর্কের কথা প্রকাশিত হয়, তাহলে এই মেয়ের বাজারে কোনো দাম নেই, ভালো ঘরে বিয়ে হবে না (মানে প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো স্বামী পাবে না), এই মেয়ে খারাপ বা অসতী হয়ে যাবে; ফলে সবাই মেয়ের কুমারীত্ব নিয়ে চিন্তিত থাকেন।

পুরুষ চায় সতী নারী, কুমারী মেয়ে — একেবারে শারীরিক-মানসিক পরপুরুষ সম্পর্কহীন মেয়ে; এই মেয়েদেরকে পুরুষ বিয়ে করতে চায়, তাদের সাথে সংসার করতে চায়। পুরুষ, সে যতো ইচ্ছে শারীরিক-মানসিক সম্পর্ক রাখতে পারবে নারীর সাথে, কিন্তু স্ত্রীর কোনো সম্পর্ক রাখা যাবে না, স্ত্রীর কোনো সম্পর্ক থাকতেই পারবে না; কারণ স্ত্রীর এরকম সম্পর্ক থাকলে সে স্বামীর যৌনআধিপত্যকে (মানে স্বামীর ইচ্ছাঅনিচ্ছা অনুযায়ী মিলিত হওয়া, স্বামীর সিদ্ধান্তে সন্তান ধারণ করা, ইত্যাদি ধারণা) মেনে নাও নিতে পারে, প্রশ্ন করতে পারে স্বামীর যৌনজীবন ও যৌনধারণাকে। স্ত্রী প্রশ্ন করবে! স্ত্রী স্বামীর যৌনআধিপত্য ও যৌনস্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে! — এটা তো পুরুষতন্ত্র মেনে নিতে পারে না; তাই পুরুষ চায় কুমারী নারী, সতী নারী, আজ্ঞাবাহী নারী; বেয়াদপ নারীকে তো পুরুষ কখনোই মেনে নিবে না; বেয়াদপ নারীকে তো অত্যাচার, যৌননিপীড়ন করা যাবে না; কারণ করলে সে প্রশ্ন করবে, অভিযোগ করবে, নালিশ করবে, বিদ্রোহী হয়ে ওঠবে — এটা তো মেনে নেয়া যেতে পারে না; এতবড় স্পর্ধা পুরুষতন্ত্র ও পুরুষের বিরুদ্ধে!

তাই পরিবারপরিজন-আত্মীয়স্বজন — সবাই হুকুমপালনকারী-হুকুমদাসী-বিনীত-মেরুদণ্ডহীন সতী নারী, কুমারী নারী তৈরির মিশনে লেগে থাকেন; তারা সবাই অতিসচেতন থাকেন নারী যাতে সতী হয়, হয় কুমারী, পরপুরুষের স্পর্শ না লাগে, পরপুরুষের সাথে যাতে সম্পর্ক তৈরি না-হয়। আমাদের নারীরা পুরুষের সাথে সহজ-স্বাভাবিক আচরণ করেন না, একসাথে বের হন না, কোথাও খেতে যান না, রিক্সায় একসাথে বসেন না, নিজেকে-পরিবেশ-প্রকৃতি-সময়কে একসাথে উপভোগ করেন না; এসব বিবিধ না-বোধক আচরণ করেন এই কুমারীত্ব বা সতীত্ব রক্ষার নিমিত্তে, যেকোনো মূল্যেই হোক এ গুণটিকে রক্ষা ও প্রকাশ করতে হবে। মেনে নিচ্ছি, তাদের সহজ-স্বাভাবিক মেলামেশা না-করার আরো অনেক কারণ আছে বা কারণ থাকতে পারে; কিন্তু মানতেই হবে — “কুমারীত্ব বা সতীত্ব রক্ষা” অনেককারণের মাঝে, এটি একটি অন্যতম কারণ। তাই আমাদের মেয়েরা বিয়েপূর্বে অসহজলভ্য ও গণ্ডিবদ্ধ সমাজজীবনযাপন করেন যাতে বিয়েপরবর্তী অন্য এক পুরুষের খুব সহজলভ্য যৌননারী ও যৌনদাসী হতে পারেন; তারা বিয়েপূর্ববর্তী সারা সময় ধরে এই প্রস্তুতি নেন বাবা-মা-ভাই-বোনের কাছ থেকে, পরিবেশ থেকে, সমাজ থেকে এই তালিম নেন কীভাবে কুমারী নারী হয়ে ওঠতে হবে; কারণ পুরুষের প্রথম ও শেষ পছন্দ কুমারী নারী — কুমারী নারীর কোনো বিকল্প নেই।

নারীর যদি কারো সাথে কোনো সম্পর্ক থাকে, মেলামেশা থাকে, একসাথে খাওয়াদাওয়া করে, চলাফেরা করে এবং সেটা যদি তার উদ্যোগে বা অনুমতিতে হয় — তাহলে এতে নারীর ক্ষমতায়নের দিকটি প্রকাশিত হবে; এখানে তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দ, সিদ্ধান্ত-সম্প্রীতি প্রকাশ পাবে; পুরুষ তো এরকম নারীকে ঘরে আনবে না, এরকম নারী তো তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দের প্রকাশ করবে, তার ক্ষমতায়ন বা অধিকার আদায় করতে চাইবে; স্বামী তো স্ত্রী হিসাবে চায় ক্ষমতাহীন নারী, দুর্বল নারী, অবলা, দাসী, মেরুদণ্ডহীন নারী — যার কোনো ইচ্ছা-অনিচ্ছা নেই, পছন্দ-অপছন্দ নেই, ব্যক্তিত্ব নেই; যাকে সে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারবে, হুকুম দিতে পারবে, তার কাজ করিয়ে নিতে পারবে; মেরুদণ্ড-ব্যক্তিত্ব থাকলে কেউ কি অপরের ইচ্ছেমতো ব্যবহৃত হয়? অত্যাচার সহ্য করবে? হুকুম পালন করবে?

নারীরা কুমারীত্ব ও সতীত্ব সম্পর্কে (ভালোমেয়ে, ভদ্রমেয়ে, গৃহবধু, গৃহলক্ষ্মী, ঘরোয়ামেয়ে) এমন ট্রেনিং পান যে, তারা (নারীরা) পরবর্তীতে মাথানিচু করে হাঁটেন, নিম্নস্বরে কথা বলেন, ধীরে ধীরে চলাফেরা করেন — এটা এমন যে, মেয়ে বলেই মাথাউঁচু করে হাঁটা যাবে না, মেয়েরা মাথাউঁচু করে হাঁটবে কেনো? মাথাউঁচু করে হাঁটবে তো ছেলেরা, পুরুষেরা। পুরুষেরা সবল, তারা স্বাবলম্বী, তাই তারা মাথাউঁচু করে হাঁটবে; মেয়েরা দুর্বল, তারা নরম, তারা পুরুষের ওপর নির্ভরশীল, তাই তারা মাথানিচু করে হাঁটবে — তাদের শারীরিক ভাষা-ই কি প্রমাণ করছে না যে, নারী পুরুষের অধস্তন, দুর্বল, নিরুপায়? এটা কি প্রমাণ করছে না যে, তারা নিপীড়নের শিকার, তারা ব্যক্তিত্বহীন, তাই তারা মাথানিচু করে হাঁটে? আমরা যখন মিছিল করি, তখন উচ্চস্বরে স্লোগান দেই; আমরা যখন সমাবেশ করে আমাদের দাবি জানাই, তখন গলার আওয়াজ বড়ো করে কথা বলি যাতে আমাদের দাবি সবাই শুনতে ও জানতে পারে; আমাদের প্রতিবাদের ভাষা হয় দৃঢ় ও বলিষ্ঠ। কিন্তু নারীরা যখন কথা বলেন তাদের গলারস্বর হয় নিচু, তাদের কণ্ঠ হয় মিষ্টি ও কোমল, তাদের ভাষা হয় প্রতিবাদহীন ও আপোষকামী — এথেকে কি বোঝা যায় না যে, তারা কতোটুকু কুমারীত্ব ও সতীত্ব সম্পর্কে সচেতন; কারণ তাদের কণ্ঠ যদি হয় জোরালো, গলারস্বর যদি হয় উঁচু, ভাষা যদি দৃঢ় ও আপোষহীন; তাহলে সমাজ বলবে, “মেয়ে খারাপ, অভদ্র মেয়ে, বেয়াদপ মেয়ে, অবাধ্য মেয়ে” — এই মেয়ের সাথে ঘর করা যাবে না, এর সাথে সম্পর্ক তৈরি করা যাবে না; কারণ মেয়ে বাপ-মা-আত্মীয়-সমাজ কারো কাছ থেকেই ভদ্রতা সম্পর্কে কোনোকিছুই শেখে আসেনি। এখানে ভদ্রতা, সতীত্ব কী? স্বামী-পুরুষ-সমাজ যতো নির্যাতন করবে, মুখ বন্ধ রেখে তা সহ্য করবে; সাবধান মুখ খোলা যাবে না, মুখ খোলে বেহায়া মেয়েরা, ভদ্রঘরের ও মার্জিতমেয়েরা মুখ বন্ধ রাখে, অসভ্য মেয়েরা তর্ক করে, কথার ওপর কথা বলে; ভালো মেয়েরা হচ্ছে তারা-ই যারা স্বামীর নির্যাতন সহ্য করেও পুলিশের কাছে অভিযোগ করে না, আইনি সহায়তা চায় না, তাই ৭২ শতাংশের বেশী গৃহবধু স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, কিন্তু আইনি সহায়তা চান মাত্র ২.৬ শতাংশ নারী; কারণ পুলিশ-কোর্টের কাছে গেলে, আইনি সহায়তা চাইলে সবাই জেনে যেতে পারে, আর জানলে সবাই বলবে, “বাপরে বাপ! কী অপয়া মেয়ে, স্বামীরঘর পর্যন্ত করতে পারলো না? এখানে স্বামীর ঘরকরা হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো ক্রেডিট, জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। আমরা দেখি, পুরুষেরা উচ্চস্বরে কথা বলেন, তারা চিৎকার করেন, গর্জন করেন, তাদের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়, তারা সভা-সমাবেশ-মিছিল-মিটিং এ যান, তাদের ভাষায় দাপট-ওজস্বিতা-তেজস্বিতার প্রকাশ ঘটে; কারণ তারা পুরুষ, পুরুষ মানেই পৌরুষ, আর পৌরুষত্বের ধারণার সাথে জড়িয়ে আছে ক্ষমতা-দাপট-হুঙ্কার-গর্জন প্রতিবাদের ধারণা। তারা যদি প্রতিবাদী হন, প্রতিরোধী হন, ক্ষমতাবান হন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাহলে সমাজ তাদেরকে বাহবা দিবে, তাদের কাছে মাথা নত করবে, তাদেরকে উৎসাহ দিবে, বলবে “এই না হলে ব্যাটা ছেলে, পুরুষ”, কেউ তাদেরকে অভদ্র-অভব্য-অশিষ্ট-অসভ্য-বেহায়া-বেয়াড়া-বেয়াদপ-রূঢ় বলে সম্বোধন করবে না, তাদেরকে সমাজচ্যুত ও পতিত করবে না; আর একারণেই তারা মাথাউঁচু করে চলাফেরা করেন, জোরগলায় কোনোকিছু বলেন।

আমাদের বাবা-মা-ভাই-বোন-আত্মীয়রা যদি আমাদেরকে মাথাউঁচু করে দাঁড়াতে শেখাতেন, মেয়ে না, ব্যক্তিত্ববান মানুষ হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সাহায্য করতেন, দাবি আদায় করা শেখাতেন, কেউ অন্যায় করলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করা শেখাতেন, অন্যায়ের সাথে আপোষহীনতা শেখাতেন; তাহলে, আজকে মেয়েরা, নারীরা — তারা মাথাউঁচু করে দাঁড়াতে পারতো, মানুষ হিসাবে জীবনযাপন করতে পারতো, আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারতো। কতো মেয়ে যদি একটু প্রতিবাদী হতো, আইনের সাহায্য নিতো, ডিভোর্স দিতো, স্বাধিকার পাবার জন্য আইনি লড়াই চালাতো; তাহলে তাদের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতো না, ধ্বংস হতো না, জীবন নিভে যেতো না স্বামী বা স্বামীরবাড়ির নির্যাতনে। যদি একজন নারী অত্যাচারে মৃত্যুবরণ করেন, মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হন, হীনমন্যতায় ভোগেন, উপভোগহীন জীবনযাপন করেন; তাহলে এসব ধারণা (ভদ্রতা-শিষ্ঠতা-শালীনতা) দিয়ে কী লাভ? যেখানে জীবন ও প্রাণের অস্তিত্ব নেই, সেখানে কী লাভ ভালোমেয়ে-ভদ্রমেয়ে-গৃহলক্ষ্মী-সংসারী হয়ে? এই যে, মেয়েদের মধ্যে প্রতিনিয়ত সমাজে “ভালো মেয়ে” হওয়ার ধারণা ঠুকিয়ে দিচ্ছেন আমাদের পরিবারপরিজন-আত্মীয়স্বজন; এবং এই “ভালো মেয়ে” চর্চা করার জন্য কতো মেয়ের জীবন ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়েছে তার দায় কি উনারা এড়াতে পারবেন? উনারা-ই তো এজেন্টের মতো আমাদের মগজে-মনে-মননে এসব ধারণা ঠুকিয়ে দিচ্ছেন; তারাই তো কুমারীত্ব ও সতীত্বের ধারণার উৎপাদন ও পুর্নউৎপাদন করছেন।

যখন অনলাইন বিভিন্ন পোর্টাল কুমারীত্ব বা সতীত্ব নিয়ে উপদেশ-পরামর্শ-প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তখন আপনারা চিৎকার করে ওঠেন “বিকৃত মানসিকতা, অশ্লীল প্রতিবেদন, নোংরা প্রতিবেদনে মূল্যবোধ নষ্ট হলো বলে” — আর, পরিবারপরিজন-আত্মীয়স্বজন-সমাজ, তাদের মূল্যবোধ কি খুব শ্লীল, পবিত্র, উত্তম? তারা-ই তো কুমারীত্ব রক্ষা করছেন, লালন করছেন, চর্চা করছেন; তারা হয়ে ওঠছেন কুমারীত্ব বা সতীত্ব রক্ষা ও প্রকাশের একনিষ্ঠ চৌকিদার-পাহারাদার-পুলিশ-কোর্ট। অনলাইন পোর্টালগুলো তো এসব দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধকে তো ভাষায় প্রকাশ করছে, তারা তো আর এর বাহিরে কিছু করছে না; আমাদের সমাজে যা প্রচলিত, যা চর্চা হয়, তারা তো তা-ই ভাষায় প্রকাশ করছে। তাহলে, কি এসব অনলাইন পোর্টালে আমাদের সামাজিক চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধের প্রতিফলন প্রকাশিত হচ্ছে না?

(বি. দ্র. এটি একটি অসমাপ্ত ও খসড়া লেখা — যা যেকোনো সময় পরিবর্তনের দাবি রাখে। আমি পুরুষের আচরণ নিয়ে এখানে কথা বলিনি বা তাদের আচরণ নিয়ে কথা বলা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়, তা নিয়ে অন্য লেখায় আলোচনা করবো।)

কৃতজ্ঞতা : নাজিয়া নিসা, লুবানা বিনতে কিবরিয়া, সিনথি আহমেদ, সিনথিয়া চৌধুরী, হোমায়রা সাদিয়া শরমি — লেখাটি পড়ে বিভিন্ন বিষয় সংশোধন করে দেয়ার জন্য তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সৈয়দ মাহী আহমদ
সৈয়দ মাহী আহমদ এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 5 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 9, 2016 - 4:18পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর