নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জলের গান
  • নুর নবী দুলাল
  • আকাশ সিদ্দিকী

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

ইমাজিনেশন/হাইপার ইমাজিনেশন


ইমাজিনেশন/হাইপার ইমাজিনেশনঃ

যে প্রানী অধিক কল্পনা শক্তি সম্পন্ন সে প্রানী ততো বুদ্ধিবৃত্তিক। যার কল্পনা নেই তার স্মৃতি শক্তি নেই, অতীত এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও তার জানাও সম্ভব নয়। কল্পনা মানুষের এমন এক সৃজনশীল ক্ষমতা যা মানুষকে বর্তমানের সঙ্গে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করে।
মানুষের মস্তিষ্কের ১০০বিলিয়ন নিউরন সেলের পারস্পরিক জটিল বন্ধনই তার কল্পনা শক্তির উদ্ভবের কারন। যে প্রানীর কল্পনা শক্তি যতবেশী তার সময় জ্ঞান ততো বেশী। "ইতর প্রানীর কোন সময় জ্ঞান নেই। তারা শুধু বর্তমানে থাকে। একটি ইঁদুরের ভবিষ্যৎ জ্ঞান ৩০ সেকেন্ড, বানরের ৯০সেকন্ড..."*[ টাইম ট্র্যাভেল_হিমাংশুকর,পৃষ্ঠা-৫৪-৫৫]। এই সকল প্রানীর কল্পনা শক্তিও ক্ষীন কিংবা নেই বলেই চলে। তাদের কোন সচেতন কর্ম পরিকল্পনা নেই।

কল্পনা বহু মাত্রিক। কঙ্ক্রিট বা মেটারিয়াল থিংকিং কিংবা ইমাজিনেশন। আবার, অ্যাবস্ট্রাক্ট থিংকিং বা ইমাজিনেশন রয়েছে। যখন কেউ বাস্তব কোন বিষয়ে কল্পনা করবে তখন তা মেটারিয়াল ইমাজিনেশন। যেমন_কল্পনায় হাতির পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ানো যা বাস্তবেও সম্ভব। কিন্তু আপনি যদি ঘোড়ায় চড়ে আকাশে উড়ার কল্পনা করেন তবে তা হাইপার মেটারিয়াল কল্পনা।
পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে সপ্ত আসমানে পাড়ি দেয়ার কল্পনা এবং একই সঙ্গে নিরাকার ঈশ্বর[The Great Holy Zero] এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের কল্পনা কিংবা চিন্ময় জগতে ভ্রমনের কল্পনা একই সঙ্গে হাইপার এবস্ট্রাক্ট ও হাইপার মেটারিয়াল ইমাজিনেশন।

অন্যদিকে টাইম মেশিনের মাধ্যমে অন্য গ্যালাক্সি কিংবা মহাবিশ্বে ভ্রমনের কল্পনাও মিশ্র হাইপার ইমাজিনেশন।

অন্য দিকে প্রেম, ভালোবাসা, দুঃখ, বেদনা ইত্যাদি বিষয়ক কল্পনা অ্যাবস্ট্রাক্ট কল্পনা। তবে প্রেম ভালোবাসার সঙ্গে যদি প্রেমের বস্তু কল্পনাও থাকে উহা মিশ্র কল্পনা। শূন্য, অসীম এবং ঈশ্বর কল্পনা হলো বিশুদ্ধ অ্যাবস্টাক্ট কল্পন। কিন্তু এদেরকেো কোন আকারে কল্পন হলো হাইপার এবস্টাক্ট কল্পনা। বিশুদ্ধ ত্রিভুজ কিংবা কোন জ্যামিতির চিত্র কল্পন বিশুদ্ধ অ্যাবস্ট্রাক্ট কল্পনা।

আপনি যদি নিজেকে মেডিটেশন লেভেলে কিংবা কল্পনায় বালির ঢিবি হিসেবে কল্পনা করেন উহাও হাইপার মেটারিয়াল কল্পনা। কল্পনায় যদি আপনি "নেই"[০] হয়ে যান কিংবা নিরাকার ঈশ্বরের[ The Great Holy Zero] সঙ্গে একিভূত হয়ে যান তবে উহা হাইপার এবস্ট্রাক্ট কল্পনা।
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীগন যখন চার মাত্রার অধিক তথা 4d+ মাত্রার কোন বস্তুর কল্পনা করেন উহাও হাইপার মেটারিয়াল কল্পনা।
স্থান-কালের বিশুদ্ধ কল্পনা অবশ্যই এবস্ট্রাক্ট কল্পনা যদিও পরম বিশুদ্ধ এবস্ট্রাক্ট কল্পনা সম্ভব হয়না। শক্তি-বস্তুর(ভর) এর অভিন্নতা কল্পনা যুগপৎ ভাবে মেটারিয়াল ও এবস্ট্রাক্ট ইমাজিনেশনের ফল [যা আপেক্ষিক তত্ত্বের সমীকরনে প্রমানিত]।

আপেক্ষিক তত্ত্ব, কোয়ান্টামতত্ত্ব ও স্ট্রিংতত্ত্বের উৎপত্তি ও বিকাশে মানুষের অ্যাবস্ট্রাক্ট,ননঅ্যাবস্ট্রাক্ট,
মেটারিয়াল/কঙ্ক্রিট,ননমেটারিয়াল, নরমাল কিংবা হাইপার সব ধরনের ইমাজিনেশনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য । আর তাইতো আপেক্ষিক তত্ত্বের জনক ও কোয়ান্টামতত্ত্বের অন্যতম রূপকার আলবার্ট আইস্টাইনের উক্তি, " Imagination is more important than knowledge. "

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ,শাস্ত্র, রূপকথা কিংবা মিথে হাইপার ইমাজিনেশনের ছড়াছড়ি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঐ সকল কল্পনার কোন মূল্য না থাকলেও তদানিন্তন সময়ের জ্ঞান-মেধা-মনের বিকাশে ঐ সকল হাইপার কল্পনার প্রয়োজনীয়তা আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। উহা ছিল মানুষের মানসিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধির জন্য ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয় বিষয়। মানুষ ও অন্য ইতর প্রানীর পার্থক্য হলো অন্য প্রানীর কল্পনা শক্তি নেই কিংবা অতীব ক্ষীণ বা হাইপো ইমাজিনেশন। যে মানুষ স্থূল বা জড় বুদ্ধি সম্পন্ন তার কল্পনা শক্তিও কম।

কবির সৃজনশীল কল্পনাই তার কবিতার উৎস। লেখকের হাইপার ইমাজিনেশন ক্ষমতাই তার লেখার উৎস।মানুষ পাখি কিংবা ফড়িংএর মত উড়তে কল্পনা করেছিল বলেই সে প্লেন আবিষ্কার করতে পেরেছে।

একজন মুহম্মদ, একজন যীশু কিংবা একজন বুদ্ধ, একজন মহাবীর কিংবা একজন পি,আর সরকার ধ্যান বা মেডিটেশনে হাইপার ইমাজিশনেরই চর্চা করতেন।

ধ্যান বা মেডিটেশনে হাইপার ইমাজিশনের চর্চায় মানষুরূপ কোয়ান্টাম গডের সঙ্গে অন্যান্য কোয়ান্টাম গডের মধ্যকার যোগসূত্র বৃদ্ধি পায় এবং সাথে সাথে বস্তু-অবস্তুময় জগতকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

একজন আইনস্টাইন কিংবা একজন স্টিফেন হকিং এর গানিতিক-জ্যামিতিক হাইপার এবস্ট্রাক্ট ইমাজিনেশন ক্ষমতাই তাদেরকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী রূপে আবির্ভূত করেছে।

বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে মিথ,রূপকথা কিংবা ধর্মশাস্ত্রে বর্নিত হাইপার ইমাজিনেশনের স্থান দখল করে নিয়েছে বিজ্ঞানের কল্প কাহিনীগুলো। এর সঙ্গে আরও যুক্ত আছে এলিয়েন-হরর-ভূত-প্রেত ও প্রাচীন হাইপার ইমাজিনেশন গুলোও।

অতএব, হাইপার ইমাজিশনের প্রয়োজনীয়তা ছিল,আছে, থাকতেই থাকবে।

Abu Momin
১৩জুন, ২০১৭ খ্রি.

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আবু মমিন
আবু মমিন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 2 weeks ago
Joined: সোমবার, মে 2, 2016 - 3:00পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর