নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

মহাবিশ্ব সম্পর্কে আল কুরআন: নিরপেক্ষ ও বিবেকবান মানুষের বিবেচনার জন্য



আকাশ সম্পর্কে আল কুরআন ও বিজ্ঞান
আদিকাল থেকে মানুষ আকাশ বলতে বোঝে আমরা উপর দিকে তাকালে যে সুবিস্তৃত নীলিমা দেখতে পাই সেটিকে৷ মহাবিশ্ব বলতে মানুষ এ সুবিশাল পৃথিবী (পৃথিবী অতি ক্ষুদ্র) আমাদের উপর সুবিস্তৃত বিশাল নীলিমা এতদুভয়ের সমন্বয়ে এ মহাবিশ্ব৷ আর এ আকাশ সম্পর্কে বহু কল্প কাহিনী রচিত হয়েছে৷ মানুষ ধারণা করতো আমাদের উপর অনেক উঁচুতে এ আকাশের অবস্থান যা কনক্রিট জাতীয় কোন কিছু দ্বারা নির্মিত যা আমাদের উপর ছাদের মত হয়ে আছে৷ মানুষ কল্পনা করত স্রষ্টার কি ক্ষমতা যে এ সুবিশাল আকাশ কোন প্রকার খুটি ছাড়া কিভাবে অটুট রেখেছেন৷ মানুষ ধারনা করতো এ আকাশের উপর স্রষ্টার বিশেষ সৃষ্টি বসবাস করে৷ আরো ধারণা করতো এ আকাশের উপর হয়ত এরুপ আরো অনেক আকাশ রয়েছে৷ এ যমিন সম্পর্কেও বহু কল্প কাহিনী রচিত হয়েছে৷ মানুষ মনে করতো মাটির অতল গহবরে আরো অনেক জগত রয়েছে৷ এমনকি এখনও যারা মহাবিশ্ব সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান রাখে না তাদের অনেকে এরুপ ধারণা পোষণ করে থাকে৷

বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ এ মুর্খতাসূলভ ধারণা থেকে অনেকটা বেরিয়ে আসতে পেরেছে৷ মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানের সুপ্রতিষ্ঠিত জ্ঞান থেকে এ পর্যন্ত যে ধারণা পাওয়া যায় তা হল- আমরা যে সুবিশাল নীলিমাকে আকাশ বলি সেটা অবশ্য সূর্যের রঙের খেলা ছাড়া কিছু নয়৷ আর এ পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় মোটেও সুবিশাল নয়৷ সুবিশালতো নয়ই বরং এ পৃথিবীকে ক্ষুদ্র একটি সৃষ্টি বললেও ভূল হবে৷ আমাদের এ পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে রয়েছে সে গ্যালাক্সির মানচিত্র আঁকলে আমাদের সূর্যকে দেখা যায় একটি ক্ষুদ্র বিন্দু যা আমাদের এ পৃথিবীর চেয়ে লক্ষ গুণ বড়৷ আর আমাদের এ সুবিশাল পৃথিবী!! সে মানচিত্রে পৃথিবীকে খালি চোখে দেখাও যায় না৷ এ গ্যালাক্সি সুবিশাল? মোটেও না।আমাদের এ গ্যালাক্সি যখন ক্লাস্টার অব গ্যালাক্সির সাথে তুলনা করা হয় তখন আমাদের এ গ্যালাক্সি বেচারাকে দেখা যায় এক অতি ক্ষুদ্র বিন্দুর আকৃতিতে৷ আমাদের এ পৃথিবীর অবস্থান কোথায়! আর আমাদেরই বা অবস্থান কোথায়!!!

সূর্যের আলোতে রংধনুর সবগুলো রং থাকে। রংধনুর রংগুলো হল বেগুনি, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল।

আমরা আকাশের যে নীল রংটা দেখি এটা মূলত সূর্যের আলোর নীল রং। অন্যান্য রঙের তুলনায় নীল রংটা ক্ষুদ্রতর তরঙ্গের মাধ্যমে ছড়াতে পারে, সেজন্য এই রংটা বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে।

যেহেতু বায়ুমণ্ডলটাই আকাশ, তাই সেখানে যেই রং ছড়াবে, আকাশের রং সেটাই হবে। তাই সূর্যের নীল রংটা বায়ুমণ্ডলে পড়ার কারণে বায়ুমণ্ডলটা নীল হয়, এবং আকাশটাও নীল হয়।

এজন্যই আকাশের রং নীল হয়, লাল, হলুদ বা অন্য কোনো রং হয় না।

আকাশ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানের বক্তব্যের সারকথা:
ক)আকাশ বলে কিছু নেই। আমরা যে নীলিমা দেখি তা সূর্যের রঙ্গের খেলা যা আমাদের দৃষ্টিতে এরুপ দেখায়।
খ)আমরা যদি মঙ্গলগ্রহে যেতে পারি, মঙ্গলগ্রহ থেকে আমাদের এ পৃথিবীকে দেখা যাবে মঙ্গলগ্রহের আকাশে উদিত এক তারকার ন্যায়। উল্লেখ্য রাতের আকাশে চাদ ছাড়া বাকিগুলোকে আমরা তারা (নক্ষত্র) বলে থাকি অথচ উহাদের কিছু গ্রহ আর কিছু নক্ষত্র।
গ)মহাবিশ্বের তুলনায় আমাদের এ পৃথিবী এতই ক্ষুদ্র যে মহাবিশ্বের ম্যপ আকলে সেখানে ইহাকে খালি চোখে দেখা যায় না। আমরা কত নগন্য তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।আমরা (এ পৃথিবী) সূর্যের পরিবার, যে সূর্য আমাদের পৃথিবীর চেয়ে ১৩ লক্ষ গুণ বড়।আমাদের সূর্যের চেয়েও বড় বড় বহু নক্ষত্র রয়েছে যাদের সূর্যের ন্যয় পরিবার রয়েছে। সেই সকল পরিবারের কোন কোন সদস্যের ( গ্রহের) মাঝে মানুষের ন্যয় বা এর চেয়েও বুদ্ধিমান প্রাণী থাকার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রহগুলোর সাথে সূর্যের আকৃতির তুলনা:

গ্যালক্সি মিল্কিওয়ের সাথে সূর্যের আকৃতির তুলনা:

ক্বুরআনে অঙ্কিত মহাবিশ্বের প্রতিচ্ছবি অনেকাংশে নিম্নের ছবির মত:

কুরআনে অঙ্কিত আকাশের প্রতিচ্ছবি:
আল-ক্বুরআনে আকাশ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে প্রতিচ্ছবী একেছে তা আদিকাল থেকে মানুষ এ সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করতো তার চেয়ে বেশি কিছু নয়৷ নিম্নে আকাশ ও পৃথিবী সম্পর্কে আল ক্বুরআনের কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হল
 স্তরে স্তরে সাজানো সাত আকাশ:
সুরা আল মূলক : আয়াত - ০৩ :
"যিনি সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন সুবিন্যস্তভাবে l তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোন অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না l তারপর তুমি দৃষ্টি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নাও, তুমি কি কোন ফাটল দেখতে পাচ্ছ ?" (অনুবাদ - ড : জহুরুল হক )
এই আয়াত অনুযায়ী বুঝা যাচ্ছে যে, আকাশের সংখ্যা সাতটা এবং এই আকাশ তৈরিতে কোন ত্রুটি বা ফাটল নেই। আর মানুষ যদি ভালো করে দেখে তবুও আকাশের কোন ফাটল সে দেখতে পাবে না । অর্থাৎ আকাশ একটি শক্ত কঠিন পদার্থ আর আকাশের কোন ফাটল নেই । আর আকাশ তৈরী করা হয়েছে একটার উপর আরেকটা এভাবে সাতটা ।

 আকাশকে ছাদ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে:
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَّكُمْ
(যিনি তোমাদের জন্য যমিনকে করেছেন বিছানাস্বরুপ আর আকাশকে করেছেন ছাদস্বরুপ, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষন করেন, যদ্বারা তিনি তোমাদের জন্য রিযিক স্বরুপ যমিন থেকে বিভিন্ন ফল-ফলাদি বের করেন)-সুরা বাক্বারা-২২
 আকাশ নাকি চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে (আকাশ যেন কনক্রিট জাতীয় কিছু)
تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا [١٩:٩٠]
(সেদিন আকাশসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে, জমিন ফেটে যাবে এবং পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে)
 আকাশ খুটি ছাড়া টিকে রয়েছে (যেখানে আকাশ বলে কিছু নেই,সেখানে খুটি ছাড়া টিকে থাকা বা না থাকার প্রশ্ন করা মূর্খতা বৈ কি?)
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَابَّةٍ
(তোমরা দেখছ যে তিনি আকাশ সমূহ সৃষ্টি করেছেন কোন খুটি ছাড়া।আর তিনি যমিনে সুদৃঢ়ভাবে পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন যাতে করে ইহা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে না পড়ে এবং এতে তিনি সকল প্রকার প্রাণীর বিচরণ ঘটিয়েছেন-সুরা লোকমান:১০)
 তারকারাজি দ্বারা দুনিয়ার আকাশ সাজানো হয়েছে!কোন কোন তারকা নাকি শয়তান তাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয় (যারা মহাবিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান রাখে তারা না হেসে পারবে না):
إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ [٣٧:٦
(নিশ্চয়ই আমরা দুনিয়ার আকাশকে তারকারাজি দ্বারা সুসজ্জিত করেছি)
আসমানের তারাগুলোকে সৌন্দর্যতার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ তারাগুলোর ব্যবধান কোটি কোটি মাইল এবং পৃথিবী ও সূর্যের চেয়ে লক্ষগুণ বড়ও আছে। শুধু সামান্য শোভাবৃদ্ধির জন্য এত বিশাল সৃষ্টি কে? [২৩:৮৬;২:২৯; ২৩:১৭; ৬৭:৩ ইত্যাদি]
وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطَانٍ مَّارِدٍ [٣٧:٧]
(আর এজন্য যে উহা প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে রক্ষার হাতিয়ার)
আরেকটি আয়াত (সুরা হিজর ১৬-১৮):
”নিশ্চয় আমি আকাশে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে দর্শকদের জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি।আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছি।1কিন্তু যে চুরি করে শুনে পালায়, তার পশ্চাদ্ধাবন করে উজ্জ্বল উল্কাপিন্ড।”
[Pickthall: And verily in the heaven we have set mansions of the stars, and We have beautified it for beholders. And We have guarded it from every outcast devil, Save him who stealeth the hearing, and them doth a clear flame pursue.
Yusuf Ali: It is We Who have set out the zodiacal signs in the heavens, and made them fair-seeming to (all) beholders; And (moreover) We have guarded them from every cursed devil: But any that gains a hearing by stealth, is pursued by a flaming fire, bright (to see).]
উপরোক্ত আয়াতদগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে তারকামন্ডলী হল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উজ্জ্বল গোলক যদ্বারা পৃথিবীর আকাশকে সাজানো হয়েছে।অথচ এখন আমরা যদি মঙ্গল গ্রহের বুকে দাড়িয়ে উপরের দিকে তাকালে আমাদের এ পৃথিবীকেও মঙ্গলের আকাশে একটি ক্ষুদ্র তারকা হিসাবে উদিত হতে দেখা যাবে। আর এর দ্বারা শয়তান তাড়ানোর কাছে ব্যবহৃত হয় – এ কথা আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে যাদের জ্ঞান আছে তারা শুনলে না হেসে পারবে না।
 সাতটি আকাশ ও সাতটি আকাশের অনুরুপ জমিন:
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا [٦٥:١٢]
(তিনি আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সাতটি আকাশ এবং অনুরুপ জমিন যেখানে তাদের আদেশসমূহ অবতীর্ণ হয় এজন্য যে তোমরা জানতে পার যে আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং তার জ্ঞান সবকিছু পরিব্যপ্ত করে আছে)
 আকাশ অনেক উচূতে (বিজ্ঞান বলে আমরাও মহাশূণ্য লক্ষ্ লক্ষ গ্রহ-নক্ষত্রের মাঝে ভেসে বেড়ায়, এখানে উচু নিচুর প্রশ্ন অপ্রাসাঙ্গিক):
وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ [٨٨:١٨
(আর তোমরা কি আকাশের প্রতি লক্ষ কর না যে তিনি উহাকে কিভাবে উচুতে স্থাপন করেছেন)
 আমরা যে নীলিমা দেখি সেটিই কুরআনের ভাষায় আকাশ; যার উপর কেউ থাকে(নিম্নের আয়াত এমনই তথ্য দেয়):
’তুমি কি দেখ না যে আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে আকাশ মন্ডলীতে ও পৃথিবীতে,সূর্য,চন্দ্র,নক্ষত্রমন্ডলী,পর্বতরাজী,বৃক্ষলতা,জীবজন্তু, এবং সিজদা করে মানুষের মধ্যে অনেকে। অনেকের প্রতি অবধারিত হয়েছে শাস্তি; আল্লাহ যাকে হেয় করেন তার সম্মানদাতা কেউ নেই;আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন (সুরা-হজ্ব-১৮)
 আকাশ নাকি গুটানোযোগ্য কিছু (সুরা আম্বিয়া:১০৪)
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে। The Day that We roll up the heavens like a scroll rolled up for books (completed),- even as We produced the first creation, so shall We produce a new one: a promise We have undertaken: truly shall We fulfil it.
 আকাশের দরজা আছে যা খুলে দিলে তাতে আরোহন করা যেতে পারে:
”ওরা এর প্রতি বিশ্বাস করবে না। পূর্ববর্তীদের এমন রীতি চলে আসছে।যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোন দরজাও খুলে দেই আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণ ও করতে থাকে।”(সুরা হিজর ১৩-১৪)
মহাবিশ্ব বলতে আল কুরআন এ নীলিমা এবং আমাদের পৃথিবীকে যে বুঝিয়েছে তার প্রমান বহন করে নিম্নের আয়াতটিও:
”আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।”-সুরা ক্বফ-৩৮
অর্থ্যাৎ,আল কুরআন বলছে যে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে মোট ছয়দিনে। আর এ মহাবিশ্ব হল আমরা যে আকাশ দেখছি সে আকাশ এবং আমাদের এ যমিন আর এতদুভয়ের মাঝের সবকিছু তিনি ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন।যদিও কুরআন এ ছয়দিন বলতে আমাদের এ পৃথিবীর দিন নাকি কোনটি বুঝিয়েছে তা পরিস্কার করে বলেনি অথচ কুরআন নিজেকে দাবি করে যে তাতে সবকিছু পরিস্কার করে বলা হয়েছে।

সূর্য সম্পর্কে আল কুরআন
১. সূর্য পূর্ব দিতে উদিত হয় (প্রকৃতপক্ষে সূর্য উদিতয় হয় না,বরং পৃথিবীর নিজের ঘূর্ণনের ফলে আমরা সূর্যকে পূর্ব-পশ্চিমে দেখি)
তুমি কি তার প্রতি লক্ষ্য করনি, যে ইব্রাহিমের সাথে তার প্রতিপালক সম্মন্ধে বিতর্ক করেছিল,যেহেতু আল্লাহ তাকে রাজত্ব প্রদান করেছিলেন।ইব্রাহিম বলেছিলেন যে আমার প্রভু তিনি যিনি জীবিত করেন আর মৃত্যূ দান করেন; সে বলেছিল আমি জীবন দান করি ও মৃত্যূ প্রদান করি; ইব্রাহিম বলেছিলেন নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক হতে আনয়ন করেন;কিন্তু তুমি ওকে পশ্চিম দিক হতে আনয়ন কর; এতে সেই অবিশ্বাস কার হত বুদ্ধ হয়ে পড়ছিল (সুরা বাক্বারা-২৫৮)
২. সূর্যকে পৃথিবী থেকে দেখতে বড় আকৃতির দেখায় আদিকালে মানুষ একে তারকামন্ডলী থেকে ভিন্ন করে দেখত। কুরআনের নিম্নের আয়াত সে ধারণায়ই প্রকাশ করছে:
যখন সুর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে।যখন নক্ষত্ররাজী খসে পড়বে।(সুরা তাকবীর-১-২)
উপরোক্ত আয়াতের ভাষ্য থেকে বোঝা যায় যে ক্বিয়ামতের সময় সূর্যকে আলাদাভাবে গুটিয়ে নেয়া হবে আর তারকারাজি যা দেখতে অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ মনে হয় আকাশের সাথে লেগে আছে তাই সেগুলি খসে খসে পড়বে।অথচ সূর্যও একটি তারকা।অন্যান্য বহু তারকার তুলনায় বরং সূর্যের আকৃতি ক্ষুদ্রতর।
নিম্নে অন্য কয়েকটি নক্ষত্রের আকৃতির সাথে সূর্যের আকৃতির একটি তুলনা চিত্র দেয়া হল:

চিত্রে ক্ষুদ্রতম বিন্দুটি হল আমাদের সূর্য যা পৃথিবীতে থেকে ১৩ লক্ষ গুন বড়।
৩. সূর্য ও চন্দ্র একই আকাশে দু’টি পথে চলে কেউ কাউকে ধরতে পারে না।
’সূর্যের সাধ্য নেই যে সে চন্দ্রকে ধরে ফেলে এবং রাতও দিনের পূর্বে আসতে পারে না।প্রত্যেকেই নির্ধারিত পথে সন্তরণ করে।(সুরা ইয়াসিন-৪০)
উপরোক্ত আয়াত থেকে বোঝা যায় যে একই আকাশে চন্দ্র ও সূর্য বিচরণ করে বেড়াচ্ছে অথচ কেউ কাউকে ধরতে পারছে না, কতই না অসাধরণ ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তার। সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতা অসাধারণ হতেই পারে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু উপরোক্ত বক্তব্য যে শত বছর পূর্বে কোন মানুষ কর্তৃক রচিত তা যে কোন ব্যক্তি যার আধুনিক বিজ্ঞান সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান আছে সে সহজেই বুঝতে পারবে।এই একই আকাশে আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহও সন্তরণ করে বেড়াচ্ছে। কুরআনের কোথায়ই মাত্র একটি বারের জন্যও বলা হয়নি যে পৃথিবীর সাধ্য নেই যে সে চন্দ্র বা মঙ্গল গ্রহ বা সূর্যকে ধরে ফেলে।কারন তখনকার মানুষের এতটুকু জ্ঞান হয়নি।
৪. আকাশ বলতে আমরা যে নীলিমা দেখি সেটাকেই কুরআন বুঝিয়েছে তা নিম্নোক্ত আয়াতটি আরো সুস্পষ্ট করে দিয়েছে-
’--- এবং আকাশ ও ভূমন্ডল এতদুভয়ের মধ্যেস্থলে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে রয়েছে বিবেকসম্পন্ন মানুষের জন্য নিদর্শনাবলী (সুরা বাক্বারা-১৬৪)
অত্র আয়াত থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে মেঘমালা অবস্থিত আকাশ ও ভূমন্ডলের মাঝামাঝি।আমরা যে নীলিমাকে আকাশ বলে জানি সেটিকে আকাশ বললে কথাটিতে কোন ভূল নেই। আমরা যে নীলিমা দেখি সেটি মেঘমালা থেকে একটি নির্দিষ্ট দুরুত্বে অবস্থিত যা সূর্যের আলোর একটি রঙ ছাড়া কিছু নয়।
কুরআন এ নীলিমাকে আকাশ বলেছে আর এ কারনে তাফসীরকারকগনও অনুরুপ তাফসীর করেছেন। যেমন:
নিম্নের তথ্য সুত্র: তাফসীরে রুহুল মা'আনী : ৬/৩০,মাসিক মদিনা,তারিখ- অক্টবর ২০১৪,প্রশ্নের উত্তর – ০৯,পৃষ্ঠা - ৪৬
১ম আসমান তৈরি স্থির পানি দিয়ে,

২য় আসমান তৈরি সাদা মোতির পাথর দিয়ে,

৩য় আসমান তৈরি লোহা দিয়ে,

৪র্থ আসমান তৈরি তামা দিয়ে,

৫ম আসমান তৈরি রৌপ্য দিয়ে,

৬ষ্ঠ আসমান তৈরি স্বর্ণ দিয়ে,

৭ম আসমান তৈরি যমরুদ (মূল্যবান সবুজ পাথর) দিয়ে।
৫. এবার আরেকটি আয়াত লক্ষ্য করুন:
’-----তিনিই আকাশকে স্থীর রাখেন যাতে তা পৃথিবীতে পতিত না হয় তার অনুমতি ছাড়া। আল্লাহ মানুষের প্রতি নিশ্চিতই বড়ই করুনাশীল ও বড়ই দয়াবান।(সুরা হজ্জ্ব-৬৫)
অত্র আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে আকাশ কঠিন পদার্থের কিছু যা আল্লাহ খুটি ছাড়া আমাদের উপরে নিয়ন্ত্রনে রেখেছেন। উহা আমাদের উপর ভেঙ্গে পড়লে আমরা বড়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতাম।
লক্ষ্য করুন নিম্নের হাদিসটি সূর্য সম্পর্কে কি ধারনা দেয়:
“হে আবু যর! তুমি কি জান সূর্য যখন অস- যায় তখন কোথায় যায়? আবু যার বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সূর্য অস- যাওয়ার সময় আরশের নীচে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। অতঃপর তাকে অনুমতি দেয়া হয়। সে দিন বেশী দূরে নয়, যে দিন অনুমতি চাবে কিন’ তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে যেখান থেকে এসেছ, সেখানে ফেরত যাও। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হবে।” (সহি বুখারি, বই-৫৪, হাদিস-৪২১)।

ইসলামের বিধান থেকে সূর্য সম্পর্কে তৎকালীন মানবীয় জ্ঞানের দূর্বলতার প্রকাশ এর প্রমান:
মানবীয় বিধানে মানবিক জ্ঞানের দূর্বলতা প্রকাশ গ্রহণযোগ্য।স্রষ্টার বিধান হিসাবে দাবী করা হয় সে বিধানে যদি মানবীয় দূর্বলতা ধরা পড়ে তা হলে এ বুঝা ছাড়া কোন গতি থাকে না যে মানবীয় পুস্তককে স্রষ্টার বিধান বলে ধোকা দেয়া হয়েছে।
১. নামাজের বিধান সুর্যের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।তৎকালীন মানুষ জানত না যে পৃথিবীর সর্বত্র একই সময় দিন বা রাত্র থাকে না। তারা মনে করত এ সুর্য দ্বারা সারা পৃথিবী একই সময় আলোকিত হত।তাই সারা পৃথিবীতে একই সময় দিন আর সারা পৃথিবীতে একই সময় রাত্রি বিরাজ করে।এ কারনে নামাজের সময় সম্পর্কিত ভবিষ্যতে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে তার সমাধান দিতে পারেনি।যেমন- মেরু অঞ্চলের দেশগুলোতে প্রায় ছয় মাস দিন আর ছয় মাস রাত থাকে, সেখানের মানুষ কিভাবে নামায পড়বে?কিভাবে রোযা রাখবে? আপনি বাংলাদেশে থেকে রোযা অবস্থায় দুপুর দু’টার সময় আমেরিকার উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলেন; ওখানে পৌছে দেখলেন মাত্র দুপুর বারোটা বা দু’টা বাজে (যেটায় হোক)। ওখানের সুর্যাস্তানুসারে কি তাকে রোযা শেষ করতে হবে? এর কোন সমাধান কুরআনে দেয়া হয়নি।সমাধান কুরআন না দিলেও হুজুররা আপনাকে সমাধান দিবেন। কুরআনের বিধানের সাথে হুজুরদের বিধানের সংযুক্তি!!কুরআন অপারাগ হলে আর কি করা যায়? মুসলমানেরা এমন অসহায় আল্লাহর পূজা করে, আমার আল্লাহ এত অসহায় নয়।

২. ঈদের বিধান চাদ দেখার উপর নির্ভর।চাদ উদয়-অস্ত যে বিশ্বব্যপি একই সময় হয় না তা তৎকালীন মানুষের ভাল করে জানার কথা নয়।এ কারনে রোযা ও ঈদের বিধানের ক্ষেত্রেও সঠিক সমাধান কুরআনে দেয়া হয়নি।সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র তিন ঘন্টা। তাহলে সৌদি আরবে চাদ দেখা গেলে যদি পরদিন ঈদ হয় তাহলে বাংলাদেশে নয় কেন?পরদিন বলতে তো ২৪ ঘন্টার পার্থক্য হয়।এ নিয়ে সঠিক সমাধান দিতে না পারায় হুজুরেরা বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত।বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে একই দিনে ঈদ উদযাপন করে থাকে।
পৃথিবী যে সূর্যের চারিদিকে ঘোরে আর চাদ পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে এতটুকু জ্ঞান থাকলে এত গেঞ্জাম লাগত না।

৩. হাদিসে আছে ১০ই রমযান শুক্রবার কিয়ামত।বাংলাদেশে যখন শুক্রবার তখন আরেকিায় শুক্রবার নয়: মক্কায় বাংলাদেশের একদিন বা দুইদিন আগেই দশই রমজান হয়ে থাকে। তাহলে কিয়ামত সর্বত্র কিভাবে দশই রমজান হবে?প্রকৃত কথা তখনকার মানুষ জানত না যে আহ্নিক গতির ফলে পৃথিবীর সর্বত্র একই সময় দিন বা রাত্রি হয় না।
সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে তার ঐতিহাসিক ভিত্তি ও আল কুরআনের বক্তব্য

আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার সময়কালকে দুই-আড়াইশো বছরের বেশি সময় পর্যন্ত ধরা যাবে না। এই আধুনিকতার মূলে হচ্ছে যখন থেকে বিজ্ঞান যন্ত্র আবিষ্কার করে তার মাধ্যমে গ্রহ-নক্ষত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। গ্যালিলিও দূরবীন আবিষ্কার করে গ্রহ-নক্ষত্রগুলোকে প্রথম তাদের আকৃতি ও বিন্যাস অনুযায়ী চাক্ষুস করতে সক্ষম হন। এর আগ পর্যন্ত পৃথিবীতে চার হাজার বছর পর্যন্ত পৃথিবী ও আমাদের সৌর জগত মায় মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল অনুমান ও দার্শনিক ভাবালুতার সংমিশ্রন। এরিস্টল একদিকে যেমন চাঁদের গায়ে পৃথিবীর ছায়া দেখে নিশ্চিত হন পৃথিবীর আকার গোলাকৃতি, তেমনি বিশ্বজগত নিয়ে তিনি তার ভাববাদ সংমিশ্রন করে একে ব্যাখ্যা করেন। এরিস্টল ও টলেমিদের সময় উনারা মত দিয়েছিলেন, পৃথিবী স্থীর। এই পৃথিবীই হচ্ছে মহাবিশ্বের কেন্দ্র। একে কেন্দ্র করেই সূর্য চক্রাকারে ঘুরছে অবিরাম। কোপার্নিকাস ও গ্যালিলিও চার হাজার বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠিত “বৈজ্ঞানিক থিউরীকে” বাতিল করে দিয়ে বললেন, পৃথিবী ভন ভন করে ঘুরে চলেছে সূর্যের চারপাশে। এই সৌরজগতের অধিপতি আসলে সূর্য, পৃথিবী তাকে অনুসরণ করে মাত্র। বিজ্ঞানের বেলায় এরকম আকাশ ভেঙ্গে পড়া আবিষ্কার আনন্দের ঘটনাই বৈকি। বিজ্ঞান কোন ধারণা বা সন্দেহের উপর প্রতিষ্ঠত না, বিজ্ঞানকে প্রমাণ করতে হয়। কাজেই যা প্রমাণিত তার জন্য অপ্রমাণিতকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে ততদিনে এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে এরিস্টল ও টলেমির যে চিন্তা সেটা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত ধর্মগুলো তাদের বিশ্ব সম্পর্কে ব্যাখ্যা গ্রহণ করে বসে আছে। যুগে যুগে তাই দেখা গেছে বিজ্ঞান এই বিশ্ব ও জীবের সূচনা সম্পর্কে কিছু বলতে গেলেই ধর্ম আহত-নিহিত হয়ে গেছে। যেমন খ্রিস্টান ও ইহুদী ধর্ম সেসময় আহত হয়ে গ্যালিলিও উপর চড়াও হয়েছিল। ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তাওরাত দাবী করছে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে এবং এই পৃথিবী স্থীর। আসলে তাওরাতকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, প্রতিদিন আকাশে পূর্ব থেকে সূর্যকে উঠতে ও পশ্চিমে ঢলে পড়তে দেখে মানুষের এমনটাই মনে হবে যে, সূর্য পৃথিবীর চারপাশে রোজ একবার করে ছুটে চলেছে। আর একটা ঘূর্ণমান পৃথিবীর মধ্যে থেকে কিছুতে তাকে মনে হবে না এটি ভন ভন করে ঘুরছে, স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ভেবেছে পৃথিবী যদি ঘুরত তাহলে আমরাও মাথা ঘুরে পড়ে যেতাম! আমাদের বাসতবাড়ি আর মাটির উপর খাড়া করে রাখা যেত না…। মজা হচ্ছে ইহুদী-খ্রিস্টানদের কিতাবে কোন ভূল পাওয়া গেলে মুসলমানরা উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে। অথচ তাওরাতকে কুরআন তার সিকুয়েল বলে দাবী করে। তাওরাতে যদি কোন ভুল থেকে থাকে বিশ্বজগত নিয়ে তাহলে সেই ভুলের দায় তো কুরআনের লেখক আল্লাহকেই নিতে হবে- তাই না? এবার আসুন দেখি খোদ কুরআনেই এই বিষয়ে কি বলা আছে। এতকাল ধরে ইসলামী পন্ডিতরা এই বিশ্বজগত সম্পর্কে কুরআনকে কিভাবে ব্যাখ্যা করেছেন সেটাই দেখি।

কে কাকে কেন্দ্র করে ঘুরে সূর্য না পৃথিবী এই প্রশ্নে ইসলামী স্কলার, মাশায়াখ, আল্লামারা পরিষ্কার করে বলেছেন, কুরআন মতে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে। এই ঘুরার কারণেই পৃথিবীতে দিবা-রাত্রী ঘটে থাকে। উনারা জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের হাতে যে দলিলগুলো রয়েছে তার মাধ্যমে পৃথিবীর সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরার কোন প্রমাণ নেই…(ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম-আল্লামা উসাইমীন রাহ)।

এবার আমরা বিশিষ্ট আলেম ও স্কলাররা যে দলিল দেখিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন পৃথিবী স্থীর ও সূর্য তার চারপাশে ঘুরে তা উপস্থাপন করব। এ ক্ষেত্রে পন্ডিতবর্গরা সুরা বাকারার ২৫৮ নম্বর আয়াতকে দেখিয়ে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে বলে বুঝতে সক্ষম হন। সুরা বাকারায় বলা আছে- فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنْ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنْ الْمَغْرِبِ “আল্লাহ তাআ’লা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” (সূরা বাকারাঃ ২৫৮)। আলেম ও পন্ডিতরা বলেন, সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলিল পাওয়া যায় সূর্য পৃথিবীর চারপাশে পরিভ্রমণ করছে। শুরুতে বলে রাখি, এ ধরণের ব্যাখ্যা ইসলামে ১৪০০ বছর পর্যন্ত চলে আসছে অত্যন্ত সদরে ও উচ্চস্বরে। আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার সূচনার আগে কুরআনে বর্ণিত বিশ্বজগত সম্পর্কে তখনকার বৈজ্ঞানিক থিউরীর সঙ্গে মিল পেয়ে এটাকে মুসলমানরা আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দেখেছে। ইসলাম যে বিজ্ঞানময় তাই নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল। কিন্তু কোপারনিকাস ও গ্যালিলিও যুগের পরে ধর্মগুলো শত্রু হয়ে উঠে বিজ্ঞানের। ইসলাম এসবকে তার উপর বিজ্ঞানের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে। মুসলিম পন্ডিতরা বিজ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করে তাকে কুফরি বলে দাবী করে। তাই অর্ধ শতাব্দীকাল পর্যন্ত (আজকের যুগেও লক্ষ্য করা যায়) মুসলিমরা বিজ্ঞানকে শত্রু জ্ঞান করে তার বিরুদ্ধচারণ করে থাকে। কিন্তু সূর্য কেন্দ্রিক সৌর জগত ও এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে আজকের বিজ্ঞানের জ্ঞান এতটাই প্রমাণিত যে তাকে অস্বীকার করা মানে নিজের হাতের তালুকেই অস্বীকার করা। সূর্যের আলোতে নিজের ছায়াকেই নিজের নয় বলে অস্বীকার করার মত বোকামী। জাকির নায়েক ও হারুন ইয়াহিয়াদের মত ননইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত লোকরা এটি বুঝতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানকে শত্রু নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানকে কুরআনের মধ্যে আবিষ্কারই হবে আজকের যুগের জন্য হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। জাকির ও হারুন ইয়াহিয়ারা এই শিক্ষাটা নিয়েছিলেন খ্রিস্টান চার্চ থেকে। চার্চ এখন বিবর্তনবাদকেও বাইবেল সম্মত হবে দাবী করে! যাই হোক, আসুন কুরআনে পৃথিবী কেন্দ্রিক যে গ্রহ-নক্ষত্র ব্যাখ্যা তার আরো কিছু প্রমাণ হাজির করি।

সূরা আনআ’ম এর ৭৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَذَا رَبِّي هَذَا أَكْبَرُ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَاقَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ -অতঃপর যখন সূর্যকে চকচকে অব্সথায় উঠতে দেখলেন তখন বললেনঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর আমি ওসব থেকে মুক্ত…”(সূরা আনআ’মঃ ৭৮)। আলেমরা ও পন্ডিতরা এর ব্যাখ্যা করে বলেন, এর মাধ্যেমে প্রমাণ হয় পৃথিবী ঘুরছে না। পৃথিবী স্থীর। যদি পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরত তাহলে কুরআনে বলা হতো, সূর্য থেকে পৃথিবী ডুবে গেলো। বার বার বলা হচ্ছে সূর্য ডুবে, সূর্য উঠে। তাই প্রমাণ হাজির সূর্য ঘুরছে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে!

সূর্যের পৃথিবীর চারপাশে ঘুরার আরো একটি প্রমাণ রয়েছে সুরা কাহাফে। এখানে বলা হয়েছে- وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَتَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ “তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস- যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বাম দিকে চলে যায়।” (সূরা কাহাফঃ ১৭)। আলেম ও পন্ডিতরা এ বিষয়ে বলেছেন, পাশ কেটে ডান থেকে বামে চলে যাওয়ার কথা থেকে প্রমাণ হয় নড়াচড়া সূর্য থেকেই হয়ে থাকে। পৃথিবী যদি নড়াচড়া করত তাহলে অবশ্যই বলত গুহা পাশ কেটে যায় সূর্য থেকে। একবারও বলা হয়নি পৃথিবী উদয় ও অস্ত যাচ্ছে, সূর্যকে বলা হয়েছে। কাজেই প্রমাণিত সূর্য ঘুরছে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে!

“স্থীর পৃথিবীর” চারপাশে সূর্যের ঘুরার আরো একটি মোক্ষম প্রমাণ হাজির করা হয় সুরা যুমার থেকে। এখানে বলা হয়েছে- خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى أَلَا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّار - “তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।” (সূরা যুমারঃ ৫)। ইসলামী পন্ডিত বলেন, এখানে চন্দ্র ও সূর্য যে চলমান আছে তার পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। একবারও পৃথিবীকে দিবা-রাত্রী উপর ঘুরানোর কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে দিন-রাত্রীর কাজে সূর্য নিয়োজিত আছে। যদি সূর্য স্থীর থাকত তাহলে পৃথিবীতে সব সময় দিনের আলো ফুটে থাকত। যেহেতু স্থীর পৃথিবীর ধারণা আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত (পৃথিবী ঘুরার প্রশ্নই আসে না কারণ তাহলে আমরা মাথা ঘুরে পড়ে যেতাম!!) তাই এক্ষেত্রে সূর্য না ঘুরলে রাত-দিন কিভাবে হবে?
সব শেষে হাদিস থেকে সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরার প্রমাণ হাজির করে লেখাটা শেষ করছি। এই হাদিস পরিস্কার করে বলছে সূর্য “উদিত হয় ও অস্ত যায়”! এই বিশ্বজগতে কোন নক্ষত্র কিভাবে উদয় ও অস্ত যায় তা আজকের যুগের মানুষকে বুঝানো খুব কঠিন। কারণ তারা সৌর জগতের ছবি জ্ঞান হবার পর থেকে দেখে আসছে। কিন্তু হাজার বছর আগের মানুষজন রোজ সূর্যকে সন্ধ্যায় পশ্চিমের ঝোপঝারে বা পাহাড়ের পিছনে “ডুবতে” দেখে আর প্রত্যহ সকালে পূর্বে উদিত হতে দেখে নিচের হাদিসটির মত সরল চিন্তা করা ছাড়া তাদের কোন উপায় ছিল না।…

أَتَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَسْتَأْذِنَ فَيُؤْذَنُ لَهَا وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ فَلَا يُقْبَلَ مِنْهَا وَتَسْتَأْذِنَ فَلَا يُؤْذَنَ لَهَا يُقَالُ لَهَا ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا
“হে আবু যর! তুমি কি জান সূর্য যখন অস- যায় তখন কোথায় যায়? আবু যার বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সূর্য অস- যাওয়ার সময় আরশের নীচে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। অতঃপর তাকে অনুমতি দেয়া হয়। সে দিন বেশী দূরে নয়, যে দিন অনুমতি চাবে কিন’ তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে যেখান থেকে এসেছ, সেখানে ফেরত যাও। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হবে।” (সহি বুখারি, বই-৫৪, হাদিস-৪২১)।

চন্দ্র সম্পর্কে আল কুরআন
১. চন্দ্রের নাকি আলো আছে
’তোমরা কি দেখ না কিভাবে আল্লাহ সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন একের উপর আরেকটি স্তরে স্তরে (স্থাপন করে)? আর তাদের মাঝে চাদকে বানিয়েছেন আলো আর সূর্যকে করেছেন প্রদীপ। (সূরা নূহ ১৫-১৬)
এখন মুসলিম বিশেষজ্ঞন কুরআনের উপরোক্ত আয়াতের অর্থ পরিবর্তন করে বলতে শুরু করেছে যে চন্দ্রের আলো প্রতিফলিত আলো।আরবী শব্দ নূর অর্থ নাকি প্রতিফলিত আলো। আরবী ভাষার অভিধানের কোথায়ও পাওয়া যায় না যে নুর অর্থ প্রতিফলীত আলো।তাছাড়া স্বয়ং আরবদের কর্তক অনুবাদ করা অতীতের কোন তাফসীরেও পাওয়া যায় না যে নুর অর্থ কেউ লিখেছেন যে প্রতিফলিত আলো।কেউ কেউ বলেন অতীতের অনুবাদকেরা বুঝতে পারেননি। তাহলে প্রশ্ন আসে আল্লাহ মানুষের জন্য যে বক্তব্য দিলেন তা তার নবী, সাহাবী সহ শত শত বছর যাবৎ যত আলেম-ওলামা আসল কেউ বুঝতে পারল না। এখন আধুনিক যুগে নিকৃষ্ট কাফেরদের আবিস্কার করা বিজ্ঞান পড়ে বুঝতে পারল। তাহলে কি মুসলমানেরা এমন অক্ষম আল্লাহকে বিশ্বাস করে যিনি তার কথার অর্থ মানুষকে বোঝাতে সক্ষম নন।
নুর বলতে কোমল আলো বোঝায়।সূর্যের আলো প্রখর আর চাদের আলো কোমল। এ কারনেই সূর্যের আলোর ক্ষেত্রে ’দিয়া’ আর চন্দ্রের আলোর ক্ষেত্রে নুর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।কুরআন স্রষ্টার কিতাব হল তিনি পরিস্কার করেই বলতেন যে চন্দ্রের নিজস্ব কোন আলো নেই, তোমরা যে আলোকময় চন্দ্র দেখতে পাচ্ছ তা মূলত সূর্যের আলোয় আলোকিত।
উপরোক্ত আয়াতেরে কয়েকটি বিখাত ইংরেজী অনুবাদ নিম্নে দেখানো হল:
Sahih International: And made the moon therein a [reflected] light and made the sun a burning lamp?
Pickthall: And hath made the moon a light therein, and made the sun a lamp?
Yusuf Ali: "'And made the moon a light in their midst, and made the sun as a (Glorious) Lamp?
Shakir: And made the moon therein a light, and made the sun a lamp?
Muhammad Sarwar: and placed therein the moon as a light
Mohsin Khan: And has made the moon a light therein, and made the sun a lamp?
Arberry: and set the moon therein for a light and the sun for a lamp?
পৃথিবী সম্পর্কে আল কুরআন
১. পৃথিবী বিছানা স্বরুপ (পৃথিবী গোলাকার নয়):
’যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য করেছেন বিছানাস্বরুপ আর আকাশকে করেছেন ছাদ এবং আকাশ হতে পানি বর্ষন করেন---’ (সুরা বাক্বারা-২২)
অত্র আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে পৃথিবী গোলাকার নয় যা মধ্যেযুগের লোকদের ধারনার সমর্থক।
অনুরুপ আরেকটি আয়াত:
’যিনি তোমাদের জন্য যমিনকে করেছেন বিছানা। আর তাতে তোমাদের জন্য করে দিয়েছেন চলার পথ---(সুরা ত্বহা-৫৩)
বিগ ব্যং ও আল কুরআন
মুসলমানরা দাবি করে কুরানে বিগ ব্যাং থিওরী অনেক আগেই বর্ণনা করা হয়েছে l তারা কুরআনের সুরা আম্বিয়ার ৩০ নাম্বার আয়াত উল্লেখ করে দাবি করে যে এই আয়াতে বিগ ব্যাং থিওরীর কথা বলা হয়েছে l তারা আরো দাবি করে কুরানে নাকি পৃথিবীর ঘূর্ণনের কথা ১৪০০ বছর আগেই কুরানে বর্ণনা করা হয়েছে l আসুন আমরা দেখি কুরানে সত্যি বিগ ব্যাং এবং রাত দিনের পরিবর্তন বা পৃথিবীর ঘূর্ণন সম্পর্কে কি বলা হয়েছে l
কুরআনে আছে;
২১) সুরা আম্বিয়া, আয়াত ৩০ :
“অবিশ্বাসিরা কি লক্ষ্য করে দেখে না,নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল পরস্পর সংযুক্ত ছিল ;অতপর আমি এদের ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি l”

"যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অত:পর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম, এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে; তবুও কি তারা বিশ্বাস করবে না ?" (অনুবাদ - প্রফেসর ড: মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান)
এই আয়াত অনুযায়ী, পৃথিবী ও আকাশমন্ডলী একসাথে মিশে ছিল অর্থাৎ একটা আরেকটার সাথে মিলিত অবস্থায় ছিল এবং আল্লাহ এদেরকে পৃথক করে দিয়েছে l

এখানে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে যে পৃথিবী এবং আকাশ আগে থেকেই তৈরী অবস্থায় ছিল এবং একটা আরেকটার সাথে পরস্পর মিশে ছিল l আল্লাহ শুধু এদেরকে আলাদা করে দিয়েছে l এটা বিগ ব্যাং থিওরীর সম্পূর্ণ বিপরীত lতাছাড়া কুরআনে আকাশ বলতে আমরা যে নীলিমা দেখি সেটিকেই বুঝিয়েছে যা ‘আকাশ সম্পর্কে আল কুরআন ও বিজ্ঞান
’ শিরোনামের আকাশ সংশ্লিষ্ট আয়াত সমূহ দ্বারা ব্যখ্যা করেছি।

একটা দুইহাত কাঠিকে মাঝ বরাবর ভেঙ্গে একটাকে উপরে রাখা আরেকটাকে নিচে রাখা হয়েছে আর এটা দিয়ে কি বিগ ব্যাং বুঝা যায় ? এই আয়াতে বলা হয়েছে পৃথিবী ও আকাশ একসাথে ছিল জোড়া লাগানো অবস্থায় এবং আল্লাহ এদেরকে ভেঙ্গে আলাদা করে দিয়েছেন ! এই আয়াতে আরো লক্ষ করুন বলা হচ্ছে ভু-মন্ডল মানে পৃথিবী এবং নভোমন্ডল বা আকাশ (যেটা শক্ত কঠিন ছাদ) এগুলো আগে থেকেই তৈরী অবস্থায় ছিল এবং আল্লাহ শুধু এদের ভেঙ্গে আলাদা করে দিয়েছে এবং একটাকে উপরে স্থাপন করেছে (আকাশকে) এবং একটাকে নিচে স্থাপন করেছে (পৃথিবী) ! আর এটা বিগ ব্যাং-এর সম্পূর্ণ বিপরীত ! বিগ ব্যাং-এর মতে পৃথিবী ও বিশ্বজগত সৃষ্টি হয়েছে বিগ ব্যাং-এর লক্ষ কোটি বছর পরে ! মানে বিগ ব্যাং-এর পরে লক্ষ বছর লেগেছে পৃথিবী ও তারকা সমূহ তৈরী হতে ! কিন্তু কুরানে বলা হচ্ছে পৃথিবী ও আকাশ আগে থেকেই তৈরী করা ছিল এবং একসাথে লাগানো অবস্থায় ছিল ! আল্লাহ শুধু এদেরকে আলাদা করে দিয়েছে ! যেটা বিগ ব্যাং থিওরীর সম্পূর্ণ বিপরীত l
অর্থাত কুরআনের বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবী ও আকাশসমূহ পরস্পরের সাথে মিলে মিশে ছিল মানে পৃথিবী এবং তার উপর আকাশ একদম মিশে ছিল একটার উপর আরেকটা l আল্লাহ শুধু এদুটোকে আলাদা করে একটাকে(আকাশকে) উচ্চে স্থাপন করেছে এবং অন্যটাকে (পৃথিবীকে) নিচে স্থাপন করেছে l এটা দিয়ে কখনই বিগ ব্যাং বুঝানো যায় না l বরং বিগ ব্যাং-এর বিপরীত কথাই এখানে বলা হয়েছে l

আবার মুসলমানরা সূরা লোকমান-এর ২৯ নাম্বার আয়াত উল্লেখ করে বলে এখানে প্রবিষ্ট হওয়া বলতে বোঝায় রাত ধীরে ধীরে ও ধারাবাহিক ভাবে দিনের ভেতর প্রবেশ করে ৷ তেমনটি দিনও রাতের ভেতর ৷ যদি পৃথিবী চ্যাপ্টা বা সমান্তরাল হত তাহলে তা সম্ভব হত না ৷ আর তাই এই আয়াত দ্বারা পৃথিবীকে গোলক আকৃতির বলা হয়েছে l

আসুন আমরা দেখি আসলে কুরআনে কি বলা হয়েছে !
কুরআনে বলা হয়েছে;
"তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন ? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন ?" (সূরা লোকমানঃ২৯)

এই আয়াতে বলা হচ্ছে আল্লাহ রাতকে দিনের ভিতরে প্রবিষ্ট করে বা ঢুকিয়ে দেয় এবং দিনকে রাতের ভিতরে প্রবিষ্ট করে বা ঢুকিয়ে দেয় l এটা একটা বিজ্ঞান বিরোধী কথা l আপনি যদি বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে থাকেন তবে আপনি জেনে থাকবেন রাত বলে বাস্তব জগতে কিছুর অস্তিত্ব নেই l কিন্তু দিনের বাস্তব অস্তিত্ব আছে l কারণ হচ্ছে সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসে এবং এটা কোন প্রাণীর চোখে পরে ফলে সেই প্রাণীটি দেখতে পায় বলে সেটাকে দিন বা আলোকিত অবস্থায় দেখে l অর্থাত দিন তৈরী হচ্ছে সূর্যের আলোর প্রত্যক্ষ উপস্থিতির জন্য l তার মানে হচ্ছে দিনের অস্তিত্ব আছে l কিন্তু যখন সূর্য ঢুবে যায় (প্রকৃত পক্ষে পৃথিবীর অপর পাশে চলে যায়) তখন পৃথিবীতে আলো আসা বন্ধ হয় (এটা ঘটে পৃথিবীর বিপরীত এক পাশে) l ফলে কোন আলো আর আসে না l
এবং কোন প্রাণীই আর কিছু দেখতে পায় না অর্থাত প্রাণীর চোখে কোন আলো পরে না ফলে মস্তিষ্ক আলো না আসার দরুন বিপরীত ক্রিয়া হিসেবে সব কিছু কালো অন্ধকার দেখায় l আমরা জানি কালো হচ্ছে সব রঙের অনুপস্থিতি অর্থাত কোন আলোর অনুপস্থিতি l যেহেতু রাতের বেলা কোন আলো আসে না সূর্যের কাছ থেকে তাই সব কিছুই অন্ধকার দেখায় l অর্থাত অন্ধকার হচ্ছে আলোর অনুপস্থিতি l আলোর উপস্থিতি হচ্ছে দিন এবং আলোর অনুপস্থিতি হচ্ছে রাত l অর্থাত আলোর উপস্থিতির জন্য দিন হয় এবং আলোর অনুপস্থিতির জন্য রাত হয় l আলোর নিজস্ব অস্তিত্ব আছে কিন্তু অন্ধকারের নিজস্ব কোন অস্তিত্ব নেই l আলোর অনুপস্থিতিই হচ্ছে অন্ধকার l তেমনি রাতের নিজস্ব কোন অস্তিত্ব নেই বরং দিনের অনুপস্থিতিই হচ্ছে রাত l
রাতের নিজস্ব কোন অস্তিত্ব নেই l এটি মস্তিষ্কের আলোর অনুপস্থিতির একটি বিপরীত প্রতিক্রিয়া l অর্থাত আলোর অনুপস্থিতির জন্য মস্তিষ্কে যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় সেটাই হচ্ছে অন্ধকার বা রাত l অর্থাত রাতের নিজস্ব কোন অস্তিত্ব নেই l এটা শুধুমাত্র মস্তিষ্কের একটি প্রতিক্রিয়া কিন্তু বাস্তব জগতে এর কোন অস্তিত্ব নেই l আলোর অনুপস্থিতিতে মস্তিস্ক একটি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে যেটা আমাদের কাছে অন্ধকার রাত হিসেবে মনে হয় l কিন্তু বাস্তব জগতে এর কোন অস্তিত্ব নেই l আছে শুধু মস্তিস্কে l
যেহেতু রাতের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই, তাই রাতকে দিনের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া বা প্রবিষ্ট করা একে বারেই অসম্ভব l আবার বিপরীত ভাবে দিনকেও রাতের ভিতরে প্রবিষ্ট করা বা ঢুকিয়ে দেয়া সম্ভব নয় l
রাতের কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই এটা একটি মস্তিস্কের বিপরীত প্রতিক্রিয়া মাত্র এই তথ্যটি মুহাম্মদ অর্থাত আল্লাহ জানতো না l আর তাই সে ভেবেছে রাতকে দিনের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায় এমনকি দিনকেও রাতের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায় l কিন্তু বাস্তব জগতে রাতের কোন বাস্তব অস্তিত্ব না থাকায় এটাকে কোন কিছুর ভিতরেই ঢুকিয়ে দেয়া সম্ভব নয় l আর এই তথ্যটা আল্লাহ জানতো না বলেই কুরানে এমন অদ্ভুত কথা বলা হয়েছে যে, রাতকে দিনের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয় আর দিনকে রাতের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয় l প্রকৃত সত্য হচ্ছে যার কোন বাস্তব অস্তিত্ত নেই তাকে কোথাও ঢুকানো হচ্ছে সেটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারনা এবং উদ্ভট কল্পনা মাত্র l পক্ষান্তরে কোন কিছুকে অস্তিত্বহীন কোন কিছুতেই ঢুকানো সম্ভব নয় l
অর্থাত রাতকে দিনের ভিতরে ঢুকানো হচ্ছে এবং দিনকে রাতের ভিতরে ঢুকানো হচ্ছে এই ধারনাটা মুহাম্মদের উর্ভর মস্তিস্কের কল্পনা বা ধারণা মাত্র l

সুতরাং "রাত ধীরে ধীরে ও ধারাবাহিক ভাবে দিনের ভেতর প্রবেশ করে ৷ তেমনটি দিনও রাতের ভেতর" এটা একেবারেই অবান্তর কথা l রাত কখনই দিনের ভিতরে প্রবেশ করবে না এবং দিন রাতের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না l কারণ রাতের কোন বাস্তব অস্তিত্তই নেই l আর তাই "যদি পৃথিবী চ্যাপ্টা বা সমান্তরাল হত তাহলে তা সম্ভব হত না" এটা বলাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয় l আর এই আয়াত দ্বারা কখনই পৃথিবীর আকার বুঝা সম্ভব নয় l এই কথাগুলো জাকির নায়েকের মত মানুষের উর্ভর মস্তিস্কের ব্যাখ্যা এবং তারা বোকা মুসলমানদেরকে আরো বোকা বানাতেই এই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছে l

"তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন" এটা ভালো কথা; কিন্তু "প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে" বলতে আল্লাহ এখানে কি বুঝিয়েছে ? সূর্য আর চাদ সবসময়ই পরিভ্রমন করে তাহলে এখানে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমন করে এই কথাটা কেন বলা হয়েছে ?

যদি চাদ ও সূর্য নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমন করে তবে বাকি সময় তারা কি করে এবং কোথায় যায় ?
এর উত্তর খুজতে গেলে মুহাম্মদের সময়ের মানুষের চাদ-সূর্যের ধারণা জানতে হবে ! মুহাম্মদের সময়ে মানুষ ভাবতো পৃথিবী সমতল, আকাশ হচ্ছে শক্ত কঠিন ছাদ এবং চাদ ও সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে বেড়ায় l আর পৃথিবী সমতল এই কথাটি কুরানে বলা হয়েছে নানা ভাবে l কুরআনের ০২:২২, ৮৮:২০, ৭৮:৬, ৫১:৪৮, ৫০:৭, ১৫:১৯, ১৩:৩, ২০:৫৩, ৭১:১৯, ৪৩:১০, প্রভৃতি আয়াতে ইঙ্গিত করা হয়েছে সমতল পৃথিবীর l এবং কুরআনের অনেক আয়াতে বলা হয়েছে আকাশকে শক্ত ছাদ হিসেবে l যেমন - ২১:৩২ ও ১০৪, ১৯:৯০, ২২:৬৫, ৩৪:৯, ৫২:৯, ৬৯:১৬, ৬৭:৩ ও ৫, ৩৯:৬৭, ৪২:৫, ৫০:৬, ৫২:৪৪, ৫৫:৩৭,৭৮:১২, ৭৮:১৯, ২:২২ প্রভৃতি আয়াতে আকাশকে ছাদ বলা হয়েছে এবং আকাশ সম্পর্কে অদ্ভুত তত্ত্ব দেয়া হয়েছে যার সাথে বাস্তব জগতের আকাশের কোন মিল নেই l
আবার কুরানে চাদ ও সূর্যের সম্পর্কেও উল্টা পাল্টা কথা বলা হয়েছে বিভিন্ন আয়াতে l

সুরা ইয়াসিনের ৩৮ ও ৩৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে
"সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নীয়ন্ত্রন l
"চন্দ্রেন জন্যে আমি (আল্লাহ) বিভিন্ন মনজিল (আকার) নির্ধারণ করেছি l অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর(খেজুর গাছের) শাখার অনুরূপ হয়ে যায় l "
৩৯ নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে চাদ খেজুর গাছের পুরাতন শাখার মত বাকা আকৃতি ধারণ করে l আমরা এটাই দেখি যে চাদ ছোট হতে হতে খেজুরের ডালের মত বা দা-বটির মত বাকা আকৃতি ধারণ করে l আর আল্লাহও ওই আয়াতে একথাই বলছেন যে চাদ খেজুর শাখার পুরাতন ডালের মত হয়ে যায় l কিন্তু আল্লাহ এটা জানত না যে চাদ আসলে সব সময় গোলক আকৃতিরই থাকে l কিন্তু সেটা শুধু পৃথিবী থেকেই ও রকম দেখায় l কিন্তু আল্লাহ ভেবেছে চাদ সত্যি সত্যি ছোট হতে হতে বাকা আকৃতি ধারণ করে l আবার ৩৮ নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে সূর্য নির্দিষ্ট অবস্থানেই আবর্তন করে l

সহি বুখারীর ভলিউম ৪, অধ্যায় ৫৪, হাদিস নং ৪২১,
আবু যার (রা:) হতে বর্ণিত l তিনি বলেন, একদা সূর্য অস্ত যাবার সময় রসুল (স:) আমাকে বললেন,"তুমি কি জান সূর্য কোথায় গমন করে ?" আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রসুলই ভালো জানেন l তিনি বললেন, এটা যায় (ভ্রমন করে অর্থাত যেতে যেতে) (আল্লাহর) আরশের নিচে পৌছে সিজদা করে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয় l এবং অচিরেই (এমন এক সময় আসবে) যখন সে সেজদা নত হবে কিন্তু তা গৃহীত হবে না এবং নিজস্ব পথে যাত্রা করার অনুমতি চাইবে; কিন্তু আর অনুমতি মিলবে না , (বরং) তাকে নির্দেশ দেয়া হবে, সেই পথে ফিরে যেতে-যে পথে সে এসেছে l এবং তখন সে পশ্চিম দিকে উদিত হবে l এটাই হলও আল্লাহ-তালার এই বাণীর মর্ম; আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্য পথে বিচরণ করে l এটিই মহাশক্তিশালী সর্বজ্ঞাতার নির্ধারিত বিধান l (৩৬:৩৮)

এই হাদিস দ্বারা মুহাম্মদ সুরা ইয়াসিনের ৩৮ নাম্বার আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়েছে l তার মতে সূর্য যে নির্দিষ্ট পথে গমন করে সেটা অস্ত যাবার পরে আল্লাহর আরশের নিচে যায় এবং সেজদা করে আর পরের দিন পুনরায় উদিত হবার জন্য প্রার্থনা করে এবং আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করে নেয় l ফলে সূর্য আবার উদিত হয় l কিন্তু কেয়ামতের দিন সূর্যকে আর পূর্ব দিক হতে উদিত হবার অনুমতি দেয়া হবে না বরং সূর্যকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হতে বলা হবে l এবং কেয়ামত হবে l
অর্থাত সূর্য প্রতিদিন অস্ত যাবার পরে আল্লাহর আরশের নিচে যেয়ে সেজদা দেয় এবং সারা রাত সেখানেই থাকে l আল্লাহর কাছে পুনরায় উদিত হবার প্রার্থনা করতে থাকে l আল্লাহ তাকে অনুমতি দেয় এবং পরের দিন সে পুনরায় উদিত হয় l সুতরাং সূর্যের নির্দিষ্ট পথে আবর্তন সম্পূর্ণ আল্লাহর নিয়ন্ত্রনাধীন l আর এটাই উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে l

এখন সূরা লোকমান-এর ২৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে চাদ ও সূর্য নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমন করে l এটা থেকে বুঝা যায় যে চাদ ও সূর্য আসলে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমন করে এবং এরপর আল্লাহর আরশের নিচে গমন করে এবং সেজদারত অবস্থায় সারা রাত বা সারা দিন (চাদের ক্ষেত্রে) প্রার্থনা করে পুনরায় উদিত হবার জন্য এবং সারা রাত বা সারা দিন সেখানেই কাটায় l এবং পরদিন পুনরায় উদিত হয় l আর এজন্যই সুরা লোকমানের ২৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে সূর্য ও চন্দ্র নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমন করে l এবং বাকি সময় আল্লাহর আরশের নিচে সেজদারত অবস্থায় থাকে l

তাহলে পাঠক এবার বুঝুন কুরআনের এই আয়াত দ্বারা কখনই কি পৃথিবী গোলক আকার এটা বুঝা যায় ?

নাকি রাত দিন, সূর্য ও চন্দ্রের সম্পর্কে আবুল তাবুল কথা বলা হয়েছে কুরানে ?

বরং কুরআনের রচয়িতা আল্লাহর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাই জানতো না রাত, দিন, চন্দ্র, সূর্য এবং বিশ্বজগতের সৃষ্টি ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে l কুরানে সব কিছু এমন ভাবে বলা হয়েছে যেন এটা কোন স্বাধারণ মানুষ রচনা করেছে l
আর তাই বলা যায় কুরআন কোন সৃষ্টিকর্তার দ্বারা রচিত হয়নি বরং এটা একজন মানুষের দ্বারাই রচিত হয়েছে l

Comments

বেহুলার ভেলা এর ছবি
 


খুবই চমৎকার হয়েছে

সকল ধর্মই কিছু কুসংস্কারের সমষ্টি।

 
সত্যর সাথে সর্বদা এর ছবি
 

ধন্যবাদ

 
আব্দুর রহিম রানা এর ছবি
 

খুবই চমৎকার রেফারেন্স। কাঠামোল্লাদের গোঁড়ামীর দাঁত ভাঙ্গা জবাব।

ধন্যবাদ।

 
সত্যর সাথে সর্বদা এর ছবি
 

ধন্যবাদ

 
মহসিন  এর ছবি
 

আপনি কোরানএর খুত ধরছেন কতই না কষ্ট করতে হচ্ছে আশা করি মঙ্গল গ্রহে গিয়ে আপনি এই পৃথিবীকে ক্ষুদ্র একটি তারা হিসেবে যেদিন দেখতে পেলে এই দুনিয়াতে নাজেল কোরানকে সুধু মাত্র অবাস্তব বুঝানোর জন্য একেবারে পাগলই হয়ে যাবেন ; কারণ আপনার আবেগটা আমি বুঝতে পারছি; এটা যে নিছক কোন পাগলামিও নয় আর কোন বিতাড়িত শয়তানের পিছু ধাওয়া করাও নয়;এটা নিরেট সত্য কথা।

 
সত্যর সাথে সর্বদা এর ছবি
 

যে অসত্যো অনেক সহজ সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে আমি সে অসত্যের মুখোশ খুলে দিতে প্রয়াশ পেয়েছি মাত্র

 
কি দরকার এর ছবি
 

আপনি কোরানের অনেক উক্তি দিছেন । হয়তো আপনি কোরআন পরছেন, এতা ভাল । কিন্তু যেখানে অনেক বিজ্ঞানীরা কোরআন গবেষণা করে নতুন কিছু খুজে পাবার আশায় সেই খানে আপনি কোরানের ভুল দরেন। আপনার তো অনেক বুদ্দি আপনার বুদ্দির প্রশংসা করব না আপনার জন্নে আপসোস করব বুজতাছি না। আল্লাহ্‌ আপনার হেদায়েত দান করুক।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সত্যর সাথে সর্বদা
সত্যর সাথে সর্বদা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 4 দিন ago
Joined: শনিবার, মার্চ 18, 2017 - 12:13পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর