নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সংশপ্তক শুভ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

ফরহাদ মজহারের “এবাদতনামা”ই কি হতে পারে বাঙালী মুমিনের কুরআন? পর্ব - ৩


আগের পর্ব পড়তে এখান ক্লিক করুন

১.
ফরহাদ মজহার কি নাস্তিক? এই ধরনের প্রশ্ন অনেকেই খুব সরাসরি করে থাকেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই ধরনের প্রশ্ন সরাসরি করাকে খানিকটা অভব্য মনে করি। আমি মনে করি, একজন মানুষ ঈশ্বর বিশ্বাস করেন কিনা সেটা খুব বেশী ব্যক্তিগত তথ্য, তাই খুব কাছের মানুষ ব্যতীত এই ধরনের তথ্য জানতে চাওয়াটা খানিকটা অভব্য মনে করি। কিন্তু আমি জানি, এই ধরনের প্রশ্নে ফরহাদ মজহারের মতো বুদ্ধিবৃত্তির মানুষের সম্ভাব্য উত্তর কেমন হতে পারে। ফরহাদ মজহার হয়তো উত্তর দেবেন এভাবে –

মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে যতটুকু আস্তিক করেছেন আমি ততটুকু আস্তিক, যতটুকু নাস্তিকতা তিনি বরদাশত করেন আমি ততটুকুই নাস্তিক।

এটা ফরহাদ মজহারের বয়ান নয়, আমার ধারণা। অর্থাৎ তিনি সেভাবেই এর উত্তর দেবেন যে উত্তরের কারণে তিনি হেফাজতিদের মাথার উপরেই থাকবেন এবং ভিন্নমতের মানুষদের উত্তরটাও এড়িয়ে যাওয়া যাবে। এই কৌশলী ফরহাদ মজহার, এবাদতনামার ফরহাদ মজহার নন। ইনি ব্যক্তি ফরহাদ মজহার, যিনি আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করার জন্যে তারেক রহমান এর সাথে হাত মেলান। এক ফ্যাসীবাদীর বিরোধিতা করেন আরেক ফ্যাসীবাদীর কোলে চড়ে। কবি ফরহাদ মজহার এই সকল দূষণ থেকে মুক্ত।

২.

(এই ছবিটি আল্লাহ্‌তা'লার অসীম ক্ষমতা ও দয়াময়তার একটি ধ্রুপদী উদাহরন হয়ে থাকবে পৃথিবীর ইতিহাসে, কিন্তু ধার্মিক মানুষ, প্লিজ এসব প্রশ্ন তুলবেন না।)

ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বাস বা তাওহীদের প্রথম শর্তটি হচ্ছে – আল্লাহ্‌ সর্বশক্তিমান, তিনি এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনও শরিক নেই। এই কথাটি মস্তিষ্কে গেথে নেয়া। কিন্তু অবিশ্বাসী মন প্রশ্ন তোলে, আল্লাহ্‌ কি আসলেই সর্বশক্তিমান? যদি তিনি তাইই হয়ে থাকেন, তাহলে ইরাকে যে ছয় লক্ষ শিশু এতিম হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি তিনি দয়া করেন না কেনো? সিরিয়াতে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশু উদ্বাস্তু জীবন যাপন করছেন বছরের পর বছর, চোখের সামনেই যারা দেখেছে নিজেদের মা ও বাবা উভয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, সেই সকল শিশুর প্রতি কেনও তিনি দয়াপরবশ নন? শুধুমাত্র উত্তর আফ্রিকায় খাবারের অভাবে প্রতিদিন হাজার খানেক শিশু মারা যায়, কেনও সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ তাদের সাহায্য করেন না? এ ধরনের প্রশ্ন তোলাটা গুনাহর কাজ। কুরআন আমাদের শেখায়, আল্লাহ্‌ সর্বশক্তিমান, তাঁর শক্তি বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করাটা মহাপাপ। কিন্তু কবি ফরহাদ মজহারের কাছে মানুষই প্রধান। মানুষের দুনিয়াই তাঁর কাছে প্রধান। তাইতো কবির মন অবাধ্য হয়। প্রশ্ন তোলে, অনুযোগের সুরে।

তিলেক হিম্মত নাই, আধা ছটাকের নাই তেজ
সাত আসমানে প্রভু খোদাতা’লা হয়ে বসে আছ
মুখে খালি কহ শুনি দুনিয়ার তুমিই মালিক
অথচ মালিক অন্যে, অন্যে কহিতেছে তাঁরা খোদা।

(দুনিয়া রেজিস্ট্রি কর, এবাদতনামা ৬)

আহা কবির মন কখনও বাটপারি করেনা। ব্যক্তি ফরহাদ মজহার বাংলাদেশের “পাওয়ার পলিটিক্স” এর কাছের মানুষ। তাইতো, সারাজীবন মার্কসবাদ ফেরী করে, বার্ধক্যে তিনি বনে যান তারেক জিয়ার উপদেশক। লন্ডনে বিএনপির নেতাদের সাথে একসাথে মিলেমিশে দেয়া তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য আমি এখনও মাঝে মাঝে শুনি আর মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বাটপাড়ির ধ্রুপদী কলাগুলোকে বোঝার চেষ্টা করি। বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে তিনি এখন বিএনপি-জামাতপন্থি রাজনৈতিক শক্তির উপদেশক, কাছের মানুষ। হেফাজতে ইসলামের তেরো দফার সমর্থক। হেফাজতে ইসলামের হয়ে দিনরাত চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে চলেছেন দেশের সেকুলার বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজের। কার্ল মার্কসের নামে সমন্বয় করে চলেছেন ইসলামী বয়ান। না আমি একথা বলছি না যে ইতিহাসে ফরহাদ মজহার একাই এই ধরনের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। না ফরহাদ মজহার একাই বুদ্ধিবৃত্তিক বাটপাড়ি করেননি বা করেননা। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের, এখানকার বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষগুলোর একটা বড় অংশই বাটপাড় শ্রেনীর। যদিও ফরহাদ মজহারের বুদ্ধিবৃত্তিক বাটপাড়ির সাথে সৈয়দ হকের বুদ্ধিবৃত্তিক বাটপাড়ির পার্থক্য আছে। দুজনেই ঘাগু, তবে হক অনেক খোলামেলা, উলঙ্গ আওয়ামী বুদ্ধিবৃত্তিক বাটপাড়, মজহার আরো অনেক বেশী শান দেয়া, ধ্রুপদী। হক সাহেবের প্রশ্নটি আসলো কেবলই একটা তুলনামূলক উপস্থাপনার জন্য। ক্ষমতাকেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবি হিসাবে সৈয়দ হক সব সময়ই সৃজনশীল মোসাহেব ছিলেন , কিন্তু আওয়ামী বিরোধী ইসলামী শিবিরে ফরহাদ মজহারের প্রভাব অনেক শক্ত, বিস্তৃত, এটা সন্দেহাতীত ভাবে ব্যক্তি ফরহাদ মজহারের নিজের শক্তি।

কিন্তু আবারো লিখছি, কবি ফরহাদ মজহার আলাদা সত্ত্বা, কবি ফরহাদ মজহারের মস্তিস্ক, হৃদয় আলাদা, সেখানে বাটপাড়ি নেই, নেই ক্ষমতার লোভ, প্রতিষ্ঠার লোভ। তাই কবি ফরহাদ মজহার খুব সহজেই প্রশ্ন তুলতে পারেন কথিত আল্লাহতা’লার দুনিয়ার মালিকানা নিয়ে। কবি সহজ সরল, সাহসী, তাইতো কবি ফরহাদ মজহার দুনিয়ার মালিক হওয়া নিয়ে আল্লাহ’র কথিত দাবীর ভন্ডামি ফাঁস করে দিতে পারেন এভাবে -

ধরো আমাদের গ্রামে আলহাজ ছামাদ মৌলবি
তিনি খোদ নিজ নামে বাহাত্তর বিঘা হালটের
জমির মালিক, তেতাল্লিশ চেয়ারম্যান, ষাট বিঘা
রশিদ কনট্রাক্টর, ইটের ভাটার ছরু মিয়া
চৌদ্দ বিঘা বিশ ডেসিমেল, বাকি থাকে ছমিরুদ্দি
চন্দনের বাপ, হারাধন – প্রত্যেকেই কমবেশি প্রভু
মালিক এ জমিনের – প্রত্যেকেই তোমার শরিক
তোমার শরিক নাই এই কথা তবে কি বোগাস?

(দুনিয়া রেজিস্ট্রি কর, এবাদতনামা ৬)

(দুনিয়ার মালিকেরা এইখানে থাকে, মুসলমান - ইহুদী ও খৃস্টান পুজীবাদী চক্র। আল্লাহ্‌ এদেরকে পৃথিবীর তাবৎ ক্ষুধার্ত মানুষদের উপরে আধিপত্য করবার তৌফিক দান করেছেন। এরাই মূলত আল্লাহর শরীক, আত্মীয়, স্বজন)

প্রকৃত অর্থে দুনিয়ার মালিক হচ্ছে তারাই যারা পুঁজির মালিক, জমির মালি্‌ক উৎপাদনযন্ত্রের মালিক । তাই আল্লাহর কথিত মালিকানার দাবী বোগাস। না ফরহাদ মজহার দাবী করেন নাই যে আল্লাহর মালিকানার দাবী বোগাস, বরং তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই সকল ভুমিমালিকেরা প্রত্যেকেই জমির মালিক, সেই অর্থে আল্লাহর শরিক, তবে কেনও মুসলমানের মাথায় থাকে আল্লাহ্‌ এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনও শরিক নাই? কবি সাহসী, কবির দোজখের ভয় নেই, তাই কবি প্রশ্ন তোলেন, সংশয়ী হন আল্লাহ্‌ নামের সত্ত্বার এই মালিকানা সংক্রান্ত ভুয়া দাবীর বিষয়ে।

তিন.
সৌদী রাজ পরিবার হচ্ছে আল্লাহর ঘর মক্কার রক্ষক। মূলত সৌদী আরবের মালিক তাঁরা। শুধু সৌদি আরবের মালিকই নন তাঁরা, এই পরিবারটির প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে। দুনিয়ার আরেক প্রধান শরিক হচ্ছে মার্কিন – ইসরায়েল পরিবার। অর্থাৎ ইহুদীবাদ ও তাঁর প্রধান শক্তি আমেরিকার কর্পোরেটতন্ত্র।


(কে বলে আল্লাহর শরীক নেই, দেখুন আল্লাহর খুব কাছের শরিকেরা গলাগলি করে আল্লাহর নূরের জ্যোতি ছড়াচ্ছেন সারা দুনিয়ায়।)

সুতরাং আল্লাহ্‌ যদি মালিকানা দাবী করেও থাকেন, সেই দাবীর মূল রক্ষক হচ্ছেন সৌদী – মার্কিন – ইসরায়েল ত্রয়ী। বাংলাদেশের মসজিদগুলো সহ সারা ইসলামী দুনিয়ায় কথায় কথায় ইসলামী বিশ্বের উপরে ইহুদী নাসাদের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হলেও, পুঁজি এই তিন শক্তিকে খুব সহজেই এক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করে তোলে। পৃথিবীর মালিকানা মূলত পুঁজির, আর সেই পুঁজির রক্ষক হচ্ছে “ইহুদী – খৃস্টান ও মুসলমান” ধর্মীয় চক্র। সুতরাং দুনিয়ার মালিকানা নিয়ে আল্লাহতা’লার দাবীটি সত্যিই বোগাস। কবির মন কখনও প্রতারণা করেনা। তাই আল্লাহ’তালার এই বোগাস দাবীর বিপরীতে কবি মজহার লিখছেন –

এঁদের দলিল যদি মিথ্যা হয় যাও আদালতে
উকিল ধরিয়া করে দুনিয়া রেজিস্ট্রি নিজ নামে।

(দুনিয়া রেজিস্ট্রি কর, এবাদতনামা ৬)

এই লাইনগুলোতে মানুষের দুনিয়ার মালিক হয়ে ওঠার ইঙ্গিত আছে। হাজার হোক কবি ফরহাদ মজহার একজন মার্কসবাদীও বটে। তাই তিনি আম জনতার মালিকানায় বিশ্বাস করেন। কিন্তু আফিমের নেশাগ্রস্থ আম-জনতা কি কখনও মালিকানা অর্জনের যুদ্ধ করতে পারে? পারেনা। তাঁরা ঈমান আকিদার সংগ্রাম করতে চারশো – পাঁচশো মাইল পাড়ি দিয়ে শাপলা চত্বরে জড়ো হতে পারে, কিন্তু ভাত কাপড় জমি কাজের দাবীতে সংগ্রাম করতে পারেনা। তাই আম জনতাকে নিজের মালিকানা রেজিস্ট্রি করার ডাক দিলেও তা শুধু কবিতাই থেকে যায়, বাস্তবে আর হয়ে ওঠেনা।

চার.
আল্লাহতা’লার খমতাহীনতাকে এইভাবে আর কোনও কবি লিখেছেন বলে মনে করতে পারিনা। আর কেউ এভাবে আল্লাহর মালিকানাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন কিনা মনে পড়েনা। ফরহাদ মজহার করেছেন। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ করাটা তো আশেক এর অনুযোগও হতে পারে, ভালোবাসা থেকেও তো মানুষ পরম পূজনীয়র কাছে অভিযোগ – অনুযোগ করতে পারে, তাইনা? তাই এক তিল পরিমান হিম্মত না থাকা আল্লাহর ক্ষমতার বিষয়ে, মালিকানার বিষয়ে প্রশ্ন তোলাটাকে ইসলামের দৃষ্টিতে “শিরক” করা মনে হলেও, কবির জন্যে এ কেবলই প্রেমের প্রকাশ, মাশুকের প্রতি আশেকের প্রনতিভরা অনুযোগ।

এই ধরনের চরণ গুলোর মাঝে অনেকেই নাস্তিকতার গন্ধ খুঁজে পেতে পারেন। হয়তো নাস্তিকের চোখে পাঠ করলে এই চরণগুলোকে নাস্তিকতায় ভরপুর মনে হবে। কেননা, নাস্তিকেরাও তো তাইই মনে করে, দুনিয়ার মালিকানা দাবী করা আল্লাহ্‌ কে নেহায়েতই কল্পকাহিনী বলে উড়িয়ে দেয় নাস্তিকেরা। ব্যক্তি ফরহাদ মজহার আত্ম স্বীকৃত আস্তিক। কিন্তু কবির মন বলে কথা। সেখানে সারা দুনিয়ার তাবৎ বিষয়-আশয় ঘোরাঘুরি করে সারা দিন-রাত্রি। কখনও প্রকৃতি, কখনও প্রানী, সাধারণ হালচাষ কিম্বা কখনও জটিল শহুরে রাজনীতি, সমাজনীতি বা বিজ্ঞানের জটিল হিসাব-নিকাশ। মানুষের নিয়ন্ত্রক যদি হন খোদ আল্লাহ্‌ তায়ালা তাহলে মানুষের “বদ-বুদ্ধির” দায় কেবল শয়তানের উপরে চাপানো হয়? শয়তান কে চালায়? শয়তানের চালক – নিয়ন্ত্রক কি আল্লাহ্‌? যদি তাইই হয় তাহলে কেনও শয়তান ও আল্লাহর চোর-পুলিশ খেলার মাঝে মানুষের জীবন বন্দী হয়? কবির মনে কখনও কখনও এসব “কু-বুদ্ধির” উদয় হয়। কবি তা মানেন, জানেন। তাইতো বিনয়ের সাথেই কবি লেখেন –

বিশ্বাসে ঈমান নাই, তদুপরি তুমিও মালিক
বুদ্ধি দিয়েছো ঠিকই, অথচ খাটালে বুদ্ধি ভাবো
মস্তিষ্কে আসর করে বেতমিজ দুস্ট ইবলিস
ফাঁপরে পড়েছি মওলা কী বা করি কোন রাহে যাই।

(মজেছি নিজের মোহে, এবাদতনামা ১১)

আল্লাহ্‌ মস্তিস্ক দিয়েছেন, কিন্তু সেই মস্তিস্ক বেশী খাটালে মাথায় নাস্তিক্যবাদের “ভুত” চেপে বসে। অধিক চিন্তক মানুষ এক সময় ঈশ্বরের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, আর সেই পরিনতিকে আমরা শয়তানের আসর বলি। বুঝুন কি ফাঁপরেই না ফেলেছেন মনুষ্য প্রজাতিকে স্বয়ং আল্লাহতা’লা। কবিকেও তাঁর মাশুল গুনতে হচ্ছে। তবু এই সকল দুস্ট ইবলিশের আছরের পরেও কবিমন সমর্পণ করে স্রষ্টার কাছেই। সে স্রষ্টা হয়তো মুসলমানের “আল্লাহ্‌” নয়, হয়তো ভিন্ন কেউ।

শিষ্য হয়ে পরমহংসের আমি কালীর মন্দিরে
সিজদা দিয়ে পড়ে রবো দেখি তুমি চিনো কিনা মোরে;
দূরদেশে চলে যাবো – শ্যামদেশে অথবা জাপানে –
বুদ্ধের মন্দিরে গিয়ে চেরি গাছে ফুটিব কুসুম
দেখি তুমি কিনা চিনো কিনা; যেকোনো গির্জায় গিয়ে যিশু
যেভাবে ক্রুশের কাঠে অঙ্গে নিয়ে প্রত্যেকের গোনাহ
নির্মম পেরেকে বিদ্ধ আমি তাঁর রূহের ছায়ায়
প্রজাপতি হয়ে রবো – চিনে নিয়ো, চিনে নিয়ো মোরে।

(সব ধর্মে এক কথা, এবাদতনামা ১৩)

পড়ে দেখুন বারবার। বাংলাভাষায় এই রকমের সাম্যের কথা খুব কম লেখা হয়েছে। কুরআনের ছত্রে ছত্রে রয়েছে কাফেরের পরকালের ভয়াবহ পরিনতি। রয়েছে বিস্তারিত বিবরণ শত্রুর শাস্তি কিভাবে দেবেন আল্লাহ্‌তা’লা। আর তাঁর বিপরীতে এবাদতনামা আমাকে সকল ঈশ্বরের বন্দেগী স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আহা পরমহংসের শিষ্য হয়ে কালী মন্দিরে সিজদা কিম্বা যীশুর ক্রুশকাঠে প্রজাপতি হয়ে থাকার মতো স্বাপ্নিক ভাবনা কেবল এবাদতনামাতেই পাওয়া যাবে।

পাঁচ.
ধর্মগ্রন্থের নামে কুরআনের শাস্তি, ভয় ভীতি, প্রলোভন, যৌনতা, জ্বিহাদ এই সবকিছুই চিন্তাশীল মানুষকে ক্লান্ত করে, বিভ্রান্ত করে, মানুষের ভক্তির উপরে জবরদস্তি চাপিয়ে দেয়। সেখানে এবাদতনামা হয়ে ওঠে – ঘুঘু ডাকা অপরাহ্ণের গা জুড়ানো শান্তির বাতাস। এবাদত নামা যেনো ফাল্গুনের রাতে ঝাউএর শাখার ফাক দিয়ে উঠে থাকা পূর্ণ চাদের উদার রুপোলী আলোর মতো স্নিগ্ধতা ছড়ানোর উৎসব। ঈশ্বরের কাছে ভক্তের ফরিয়াদ জানানোর এর চাইতে আর কোনও ভালো ভাষা হতে পারেনা।

(চলবে)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 21 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর