নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সংশপ্তক শুভ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

ইসলামে " ইনসাফ ও ন্যায় বিচার" এর ধারণাঃ আমাদের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা।


(ঢাকার কোনও একটি কন্সট্রাকশন প্রকল্পে শ্রমজীবী মানুষেরা খোলা আকাশের নীচে তাঁদের দুপুরের খাবার খাচ্ছেন, কেননা, এই খাবারের পরেও তাঁদের কে আরো ছয় থেকে সাত ঘন্টা ভারী কায়িক শ্রমের কাজ করতে হবে।)

১.
একবার ভেবে দেখুন, আপনি পরিশ্রম করে এসেছেন, হাত মুখ ধুয়ে খেতে বসেছেন। ভাত, বেগুন ভাজি, ডাল আর চিংড়ি মাছ দিয়ে লাউয়ের তরকারি। সবকিছু একসাথে নিয়ে খেতে শুরু করেছেন। প্রথম গ্রাসটি মুখে দেবার পর দুজন মানুষ এসে আপনার ভাতের পাতে দুই মুঠো বালু ঢেলে দিলো। কারণ এঁদের দাবী অনুযায়ী, আপনার খাওয়ার কারণে রমজান মাসের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে।

আপনার কেমন মনে হবে?

কিন্তু আপনি ক্ষমতাহীন, দুর্বল, রাজনৈতিক শক্তিহীন। আপনার প্রবল ক্রোধ নিমিষেই অসহায় পরাজয় স্বীকার করে নেয়। আপনি বরং অপরাধীর মতো ক্ষমা চেয়ে উঠে পড়েন। আপনার খাবারে বালু ঢেলে দেয়া মানুশগুলোর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বিদায় হন। শ্রমজীবী মানুষের খাবারের পাতে যারা বালু ঢেলে দেয়, এরা ইসলামের হেফাজতের সৈনিক।

এটা হচ্ছে – ইসলামের ন্যায় বিচারের ধারণা। মুসলমানেরা এটাকে জবরদস্তি বলেননা। তাঁরা এটাকে বলেন “ন্যায় বিচার”।


(বাংলাদেশের ইসলামের ইনসাফ ও ন্যায় বিচারের হেফাজতকারী মানুষ এরা। বলুন তো এঁদের মাঝে কতজন শ্রমজীবি মানুষ আছে? রিকশা চালক, গারমেন্টস কর্মী, কারখানা শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক? না, এরা কোনও কায়িক শ্রমিক নন। এরা আল্লাহর গায়েবী আওয়াজ প্রতিষ্ঠিত করবার পুলিশ, যাদের কায়িক শ্রম করবার দরকার হয়না। এরাই বাংলাদেশের ন্যায় বিচারের সংজ্ঞা নির্ধারক, অন্তত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে।)

২.
বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে মুসলমানেরা “ন্যায় বিচারে”র নামে এই মধ্যযুগীয় অত্যাচার করে আসছেন বাংলাদেশের আনাচে কানাচে । এই অত্যাচারের শিকার – ভুক্তভোগীরা প্রধানত গরীব মেহনতি ও ভারি কায়িক শ্রমের সাথে যুক্ত মানুষেরা। রমজানের পবিত্রতা রক্ষার জন্যে রাস্তার পাশে খাবারের দোকান, যে সকল দোকানের মূল ক্রেতারা হচ্ছেন দিনমজুর আর পরিশ্রমী মানুষেরা। এমন কি রমজানে পাড়ার আশে পাশে যে সকল রেস্তোরা পর্দা দিয়ে ঢেকে খাবার বিক্রি করে থাকে সেই সকল রেস্তোরাগুলোতে কাজকর্ম করে অনেক দরিদ্র দিনমজুর। রমজানের কথিত পবিত্রতা রক্ষার জন্যে মুসলমানদের দাবী হচ্ছে এই রেস্তোরা গুলো বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু এই রেস্তোরা গুলো বন্ধ করে দিলে এখানে কর্মরত দিনমজুর মানুষগুলোর বিকল্প আয়ের কি ব্যবস্থা হবে সে বিষয়ে কি কোনও দিকনির্দেশনা আছে? নেই। ইসলামের আল্লাহ্‌ কি এঁদের দায়িত্ব নেন? না তিনি তা নেন না। এই মানুষগুলোর পরিবারের সদস্যদের ক্ষুধার্ত পেটে অন্ন তুলে দেবে কে? আল্লাহ্‌ তো গুলশান বনানী বারিধারার বাসিন্দা, আল্লাহ্‌ তো আর কল্যাণপুর বস্তিতে থাকেন না। তাহলে এই দরীদ্র মানুষগুলোর পরিবারের দায়িত্ব নেবেন কে? এর উত্তর ইসলামী ন্যায় বিচারে নেই। এটাই হচ্ছে ইসলামের ইনসাফ ও ন্যায় বিচার এর ধারণা।

টেলিভিশনের পর্দায় দেখলাম, একজন শ্রমজীবী মানুষ বলছেন – “আমার বয়স বায়ান্নো বছর, আমি সারাদিন পরিশ্রম করে কাজ করি, আমি যদি দুপুরে খাইতে না পারি, পানি খাইতে না পারি, তাহলে তো আমি কাজ করতে করতে মইরা যামু”। ক্ষুধার্ত শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যু ইসলামের জন্য কোনও সমস্যা নয়। কখনও ছিলোনা তা। ইসলামের জন্যে মানুষের জীবনের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইসলামের বিধি বিধানের পালন, তা সে যতই জবরদস্তিমূলক হোক না কেনো। তাই বাংলাদেশের কয়েক কোটি শ্রমজীবী মানুষের আয় রোজগার, জীবন জীবিকার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রমজানের "পবিত্রতা" রক্ষা করা। মানুষের জীবনের চাইতেও "পবিত্রতা" অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামী “ন্যায় বিচার” সংরক্ষকদের কাছে কি এই শ্রমজীবী মানুষটির জন্যে কোনও যথার্থ উত্তর আছে? এই শ্রমজীবী মানুষটির জন্যে কোনও বিকল্প পরামর্শ আছে? নেই। কিন্তু এই লোকটির খাবারের থালায় বালু ঢেলে দেবার মতো ইসলামী “ন্যায় বিচার” আছে তাঁদের কাছে। সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ৯২% মুসলমানের দেশে এই সকল জবরদস্তির কোনও প্রতিবাদ নেই, কোনও সমালোচনা নেই, কোনও প্রশ্ন নেই, নেই কেউ একজন রুখে দাঁড়ানোর সাহস করার মতো। একটি আপাত কম প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল সংবাদটি প্রচার করেছে, অথচ এই ঘটনা হয়ে আসছে বিগত কয়েক দশক ধরে। পাড়া মহল্লায় কোনও প্রতিবাদ নেই। জাতীয় সংবাদ মাধ্যম গুলোতে নেই কোনও সংবাদ বা প্রশ্ন। জাতীয় নেতাদের তো কোনও মাথাব্যাথা থাকার কোনও কারণই নেই, কেননা এই ইস্যুতো ভোটের বাজারের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।

৩.
মুসলমানেরা কি কখনও ভেবে দেখেছেন কিছু প্রশ্ন? রমাজান মাসে কি অভিজাত হোটেলগুলোর কিচেন বন্ধ থাকে? রমজান মাসে কি পাঁচ তারকা হোটেলগুলোর ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার বন্ধ থাকে? রমজান মাসে কি খাদ্য পানাহার বন্ধ থাকে এই সকল হোটেল আর রেস্তোরা গুলোতে? থাকেনা। সেখানে তাঁরা আরো বড়ো রকমের আয়োজন করে থাকেন। সে সকল আয়োজনের আলাদা করে প্রমোশন হয়। ইসলামী বুদ্ধিজীবিরা বলবেন, অভিজাত হোটেলে বিদেশীরা থাকেন, সুতরাং তাঁদের কথা আলাদা। কিন্তু স্থানীয় পাঁচ তারকা হোটেলের রেস্তোরা ও বারগুলোতে খরিদ্দার হিসাবে যতনা বিদেশীরা যান তার চাইতে বহুগুন বেশী যান স্থানীয় ব্যবসায়ী আর কালোটাকার মালিকেরা। এই সকল তারকা রেস্তোরার খরিদ্দার তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের কোটিপতি মানুষদের স্ত্রী – সন্তানেরা। আমি ঢাকা শহরের বেশ কিছু অভিজাত হোটেল এবং রেস্তোরার সময় সুচী দেখেছি। প্রতিটি তারকা হোটেলের রেস্তোরায় আপনি সকালের নাস্তা ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে পাবেন। এছাড়া দুপুরের খাবার, রাতের খাবার, মধ্যবর্তী চা – কফি সবকিছুই পাবেন। গুলশানের দামী খাবারের দোকানগুলোতেও দুপুরের খাবার পাওয়া যাচ্ছে বেলা বারোটার পর থেকে। নৈশ ক্লাব এবং বার গুলো খোলা থাকছে বিকেল চারটা বা পাচটা থেকেই। অভিজাত এলাকার কফিশপ গুলোও রমজান মাসে বন্ধ নেই, ধনীর দুলালেরা বন্ধু বান্ধব নিয়ে সেখানে আড্ডা দেবেন, তাই সব কিছুই খোলা রয়েছে।


(ঢাকার একটি অভিজাত রেস্তোরার দুপুরের খাবারের মেনু। এই অবধি আমাদের ইসলামী ন্যায় বিচারের পুলিশেরা পৌছাতে পারেন না। তাঁদের ন্যায় বিচারের দৌড় রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নীচের খাদ্য গ্রহণকারী রিকশা শ্রমিক কিম্বা নির্মাণ শ্রমিকেরা। এটাই ইসলামের ইনসাফ ও ন্যায় বিচারের ধারণা।)

অভিজাত এলাকার এই সকল খাদ্য ও পানীয়র দোকানের সাথে রমজানের পবিত্রতার কোনও সম্পর্ক কি আছে?

না নেই, কারণ ইসলামের ন্যায় বিচারের ধারণাটি কোটিপতিদের জন্যে আলাদা আর দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষের জন্যে আলাদা। ইসলামের নবী যেহেতু একজন ব্যবসায়ী ছিলেন তাই পুঁজির মালিক ব্যবসায়ী শ্রেনীর মানুষেরা হচ্ছেন তাঁর গোত্রভাই আর মেহনতিতি দিনমজুরেরা হচ্ছেন তাঁর বশ্যতা স্বীকারকারী দাস। সুতরাং গোত্রভাইদের জন্যে “ন্যায় বিচার” এর সংজ্ঞা এক রকমের আর দিনমজুর শ্রমিক দাস শ্রেনীর মানুষদের জন্যে ন্যায় বিচার হচ্ছে আরেক রকমের। গোত্রভাইদের জন্যে ন্যায়বিচার হচ্ছে রমজান মাস সহ সারা বছর সকল বেলার খাবার পানাহার নিশ্চিত করা আর গরীব মেহনতি দাসদের জন্যে ন্যায় বিচার হচ্ছে তাঁদের ক্ষুধার্ত পেটের সামনে থাকা ভাতের থালায় বালু ঢেলে দেয়া। এটাই ইসলামী ন্যায়বিচার এবং এই ন্যায় বিচার ইসলামের একটি কেন্দ্রীয় ধারণা। এই অসম “ন্যায় বিচার” প্রতিষ্ঠার কাজ আজও করে চলেছেন বাংলাদেশের মুসলমানেরা।


(সরকারী অফিসের দারোয়ান থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত সকল স্তরে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি এখন প্রতিদিনের - প্রতিঘন্টার চর্চা)

৪.

রমজান মাসে কি ঢাকা শহর সহ দেশের অন্যান্য শহরের পানশালা গুলো বন্ধ হয়ে যায়? রমজান মাসে কি ধনীদের ক্লাবগুলো বন্ধ হয়ে যায়? রমজান মাসে কি বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র আর কেরানীতন্ত্র ঘুষ খাওয়া বন্ধ করে দেয়? রমজান মাসে কি পুলিশ ঘুষ খাওয়া বন্ধ করে দেয়? রমজান মাসে কি বাজারের জন্যে পশু হত্যা বন্ধ হয়ে যায়? রমজান মাসে কি ব্যাংক গুলো সুদ দেয়া ও নেয়া বন্ধ করে দেয়? এসবের কিছুই বন্ধ হয়না রমজান মাসে। এর কারণ ইসলামের সাথে বড় পুঁজির কোনও বিরোধ নেই। ইসলামের সাথে বড় অপরাধী চক্রের কোনও বিরোধ নেই। সারা দুনিয়াতেই তাই বড়লোকের ইসলাম এক চেহারা নিয়ে উপস্থিত আর গরীবের জন্যে ইসলামী বিধিবিধান সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশের ইসলাম সংরক্ষনের কাজে যারা নেতৃত্ব দেন, তাঁরা হেলিকপ্টারে করে যাতায়াত করেন। সুতরাং হেলিকপ্টার ব্যবহারকারী শ্রেনীর বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান নেবার কোনও সুযোগ নেই। তাঁদের এই হেলিকপ্টার যাতায়াতের ভাড়া দিয়ে দেন যারা, তারাই হচ্ছেন গুলশান বারিধারা ধানমন্ডির অভিজাত রেস্তোরা মালিকশ্রেনী। আহা এই মালিকশ্রেনীর যদি কল্যাণপুর বস্তির আশে পাশের রেস্তোরাগুলোতে বিনিয়োগ থাকতো, তাহলে হয়তো কল্যাণপুর বস্তির মানুষেরাও তাঁদের মতো এলিট “ন্যায় বিচার” লাভের সুযোগ পেতেন।


(বাংলাদেশের ইসলামের হেফাজতকারীদের সাথে এই খুনে রাজনিতিবিদের কখনও বিরোধ হয়েছে কি? হয়না। বরং ইসলাম এদেরকে শুধু সামাজিক সুরক্ষাই দেয়না, ইসলাম দাড়িয়েও আছে এদেরই মাংশপেশীর শক্তির উপরে ভর করে।)

৫.
ধর্মীয় নৈতিকতার এই অসমতাই হচ্ছে ইসলামী “ন্যায় বিচার” এর ধারণা। এই অসমতা ভিত্তিক কথিত “ন্যায় বিচার”ই হচ্ছে ইসলামের কেন্দ্রীয় ধারণা। যে "ইনসাফ ও ন্যায় বিচার" এর সাথে কোটিপতি ব্যবসায়ী, খুনী রাজনীতিবিদ, দুর্নীতিগ্রস্থ আমলা বা পুলিশের কখনই বিরোধ হয়না। বরং ইসলামের এই "ইনসাফ ও ন্যায় বিচার" বছরের পর বছর এদেরকেই সেবা করে যাচ্ছে। ইসলামী পন্ডিতেরা যখন তথাকথিত ইসলামের “ ইনসাফ ও ন্যায় বিচার” এর ধারণার কথা বলবেন, তখন তাঁদের বিনীত ভাবে প্রশ্ন করবেন –

এটাকি কোটিপতিদের ন্যায় বিচার? নাকি শ্রমজীবী দাসদের জন্যে ন্যায় বিচার?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 21 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর