নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • হাইয়ুম সরকার
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন
  • পৃথু স্যন্যাল

নতুন যাত্রী

  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ
  • স্নেহেশ চক্রবর্তী
  • মহাবিশ্বের বাসিন্দা

আপনি এখানে

বাবা কোন বিশেষ দিনের জন্য নয়



বাবা শব্দ আমাদের কাছে প্রিয় শব্দ গুলোর একটি।পৃথিবীর আলো দেখার জন্য উপারওয়ালা পরে যে দুজনে বেশি অবদান।তার একজন হল বাবা।সাধারণত আমরা একটি সন্তানের বড় হওয়ার পিছনে মা কেই গুরুপ্ত দেই।কিন্তু সন্তান বড় হওয়ার ক্ষেত্রে বাবা-মা দুজনেরই সমান গুরুপ্ত। একবার ভাবুনতো একটি সন্তান মায়ের গর্ভে ভূমিষ্ঠ হতে বাবা শুক্রানুর প্রয়োজন।শুক্রানু-ডিম্বানু গ্যামেটের মিলনের ফসল একটি সন্তান।শুধু যে এখানেই বাবার প্রয়োজন সীমাবদ্ধতা তা কিন্তু নয়।একজন বাবা সন্তানের লালন-পালনের জন্য দিন রাত সমান তালে বাহিরে কাজ করে চলে।হয়ত আমরা বেশির ভাগ সময় মায়ের আচলের ছায়ায় বড় হই।কিন্তু সেই মায়ের আচলের নিচে লুকানো ভালোবাসার একমাত্র সাহায্যকারী বাবা নামক শব্দটা।যে সর্বদা সন্তানের কাছে উহ্য থাকে।পৃথিবীর প্রায় সব বাবাই তার সন্তানকে আগলে ধরে মায়ের মত ছায়াতলে বড় করতে পারেনি।সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়া কিংবা সন্তানের গায়ে রঙীন বস্ত্র পরিধানের জন্য বাবা নামক মানুষটি বাহিরে সমান তালে পরিশ্রোম করে যায়।কখনও খেয়ে কখনও না খেয়ে।বাবা যে শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে তার দায়িত্ব থেকে চলে যায় এমনতো নয়।বরং সন্তান জন্মের পর ঐ বাবার দায়িত্ব দ্বিগুন বেড়ে যায়।খোদার পরে মা কে স্থান দিলে তার পরের স্থানটি বাবা দখলের দাবিদার।আমাদের যদি বাবা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় তবে সেটা হাস্যকর মনে হবে।কিন্তু এই বাবা/পিতা শব্দটার আঁড়ালে লুকিয়ে থাকে একজন মানুষ।যে তার সন্তানের মঙ্গলের জন্য সবকিছু বির্সজন দিতে পারে।এমন কি জীবনও।

আমরা ইতিহাস ঘাটলে মুঘল সম্রাট বাবর কে যোগ্য বাবা বলে জানি।যে বাবর সমগ্র ভারত বর্ষের সম্রাট হয়েও পুত্র হুমায়নের জন্য নিজেকে বির্সজন করেছে।সন্তানের প্রতি এই ভালোবাসা মায়ের চেয়ে কম গুনের নয়।এরকম হাজারও উদাহরন আছে।

কেউ যদি মাকে নিয়ে লিখতে বলে তাহলে কয়েক পৃষ্ঠা অনায়েসে লিখতে পারবো।অথচ বাবাকে নিয়ে এক পৃষ্ঠাও লিখতে কষ্টকর হবে।বাবা সর্বদা পর্দার আড়ালেই থেকে যায়।বাবা ছাড়া সন্তানের ভরন-পোষন মাকে অনেক কষ্ট করতে হয়।কাজেই বাবা ছাড়া মা অচল।

সন্তানের রঙীন ভবিষ্যাৎতে কারণে এই দুটো মানুষ ঘরে-বাইরে অক্লান্ত পরিশ্রোম করে যাচ্ছে।আমরা তাদের পরিশ্রোমের অদৌও ফসল দিতে পারি না।তাদের ঋণ কখনও শোধ করার নয়।

সন্তানের কোন কিছু প্রয়োজন হলে মায়ের কাছে বায়না ধরে।মা বাবাকে বলে।বাবার যতই কষ্ট হোক সন্তানের আবদার পূরণ করার চেষ্টা করে।সন্তানের মুখে হাসি ফোঁটাতে কখনও বাবার পরণে শার্ট-প্যান্টটা পুরণো থাকে।পায়ের জুতোটা মুচির কাছে কয়েকটা সেলাই করে পড়ে।অথচ সন্তানের জন্য নূতন জামা,প্যান্ট,জুতো ঠিকই কিনে দেয়।সন্তান জামা,প্যান্ট,জুতো পেয়ে অনেক খুশি হয়।একবার কি সেই বাবাকে বলি।বাবা তোমার পরনের শার্টটা পুরনো হয়েছে।কিংবা তোমার জুতো জোড়া ছিঁড়ে গেছে।এক জোড়া নূতন জুতো কিনো।কখনিই বলে না।বলার প্রয়োজনও মনে করে না।বাবাকে জড়িয়ে ধরে কখনও বলা হয় না বাবা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

কথাটা শুনলে ম্নাল হাসি দিয়ে সব কষ্ট দূর হয়ে যেত।কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখি।সন্তান বড় হয়ে ভালো একটা পর্যায় মূল লক্ষ্য বাবা-মার।সেই সন্তান বড় হয়।উচু পর্যায় ঠিকই যায়।ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে বাবা-মা তখন পর হয়ে যায়।বাবা আঙ্গুল ধরে হাটতে শেখা কিংবা আকাশে বিজলি চমকানো ভয়ে মায়ের আচলে মাথা ঠাঁই নেওয়া সেই ছোট্ট শিশুটি আজ অনেক বড় হয়ে গেছে।তার আজ প্রয়োজন নেই ওই বৃদ্ধ চারটি হাতের।সন্তান তখন টাকার নেশায় মাতাল।টাকা ভুলিয়ে দেওয়া জন্মদাতাদের।

আপনি একটা হিসাব করুন। যেখবেন পৃথিবীতে মোট বাবা-মায়ের অর্ধেকের বেশি সন্তানদের থেকে বঞ্চিত।আমি সমগ্র বিশ্বে না গিয়ে বাংলাদেশের কথাই বলি।বাসা থেকে বের হলে অজস্র বৃদ্ধ মানুষ দেখা যায়।রাস্তার পাশ,গলির মুখে,কলেজ গেটে,দোকানে দোকানে ভিক্ষা করছে।কেউ কেউ বৃদ্ধ বয়সে শারিরিক পরিশ্রোম করে জীবিকা চালাচ্ছে।এদের কাছে গিয়ে এদের কথা জানতে চাইলে।চেনা যায় সমাজের মুখোশধারী মানুষদের চেহারা।দেশের বৃদ্ধাশোম গুলোতে গেলে দেখা যায় সহস্র বৃদ্ধার কান্না।যাদের কুলাঙ্গার সন্তান তাড়িয়ে দিয়েছে।রাতের ঢাকা শহরে হাটলে দেখা যায় ফুটপাতে শুয়ে রাত পর রাত কাটিয়ে দেয় অনেক বৃদ্ধারা।যাদের এক সময় ঘর ছিলো।সংসার ছিলো।

প্রতি বছর বিভিন্ন দিবস আসলেই আমাদের সুশীল সমাজের মানুষ গুলো টকশোর টেবিলে বসি।টকশোর টেবিলে অনেক মহত্ব মহত্ব কথাও বলি।কিন্তু এই সুশীল সমাজের ভদ্রবেশি মুখোশধারীরা কে কয় জন বাবা মাকে তার স্ব-অধিকার দিয়ে থাকে?খুঁজে দেখলে পাওয়া যাবে না বললেই চলে।কাজেই বাবা দিবসে মহান মহান বাণী না দিয়ে আমাদের উচিত বাবা-মাকে তার স্ব-অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।শুধু বাবা দিবসেই বাবাকে ভালোবাসবো এমনতো নয়।বাবা-মাকে ভালোবাসতে কোন দিন-ক্ষণ-সময়ের প্রয়োজন হয় না।তাদের প্রতি ভালোবাসা নদীর বহমান স্রোত।

একজন সন্তান তার বাবা-মায়ের অনুভবটা তখনি বুঝে।যখনে সেই সন্তানটি বাবা-মা হয়।এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

বাবা-মাকে কখনও আলাদা করা যাবে না।দুজনেরই সমান অবদান আছে।যার বাবা-মা যত দিন বেঁচে থাকে।সে ততদিন পৃথিবীর সেরা ধনী।বাবা-মাকে ভালোবাসতে কোন দিবসের দরকার নেই।আমার বাবা আমার মা আমার ভালোবাসা আমার স্বর্গ।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজিব আহমেদ
রাজিব আহমেদ এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 23 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 30, 2017 - 1:55পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর