নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোগ্গালানা মাইকেল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মো.ইমানুর রহমান
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

উপনিবেশিক “থেমিস” এবং ইসলামী স্বর্ণযুগের গ্রীক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে । পর্ব - ১


(ইসমাইলিয়া মুসলিমদের সাথে যৌথ উদ্যোগে আমেরিকার শহর হিউস্টনে এই ভাস্কর্যমালা তৈরী করা হয়েছে। আর এই বিশাল ভাস্কর্যের ভাস্কর একজন স্প্যানিশ অমুসলিম শিল্পী। আর ভাস্কর্য টির নাম দেয়া হয়েছে "টলারেন্স" বা সহিষ্ণুতা। আমাদের হেফাজতে ইসলামী কি ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের মুসলমান মনে করেন? অবশ্য হেফাজতের আলেমদের মতো ভাস্কর্য দ্বারা ইসমাইলিয়া মুসলিমদের তাওহীদ আঘাত প্রাপ্ত হয়না।সেই অর্থে হয়তো তাঁরা তথাকথিত "ছহী মুমিন মুসলমান" নহেন। )

১.
ইসলামে মূর্তি নিষিদ্ধ। বিশেষত প্রানীর মূর্তি নিষিদ্ধ, হারাম । এটা সুন্নী মুসলমানদের দাবী। ইসলামী মতে মূর্তি আর ভাস্কর্য একই কথা, এর মাঝে ধারণাগত বা চর্চাগত কোনও পার্থক্য নেই। এই কথাগুলো আমাদের জানা কথা। এই সকল ব্যাখ্যা আবারো আমরা শুনলাম টেলিভিশন চ্যানেলে বাংলাদেশের এই আমলের শিক্ষিত ও "আধুনিক" ও "অত্যাধুনিক" ইসলামী আলেমদের কাছ থেকে (আধুনিক ও অত্যাধুনিক শব্দদ্বয় জনাব মাওলানা শাখাওয়াত সাহেবের কাছ থেকে নেয়া। তিনি দাবী করেছেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা শুধু আধুনিকই নয়, অত্যাধুনিক)। ইসলামের নবী মুহাম্মদ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কাবাঘরের ভেতরের মূর্তিগুলো ধ্বংস করার কাজে। কেউ কেউ বলেন, মুহাম্মদ তিনটি মূর্তি ধ্বংস করেন নি, রেখে দিয়েছিলেন, কিন্তু টিভিতে দেয়া সাক্ষাতকারে হেফাজতে ইসলামীর নেতা মাওলানা শাখাওয়াত জানালেন এ্টা সম্পূর্ণ মিথ্যা ইতিহাস, হুজুরে পাক সব কটি মূর্তি ধ্বংস করেছিলেন, যত গুলো মূর্তি ছিলো তাঁর প্রত্যেকটি নবীজী ধ্বংস করেছিলেন। ভিডিওটি এখানে দেখে নিন ক্লিক করুন

আমি অবশ্য জানিনা, ইসলামের নবীর এই তিনশো ষাটটি মূর্তি ধ্বংসের সময়ে ঠিক কি যুক্তি কাজ করেছিলো? তখনও কি গ্রীক উপনিবেশবাদ বিরোধী মনোভাব কাজ করেছিলো কিনা। কিন্তু মাওলানা শাখাওয়াত সাহেবের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মূর্তি বিরোধিতার বিষয়টি ইসলামের তাওহীদের ধারণার সাথে সংযুক্ত, থেমিস বিরোধিতার প্রসঙ্গে তিনি ধর্মীয় দিকটির কথা বলেছেন প্রধানত আর তার সাথে জুড়ে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের তকমাটি । হেফাজতের বরাত দিয়ে ফরহাদ মজহারের ছানা-পোনারা অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন। তাঁরা বলছেন এটা প্রধানত ধর্মীয় দিক থেকে নয়, বরং এটা হচ্ছে "উপনিবেশবাদ বিরোধী" সংগ্রাম ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সকল ছানা-পোনারা নাকি মোল্লা নাসিরুদ্দিনের মত জনে জনে জিজ্ঞাসা করছেন - "আপনি কি জানেন হেফাজত কেনো থেমিসের বিরোধিতা করছে?" কিম্বা জিজ্ঞাসা করছেন ... "আপনি কি হেফাজতের প্রেস রিলিজ টি পড়েছেন?" ... তারপর বিজয়ের হাসি হাসছেন ... ওহহ এটাই জানেন না ... এটাই পড়েন নাই? হেফাজত থেমিসের বিরোধিতা করছে কারণ এটি একটি "উপনিবেশবাদী" প্রতীকের আমদানী সেইজন্যে। হেফাজতে ইসলাম থেমিসের বিরোধিতা করছে কারণ এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের "চেতনার বিরোধী"। এখানে ধর্মীয় বিরোধিতা নেই, এটা কেবলই "উপনিবেশবাদ" বিরোধিতা, এটা কেবলই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষনের তাগিদ!

আমি নিশ্চিত নই, হেফাজতে ইসলাম এর বক্তব্য হিসাবে কি হেফাজতের নেতাদের কথা বেশী গ্রহনযোগ্য নাকি ফরহাদ মজহার ও তাঁর অনলাইন ছানা-পোনাদের কথা বেশী গ্রহনযোগ্য? হেফাজতের বক্তব্য আমরা দেখবো - পড়বো এই লেখায়।

২.

কেনও ইসলামে মূর্তি নিষিদ্ধ এই বিষয়ে বহু আলেমের বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে বাঙলা ভাষায় (একটা নমুনা দেখা যেতে পারে এখানে ক্লিক করুন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের সম্মুখ থেকে থেমিস এর আদলে গড়া ভাস্কর্যটি সরানোর জন্যে জান-প্রাণ বিসর্জন দিয়ে আন্দোলন করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তাঁরা এটাকে বাংলাদেশের ৯২% মানুষের ঈমান আকিদার সংগ্রাম বলে প্রচার করেছেন। হেফাজতে ইসলামী তাঁদের এই আন্দোলনে সফল হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট এর সম্মুখ ভাগ থেকে ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামীর তেরো দফায় স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে ঢাকা শহর সহ অন্যান্য শহরগুলোকে “মূর্তির শহর” বানানোকে প্রতিহত করার কথা। কিন্তু আগ্রহ উদ্দীপক বিষয় হচ্ছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএনপি ও ইসলামী দলগুলোর মিত্র বুদ্ধিজীবি বনে যাওয়া বিশিষ্ট কবি ও বুদ্ধিজীবি ফরহাদ মজহার এবং তাঁর অনলাইন ছানা-পোনারা একটি বিষয় প্রচার করে চলেছেন যে হেফাজতের এই “মূর্তি বিরোধী” অবস্থান তাঁদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং এটা হচ্ছে একটি “উপনিবেশবাদ বিরোধী” অবস্থান। থেমিস যেহেতু একটি গ্রীক দেবী সুতরাং তাঁর আদলে বা সেই ধারণা থেকে উদ্ভুত এই ভাস্কর্যটি একটি উপনিবেশিক ধারণা, এবং হেফাজতে ইসলামী আসলে এই “উপনিবেশিক” প্রতিকের বাংলাদেশে আমদানীকেই – বিরোধিতা করছেন, এটা নিছক “মূর্তি বিরোধিতা” নয়। মোহতারেম মজহার এবং তাঁর ছানা-পোনারা মিলে বেশ কয়েকটি আরটিকেল লিখেছেন (প্রায় একই আরটিকেল একাধিক পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে)। অনলাইন ছানা-পোনারা আরো প্রচার করছেন যে, প্রকৃত সুন্দর ভাস্কর্য, চিত্রকলা, শিল্পকলা, চারু ও কারু কর্মের সাথে ইসলামের কিম্বা হেফাজতে ইসলামের কোনও বিরোধ নেই। কেউ কেউ আবার আরেক কাঠি সরেস, তাঁরা আরব জাহান থেকে আরবী ক্যালিগ্রাফি সমৃদ্ধ নানান ভাস্কর্য/মূর্তির ছবিও প্রমান হিসাবে দাখেল করছেন। বাংলাদেশে যেহেতু “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা”র বাজার টা এখনও ভালো, তাই এই ভাস্কর্য বা কথিত "মূর্তিকে" দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে। ব্যস আর যায় কোথায়, সাম্রাজ্যবাদ প্লাস উপনিবেশবাদ বিরোধিতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংরক্ষন, এর চাইতে ভালো কোনও কম্বিনেশন হতে পারে? তাই হেফাজতের “বিজয়” কেউ ঠ্যাকাতে পারেনি।

(ইসমাইলিয়া মুসলিম ভাস্কর নাজনিন ভিরজি বাবুল এর ভাস্কর্য। যার মূল থিম "মা"। আফ্রিকান, পাকিস্থানী ও ভারতীয় মায়ের মিশ্রনে এই চিরন্তন মায়ের ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যটি কি আমাদের কোনও কওমি মাদ্রাসার প্রবেশদ্বারে স্থাপন করা যাবে? এটাতে কোনও গ্রীক উপনিবেশবাদের গন্ধ নেই।)

৩.
এখন প্রচারের যুগ। মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। নিজের বা নিজেদের মতামত বা বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্যে বয়ানের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনই যথেষ্ট নয় এখন, দরকার তা্র ব্যাপক প্রচার। যেকোনো অসত্য বয়ান এখন দুই লক্ষবার প্রচারিত হলে সত্য বা প্রায় সত্য বলে গৃহীত হবার সম্ভাবনা তৈরী হয়। যেকোনো অনিয়ম এখন নিয়ম বলে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রচারের কল্যাণে। যেকোনো অন্যায় এখন ন্যায়ের মর্যাদা পায় ঢাউস প্রচারের কারণে। মিডিয়া্তে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে জায়েজ করে, লক্ষ লক্ষ মানুষের হত্যাকে শ্রেফ “কোল্যাটারাল ড্যামেজ” বলে জায়েজ করে নেয়। যার প্রধান শিকার আরব ও মুসলিম দেশগুলোই। জনগন এমনকি উচ্চশিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তিক আধুনিক মানুষ পশ্চিমা মিডিয়ার এসব প্রচার অবলীলায় বিশ্বাস করেন, গ্রহন করেন এমন কি শেয়ার করে প্রচার করেন। বহু উচ্চশিক্ষিত মানুষ মনে করেন ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলী আগ্রাসন কেবলই “আত্মরক্ষার যুদ্ধ”। বহু উচ্চ শিক্ষিত আধুনিক মানুষ মনে করেন পাকিস্তান, আফগানিস্থান, ইয়েমেনে ড্রোন হামলা করে সাধারণ মানুষদের হত্যা করাটা খুব “খারাপ” কিছু নয়, এটাও আরেকটা “যুদ্ধ কৌশল” বা “ওয়ার স্ট্র্যাটেজি” মাত্র। প্রচার দিয়ে এখন সবকিছু করা যায়, সবকিছু। প্রচার দিয়ে জনসমর্থন আদায় করা যায়। প্রচার দিয়ে জনসমর্থন ঘুরিয়ে দেয়া যায় বা ধ্বংস করা যায়। প্রচার দিয়ে বিশ্বাস তৈরী করা যায় বা বিশ্বাস ধ্বংস করা যায়। শুধু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রচার – প্রোপাগান্ডার ক্ষেত্রে আপনার আওয়াজটা কত বড় হচ্ছে। যত বড় আওয়াজ, তত বড় অন্যায় কে জায়েজ করে নেয়া যায়। যত বড় আওয়াজ তত বড় মিথ্যাকে সত্যের পোশাক পরানো সম্ভব। বাংলাদেশের অনলাইনে এখন ফরহাদ মজহার ও তাঁর ছানাপোনাদের প্রধান শক্তির উৎস হেফাজতে ইসলামী সহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর সৈনিকেরা। এসব জনাব ফরহাদ মজহারের সাম্প্রতিক “প্রো-বিএনপি” বা আওয়ামী বিরোধীতার উত্তরাধিকার। আর কেনা জানেন, বাংলাদেশে ইসলামের আওয়াজটাই একশো ভাগ। ইসলাম ভিন্ন অন্য কোনও আওয়াজ শোনার কোনও উপায় নেই। তাই হেফাজতের এই “মূর্তি বিরোধিতা” কে ‘উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের’ এক দারুন ঝলমলে পোশাক পরানো সম্ভব হয়েছে। যদিও হেফাজতে ইসলামী, ফরহাদ মজহার কিম্বা তাঁর অনলাইন ছানাপোনাদের কেউই ব্যাখ্যা দেননাই, কিভাবে একটি গ্রীক ঐতিহ্যকে গ্রহন করাটা “উপনিবেশবাদী” হয়ে উঠলো। গ্রীক চিন্তা বা ধারণার গ্রহন যদি “উপনিবেশবাদী” হয় তাহলে কেনও আরব উপাদানগুলোর অনুপ্রবেশ উপনিবেশবাদী নয়? হেফাজত – মজহার কিম্বা তাঁর অনলাইন ছানাপোনাদের কারোর জন্যেই এই ব্যাখ্যাগুলো জরুরী নয়, কেননা তাঁরা জানেন, এই সকল ব্যাখ্যা চাইবার কেউ নেই, দরকারও নেই, তা্র আগেই তো দাবী পূরণ হয়ে গেছে, সুতরাং “উপনিবেশবাদীতা”র গল্প টা গল্পই রয়ে গেলো । এঁদের উদ্দেশ্য ছিলো সরকারকে রাজনৈতিক চাপে ফেলা, সেটা করা গেছে এবং সরকারও খুব দক্ষ খেলোয়াড়ের মতোই খেলেছেন। মাঝখান থেকে হেফাজতের মাথায় উঠেছে “নৈতিক বিজয়ের” তকমা। ইতিহাস নিশ্চয়ই একদিন এই ঘটনাগুলোকে পুনঃখনন করে দেখবে।

প্রশ্ন হচ্ছে হেফাজত কি শুধু থেমিস এর অপসারন যায়? নাকি সকল মূর্তির অপসারন চায়?

হেফাজতে ইসলাম সন্দেহাতীত ভাবেই থেমিস এর বিরোধিতা করেছে। তাঁদের ধর্মীয় “মূর্তিবিরোধী” অবস্থানের কারণেই। এটা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের টেলিভিশনের টক শো, লেখালেখি আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলো পড়লেই বোঝা যায়। হেফাজতে ইসলাম এর তেরো দফা দাবীর সাত নাম্বার দাবীটি এই রকমেরঃ

৭. মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা।

উপরের সাত নাম্বার দাবীটি হেফাজতের মূল দাবীনামা থেকে সরাসরি কপি পেস্ট করে দেয়া। এখানে অবশ্য হেফাজতে ইসলাম “উপনিবেশবাদ” বিরোধিতা ও “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার” সংরক্ষনের কথা বলতে পারেন নি, তাঁরা বলেছেন "মসজিদের শহর" ঢাকায় মূর্তি স্থাপনা বন্ধ করতে হবে। এটাই আসলে হেফাজতের মূল দাবী। দেশের কোথাও কোনও মূর্তি বা ভাস্কর্য রাখা যাবেনা। হেফাজত এই দাবীটি করছে আগাগোড়াই, কেননা তখনও তাঁদের এখনকার কনসালট্যান্টদের সাথে এতোটা রাজনৈতিক ঐক্য হয়ে ওঠেনি। তখন হেফাজত শিখে ওঠেনি "উপনিবেশবাদ বিরোধিতার" দারুন বাজার দর ওয়ালা গল্পটা।

সংযুক্তি হিসাবে এই লিংক গুলো পড়ে দেখা যেতে পারে, হেফাজত আসলে থেমিস বিরোধী নাকি মূর্তি/ ভাস্কর্য বিরোধী। এই সংবাদ প্রতিবেদন গুলোর প্রতিটিতেই হেফাজতে ইসলামী শুধু থেমিস নয় বাংলাদেশের সকল মূর্তি / ভাস্কর্য অপসারন চেয়েছে।

লিংক এক

লিংক দুই

লিংক তিন

লিংক চার

লিংক পাঁচ

লিংক ছয়

লিংক সাত (ভিডিও সহ)

৪.

কিন্তু হেফাজতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কনসালট্যান্টদের বুদ্ধিবৃত্তি প্রশংসনীয়। তাঁরা বিষয়টিকে দুইটি বিশেষ রঙ দিতে পেরেছেন। “উপনিবেশবাদ” বিরোধিতা আর “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা”র সংরক্ষন। কেননা, ইসলামের উদারপন্থী অংশ যেমন – শিয়া, আহমদীয়া ও ইসমাইলিয়া অংশের মাঝে কবিতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা, ভাস্কর্য, সাহিত্য এই সকল বিষয়ের চর্চার দারুন সব উদাহরন আছে। তাই ধর্মীয় দিক থেকে বাংলাদেশের ওয়াহাবীপন্থী হেফাজতে ইসলামী্র ভাস্কর্য বিরোধিতা খুব একটা ধোপে টিকবেনা। কিন্তু হেফাজতে ইসলামীর মতো ওয়াহাবীপন্থী এই সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের চাইতেও বড় শত্রু হচ্ছে শিয়া, আহমদীয়া কিম্বা ইসমাইলিয়া অংশের মুসলমানেরা। তাইতো হেফাজতে ইসলামীর তেরো দফা দাবীর ছয় নম্বর দাবীটি হচ্ছে এই রকমেরঃ

৬. সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা

যদি শিয়া, আহমদীয়া, ইসমাইলিয়া গোত্রের মানুষদের মুসলমান ধরি, তাহলে মুসলিম দুনিয়ায় দারুন সব ভাস্কর্য আছে, সেই সকল ভাস্কর্য আরব, পারস্য, গ্রীক, ইউরোপীয় এমন কি চৈনিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নানান স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। কোনটাকেই "উপনিবেশবাদী" বলে প্রত্যাখ্যান করেনি ইরান, ইরাক বা তুরস্ক। কিন্তু হেফাজতের বিষয়টি আলাদা। হেফাজতের ইসলামী হচ্ছে একটি ওয়াহাবী - সালাফি সংগঠন। এঁদের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সৌদী আরব হচ্ছে পরম বন্ধু আর ইরান কিম্বা শিয়া মুসলিমরা হচ্ছে চরম শত্রু। সুতরাং ওয়াহাবী ও সালাফীদের "উপনিবেশবাদ বিরোধী" অবস্থানের কথা যখন আমরা শুনি, সেটাই একটা বিরাট "অষ্টম" আশ্চর্য ঘটনা হতে পারে। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে বসে না থেকে বরং বিষয়টির গভীরে ঢুকে একটু অনুসন্ধান করা যাক।

৫.

ইতিহাসের এই প্রেক্ষিতে, আপাতত আমার এই লেখার উদ্দেশ্য ভিন্ন, আমি এই লেখায় ইসলামের ইতিহাস থেকে, ইসলামী পণ্ডিতদের লেখা থেকে উল্লেখ করতে চাই, উপস্থাপন করতে চাই, গ্রীক চিন্তা, ঐতিহ্য, উপাদান সত্যিই কি ইসলামের কাছে উপনিবেশিক? কতটা উপনিবেশিক? নাকি ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে স্বর্ণযুগ তার গোটা কংকালটাই গড়ে দিয়েছিলো গ্রীক দর্শন – রাজনীতি – নীতিশাস্ত্র- বিজ্ঞান - গণিত সহ অন্যান্য গ্রীক উপাদান? ইসলামের ইতিহাসে সত্যিকার অর্থে যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা, তাঁর কতটা আরব আর কতটা গ্রীকো – রোমান? ইসলামে যেটুকু জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চার ইতিহাস তাঁর কতটুকু “ইসলামিক” আর কতটা খ্রিস্টীয়? আসুন ইতিহাস থেকেই বরং পাঠ করি।

(চলবে)

Comments

মোমিনুর রহমান মিন্টু এর ছবি
 

অনেক কিছু জানলাম।

 
অাব্দুল ফাত্তাহ এর ছবি
 

অবশ্যই শেয়ার করবো, অনুমতির তোয়াক্কা না করেই, আপনার বিশ্নেষনী ক্ষমতা আমার কাছে বিস্ময়কর, আপনার লেখা পড়ি আর ভাবি আপনি বেঁচে থাকুন আরও দীর্ঘদিন, আরও ঝাঁজালো হোক আপনার লেখনি।

অাব্দুল ফাত্তাহ

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 4 weeks ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর