নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পৃথু স্যন্যাল
  • হাইয়ুম সরকার
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ
  • স্নেহেশ চক্রবর্তী
  • মহাবিশ্বের বাসিন্দা

আপনি এখানে

পাহাড়ে লাশের দীর্ঘ মিছিল দায় প্রকৃতির নয় রাষ্ট্রের।


অতি বর্ষণ পাহাড়ি ঢলের ফলে রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ৪জন সেনা সদস্যসহ কমপক্ষে ১৩৮ জনের (সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী) প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রবল বর্ষণে গত সোমবার (১২-জুন-২০১৭) মধ্যরাত ও গতকাল মঙ্গলবার ভোরে পাহাড় ধসে রাঙামাটি থেকে ১০৬ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ২১ জন, চন্দনাইশে তিনজন, বান্দরবানে ছয়জন এবং খাগড়াছড়ি থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটিতে। গতকাল ভোর পাঁচটা থেকে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস শুরু হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় শহরের ভেদভেদি, রাঙ্গাপানি, যুব উন্নয়ন, টিভি স্টেশন, রেডিও স্টেশন, রিজার্ভ বাজার, মোনঘর, শিমুলতলি ও তবলছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সেখানে এখনো অনেকে লোক মাটিচাপা পড়ে আছে। গতকাল পর্যন্ত রাঙামাটির বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা ও দুই সৈনিক। পাহাড়ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক চালু করতে গিয়ে প্রাণ হারান তাঁরা।
'
চট্টগ্রামসহ পার্বত্য তিন জেলায় পাহার ধসের ঘটনা এই প্রথম না এর আগেও এরকম ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটনা ঘটেছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৭ এ পর্যন্ত পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটেছে প্রায় ছয় শতাধিক।

বিগত কয়েক বছরে (বৃহৎ) পাহাড় ধসে নিহতের পরিসংখ্যানঃ
১১ জুন ২০০৭ চট্টগ্রামে মারা যায় ১২২ জন।
১৫ জুন ২০১০ কক্সবাজার ও বান্দরবনে মারা যায় ৬০ জন (৬ সেনা সদস্য সহ)।
২৭ জিন ২০১২ চট্টগ্রাম-বান্দরবান-কক্সবাজারে মারা যায় ১১৫ জন।
১৩ জুন ২০১৭ চট্টগ্রাম-বান্দরবান-কক্সবাজার ও খাগড়াছড়িতে(১জন) মারা যায় ১৩৮ জন।

ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছর পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা শুধু মাত্র কি প্রাকৃতিক বিপর্যয়? প্রতি বছর পাহাড় ধসে যে সংখ্যক মানুষকে প্রাণ দিতে হচ্ছে এটা কেবল মাত্র অতি বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়। এটা একটি মনুষ্য সৃষ্ট বিপর্যয় বটে, যার দায় রাষ্ট্রের। ভূমিদস্যুদের অবৈধ পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের গাছপালার অবাধ কর্তনের ফলে পাহাড়গুলোর গোড়া মাটিশূন্য এবং পাহাড়গুলো বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে বালুময় পাহাড়গুলোর বালু-পাথর-গাছের শিকড়ের যে বন্ধন তা আলগা হয়ে ভূমিধসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

সরকার কর্তৃক পাহাড় ইজারা দেয়া এবং ইজারাদার কর্তৃক অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, গাছপালা কাটা এবং পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপনের কারণেই প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। আর এই নিড়ীহ পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর হতাহতের দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ আইন (১৯৫২) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও পাহাড় কাটা যাবে না। এই আইন থাকলেও সরকারি নেতা-নেতাকর্মীরা গভীর অরন্যে এমনকি প্রকাশ্যেই পাহাড় ও গাছপালা কেটে নির্মান করছে ইটভাটা। ইট তৈরিতে ব্যবহার করছে পাহাড়ের মাটি ও জ্বালানি হিসেবে ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করছে পাহাড়ি গাছপালা। এগুলো দেখার কেউ নেই। কারণ দেখবে যারা করছে তাদেরই লোকজন।

মানুষ প্রাকৃতিক জীব প্রকৃতির সাথেই মানুষের বেড়ে ওঠা।প্রকৃতিকে ব্যবহার করেই মানুষের বেঁচে থাকার জীবিকা অর্জন। কিন্তু এই প্রকৃতিকে মানুষ যখন তার ব্যবহারে বাধ্য করে এবং প্রকৃতির উপর
অস্বাভাবিক কার্যক্রম চালায় প্রকৃতি তখনই প্রতিশোধ নেয়। প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক তখন রুপ নেয় বৈরিতায়। প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক-বৈরিতা বিষয়ে অতি চমৎকার ভাবে ফ্রেডরিক অ্যাঙ্গেলস আলোচনা করেছিলেন তাঁর প্রকৃতির দ্বন্দ্ববাদ শীর্ষক গ্রন্থে।

এ গ্রন্থে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রকৃতির ওপর আমাদের বিজয় নিয়ে নিজেদের গর্বিত ভাবার দরকার নেই। কারণ, প্রতিটি বিজয়ের পর প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয়।'

ঠিক তেমনি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় পাহাড় কেটে, পাহাড়ের গাছপালা কেটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে লীলাভূমি পার্বত্য অঞ্চলের উপর স্টীম রুলার চালানোর ফলে প্রকৃতি নেওয়া প্রতিশোধে পাঠার বলি হচ্ছে নিরীহ পাহাড়ী জনগোষ্ঠী।

একদিকে আমাদের শাষকগোষ্ঠীরা কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার জন্য মহাপ্রাণ সুন্দরবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে ক্ষতিপুরণ হিসেবে যেমন গাছ লাগানোর কথা বলছেন অপরদিকে তেমনি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শত শত মানুষের নিহত হবার মুল ঘটনাকে আড়াল করে ক্ষতিপুরণ হিসেবে ত্রাণ তৎপরতা দেবার নামে নামে মিডিয়াতে গলাবাজি করছেন।

প্রকৃতির উপর মানুষের হাত নাই এমনকি প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও মানুষের কিছু করার থাকে না। কিন্তু কি কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে তার মূল সমস্যার সমাধানের দিকে সরকার হাত না বাড়ালে এ মৃত্যুর মিছিল থামবে না এ সংখ্যা প্রতিবছর বাড়তেই থাকবে। ত্রাণ সহায়তা দিয়ে মানুষকে দুবেলা খাওয়ানো যায় ভাঙ্গা ঘর পুনঃনির্মাণ করা যায় কিন্তু মৃত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনা যায় না।

আল আমিন হোসেন মৃধা ( লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আল আমিন হোসেন মৃধা
আল আমিন হোসেন মৃধা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 16 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 11:30অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর