নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মো.ইমানুর রহমান
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

অনলাইনে এক ব্লগার নামধারীর চিত্রকর্ম নিয়ে অসততা (চুরি!) প্রসঙ্গ


আমাদের দেশের অনেক মানুষদের একটা কমন বৈশিষ্ট্য হল অন্যদের নকল করা..... একে অন্যকে নকল করতে করতে নিজেদের ভিতরে শৈল্পিক সত্ত্বা যে আছে সেটা আমরা ভুলেই গেছি......

লেখা, কবিতা,প্রবন্ধ,উপন্যাস সব যেন নকলের হাটবাজার। এমনকি আঁকাআকি সংক্রান্ত কাজগুলাও আজকাল হুবহু নকল করতে মানুষের মন আজকাল বড় ব্যাকুল। কিন্তু ব্যাকুল হলেই তো হবে না। কথায় আছে চোর চুরি করে যায় তার ছাপ রেখে যায়/ প্রমাণ রেখে যায়......... অনেকদিন কোন ব্লগে আসিনি মেডিকেলের প্রফের কারণে । এবার অবসরে ব্লগে আবারও সময় দিচ্ছিলাম। তবে কয়েক সপ্তাহ আগে সামহ্যোয়ার ইন ব্লগের একজন বিশিষ্ট ব্লগারের পোস্ট দেখতে গিয়ে প্রচন্ড শকড হই। ব্লগে এলেই উনার পোস্ট দেখতাম, তবে এবার যা দেখলাম তা একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। আমি উনার এক আঁকিবুঁকি পোস্ট দেখে একনজরেই বুঝতে পারি সেখানে একটা আর্ট আসলে নকল করার চেষ্টা। নিজের লেখা গল্প কবিতার মত আঁকা ছবিগুলোও আমার খুব প্রিয়, সন্তানের মত। প্রথমে ভাবছিলাম সরাসরি জিজ্ঞেস করি, কিন্তু আমি আগে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম আসলেই অনৈতিক কিছু করেছেন নাকি, কিন্তু পোস্ট আবারও দেখে অবাক হয়ে যাই। উনি কেবল আমার ছবি নিয়েই অনৈতিক কাজ করেননি, যা তার সেই টিউটোরিয়াল পোস্টে ছিল, পোস্টের বেশিরভাগই আমার দৃষ্টি এবং যুক্তিতে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে নিজের নামে চালানো।
সেক্ষেত্রে প্রমাণ স্বরূপ শুরুতেই আমার আর্টের পোস্টে করা তার কমেন্ট (২৪ তারিখ) ও তার ফেসবুক পোস্টে প্রায় হুবহু তার আঁকানোর তারিখ (২৬ তারিখ) মিলিয়ে নেইঃ

আমার আঁকানো ২০১৫ সালের এই আর্টটা যে
(পোস্টের লিংক এখানে) ফটোগ্রাফি দেখে আঁকানো যেই ফটোগ্রাফিটা (http://rebloggy.com/post/photography-girl-black-and-white-beautiful-eye-... ) ক্যামেরা দিয়ে তোলা। ফটোগ্রাফি বা লাইভ ফটোগ্রাফি থেকে আঁকানো কপি করা নয়। এই ছবিটা আঁকানো এত কঠিন ছিল যে প্রফেশনাল আর্টিস্ট হয়েও আমার ই আঁকানোতে দুই দিন লাগসিল। নয়ন-১০ পোস্টে সেটা লিখা আছেঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/urby01/30062538

আমার নেয়া রেফারেন্স ফটোগ্রাফিঃ

ফটোগ্রাফি লিঙ্কঃ
http://rebloggy.com/post/photography-girl-black-and-white-beautiful-eye-...

রেফারেন্স ছবি থেকে কিছু পরিবর্তিত কন্সেপ্টে আমার আঁকানো চোখঃ

২- উনি আগেই আমার আঁকানো ছবি দেখসেন যার প্রমাণ এই স্কিনশট। নাম দিতেসিনা প্রাইভেসি ভাঙ্গতে পারে দেখে। আমি তাহলে ভেবে নিবনা কেন উনি আমারটা থেকেই কপি করসেন?? স্কিনশটে দেখা যায় উনি আমারটা তে কমেন্ট দিসেন ২৪ অক্টোবর আর নিজে পোস্ট দিসেন ২৬ অক্টোবর। উনার ২৬ তারিখের পোস্টে তার আরেকজন পরিচিত ব্লগারের কমেন্ট আছে যার নাম ছবি মুছে দিসি। এই চুরি ধরার পর সামুতে পোস্ট দিলে পরে বলসেন উনি সেটা barbara নামের একজনের থেকে কপি করসেন। তারপরও বারবারা থেকে কপি করলে সেটারও সোর্স কিন্তু দেননি। এখন দেখতেসি উনি উনার সামুর পোস্টে দেয়া নকল করা নয়ন আর্টটা পোস্ট থেকে সরায় নিসেন......... ধরা খাবার ভয় করসেন মনে হয়ঃ

আমি তার চুরি ধরবার পর উনি কমেন্টে বলসেন উনি নাকি অন্য আর্টিস্ট এর ছবি থেকে এঁকেছেন। আগের স্কিনশট দেখলে বুঝবার কথা উনি আমারটাই আগে দেখসেন। ১ দিন পরেই একদিন আগে দেখা ছবির কথা পাগল ছাগল না হলে কেউ ভুলে যায়? মানসিক সমস্যাও থাকতে পারে। যদি অন্যেরটা দেখেও আঁকানো হয় তবেও তা চুরি ই থাকে। ব্যাপারটা অনেকটা চুরির পরে চুরি ঢাকতে আবার পুকুরচুরি করার তথ্য দেয়ার মতো। কারন আপনি যদি একটা লাইভ ছবি থেকে থেকে ছাপ দিয়ে আঁকান তাহলে সেটা একরকম অন্যায়, কারন এতে আপনার শিল্প সত্ত্বা বিকশিত হবে না; বরঙ বেসিক নষ্ট হবে। কিন্তু কোন আর্টিস্টের ছবি যদি আপনি হুবহু কপি করে আকান,প্রায় ৯০% মিলিয়ে ফেলেন তাহলে সেটা হবে কপি ওয়ার্ক। এবং আপনার কাজের নিচে নিজের নাম সহ সাইন করে লিখতে হবে এটা কপি ওয়ার্ক । নইলে সচেতন নাগরিক হিসেবে কপিরাইট আইন এ মামলা করলে কপি রাইট আইনের মামলায় ফেসে যাবেন। জেল জরিমানা সবই হতে পারে। ১৫৯ টা সাক্ষরকারি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও আছে। চুরি তা ভ্যান গগের আর্ট হোক বা আমার, সেটা না বলে বা কপি ওয়ার্ক না বলে ব্যবহার করলে চুরি ই থাকে।

এইতো গেল কেবল একটার কথা যা দেখে আমি পুরা পোস্ট খুটায়ে দেখি। আবার আসি অনৈতিকভাবে অন্যের আরও ছবি ও টিউটোরিয়াল একই ব্লগার কর্তৃক ব্যবহার প্রসঙ্গতে। আমাদের বিশিষ্ট ব্লগার তার সেই পোস্টে (লিংক এখানে) চোখ আঁকিবুঁকি স্টেপ বাই স্টেপ দেখিয়েছেন যা সত্যিই বাহবা পেতে পারত যদি না উনি চোখের পোস্ট খানা অনৈতিকভাবে ব্যবহার করতেন। একটা কথা, সামহোয়্যারে পোস্ট দেবার উপর উনি পোস্ট এডিট করে অনেক কিছু সরিয়ে ফেলেছেন, পরে রেফারেন্স এড করেছেন। অনৈতিক ভাবে চুরি না করলে এত পরে এসে পোস্ট এডিট করবার প্রয়োজন পরতো কি? এডিট করলে কি হবে, ওয়েব কপি এবং স্কিনশট রেখে দেয়া হয়েছে। থাক সে কথা, সেই চৌর্যবৃত্তিতে পারদর্শি নির্লজ্জ্ব ব্লগারের অনেক পোস্ট অনৈতিকভাবে ব্যবহারের নমুনা দেখাই।

ব্লগারের পোস্টের স্ক্রীন শটঃ

যেখানে উনি কয়েক জায়গায় দাবী করেছেন যে উনি কাজটা নিজে করেছেন। যেমনঃ




এখানে উনি 2B এবং 3B পেন্সিলের যে ব্যবহার এর কথা বলেছেন, আসলেই কি উনি জানেন যে কোথায় কোনটা ইউজ করতে হয়? কোনটা কি ধরনের টোনিং এর কাজে ব্যবহার হয়? জানলে তো উলটাপালটা ইন্সট্রাকশন দিতেন না। সেই ক্ষেত্রে আমি শেডিং এর উপর একটা স্কেল গ্রাফ দেখাচ্ছি। এটা darlene noguyen এর ব্লগ থেকে নেওয়া। (লিংক এখানে)

অরিজিনাল লিংকঃ http://rapidfireart.com/2016/07/19/how-to-shade-the-ultimate-tutorial/
এবার আসি আসল টিউটোরিয়াল কার? আসল টিউটোরিয়াল নেয়া হয়েছে dragoart থেকে। যার পেইজ লিংক ও স্ক্রীন শট নিচে দেয়া হলঃ

http://www.dragoart.com/tuts/14680/1/1/how-to-sketch-an-eye.htm|www.dragoart.com/tuts/14680
-


আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ১৬ বছরের। দেশ বিদেশে বহু প্রতিযোগীতায় পুরষ্কার পেয়েছি। জাতীয় পর্যায় এ পুরস্কার ও পেয়েছি । বয়সভিত্তিক গ্রুপে আমি জাতীয়ভাবে দেশসেরাও ছিলাম দুইবার।

উনার পোস্টে চিত্রশিল্পী হিসেবে আমার অভিজ্ঞ চোখে এক দেখায় মনে হইসে উনি অনেকগুলা ছাপ দিয়ে আকাইসেন। কিছু আবার ছাপ দিয়ে আঁকানো না। ওগুলা আবার সত্যি আনাড়ি দেখে তেমন ভাল হয়নাই। একটা উদাহরণ দেই। এখানে দেখেন গলার ব্ল্যাক শেড, চুলের ভাঁজ, নাকের নিচে ছায়া, চুলের নীচে ছায়া এরকম আরও অনেক কিছুর কনসেপ্ট একদম মিলে যাইতেসে? এটাও কপি ওয়ার্ক তবে এটা ছাপ দিয়ে আঁকানো না দেখে এমনগুলাকে আনিনাই। আঁকানোতে আনাড়ি হবার কারণে কপি ওয়ার্ক হইলেও এইরকম গুলা মৌলিক কাজ হয়ে গেসে............ তাই ধরতেসি না।

তবে এখানেও কোনটা দেখে আঁকানো তার সোর্স দেয়া অবশ্যই জরুরি ছিল। সেরা ব্লগার নিজেকে বলে বেড়ান আর এসব সামান্য ব্যাপার না জানলে হবে?

৪- উনার ব্লগ টিউটোরিয়ালের আগে দেয়া স্কিনশটগুলো দেখলে বুঝা যায় উনি সরাসরি বুঝায়ে গেছেন এসব তার আঁকানো? আর সরাসরি ইমেজ কপি ছিল তা নিশ্চয় প্রমাণের বাকি নাই। ইমেজ বড় করে দেখলে বুঝবেন বিন্দু সহ মিলে যাইতেসে।

যদি এইটারও সোর্স দিতেন তাহলেও বলা যাইতো উনি ভাল কিছু করসেন। অনেক অনেক লিংক দিলেও উনি যেগুলা থেকে নিসেন একটারও সোর্স দেন নাই............ নারীদেহের এই আর্টও কপি করসেন হুবহু এই লিংক থেকেঃ http://yazbo.deviantart.com/art/woman-s-back-16966989

আসল আর্ট

কপি করা আর্ট

এক দুই টা ভুল মানুষ করে। সবগুলা উনি কিভাবে ভুলে গেসিলেন?

এই বিশিষ্ট ব্লগার এর সম্পর্কে শোনা যায় উনার লেখা, কবিতা নাকি সবই অন্যের আইডিয়া চুরি করে কপি করে নিয়ে করা। মৌলিকতার ধারেকাছেও নেই উনি। সেটা উপরের কমেন্ট স্ক্রীন শট এ দেখে আশা করি বুঝতে পারবেন। তারপরেও আজকাল সামুতে এই ধরণের মহান চোর ব্লগারকে কিছু বলা হয়নি! যদিও তাদের নীতিমালা তে আছে যে এধরনের ব্লগারকে ব্যান করা হয়। কিন্তু তার বদলে এই মহান চৌর্যবৃত্তিতে পারদর্শি ব্লগারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে উলটা সত্যবাদীকে তারা স্বাভাবিক ব্লগিং ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাখেন। আজকাল সামু বুঝি যাত্রাপালার চরিত্র ধরে রেখে সস্তা হিট চাইছে? আমি সেরকম ভাবতে চাইনা। তবে আমার পোস্টের যুক্তিগুলা তারা কোন কারনে সরায় দিল সেটার উত্তর পাইনি দেখে আবার এখানে দিচ্ছি। যতটা জানি এখানে সেই ব্লগারের হাজার হাজার মাল্টি নাই। যাই হোক ফিরে আসি প্রসঙ্গ কথায়। যা আমার পোস্টে এতক্ষণ তুলে ধরা সেই মহান ব্লগারের কার্যকলাপ বুঝতে সাহায্য করবে। আর্টের বেসিক নিয়ে টিউটোরিয়ালের মতও হবে।

কনসেপ্ট নিয়ে হ্যান্ড ড্রয়িং আর কার্বন পেপারের ছাপ দিয়ে আঁকার মধ্যে অনেক অনেক তফাৎ! হ্যান্ড ড্রয়িং এ হাতের কম্বিনেশন এর সাথে ব্রেইনের কম্বিনেশন ব্যাপক জরুরী। এই কথাটা কার্বন পেপারের জন্যও ফরমান। কারণ ভালো মতো ট্রেসিং না করতে পারলে আপনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ঘেটে ঘ হবে.....

ছোটবেলা থেকে আমরা দেখে এসেছি আমাদের দাদী, নানী, খালা, মা কার্বন পেপারের সাহায্যে সুন্দর করে ডিজাইন তুলে নিয়ে দারুণ দারুণ সেলাই করতেন,যা ছিল অত্যন্ত মনোরম এবং নৈতিক। অনেকে কার্বন পেপারে ছাপ না দিয়ে দেখে দেখে হ্যান্ড ড্রয়িংও করতেন কাপড়ের উপর, তারপর সেলাই করতেন নকশা। আমার মা এবং নানী কোন ডিজাইন একবার দেখলে হুবহু তা আঁকিয়ে ফেলতে পারতেন কাপড়ে। এবং তাতে পছন্দমতো সুতো দিয়ে সেলাই করে বানিয়ে ফেলতেন দারুন সব ডিজাইন। কিন্তু ইদানিং কালে সস্তা খ্যাতি পাবার আশায় অনেকেই কনসেপ্ট নিয়ে আঁকিবুঁকিতে হাতের কম্বিনেশন ইউজ করার বদলে উনারা কার্বন পেপারে আঁকিয়ে তার উপর পেন্সিল চালিয়ে হাতের কম্বিনেশন জাহির ককরার চেষ্টা করেন।

[sb]# পেন্সিল ড্রয়িং:[/sb] পেন্সিল ছবি আঁকার আদি ও অন্যতম উপাদান। সাধারণত পিউর পেন্সিলে আকা ছবিগুলায় আউটলাইন গুলা একটু ফাইবার ভাব থাকে। আউটলাইন গুলা দেখলেই বুঝা যায় এটা পেন্সিলে আঁকা। সেক্ষেত্রে নিচের ছবিটা খেয়াল করি:

আবার আরেকটা বিষয়। পেন্সিলে আঁকা ছবি আপনি যতই লাইটে আনবেন একটা চকচকে ভাব থাকবে। যেমন আমার এই ছবিটা অধিকাংশ পেন্সিল ও চারকোল এ আঁকা, তবে কিছু সাদা অংশে জলরং ব্যবহার করেছি:

(যেটুকু বেশি লাইট রিফ্লেক্স হচ্ছে সেটুকু পেন্সিল আর ডিপ অংশটা চারকোল, এটা অমসৃণ তাও লাইটে হালকা রিফ্লেক্স করে)

এমনকি ছবিটা যদি আমি নরমালি রাখি, সরাসরি লাইটের দিকে না ধরি তাও এটা যে পেন্সিলে আঁকা সেটা বোঝা যাবে। কারণ, পেন্সিলের দাগ তুলনামূলক অনেক হালকা কার্বন পেপারের দাগের চেয়ে। যেমন:

আমার ছবিটা যেই ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ফটোগ্রাফি দেখে আঁকাঃ


আমার নেয়া রেফারেন্স লাইভ চোখের ফটোগ্রাফি


রেফারেন্স ফটগ্রাফি থেকে আমার হাতে আঁকা ছবি

#চারকোল (কয়লা) ড্রয়িংঃ পেন্সিলের পাশাপাশি চারকোল ও ড্রয়িং এর জন্য প্রচুর ব্যবহার করা হয়। আদিম যুগে যখন মানুষ গুহাতে বসবাস করত তখন তারা গুহার দেয়ালে কয়লা/ চারকোল দিয়ে আঁকতো। চারকোল দিয়ে ছবি আকলে তার টেক্সচারটা অনেকটাই অমসৃণ হয়। অত্যন্ত গাঢ় দাগ ও অমসৃণতার জন্য চারকোলের আঁকা ছবিও আলোতে হালকা রিফ্লেক্স করে। যেমন:

(এখানে ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে চারকোলে লাইট রিফ্লেক্স এর সাথে টোনের দিক টাও বুঝা যাচ্ছে।)

আর চারকোলের টোন প্যাটার্ন আরো বেশি ছড়ানো তবে গাঢ় রঙ। যেমনঃ

চারকোল এবং পেন্সিলের পার্থক্য বুঝতে এই ভিডিওটাঃ
(এখানে ক্লিক করুন) (এখানে ক্লিক করুন) দেখতে পারেন ইউটিউব এ।
-
#কার্বন পেপারঃ
এবার আসি বহু ব্যবহৃত কার্বন পেপার। যেটা একসময় শিল্প পর্যায় ছিল নানী দাদিদের আমলে সেলাইয়ের কাজে,সেটা কতিপয় ব্যাক্তির কারণে শিল্পের জায়গাটা নষ্ট হচ্ছে। যাই হোক, এবার আসি প্রসঙ্গতে। কার্বন পেপারের যে ছাপ সেটা সাধারণত একেবারে মসৃন হয় এবং তা লাইটের আলোতে কোন রিফ্লেক্স করে না। যেমন বিশিষ্ট ব্লগারের একটা ছবি দেখিঃ
এই ছবি আঁকিয়েছেন yazbo

deviantart ব্লগে উনি মোটামুটি খ্যাতমান আর্টিস্ট। তার কাজের লিংকঃ http://yazbo.deviantart.com/art/woman-s-back-16966989

সেই বিশিষ্ট ব্লগারের আঁকা ছবিঃ

উনার আঁকানো ছবিটা যে পুরা কার্বন পেপার এর ছাপ তা বুঝার জন্য এই ভিডিওটিঃ https://www.youtube.com/watch?v=N_Aj5KaucX4

কার্বন পেপারের যে ছাপ একদম সোজাসুজি ছাপার অক্ষরের মতো। যেমনঃ

আপনি কার্বন দিয়ে ছাপ দেবার পর সেটার লাইন গুলা কখনোই আলোতে রিফ্লেক্ট করবে না। এমনকি সেই লাইনের উপর যদি পেন্সিল টানা হয় তাহলেও স্পষ্ট বুঝা যায় যে সেটা কার্বন পেপারেরই দাগ। বরং পেন্সিল মোটা করে টেনে সেটা ঢাকার প্রচেষ্টা করা হয়েছে সেটা অভিজ্ঞ চোখে খুব ভালোভাবেই বুঝা যায়। যেমন একজন বিশিষ্ট ব্লগারের আঁকানো আমরা দেখতে পারিঃ

সেটা বুঝার জন্য আমার নিজের করা একটা ভিডিও লিংক দিচ্ছি। এই ভিডিওতে যথাক্রমে পেন্সিল টোন, চারকোল টোন ও কার্বন পেপারের টোন আলাদা আলাদা করে দেখিয়েছি।

আশা করি ভিডিও করার সময় যে ছোট খাট ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেনঃ
ভিডিও লিংক দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আরো মজার ব্যাপার স্যাপার হল এই বিশিষ্ট ব্লগার উনার অনৈতিক পোস্টে মানুষকে কিঞ্চিত জ্ঞান প্রদানও করে থাকেন "অনৈতিক কাজ না করার" জন্য.........

অনেকটা আজকালকার রাজনীতিবীদদের মতো " চোরে শোনায় ধর্মের কাহিনী" .........

আবার উনি নিজে অনৈতিক কাজ করলেও নাকি চোরকে ভয় পান। সেলুকাস ব্যাপার স্যাপার.........

সামুতে উনার চুরি প্রসঙ্গতে পোস্ট দেবার পর উনি আমাকে নানা রকম ব্যাক্তিগত আক্রমণ করার চেষ্টা করেন। অথচ পুরা ব্যাপারটাই আমি পোস্ট করেছি উনার টেকনিক্যাল ইস্যুতে। কোন রকম ব্যাক্তিগত আক্রমন পোস্টে করি নাই। চাইলে অনেক কিছুই উনার ব্যাক্তিগত বিষয়াদি তুলে ধরতে পারতাম। কিন্তু আমি তো উনার লেভেলে নামতে পারি না একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইন্টেইন করতেই হয় বৈকি! চাইলে সেসব স্ক্রিনশট< ওয়েব কপিও দিতে পারি যেখানে উনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করসেন। অংবং আঁকি বলসেন। আঁকতেও পারিনা বলসেন আর তার কারণে উৎসাহ দিয়ে আঁকানো শিখাইতেসিলেনও বলসিলেন। আবার উনিই ইনবক্সে এসে আঁকানো শিখতে চাইতেন। সেসব আমি এখানে দেখাইনাই। পারসনালি যে মেসেজ দিসেন সেগুলা আমি পারসনালি রাখসি। তবে উনি কতটা মিথ্যাবাদি তা বুঝতে বাকি নাই। পরিবার টানা, মনমত মানুষের খোঁজে আসছি, কদর পাইনা দেখে উনাকে টানতেসি এসব বলা যৌক্তিক কমেন্ট?

আমি আগে থেকে অনেক কিছুই উনার ব্যাপারে শুনেছি, দেখেছি এই ব্লগে। নিজের আসল নাম পরিচয় চেহারা সুরত দেখাতেও তার ভীষণ ভয়। ফেসবুকেও উনার আইডির অভাব নেই। বুঝিনা একজন মানুষের এত আইডির কেন দরকার হয়। উনার আইডিও নাকি নষ্ট হয়ে যায়, খেয়ে ফেলে ফেসবুক। ফেক বুঝেই খায় মনে হইতেসে...... আগে এতশত কথা মানি নাই। ভেবেছিলাম আর যাই হোক দোষে গুণে মানুষ। তবে সম্ভবত উনার হিট হবার এহেন অগ্রহণযোগ্য উপায় গুলো দেখে আর চুপ থাকতে পারলাম না, আমার বিবেক আমাকে চুপ থাকতে দেয় নাই, গত ১৬ বছরের ছবি আকার অভিজ্ঞতা আমায় চুপ থাকতে দেয় নাই। উনি আমার ছবি তো নকল করেছেনই যেটা আমি দেখা মাত্র বুঝেছি। আরো ঘাটাঘাটি করে বুঝলাম বিখ্যাত বিখ্যাত আঁকিয়েদের ছবিও নকল করেছেন এবং দুই একটা নিজের নামে চালিয়েও দিয়েছেন....

শুনেছি উনাকে নাকি মুস্তাফা মনোয়ার ভাইয়া বলেছিলেন "ছবি আঁকার শুধু একটাই নিয়ম। এই নিয়মটা জানলে পৃথিবীর সব ছবিই আঁকা সম্ভব। সেই নিয়মটা হলো, ছবি আঁকার কোনো নিয়মই নেই। শুধু মন দিয়ে যা আঁকবো তা যেন দেখি, চোখ বুজে ভাবি একটা পাতার ঠিক কেমন চেহারা, কেমন তার ধারগুলো, কেমন তার শিরাগুলো। আর সেভাবেই সেভাবেই পেন্সিলে হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এঁকে ফেলি একটা পাতার ছবি।' ..................।।

কিন্তু মুস্তাফা মনোয়ার ভাইয়া কি উনাকে এটাও কি বলেছেন যে কপি করে, অন্যের ছবি নিজের নামে চালিয়ে দিতে? কিংবা মুস্তফা মনোয়ার ভাইয়া আসলেও তাকে কিছু বলেছেন কিনা সেটাও এখন সন্দেহের বিষয়.............।।

আমি নিতান্তই বাধ্য হয়ে এমন অপ্রীতিকর পোস্ট দিতে বাধ্য হচ্ছি। যেকোন ব্লগই দায়িত্বশীল প্লাটফর্ম। সমাজের সবচেয়ে সচেতন এবং উন্নত মনের মানুষের পদচারণা থাকবার কথা এখানে। উনি নিজেও নিজেকে বিশাল দায়িত্বশীল ব্লগার হিসেবে দাবী করেন। দাবী করেন উনি সবচেয়ে সেরা।............... সেরা হওয়া, দায়িত্বশীলতার অংশ কি অনৈতিক কাজ করে হিট বাড়ানো? এই পোস্ট দিতেই হলো...............

একজন চোর কখনো কাউকে সাধু বানাবে না, চোর যদি চুরি করে ধরা খায়, এবং শাস্তির মুখোমুখি হয় তবে সে পরবর্তীতে সাজার ভয়ে বিরত থাকতে পারে.................... সেই চোরের পরিণতি দেখে অন্য চোরেরাও চুরিতে কিছু সংযত হতে পারে। তবে কথায় আছে, মরিলেও স্বভাব যায়না.....যার চুরির অভ্যাস সে পরবর্তীতেও সেটাই চালিয়ে যাবার সম্ভাবণা বেশি।

আমার মতে ব্লগ একটি উন্মুক্ত প্লাটফর্ম। যারা এর ব্যবহারকারী আছে, তাদের উচিত দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করা। পাশাপাশি, আমি আশা করেছিলাম সামহোয়্যারে যেমনটা হয়, সেভাবে মাল্টি দিয়ে আক্রমন, নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়া, অন্যকে ব্যক্তিগত আক্রমন করার কালচারও বন্ধ হবে। তবে মনে হচ্ছে সেটা হবে না। আর সে কারণে সে ব্লগের অবস্থাও হয়ে পরেছে তিস্তা নদীর মত পানিশূন্য।

সবচেয়ে বড় কথা, কোন পোস্ট, কোন লেখা, কোন কবিতা, কোন ছবি যদি কেউ কপি করেন বা এর আদলে যদি কিছু নিজে প্রস্তুত করেন, মুল বিষয়টি উল্লেখ্য করা শুধু প্রয়োজন না রীতিমতো নৈতিক দায়িত্ব। সাধারণত স্কুল,কলেজ, ভার্সিটি তে ক্লাসে কোন শিক্ষক কোন ছাত্রকে কিছু কোন বই বা কারো লেখা থেকে রেফারেন্স দিলে তার নাম বা বই উল্লেখ করে দেন। যেমন: " এই কোটেশন ওমুকের /ওমুক বই থেকে নেওয়া", এটাও একরকম নীতিগত শিক্ষা। শিক্ষকের প্রধান দ্বায়িত্বই ছাত্রকে নীতিগত জ্ঞান তৈরী করা। কিন্তু বিশিষ্ট ব্লগার উনার পোস্টে সেটা উল্লেখ তো করেছিলেনই না উলটা পুরাপুরি টিউটোরিয়াল নিজের নামে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তারমানে এ থেকে বুঝা গেল উনি নীতিগত প্রশ্নে পুরাপুরি ব্যর্থ। একজন ছাত্রকে শিখানোটাই যদি শিক্ষক এহেন চুরি ও দূর্নীতি দিয়ে শুরু করেন তাহলে তার আনাড়ি ছাত্ররাও সেই চুরিই শিখবে। হতাশার কথা উনার মতো ব্লগার ব্লগে নানা রকম নিজের মাল্টি নিক/ একাউন্ট শায়মা, অপসরা, বরুণা, স্পর্শিয়া সহ নানা নামে নিজের পিঠে নিজে তেল দেয়াই যার কাজ, বিশিষ্ট সে ব্লগার এসব বুঝতে পারেন না।

আর উনার মতো এহেন নকলবাজ কপিবাজদের জন্যই এই ক্রিয়েটিভ প্ল্যাটফর্ম গুলো আজ কলুষিত, দূষিত। ক্রিয়েটিভ প্ল্যাটফর্ম গুলোর গৌরব ম্লান হতে চলেছে। এখনই যদি আমরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াই তাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে আর বেশি দেরী নাই। আমি চিত্রকলার একজন অনুরাগী হিসেবে আমার আবেগের জায়গা নিজে একজনের চৌর্যবৃত্তির কথা তুলে ধরলাম। সবাই যার যার পছন্দের জায়গাগুলা নিয়ে সচেতন হলেও এসব কাজ অনেক কমে আসবে বলে আশা করি............

পোস্ট অনেক বড় হয়ে যায় বলে তার ওই পোস্টের এডিট করবার পুর্বের সোর্স সহ সম্পূর্ণ পোস্টের স্ক্রিনশট কমেন্টের ঘরে দিয়ে দিব। এই ব্লগের কেউ চাইলে ওয়েব কপি তাদের মিলিয়ে দেখবার জন্য মেইল করে দিতে আমার আপত্তি নেই............

Comments

তানভীর ইসলাম এর ছবি
 

পুরো পুকুরচুরি।

 
উর্বি এর ছবি
 

হ্যা। পুরোটাই তার পুকুরচুরি

উর্বি

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

উর্বি
উর্বি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 4 weeks ago
Joined: রবিবার, মে 21, 2017 - 1:29পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর