নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

মানবতার সৈনিক।


বিলাস চন্দ্র এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। হিন্দু ঘরে জন্ম হওয়ায় এবং পিতামাতা ধার্মিক হওয়ায় ছোট থেকেই সে হিন্দু রীতিনীতি খুব ভালভাবেই পালন করতো। তবে ছোটকাল থেকেই তার মাঝে কিছু ব্যতিক্রম ভাব লক্ষ্য করা যায় যা হলো তার মানবিক আচরণ এবং একটি বিদ্রোহী সত্তা। একদিকে দশ জনের দুঃখে যেমন তার মন কাঁদে আবার অন্যদিকে কোনপ্রকার অন্যায়কে সে মানতে রাজি না। তার সামনে কোন অন্যায় দেখলে সাথে সাথেই সে তার প্রতিবাদ করে। এজন্য যদিও অনেক সময় অনেক ধরনের কথা শুনতে হয় তাকে তবুও সে কটু কথার তোয়াক্কা না করে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য গুলোকেই বেশি প্রাধান্য দেয় বিলাস।
হিন্দু ধর্মের জাত-পাতের অনেক ভাগ রয়েছে তবে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় সংখ্যালঘু হওয়ায় নিজ জাতিতেই তারা বিশ্বাসী। জাত-পাতের আর ভাগ করেনা।করবে কি করে, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই দায়।এখানে আবার জাত-পাতের ভাগ করার সুযোগ কোথায়? এমন একটা সমাজেই বিলাসের বেড়ে উঠা।
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হওয়ায় বিলাস চন্দ্রের বিলাসিতা নামের মাঝেই সীমাবদ্ধ। প্রকৃত বিলাসিতা কখনো সে উপলব্ধি করতে পারেনা। বিলাসের বয়স এখন প্রায় কুড়ির কাছাকাছি।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বাড়ি থেকে বিশ কিলোমিটার দূরে তার কলেজ। বাড়ি থেকে যাতায়াতের সমস্যা হওয়ায় মেসে থাকে। পরিবারের দুরবস্থার কারনে টিউশনি করে তার নিজের খরচ ও সংসারের ছোট ভাইবোনদের খরচও তাকেই চালাতে হয়।তারপরও এইসব নিয়ে বিলাসকে কখনো বিচলিত হতে দেখা যায়না। এগুলোকে এখন সে নিজের কর্তব্য বলেই মনে করে।

বিলাসকে আজকাল প্রায়ই মনমরা অবস্থায় দেখা যায়। এর মূল কারন হিসেবে যতদূর জানা যায় তা হলো বর্তমান সমাজব্যবস্থা। সমাজের একশ্রেণীর কাছে অন্যশ্রেণীর অত্যাচরীত হওয়াটা বিলাস কিছুতেই মেনে নিতে পারেনা। এছাড়া সমাজের অসহায়, বঞ্চিত ও বিভিন্ন ধরনের রোগাক্রান্ত মানুষগুলো বিলাসকে নানা রকম ভাবে ব্যথিত করে। সে এখন পরিবারের বাইরে সমাজের এইসব নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের জন্য কিছু করতে চায়। কিন্তু সমাজের জন্য কিছু করতে হলে টাকার প্রয়োজন।তা তো তার কাছে নেই। ইতিমধ্যে বিলাসের ভাল একটি বন্ধুমহল তৈরি হয়। ভাল বলতে শুধুমাত্র আড্ডা মারার জন্য। বন্ধুমহলে আড্ডার ফাঁকে বেশ কয়েকদিন বিলাস তার ভাবনার কথা তুলেও ধরেছে। কিন্তু কারো কাছ থেকে তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিলাসের একমাত্র প্রাপ্তি যেটি তা হলো একটি নাম। এখন তার বন্ধুমহলের সবাই তাকে মানবতার সৈনিক বলে ডাকে। বিলাস বুঝতে পারে তাকে ব্যঙ্গ করেই এ নামে ডাকে কিন্তু কিছু বলতে পারেনা। তার বন্ধু তালিকার দুইজন ছাড়া বাকি সবাই মুসলমান। এ নিয়ে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তার সহজ ভাবনা, জাত দিয়ে কি হবে, আগে তো মানুষ। তার সবচেয়ে যে ঘনিষ্ঠ বন্ধু তার নাম ইলিয়াস। ইলিয়াস থাকে বিলাসের মেস থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বের এক মেসে। ইলিয়াস বিলাসকে তার জীবনের অর্ধাঙ্গ মনে করে।এর পেছনে কারনও রয়েছে যথেষ্ট। অনার্সে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পরেই কলেজ থেকে পনের কিলোমিটার দূরে পাহাড় দেখতে যাবে বলে ঠিক করে বিলাস। প্রথম বর্ষের মিডটার্ম পরীক্ষার দুইদিন আগে বিলাস, রাজন, ইলিয়াস, রবিন ও ফয়সাল পাঁচজন মিলে যায় পাহাড় দেখতে।তারা যখন পাহাড় দেখে মেসে ফিরছিল তখন রাত প্রায় নয়টা। প্রচন্ড বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের সাথে একরকম লড়াই করেই ঘরে ফেরে তারা। সারাদিনের পরিশ্রমের কারনে ক্লান্ত ইলিয়াস কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হয়। দিন যত যায় তার সাথে পাল্লা দিয়ে জ্বরও যেন বেড়েই চলে। ইলিয়াসের মেসে রবিন ও ফয়সাল থাকে। কিন্তু ইলিয়াসের অসুস্থতার ব্যাপারে কাউকেই অগ্রসর হতে দেখা যায়না। তাই বিলাস দুইদিন যাবৎ মেডিকেলে সারাক্ষণ ইলিয়াসের সাথে থেকে তার সেবা শুশ্রূষা করে। প্রথম পরীক্ষাটিও বিলাস দিতে পারেনা ইলিয়াসের কারনে। তার পর থেকেই দুজনের মধ্যে গড়ে উঠে এই অন্তরঙ্গ ভাব।

ইলিয়াস মাঝেমাঝে এসব বিষয়ে(মানবতা) বন্ধুমহলে কথা বলতে বারন করে আর সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে নানা ধরনের লেখালেখি হয় সত্যনিষ্ঠ ভাবে এমন বিভিন্ন ব্লগ সাইটের ব্যাপারে আলোচনা করে। ব্লগ সাইটের কল্যাণে বিলাস ধর্ম, বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শণ, সাহিত্য ইত্যাদ বিভিন্ন বিষয়ে পরিচিতি লাভ করে।এই সীমিত পরিমাণ পড়ায় তার মন ভরে না। বরং জ্ঞানতৃষ্ণা দিন দিন বেড়ে চলে। জ্ঞান অর্জনের তীব্র আকাঙ্খা থেকে সে একের পর এক বই পড়ে চলে। তার কাছে সবচাইতে ভাল লাগে ধর্ম ও বিজ্ঞান। ধর্ম বিষয়টা তার কাছে ছোটকাল থেকেই কেমন জানি পীড়াদায়ক। তবুও সমাজ ও পরিবারের কারনে সে এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে বেড়ে উঠে। অন্যদিকে নতুন করে পাওয়া বিজ্ঞানের বিবর্তনবাদ সম্পর্কিত তথ্যগুলো তাই তাকে বেশ আন্দোলিত করে। বিবর্তনবাদের মত এত যুক্তি নির্ভর তত্বকে সে কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারেনা। যার শেষ ফল দাড়ায় বিলাস চন্দ্রের নাস্তিক হওয়া।

একসময় বিলাস খুব নিয়ম করেই ধর্ম কর্ম করতো। এইতো এইচ এস সি পরীক্ষার সময়, বিলাস তার পড়াশোনা শেষ করে সবার শেষে ঘুমাতে যেতো। বিছানায় উঠার আগে ঘরে যত দেবদেবীর ছবি বা মূর্তি আছে এক এক করে সবার সামনে গিয়ে গিয়ে বিলাস সবাইকে প্রণাম করে পরে বিছানায় উঠতো। আর মাঝেমাঝেই ভাবতো ঘরে তো সব দেবদেবীর ছবি বা মূর্তি নেই,তারা আবার রাগ করবেনা তো? তাই বিছানায় শোয়ে শোয়ে তাদের নাম জপ করে পরে বিলাস ঘুমাতো। এখন আর এইসব ঝামেলা পোহাতে হবেনা, শুধু শুধু অস্তিত্বহীন একটি বিষয় নিয়ে এতদিন সময় নষ্ট করার জন্য একদিকে যেমন রাগ হচ্ছে তেমনি এতদিন পর মানব জীবনের ইতিহাস জানার জন্য বেশ আনন্দও উপলব্ধি হচ্ছে। বিলাস এখন মুক্ত। তার কোন বাঁধন নেই এ কথাটা ভাবতেই খুব আনন্দ হচ্ছে। ছাত্রজীবনে যে কথাটি তাকে প্রায়ই শুনতে হতো তা হলো সে মালুর জাত।সে মালাউন। মাঝেমাঝে খুব খারাপও লাগতো বিষয়টা ভেবে তবে এখন আর তা লাগবেনা। এখন তার একমাত্র পরিচয় সে মানুষ।

হঠাৎ একদিন বিলাস ভাবে সে তো সমাজের জন্য সরাসরি কিছুই করতে পারলোনা। যদি লেখালেখি করে কিছু করা যায় ক্ষতি কি? মন সে তো আর মন নয়, ঠিক যেন একটা মুক্ত বিহঙ্গ। যা এতদিন খাঁচায় বন্দি ছিল।আজ সে স্বাধীন, মুক্ত। যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু হয় বিলাসের নতুন জীবন (ব্লগিং জীবন)। ইতিমধ্যে একটা বিষয়ে সে নিশ্চিত হয়েছে এই সমাজে খুনি, সন্ত্রাসীর(ধার্মিক) স্থান আছে কিন্তু নাস্তিকের স্থান নেই। তাই সে তার ব্লগিং জীবন শুরু করতে ছদ্মনাম বেছে নিতে বাধ্য হয়। নামটিও তারাই। সেই বন্ধুদের দেওয়া নাম "মানবতার সৈনিক "। মানবতার সৈনিকের একমাত্র কাজ মানবতার জন্য লড়াই করা। মনবতার সাথে সাংঘর্ষিক ধর্মীয় মতবাদের বিরুদ্ধেও তার লেখা চলে দুর্বার গতিতে। তবে তার লেখার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে মানবতা। সাধারন মানুষের সুখ দুঃখের কথা, দিন বদলের স্বপ্ন, খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার, সাধারন মানুষের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার ইত্যাদি নিয়েই চলে তার ব্লগিং সংগ্রাম। এতকিছুর পরও তার পরিবারের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়না। আগের মতই বাড়িতে যায় সবকিছু আগের মতই আছে। কেউ কিছুই বুঝতে পারেনা।

বিলাসের অনার্স শেষ হতে আর দুই মাস বাকি। কিছুদিন যাবৎ তাকে খুব অস্থির অস্থির লাগছে। এইতো সেদিন সে যখন টিউশনি করে মেসে ফিরছে তখন কেবল সন্ধ্যা গড়িয়ে সাতটা বাজে।রাস্তায় কে যেন হঠাৎ তাকে ডাক দিল মানবতার সৈনিক বলে।পিছু ফিরে আর কাউকেই দেখতে পেলনা। কিছুদিন যাবৎ এমন ঘটনা প্রায় প্রায়ই ঘটছে তার সাথে। বিষয়টি সে ইলিয়াসের সাথে শেয়ার করলে প্রথমে আমলে নেয়নি। কিন্তু বিলাসের এই অস্থিরতা দেখে সে বুঝতে পারে সত্যিই একটা কিছু ঘটছে। তাই সে বিলাসকে বলে লেখালেখি বন্ধ করে দিতে। কথাটা সে সহযে বলতে পারেনি, তবুও অনেক বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে সবশেষে সরাসরিই বলে ফেলে, বিলাস তুই লেখালেখি বন্ধ করে দে। সেটাই ভাল হবে। এই সমাজ মানবতা বুঝেনা। শাসন, অত্যাচার এগুলোই অনেক বেশি পছন্দ করে। আর ব্লগারের নাম শুনলেই সাবাইকে দেখিসনা কেমন যেন অন্যরকম ভাবে। তুই এইসব বাদ দে ভাই।

বিলাসও বুঝতে পারে বিষয়গুলো। তখন তার কেবলই মনে হকে থাকে ব্লগার রাজীব, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয়দের কথা। যাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল তাদের ধর্মে বিশ্বাসহীনতা, নাস্তিকতা। আর সেও যে একই দলের সদস্য। নাহ্, এত কিছু ভাবতে চায়না বিলাস।
সেদিন শুক্রবার। সারাদিন মেসেই ছিল। মায়ের শরীরটা একটু খারাপ তাই বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পকেট একেবারেই খালি। তাই আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। সারাদিন মেসে শোয়ে শোয়ে এই টাকার কথাই ভেবেছে।অনার্স শেষ হলে যত তারাতারি সম্ভব যেকোন ধরনের একটা চাকুরিতে তাকে ঢুকতেই হবে। সারাদিন শেষে বিকেলে কলেজের কাছেই যে বাজার সেখানে যায় বিলাস। বাজারে রহিম চাচার চা দোকানে প্রায় নিয়মিত আড্ডা বসে তাদের বন্ধুদের। বিলাসকে সেখানে দেখা যায় মাঝেমাঝে। আজ ইলিয়াসকে সাথে নিয়ে সেও যোগ দেয় আড্ডায়। দোকানে ঢোকার পর পরই শুরু হয় মুষলধারার বৃষ্টি। আড্ডার ফাঁকে মানবতার সৈনিকের একটা ব্লগ নিয়ে রবিন এমন কিছু মন্তব্য করলো, সবাই গম্ভীর হয়ে রইল কিছুক্ষণ। কারো মুখ থেকে আর কোন কথা বের হলোনা। এরইমধ্যে একটি অপরিচিত ছেলে দুইবার ছাতা মাথায় এসে দোকানের এক কোনায় বসে তাদের দিকে লক্ষ্য রাখছিল। বিষয়টি আর কেউ লক্ষ্য না করলেও বিলাসের চোখ এড়াতে পারেনি। এমনকি ইলিয়াসও কিচ্ছু বুঝতে পারেনা। তাই আড্ডা থেকে আটটার দিকেই বেরিয়ে আসে বিলাস। ইলিয়াসকে বলে তারাতারি ওর মেসে চলে যেতে। আর তার শরীরটা ভাল লাগছেনা বলে ইলিয়াসের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তার মেসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাজার থেকে মেস পনের বিশ মিনিটের রাস্তা। রাস্তায় আজ লোকজন নেই বললেই চলে। এর কারন হিসেবে বুঝা যায় দুইটি কারন। একটি বৃষ্টি আর অন্যটি আজ শুক্রবার। যারা বাজারে গেছে তারাও একটু দেরি করেই ফিরবে আজ। পথের মাঝামাঝি এসে পরেছে এমন সময়ে বিলাসকে কে যেন ডাক দিল মানবতার সৈনিক বলে। বিলাস পেছন ফিরে মেঘে ঢাকা জোছনার অল্প আলোতে দেখে দোকানের সেই ছেলেটা, সাথে আরো দুজনকে নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। বিলাস হঠাৎ কিছু বুঝতে না পেরে থমকে দাড়ায়। ছেলেগুলো ততক্ষণে তার কাছাকাছি চলে এসেছে। দোকানের ছেলেটা প্রথমে বলে উঠলো কিরে মানবতার সৈনিক, মানবতা দেখছি বড্ড বেশি বেড়ে গেছে তোর।তা আজ আমাদের কাছ থেকে কিছু নতুন ধরনের মানবতা শিখে নে। বলতে বলতে ছেলেটির ডানদিকে থাকা ছেলেটা একটা বাইসাইকেলের চেইন বের করে বিলাসের গলার দিকে ছুড়ে মারে। বিলাস একটু সরে গিয়ে কিছু একটা বলতে যাবে তখনই বাম পাশের ছেলেটা বলতে থাকে তুই বেশি কথা বলিস। আর বলতে বলতে একটা ছুড়ি বের করে প্রথমে বিলাসের উরুতে তারপর এলোপাথাড়ি ছুড়ি চালাতে থাকে। বিলাস চিৎকার করতে চাইছে কিন্তু ডানপাশের ছেলেটা তার মুখ খুব শক্ত করে চেপে ধরার কারনে সে কোন শব্দই করতে পারছেনা। এবার এগিয়ে আসে দোকানের সেই ছেলেটা। প্রথমে কোন কথা না বলে বিলাসের বুকের উপর বসে নাকেমুখে ইচ্ছা মত ঘুষি দিতে লাগলো। তারপর শার্টের নিচ থেকে বের করলো একটা ঝকঝকে চাপাতি। আর বলতে লাগলো মানবতার সৈনিক, ধর্মের মাঝে ভুল! ধর্ম আর ধার্মিকদেরকে তুই মানবতা শিখাবি? বলতে বলতে চাপাতি দিয়ে বিলাসের দুই হাতের ও দুই পায়ের সবগুলো আঙ্গুল কুপিয়ে কুপিয়ে কাটতে লাগলো। তারপর হাত ও পায়ের রগ গুলো ছুড়ি দিয়ে কাটতে কাটতে বলতে লাগলো যা মানবতার দেশে যা। যা সৈনিক, মানবতার সৈনিক, মানবতার দেশে যা। বিলাস কোন কথা বলতে পারেনা। বিলাসের মুখ তখনো চেপে ধরে আছে একজন। রক্তেমাখা শরীরটা আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে আসে। মিনিট পাঁচেকের মাঝেই শেষ হয়ে যায় মানবতার সৈনিকের (বিলাস) লড়াই। সৈনিকের নিথর দেহটি পরে থাকে রাস্তার পাশে বৃষ্টিধুয়া সবুজ ঘাসের উপর রক্তে লাল হয়ে।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মোঃ যীশুকৃষ্ণ
মোঃ যীশুকৃষ্ণ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 29, 2017 - 10:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর